হরহাল ও নতুন আতঙ্ক ‘পেট্রোল বোমা’

হরতাল, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ককটেল বা হাতবোমার বিস্ফোরণ এখন নিত্যদিনের ঘটনা। রাজধানীসহ সারাদেশেই ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা চালায় হরতাল সমর্থকরা। অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনায় প্রাণহানিও ঘটছে। শুধু ককটেল নয়, এবার হরতাল সমর্থকদের হাতে এসেছে পেট্রোল বোমা। হরতালে পিকেটারদের হাতে পেট্রোল বোমায় পাব্লিক ভুগছে চরম আতঙ্কে।


হরতাল, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ককটেল বা হাতবোমার বিস্ফোরণ এখন নিত্যদিনের ঘটনা। রাজধানীসহ সারাদেশেই ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা চালায় হরতাল সমর্থকরা। অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনায় প্রাণহানিও ঘটছে। শুধু ককটেল নয়, এবার হরতাল সমর্থকদের হাতে এসেছে পেট্রোল বোমা। হরতালে পিকেটারদের হাতে পেট্রোল বোমায় পাব্লিক ভুগছে চরম আতঙ্কে।

গত২০ মার্চ রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় প্রাইভেট কার লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে তিন চিকিৎসক অগ্নিদগ্ধ হন। যাদের শরীরের অনেক অংশ পুড়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। ৫ মার্চ হরতাল চলাকালে নেত্রকোনার আখড়া মোড়ে পিকেটারদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ।
হরতালে পেট্রোল বোমার ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে বেশিরভাগ সাধারন মানুষ। কয়েকদিন আগে রাতে রাজশাহীর মহানগরীর মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় রাজধানীসহ সারাদেশে পেট্রোল বোমা ব্যবহার করে হরতাল সমর্থকরা। ২০১১ সালে যাত্রাবাড়ীতে এক বিএনপি নেতার আস্তানা থেকে ২৮টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করা হয়।
ককটেল বা অন্য যে কোনো বিস্ফোরক তৈরিতে যে কাঁচামাল ব্যবহার হয়, তা আমাদের দেশে বিভিন্ন শিল্প-কারখানায়ও কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। বৈধভাবে আনা রাসায়নিক দ্রব্য কেউ কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।
পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণের পর শব্দ কম হয়। তবে এতে দগ্ধ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। বোমা নিক্ষেপকারীরা বোতলের ওপর সুতায় আগুন ধরিয়ে ছুড়ে থাকে। এরপর আগুন পেট্রোল পর্যন্ত পৌছার পর বিস্ফোরণ ঘটে।হাতবোমা নিক্ষেপের তুলনায় পেট্রোল বোমা ছোড়া অনেক নিরাপদ। কারণ, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপকারী নিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুব কম।
এছাড়া বোমা বা ককটেল তৈরিতে অনেক উপাদানের প্রয়োজন হয়। বোতলে পেট্রোল জাতীয় কোনো পদার্থ ভরে তার মধ্যে সুতা ব্যবহার করে পেট্রোল বোমা তৈরি করা যায়। ছোড়ার আগে ওই সুতায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ককটেল নিক্ষেপে উচ্চ শব্দ হয়। আর এটি বিস্ফোরিত হলেও বর্তমানে এর ভেতরে যে কেমিক্যাল থাকছে, তাতে করে খুব বেশি ক্ষতিকর না। কিন্তু পেট্রোল বোমা ককটেলের চাইতে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর ও ক্ষতিকর।
দূর থেকে কোনো গাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করলে তাতে দ্রুত আগুন ধরে যায়। এ সময় গাড়িতে থাকা লোকজন দ্রুত বেরুতে না পারলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যেতে পারেন। ককটেলের চাইতে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর এই পেট্রোল বোমা! ককটেল আতঙ্ক তৈরি করলেও পেট্রোল বোমা তার চাইতে অনেক বেশি ক্ষতি করে। যা লক্ষ করে এটি নিক্ষেপ করা হয়, তাতে আগুন ধরে যায়।
বেরুতে বেরুতে শরীরে আগুন ধরে গেলে তা নেভানোর আগ পর্যন্ত শরীরের অনেক বড় ক্ষতি করতে পারে। যেমনটি ঘটেছে তিন চিকিৎসকের বেলায়। তাদের গাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের পর আগুন ধরে যায়, তারা গাড়ি থেকে নামতে নামতে তাদের শরীরে আগুন লেগে যায়।
পুলিশ পড়ছে মাইনকা চিপায়। ককটেল তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে সালফার ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে অনেক শিল্প-কারখানায় সালফার ব্যবহার হয়ে থাকে। এসব গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার কোনো উপায় নেই। বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য যারা আমদানি, মজুদ ও ব্যবহার করছেন, তাদের নাকি তালিকা করা হচ্ছে।
কেবল তালিকা করার আশ্বাস পাওয়া গেছে। কবে তালিকা হবে, কবে যে তা ফাইল থেকে বের হবে? আর কবে পেট্রোল বোমা যারা বানাচ্ছে-মারছে তাদের শাস্তি হবে? এই কবে করতে করতে পঙ্গু হয়ে যাবে দেশ। সব ডিজিটলের কৃপা!!!!

১১ thoughts on “হরহাল ও নতুন আতঙ্ক ‘পেট্রোল বোমা’

    1. ভাইরে রাস্তায় বাইর হওয়ায় মনে
      ভাইরে রাস্তায় বাইর হওয়ায় মনে হয় বাদ দেওন লাগবো। মায়ের পর্যাপ্ত টাকা থাকলে হেলিকপ্টার কিনতাম

  1. এই পেট্রোল বোমা কিন্তু
    এই পেট্রোল বোমা কিন্তু বর্তমান সময়ের জন্য খুবই আতংকজনক। বিশেষ করে হরতাল ও হরতালের আগের দিন রাস্তায় চলতে হয় সাবধানে।

  2. দেশের জংগীরা আজ বিজ্ঞানী হয়ে
    দেশের জংগীরা আজ বিজ্ঞানী হয়ে গেছে। পেট্রোল বোমার পরে দেখা যাইবো অকটেনে বোমা, কেরোসিন বোমা, গ্যাস বোমা আবিষ্কার কইরা একেকজন জংগী পাকিস্তান-আফগানিস্তানে জংগীফোরাম থেইকা নুবেল পুরস্কারে ভুষিত হইয়া সারাবিশ্বে দেশের নাম গণধর্ষন করবে …

    ডরাইতেছি কোনদিন না আবার পশ্চিমা মার্কিনীরা এই ইস্যুতে আক্রমণ কইরা বসে

  3. খেলুম না। আমি রকেট লঞ্চার
    খেলুম না। আমি রকেট লঞ্চার কিনবার চাই। ওরা পেট্রোল বোমা মারতে আইলে আমি আগেই রকেট মাইর‍্যা দিমু। ইয়া ঢিশিয়া…

  4. এ আর এমন কি খারাপ
    এ আর এমন কি খারাপ ব্যপার?
    আল্লাহ কপালে লিখে দিলে পেট্রোলেও মানুষ মরবো, ককটেলেও মরবো।

    হেগোর দরকার মানুষ মারার।

  5. ৯৬তে আমাদের অনেকেই সময়
    ৯৬তে আমাদের অনেকেই সময় সংকুলানের জন্য সুতা রশি ব্যবহার করতোনা, কাঁচের বোতল / শিশি’র সাথে আস্ত ককটেল টেপ দিয়ে সংযুক্ত করে ফেলতো, ওজন বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপদ দুরত্বে থেকে অনেক দুর থ্রো করা যাইতো …
    একদিনের হরতাল পালন হতো বেশীর ভাগ সময় রাস্তার মোড়ে মোড়ে আড্ডা দেওয়া দুপুর পর্যন্ত, হরতাল তখন হয়তো আরো বেশী ছিলো কিন্তু এতো ধ্বংসাত্বক ছিলোনা, রিক্সা’র বল টিউব খুলে পাংচার বিআরটিসি’র বাস ভাংচুর পর্যন্ত, পাব্লিক পরিবহন খুব একটা বের হইতো না, লাল ফ্ল্যাগ গার্মেন্টস আইটেম সাংবাদিক সংবাদ পত্র হাসপাতাল বিদেশ যাত্রী জাতীয় বিভিন্ন ব্যনারে গাড়ী চলাচল করেছে, এখন এ্যাম্বুলেন্সও হামলার স্বীকার হয় !!!
    এখনতো মৃত্যু হাতে নিয়েই ঘর থেকে বের হতে হয়, বোনাস লাইফে বেঁচে আছে সবাই, কোন টাইম সিডিউল উপলক্ষ্য ছাড়াই গাড়ী ভাংচুর অগ্নিসংযোগ, রেল লাইন উৎপাটনের মতো অপরাধ চলছে প্রতিনিয়ত, আমরা অপেক্ষা করি নতুন ভোরের, মনিটরের সামনে বসে …
    ব্যতিক্রম যে ছিলো না, তা কিন্তু না …
    ঘাপটি মেড়ে থাকা সমাজ বিরোধী সব সময় সব দলেই ছিলো আছে যারা শুধুই সুযোগের অপেক্ষায় …

  6. ককটেল বা পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে
    ককটেল বা পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মানুষ এবং যানবাহনের ক্ষতি যারা করে তাদের বিচার হয়না বলেই এসবের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশ অযথা ২০/৩০ জন বা তারও বেশি লোকদের নামে মামলা রুজু করে থাকে। ফলে আসল অপরাধী আড়ালেই থেকে যায়। অথচ সুনির্দিষ্ট করে যে এসব ঘটনা ঘটায় তার নাম উল্লেখ করে মামলা করলেই বিচারে সাজা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। সুতরাং ককটেল বিস্ফোরণ বা পেট্রোল বোমা ছোঁড়ার ক্ষেত্রে মামলা রুজুর সময় সতর্কতার সাথে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে মামালা করা উচিত বলে আমি মনে করি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *