রাজধর্ম ইসলাম এসেছিল অসীর তীক্ষ্ণ ফলায় ভর করে?

‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ধর্মীয় মৌলবাদ‘ লেখাটি পড়লাম। তথ্যবহুল লেখা। তথ্যসূত্রও বিখ্যাত লেখকদের দ্বারা সমৃদ্ধ। রমিলা থাপোর বিখ্যাত ইতিহাসবিদ। ডব্লিই বি হান্টারের ‘হিস্টরী অব ইান্ডয়া: ফ্রম এনশিয়েন্ট টাইমস টু দ্যা্ টুয়েনটিয়েথ সেঞুরি‘ বইটিও বহুল পরিচিত এবং প্রচারিত। আর অপনার উল্লেখিত ‘আউয়ার ইন্ডিয়ান মুসলমানস‘ গ্রন্হের টাইটেলটো নিয়ে একটু চিন্তা করলেই জলবততরলং হয়ে যায় এই হান্টার কত উঁচুমানের ‘ওরিয়েনটালিস্ট‘ ছিলেন। তাই এডওয়ার্ড সাঈদ তাঁর বিশ্ববিখ্যাত মডার্ন ক্লাসিক ‘ওরিয়েন্টালিজম‘ বইতে যেসব পশ্চিমা পন্ডিতদের তুলোধূনো করেছেন, হান্টার তাদের অন্যতম। ওরিয়েন্টালিস্ট লেখকদের পান্ডিত্য, সুনাম এবং গ্রহণযোগ্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতায় সাঈদ যে ধস নামিয়েছিলেন সত্তর দশকে, তার রেশ এখনও চলছে।
আমি এখানে শুধু উপরোক্ত লেখার একটা মন্তব্য নিয়ে দুটো কথা বলব। লেখকের মন্তব্যটিই আমার লেখার শিরোনাম। লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তার এ মন্তব্যের সঙ্গে আমি ভিন্নমত পোষণ করছি। সে উদ্দেশ্যেই আমার এ লেখা । বহু বিশ্ববিখ্যাত একাডেমিক এ নিয়ে লেখালেখি করেছেন। ভারতবর্ষে মুসলমানদের আগমন বিস্তার এবং শাসন নিয়ে অসংখ্য একাডেমিক,পন্ডিতরা অজস্র বই লিখেছেন। এই তালিকায়, বলা যায় সাম্প্রতিক সংযোজন অমর্ত্য সেন। অমর্ত্য সেনের একাডেমিক ক্রিডেনশিয়ালস নিয়ে বলার বা লেখার কিছু নেই, আন্তর্জাতিক পন্ডিতমহলে এতোটাই তাঁর স্ট্যান্ডিং। ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বিখ্যাত গ্রন্হ ‘দ্যা আরগুমেনটেটিভ ইন্ডিয়ান : রাইটিংস অন ইন্ডিয়ান কালচার, হিস্টরী এ্যান্ড আইডেনটিটি‘। দেখা যাক অমর্ত্য সেন কি লিখেছেন ইন্ডিয়ান মুসলিম এবং মুসলিম শাসকদের নিয়ে। তাঁর সেই বই থেকে আমি শুধু কয়েক ছত্র উদ্ধৃত করব। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বে বাংলায় অনুবাদ করা সম্ভব হলো না, সময় স্বল্পতার কারণে। তাই বাধ্য হয়ে প্যারাগুলো ইংরেজীতেই তুলে দিলাম। সেজন্য আন্তরিকভাবে দু:খিত

‘‘Recounting the destructions caused by Mahmud of Ghazni and other invaders cannot make us forget the long history of religious tolerance in India, and the fact that the conquering Muslim rulers, despite a fiery and brutal entry, soon developed – with a few exceptions – basically tolerant attitudes” ( page 58-59, The Argumentative Indian , Amartya Sen, 2005,Penguine Books).
আওরঙ্গজেব সম্পর্কে, যাকে সবাই সবচেয়ে গোঁড়া শাসক হিসেবে চেনে, অমর্ত্য সেন লিখেছেন :
”Hindutva critics have sometimes focused particularly on the intolerance of Aurangzeb, a later Mughal emperor who ruled from 1658-1707.Even though Aurangzeb certainly had much intolerance, it is interesting to note that he too had Hindu scholars and musicians in his court in positions of importance” (page 60-61, The Arguentative Indian, Amartya Sen.
যদিও অমর্ত্য সেন এখানে আওরঙ্গজেবের সেনাবাহিনীতে কতজন হিন্দু জেনারেল ছিলেন, সেটা উল্লেখ করেন নি, আমি যদ্দুর পড়েছি, তাঁর বাহিনীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা অফিসার ছিলেন হিন্দু রাজপুত, যেটা আকবরের সময় থেকে ব্যাপকভাবে চলে অাসছিলো। দু:খিত এই মুহুর্তে এ নিয়ে কোন সূত্র উল্লেখ করা গেল না।
এখন দেখা যাক আওরঙ্গজেবের ভাই দারাশিকো সম্পর্কে অমর্ত্য সেন কি লিখেছেন :
”Aurangzeb’s elder brother, Dara Shikoh, the legitimate heir to the throne of his father, Shah Jahan (the creator of the Taj Mahal), whom Aurangzeb had killed on the way to the Mughal throne, had learned Sanskrit and studied Hindu philosophy extensively. In fact, the heir to the Mughal throne had himself translated into Persian some significant parts of the Upanishads, the ancient Hindu scriptures, and compared them – not unfavourably – with the Koran. It is this translation, which Dara did with the assistance of Hindu pundits, that gave many people in West Asia and Europe their first glimpse of Hindu philosophy” ( Page 61, The Argumentative Indian) .
এখন দেখা যাক আকবর সম্পর্কে অমর্ত্য সেন কি বলছেন :
” Akbar not only made unequivocal pronouncements on the priority of tolerance, but also laid the formal foundations of a secular legal structure and of religious neutrality of the state, which included the duty to ensure that ‘no man should be interfered with on account of religion, and anyone is to be allowed to go over to a religion that pleases him” (page 18)
”the politics of secularism received a tremendous boost from Akbar’s championing of pluralist ideals, along with with insistence that the state should be completely impartial between different religions” (page 18)
একই গ্রন্হে আরেক জায়গায় অমর্ত্য সেন লিখেছেন, যার পৃষ্টা নাম্বার এই মুহুর্তে উল্লেখ করা গেলো না, স্মৃতি থেকে লিখছি :
”When Akbar was issuing his legal order that ‘no man should be interfered with on account of religion, and anyone is to be allowed to go over to a religion that pleases him, and was busy arranging dialogues between Hindus, Muslims, Christians, Jains, Parsees, Jews and even atheists Giordano Bruno (Italian writer philosopher) was being burnt at the stake in Rome for heresy, in the public space of Campo dei Fiori”
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আজ সেই ইউরোপীয়ারা আমাদের সভ্যতা, সহিষ্ঞুতা আর ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ দেয় !!
এখন দেখা যাক বাংলার কোন কোন মুসলিম শাসক সম্পর্কে অমর্ত্য সেন কি বলছেন :
”it would perhaps be interesting to mention that the very successful and extremely popular Bengali translations of these epics (Ramayana and Mahabharata) owed much to the efforts of the Muslim Pathan Kings of Bengal. Dinesh Chandra Sen’s authoritative account of the history of Bengali literature describes the events thus :
‘ The Pathans occupied Bengal in the thirteenth century… The Pathan emperors learned Bengali and lived in close touch with the teeming Hindu population …. The Emperors heard of the far-reaching fame of the Sanskrit epics, the Ramayana and the Mahabharata , and observed the wonderful influence they exercised in moulding the religious and domestic lives of the Hindus, and they naturally felt the desire to be acquainted with the contents of those poems… They appointed scholars to translate the works into Bengali which they now spoke and understood. The first Bengali translation of the Mahabharata of which we hear was undertaken at the order of Nasira Saha , the Emperor of Gauda (in Bengal) who ruled for 40 years till 1325 AD … The name of the Emperor of Gauda who appointed Krittivasa to translate the Ramayana is not known with certainty. He might be Raja Kamsanaryana or a Moslem Emperor, but even if he was a Hindu king, there are abundant proofs to show that his court was stamped with Muslim influence” ( Page 60)

অমর্ত্য সেনের লেখা থেকেই একজন পাঠক অনুমান করতে পারেন , মুসলমানদের শাসন এবং শাসক সম্পর্কে এই একবিংশ শতাব্দীতেও ‘ওরিয়েনটালিস্ট‘ স্টাইলের লেখা হচ্ছে, যা সত্য থেকে যোজন যোজন দূরে। । প্রথম কথা হচ্ছে , মুসলমান শাসকদের ধর্ম ইসলাম হলেও ভারতবের্ষে একমাত্র আওরঙ্গজেব ছাড়া কোন মুসলমান শাসকই, রাষ্ট্রীয় জীবন দূরে থাক, তাদের ব্যক্তিগত জীবনেও ইসলামের অনুশাসন খুব একটা মেনে চলেন নি। অধিকাংশ মুসলমান শাসকরা, বিশেষ করে মোগলরা সুরা পানের জন্যও বিখ্যাত ছিলেন, যা ইসলাম দ্বারা অনুপ্রাণিত শাসকের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। সুতরাং ভারতে মুসলমান শাসনামলে ইসলাম রাজধর্ম ছিল -সেটা বলাও এৗতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক হতে পারে না। আর সেই শাসকরা অসীর তীক্ষ্ণ ফলা দিয়ে ইসলাম প্রচারের জন্য কতটা নিবেদিত ছিলেন , তা সহজেই অনুমেয়। এমনকি মোগল শাসনের স্বর্ণযুগেও রাজধানী দিল্লীর মুসলিম জনসংখ্যা ১০% এ বেশী ছিলো না। তলোয়ার দিয়ে ইসলাম প্রচার করলে অতি সহজেই সেটা অন্তত ৬০%-৭০% পৌছতে পারত !! সুতরাং অসীর সাহায্যে ভারতে ইসলাম প্রচার হয়েছে বলা ঐতিহাসিকভাবেই বিভ্রান্তিকর।
তবে হ্যাঁ এটা ঠিক , আমি অস্বীকার করছি না, যে মুসলমানরা বিনা রক্তপাতে ভারতে তাদের শাসন কায়েম করেছিল। যেকোন যুদ্ধ, অার সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধতো বটেই, রক্তপাত ঘটায়। কে কবে কোথায় বিনা রক্তপাতে সাম্রাজ্য গড়েছিলো? আলেকজান্ডার কী গোলাপ হাতে গ্রীস থেকে হাজার হাজার মাইল দূরের দেশ ভারতবর্ষে হাজির হয়েছিলেন? ই্উরোপীয়ানরা যখন আমেরিকা দখল করে তখন ১৫০০ সালে এক হিসোবে দেখা যায়, সমগ্র আমেরিকায় স্হানীয় জনসংখ্যা ছিল ৮ কোটি, আর ইউরোপীয়ানদের আগমনের একশ বছর পর ১৬০০ সালে নেটিভ জনসংখ্যা ৮ কোটি থেকে এক কোটিতে নেমে আসে । ক্যামব্রিজ প্রফেসর হা ঝুন চ্যাংয়ের বই ‘টুয়েনটি থ্রি থিংস দে ডোন্ট টেল ইউ এ্যাবাউট ক্যাপিটালিজম‘ গ্রন্হে এই তথ্যটি আছে। এখন কিভাবেে ইউরোপীয়নার সেটা হ্রাস করতে সম্ভব হয়, সেটা ভিন্ন ইতিহাস।

১১ thoughts on “রাজধর্ম ইসলাম এসেছিল অসীর তীক্ষ্ণ ফলায় ভর করে?

  1. আপনার লেখা পড়ে অবাক হলাম।
    আপনার লেখা পড়ে অবাক হলাম। নানা যুক্তি দিয়ে বলার চেষ্টা করলেন ইসলাম রাজধর্ম হিসেবে আসেনি। অথচ ইতিহাস বলছে ‘ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী একজন তুর্কী সেনাপতি। তিনি ১২০৫-৬ সালের দিকে তৎকালীন বঙ্গের শাসক সেন রাজবংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে সেন গৌড় দখল করেন। লক্ষণ সেন প্রাণ নিয়ে পালিয়ে তৎকালীন বঙ্গে পালিয়ে যান এবং তার সৈন্যরা পরাজিত হয়ে নদিয়া শহর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। মোহাম্মদ বখতিয়ার নদিয়া শহর অধিকার করে তা ধ্বংস করেন। এবং এই ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরে রাজধানী না করে গৌড়-লক্ষণাবতীতে গিয়ে রাজধানী স্থাপন করেন।… ১২০১ সালে বখতিয়ার মাত্র দু হাজার সৈন্য সংগ্রহ করে পার্শবর্তী হিন্দু রাজ্যগুলো আক্রমন ও লুন্ঠন করতে থাকেন। সেই সময়ে তার বীরত্বের কথা চারিদিক ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং অনেক ভাগ্যান্বেষী মুসলিম সৈনিক তার বাহিনীতে যোগদান করতে থাকে, এতে করে তার সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।’ (উইকি)। সাধারণে চালু থাকা ইতিহাস বলে যে, মুসলিমরা এসে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল, আর তা অসির মাথায় ভর করেই। পরবর্তীতে যদিও ধর্মের জন্য অসিচালনা আকবরের সময় কিছুটা হ্রাস পায়। কিন্তু ইসলাম এসে এখানে রাজধর্ম হতে গিয়ে অসির ফলায়ই ভর করেছিল। আপনার পোস্টের উদ্দেশ্য আমার কাছে পরিস্কার না। ঐতিহাসিক সত্যকে খারিজ করছেন, কিন্তু ভিত্তিটা বড়ই দুর্বল।

  2. @ আনিস রায়হান : আমার লেখার
    @ আনিস রায়হান : আমার লেখার নিচের অংশটুকু অারেকটু ভালো করে পড়লেই দেখবেন, আমি কোন কোন মুসলিম শাসকরা যে ভারতে রক্তপাত ঘটিয়েছেন – সেটা বেমালুম অস্বীকার করি নি। বখতিয়ারেরও আগে ভারতে এসেছিলেন মুহাম্মদ বিন কাশিম সম্ভবত ৭১২ সালে। কোন প্রেক্ষাপটে তিনি এসেছিলেন সেটা নিশ্চয়ই আপনার জানা আছে? রাজা দাহির জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্হা না নেয়ার কারণেই তার ভারতে আগমন হয়। এ ব্যাপারে আজ এৗতিহাসিকরা একমত। অাশা করি আপনিও তাদের সঙ্গে একমত হবেন। তারও আগে পশ্চিমভারতে আরব মুসলমানরা জাহাজে করে আসে ব্যবসা আর ধর্মপ্রচার করতে। তখনও স্হলপথে অাফগানিস্তান খাইবার পাস হয়ে কোন Marauding Army or Mercenary Force হিসেবে প্রথমদিকের মুসলমানরা আসে নি। দয়া করে এ ব্যাপারে আরেকটু রিসার্চ করুন।
    ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজ জলদস্যু ভাস্কো-গামা আবিষ্কার বা ব্যবসার নামে যখন ভারতে আসে তখন আফ্রিকাতে এসে ভারত মহাসাগরের বিশাল জলরাশি দেখে ভড়কে যায়। কারণ তখনও ইউরোপীয়ানরা সি-নেভিগেশনের প্রযুক্তি পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারে নি। কলম্বাসের কাহিনী তো জানেন। ভুল করে চলে গিয়েছিল অামেরিকা ! যাইহোক ভাস্কো দামারে তখন এক আরব মুসলমান ব্যবসায়ী যিনি ভারতে ব্যবসা করতেন তাকে গাইড করে ভারতে নিয়ে আসেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পড়ুন রয়টারের সাবেক সম্পাদক জোনাথন লিয়ন্সের বই ‘দ্যা হাউস অভ উইজডম‘। ৭৫০ সালে খলিফা অাল মনসুর এক আরব প্রতিনিধি দল ভারতে পাঠান সেখানকার জ্ঞানবিজ্ঞানের দুর্লভ গ্রন্হ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। এ থেকে প্রমাণিত হয় ৭ম শতাব্দী থেকেই বা ৮ম শতাব্দীতে পুরোপুরি অারবরা ভারতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বাণিজ্যিক লেনদেন শুরু করে। সুতরাং মুসলমানরা এক্কেবারে প্রথম দিন থেকে নাঙ্গা তলোয়ার হাতে ভারতের উপর হামলে পড়ে এ তথ্য এৗতিহাসিকভাবেই ভুল। বখতিয়ার বিনা যুদ্ধেই নদীয়া দখল করেন। সুতরাং ১৯৯২ সালে বাবরী মসজিদ দাঙ্গায় ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে যত মুসলমান কচুকাটা হয়েছে , বখতিয়ারের বঙ্গ আক্রমনে সে তুলনায় নিহত বা আহত মানুষের সংখ্যা বলা যায় অনুল্লেখযোগ্য !!

    1. আপনি না বুঝেই তাহলে আলাপ শুরু
      আপনি না বুঝেই তাহলে আলাপ শুরু করেছেন। ‘রাজধর্ম ইসলাম’ এসেছে অস্ত্রের ওপর ভর করেই। বিপরীতে ‘লোকধর্ম ইসলাম’ এসেছিল প্রেমের বাণী নিয়ে। ইসলামের রাজধারা মৌলবাদের বিকাশ ঘটিয়েছে, আর লোকধারা তার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আপনি এই দুই ধারাকেই রাজধারা জ্ঞান করে কথা বলছেন বলে মনে হলো।

  3. ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামী তথা
    ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামী তথা মোঘলাই শাসনের পরিসমাপ্তি তো আওরঙ্গজেবের হাতেই হয়েছে। তিনি ছিলেন পুরোদস্তুর সংস্কারপন্থী। সনাতনীদের ভেতর সংস্কারপন্থীদের মূল্যায়ন যতটুকুননা হয়েছে উল্টোভাবে মুসলিম সংস্কারপন্থী হিসেবে আওরঙ্গজেবের সিংহাসনচ্যুত হয়েছে। তিনিই একমাত্র শাসক ছিলেন যিনি তলোয়ারের ডগায় ইসলাম নিয়ে ঘুরতেন না। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় থেকে তিনি পতিতাদেরকে বিবাহের বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন যা অভূতপূর্ব।

    ________________________________________

  4. @ খানের পোলা: আপনার সঙ্গে
    @ খানের পোলা: আপনার সঙ্গে একমত । অনেকে মনে করেন, শুধু জিজিয়া করের জন্য আওরঙ্গজেবের অনেক সদগুন থাকাসত্তেও ইতিহাস তাঁকে খুব নিষ্ঠুরভাবে ট্রিট করেছে। আওরঙ্গজেব অনেক হিন্দু মন্দিরও তৈরী করেন। বানারসের একটি বিখ্যাত মন্দির সেগুলোর অন্যতম। ‘যদ্যপি আমার গুরুতে‘ আবদুর রাজ্জাক স্যারের বরাতে আহমদ ছফা আওরঙ্গজেব সম্পর্কে দুএক লাইন লিখেছেন। রাজ্জাক স্যার বলছেন ‘‘হেই সময় (তাঁর ছাত্রজীবনে বোধয়) স্যার যদুনাথ সরকারের হিস্টরি অভ আওরঙ্গজেব বইটি বের হয়। স্যার যদুনাথ আওরঙ্গজেবের অনেক সদগুনের উল্লেখ করার পর একটা বাট লাগাইয়া লিখলেন ‘কিন্ত ধর্মের প্রতি অত্যধিক ভক্তির কারণে তার কোন গুণ কামে আইল না‘। এই শেষ কথাটা পইড়া মুখটা তিতা অইয়া গেল।‘‘

    1. পোস্টের উদ্দেশ্যইটা বুঝলাম
      পোস্টের উদ্দেশ্যইটা বুঝলাম না। যা হোক, আনিস ভাই চমৎকারভাবে জবাব দিয়েছেন। ছবির একটা ক্যাপশনকে আমার পোস্টের মুল বক্তব্য ধরে আলোচনা করাটা ঠিক হয় নাই। আমাদের এই অঞ্চলে ইসলাম দু’টি ধারায় মানুষের কাছে প্রচার করা হয়েছে। এদেশে সাধারণ মানুষের কাছে ইসলাম ধর্ম সুফিধারায় বেশি প্রসার লাভ করেছে। সুন্নিধারাটি রাজধর্ম হিসাবে এদেশে এসেছে।

      যা-হোক ভালো থাকবেন।

  5. @ আনিস রায়হান: আপনার
    @ আনিস রায়হান: আপনার মন্তব্যের জবাব দেয়ার আগে, আমি যেটা অনুমান করেছিলাম আপনি ঠিক সেই কাজটি করলেন। গেরামের চাস্টলে দুইপাতা পড়া মানুষরা যেমন তর্কের শুরুতেই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে বলে ‘আরে ভাই আপনি এসব বুঝবেন না‘ ‘আপনার মাথা কি ঠিক আছে?‘ ‘আপনে তো ভাই একটা পাগল‘ …..সেই একই ধারা আপনিও ধরলেন। কি আর করা যায় ! অন্যপক্ষ যখন কিছু বোঝেনা , তাহলে এখানেই ক্ষ্যামা দেন।

    1. খুবই তিরস্কার করছি এভাবে
      খুবই তিরস্কার করছি এভাবে ক্ষ্যামা চাওয়ার জন্য। আপনি বুঝেন নাই বলাটা আমার বুঝ। এটা গেরামের চাস্টলে দুইপাতা পড়া মানুষ যেভাবে খোলামনে কথা বলে সেভাবেই বলেছি। এজন্য আমি দুঃখিত নই। আপনি যে বুঝছেন এর সপক্ষে কিছু পাচ্ছি না। তবে আমি কিন্তু আপনার মাথা ঠিক না খারাপ এ নিয়ে ভাবিনি। এখন আপনি যখন এ বিষয়টা টেনে এনেছেন, চিন্তা করব। খুবই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ

  6. অল্প একটু গঠনমূলক সমালোচনা
    অল্প একটু গঠনমূলক সমালোচনা করলে যদি কেউ চেইত্তা উইঠা তিত্তা ভাষায় জবাব দেয়, তাহলে তো আলোচনা চালানো যায় না। এমনকি কারো বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনা যদি ভুলও হয়ে থাকে , সেজন্য তেলেবেগুনে জ্বলে উঠার তো দরকার নেই। If we can’t discuss something intelligently and using decent gentlemanly language then what is the point of having all this education and pretending to be a world class intellectual? We can disagree without being disagreeable, can’t we?
    ‘আপনার পোস্টের আগা-মাথা-ট্যাং-পাছা কিছুই তো বুঝলাম না‘ এই ধরনের দাম্ভিক প্রশ্ন বা মন্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ না করাই ভালো। I don’t think I should make an effort to answer this dull, unintelligent, indecent and immodest statement or question.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *