একটু ভাববেন কি,তাদের নিয়ে??????

বেশ কদিন আগে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটি লেখা লিখেছিলাম।সেখানে কওমি মাদ্রাসা অন্তর্ভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা বিষয় নিয়েও লিখেছিলাম।আজকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে হেফাজতে ইসলাম বলুন আর জামাত শিবির বলুন তাদের মিছিল ও পত্রিকা কিংবা নিউজ চ্যানেলের উপর রিপোর্টে তাদের কার্যক্রম দেখালাম।


বেশ কদিন আগে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটি লেখা লিখেছিলাম।সেখানে কওমি মাদ্রাসা অন্তর্ভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা বিষয় নিয়েও লিখেছিলাম।আজকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে হেফাজতে ইসলাম বলুন আর জামাত শিবির বলুন তাদের মিছিল ও পত্রিকা কিংবা নিউজ চ্যানেলের উপর রিপোর্টে তাদের কার্যক্রম দেখালাম।

প্রথমে দেখে আমার মন কেঁদে ওঠে সেই সকল মাদ্রাসায় পড়া শিশু গুলোর উপরে যাদের উপর রাষ্ট্র আজ এতটুকু দায়িত্ব নিতে শেখেনি স্বাধীনতার বিয়াল্লিশ বছরে।তাদের খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে পড়নের জামা কাপড়ের ব্যবস্থা করতে হয় মানুষের অনুদানে।তাদের মাদ্রাসায় কাটানো দিন গুলোর কথা আপনি আপনার শৈশবে কাটানো দিন গুলোর মত ভাবতে পারেন কি?

এই ছেলেগুলো আপনার আর আমার মুখে আওড়ানো গণতন্ত্রের কি বোঝে?তাদের পড়ালেখার অবস্থা কি সেটা তো আমাদের রাষ্ট্র প্রধানেরাও জানে না বিগত বিয়াল্লিশ বছর ধরে।আজকে যারা প্রতিবাদ করছে ব্লগারকে বলগার ভেবে,ব্লগ কি জিনিশ না ভেবে,কখনো ভেবেছেন তার বয়সে আপনি নিজেও কতখানি শুদ্ধ বানান লিখতেন?তার শিক্ষা ব্যবস্থা তাকে শরিয়া শেখায়।তার গন্তব্য কোন এক সে নিজেই জানে কোন এক মক্তবের শিক্ষক না হয় কোন এক মসজিদের ইমাম।আপনার আমার মত ডাক্তার উকিল,ইঞ্জিনিয়ার,কবি কিংবা গীটার বাজিয়ে পুরো মাদ্রাসা ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখার সুযোগ সে পেয়েছে কি?আপনি কিংবা আমি ই পেলাম কোথায়?যা শিখতে হয় নিজেদের তাগিদে।আমাদের দেশে সঙ্গীত শিল্পী খুঁজেন,যাকে পাবেন দেখবেন সে পারিবারিক শিক্ষায় সঙ্গীত শিখে এসেছে।কোন স্কুলের টিচার নয়।মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা কি এমন হওয়া উচিত ছিলও নাহ যেখান থেকে উঠে আসবে ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,কবি,সাহিত্যিক,ফ্লীম মেকার।যারা তাদের কার্যক্রম নিয়ে চিন্তিত তাদের যদি বোধোদয় হয় দেখবেন তাদের চিন্তা চেতনা ধর্ম ভিত্তিক চিন্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ।কেন?তাদের কি দুনিয়াদারী নিয়ে জানতে ইচ্ছা করে নাহ।তাদের সেসব জানার সুযোগ আমরা দিয়েছি কবে?আমরা নিজেরা যেখানে জেনেছি নিজের বাপের টাকা পয়সা খরচ করে যেখানে দেশের সরকার ব্যবস্থা পুরো জাতিকে দায় সারা ভাবে বছরের পর বছর কোন নজরদারী রাখা ছাড়াই তাদের পুষে আসছে,সেখানে কি কোন সরকার তাদের বিগত বিয়াল্লিশ বছরের স্বাধীন বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের প্রশ্রয় দেয় নি?

কাল দেখলাম একজন নারী সাংবাদিক এর উপর তারা হাত তুলেছে।বলছি না ভালো কাজ।দেখুন আমাদের এডুকেশনে এখনো কি ছেলে মেয়ে এক সাথে শিক্ষা নেয়?চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকার মত স্কুল গুলোতে দেখা যায় ছেলে মেয়েদের স্কুল আলাদা।তার উপরে আপনি যদি কিশোর অপরাধে খুন,ধর্ষণ হওয়া থেকে রাস্তায় ইভ টিজিং এর মত অপরাধ ঘটায় এই সব সুনামে চলতে থাকা প্রতিষ্ঠানের ছেলে-মেয়েরা ।মেয়েরা হয় বেশীর ভাগ সময়ে এই অপরাধের ভিক্টিম।শুধু নারী সাংবাদিক কেন আজকে আপনি কোন পেশায় নারী হোক কিংবা পুরুষ হোক কারো স্বাধীনতা নিজের তা মত প্রকাশের সম্পূরক হতে পারে নি।আমরা শুধু হয়েছি দাবা খেলার গুটির এক একটা চাল।মাদ্রাসার একটা ছেলে যদি কোন দিন সাংবাদিক হতে পারতো তখন সে আশা করি গণতন্ত্র,সমাজতন্ত্র,ক্যাপিটালিজম বুঝত।আমরা তো বুঝবার আগেই তার বিদ্যা মেরে ফেলেছি।কারণ আমরা এখনো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এর বিদ্যা নিচ্ছি টাকার বিনিময়ে।বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকার অভাব থাকলে তার জন্য আমাদের দেশ আমাদের কি দিচ্ছে?যে ছেলে মেয়েটার মা-বাবা নেই সংসার চালাতে অসুবিধা তার জন্যে সরকার কি ব্যবস্থা করেছে জানলে খুশি হতাম।

আজকে আসিফ মহি-উদ্দিন এর নামে নাস্তিকতার অভিযোগ।বুঝলাম আসিফ মহি-উদ্দিন নাস্তিক।কিন্তু মাদ্রাসার ঐ ছেলেগুলো যদি ইন্টারনেট চালানো জানতো,তাদের কেউ যদি ব্লগিং এ কিছু লিখত তাদের জন্য যদি ইন্টারনেট চালানো সুবিধাজনক কিছু হতো তাহলে তারা আসিফকে ব্লগে জবাব দিতো খুব ভালোভাবে।আমরা নিজেরা ইন্টারনেট ব্যবহার করি যেখানে এখনো নিজের হাত খরচ বাঁচিয়ে।সেখানে তাদের জন্য চিন্তাটা রাষ্ট্র থেকেও আসলে আজ আমাদের এই পরিণতি দেখতে হতো নাহ।আসিফ মহি-উদ্দিন ও জেলখানায় থাকতো নাহ।

তাদের কখনো বোঝানো হয়নি একাত্তর সাল কি জিনিস,তাদের কখনো কেউ জ্ঞান দিতে যায়নি বায়ান্ন সালে কি হয়েছে,তাদের পড়ানো হয় নি রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-লালন এরা কারা,খেলেনি ক্রিকেট কিংবা ফুটবল,তাদের মধ্য থেকে কেউ গণিত অলিম্পিয়াডে আসছে নাহ,কেউ আসছে নাহ এদের কেউ গান গায় নাহ ক্যানও?মাথাব্যথা অনেক আগে থেকে করা দরকার ছিল।আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে উঠে আশা ছেলেমেয়েদের একবার সময় টিভির সাক্ষাতকারে এদেশের বাংলা ও ইংলীশ মিডিয়ামের দেশপ্রেম দেখেছি নিজ চোখে।বেশীদিনের ঘটনা নয়।

এই কথাগুলো আমার একান্ত উপলব্ধি।জানি কাল পরশু আমিও একই খেলার শিকার হবো।আমি তাদের পক্ষে আজ দু’কলম লিখলাম।কারণ,তারা ছোটবেলা থেকে আমরা যেমন মা-বাবাকে হাজার দুর্নীতিবাজ(অনেকের) হওয়ার পরেও ভালোবাসি।তারাও নবীকে ভালোবাসে।নবীর প্রেম তাদের অন্ধ করে নাই।অন্ধ হচ্ছি আমরা।নিজেরা কিছু জানি না।আমরা নিজেরাও তো এত শিক্ষা দীক্ষার পরে সমাজে পরগাছার মত বেঁচে থাকি।নিজেরা মেট্রিক পাশ করে মা-বাবার হোটেলে খাই।আমাদের আশে পাশে যার পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি হটাত করে মারা যায়,এরপরের সলিঊশান কে দেয়?

তারা টিএসসি যায়নি,তারা জানে নাহ রাজু ভাস্কর্য কি জিনিস,তারা জানে নাহ প্রেমিকা কি,নারী কি?যেদিন জানবে সেদিন দেখবেন আর মক্কা-মদিনা চাইবে নাহ।রাস্তায় রিক্সা থামিয়ে জিজ্ঞেস করবে নাহ হিন্দু না মুসলিম।দেখবেন সেদিন তারাও অপরাধের বিচার চাইছে নির্ধিদায়।

আমাদের সমাজের অদৃশ্য কালো থাবারাও চায় নাহ এসব ভণ্ডামির ইতি হোক।হলে তাদের দাপট আর ক্ষমতার জজবা চলে যাবে।বন্ধ হয়ে যাবে তাদের নামে নাম ভাঙ্গিয়ে আনা ডলারের রাস্তা।ফাঁস হয়ে যাবে বিয়াল্লিশ বছরে স্বাধীন দেশে সকল নোংরামি।হয় সবাইকে নিয়ে বাঁচুন,না হয় আসুন ধ্বংসলীলা দেখি।

১৭৫৭ সালে নবাবের পরিবার বুঝতে পারেনি বাংলা দুইশত বছরের জন্য তার স্বাধীনতা হারাচ্ছে।আজ এই বাংলায় ফিরে এসেছে সেই পুরানো মীর জাফরেরা।তারা সবাইকে ব্যবহার করছে নিজের পুরানো ঢালের মত।নিজেরাও হারিয়ে যাব টের পাব নাহ।নিজে বুঝতে শিখে অন্য কেও বুঝাতে পারলে সেটা মঙ্গল জনক।আমি সুশীলের ন্যায় ছাগুযুক্ত মানব সমাজ চাই নাহ।সকল মেহনতি মানুষের ভূখন্ড হোক এই বাংলা।যেখানে শিক্ষা পৌছে যাবে সকল মাধ্যমে উন্মুক্ত ও বিনা খরচে।আওয়াজ তুলুন।সকলের আওয়াজে দিক-বিদিক ছড়িয়ে পড়ুক বাঙ্গালীর জ্ঞানের আলো।বাংলা হোক শোষনমুক্ত।

৬ thoughts on “একটু ভাববেন কি,তাদের নিয়ে??????

  1. আজকে আসিফ মহি-উদ্দিন এর নামে

    আজকে আসিফ মহি-উদ্দিন এর নামে নাস্তিকতার অভিযোগ।বুঝলাম আসিফ মহি-উদ্দিন নাস্তিক।কিন্তু মাদ্রাসার ঐ ছেলেগুলো যদি ইন্টারনেট চালানো জানতো,তাদের কেউ যদি ব্লগিং এ কিছু লিখত তাদের জন্য যদি ইন্টারনেট চালানো সুবিধাজনক কিছু হতো তাহলে তারা আসিফকে ব্লগে জবাব দিতো খুব ভালোভাবে।আমরা নিজেরা ইন্টারনেট ব্যবহার করি যেখানে এখনো নিজের হাত খরচ বাঁচিয়ে।সেখানে তাদের জন্য চিন্তাটা রাষ্ট্র থেকেও আসলে আজ আমাদের এই পরিণতি দেখতে হতো নাহ।আসিফ মহি-উদ্দিন ও জেলখানায় থাকতো নাহ।

    রাষ্ট্র এই ধরনের উদ্যোগ নেবে না। তাই গতকাল আমি ফেসবুকে এই রকম একটা ব্যক্তিগত পর্যায়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিলাম।

    1. দুলাল ভাই, আপনার সেই স্বপ্নের
      দুলাল ভাই, আপনার সেই স্বপ্নের মাদ্রাসা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। আপনার প্ল্যানটা পছন্দ হইছে।

  2. ভালো লাগলো একই ট্র্যাকে
    ভালো লাগলো একই ট্র্যাকে চিন্তা করছি বিধায়।।!! এখন মনে হচ্ছে কিছু লোক অন্তত আছে যারা সমস্যার গভীরে প্রবেশ করতে পারে।
    কিছু সময় খরচ করতে পারেন 🙂

  3. ভাবনাগুলো যৌক্তিক ও
    ভাবনাগুলো যৌক্তিক ও সময়োপযোগী! ৬ এপ্রিলের অবস্থাটা এমন ছিল যে, শাহবাগে পাঞ্জাবি টুপি পরা লোক দেখামাত্রই আমরা আতঙ্ক বোধ করছিলাম! সন্দেহ করছিলাম, হেফাজত না তো!! এই সন্দেহের অবসান হওয়া প্রয়োজন। চিন্তা-চেতনায় না হোক, জন্মসূত্রে তারাও তো বাঙালি। স্বজাতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তাদের সামনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরতে হবে!

    সঙ্গে আছি।

  4. খুব সুন্দর পোস্ট। এরুপ চিন্তা
    খুব সুন্দর পোস্ট। এরুপ চিন্তা চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে উঠুক এটা আন্তরিকভাবে কামনা করি। এরুপ বাংলাদেশ গড়ে উঠা সম্ভব তখনই, যখন এদেশের রাজনীতি মেধাবীদের হাতে থাকবে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *