ফেন্স পার্টি

যেকোন সমাজে অন্যায়-অবিচার-দুর্ণীতি-রাহাজানি ইত্যাদি সকল অপকর্ম যখন লাগামহীনভাবে চলে, তখন সেখানে দুটো বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে। প্রথমটা হলো , যারা এইসব অপকর্মে লিপ্ত থাকে তাদের সংখ্যা আপতদৃষ্টিতে বিশাল মনে হলেও আসলে বাস্তবে তা নয়। এই রকম মনে হওয়ার কারণ বিপুল প্রচারণা। অল্প সংখ্যক সংগঠিত মানুষের শক্তি যে অসংগঠিত কোটি মানেুষের চেয়ে বেশী- এই সত্যই এতে প্রমাণিত হয়।
অন্যদিকে এই অল্প সংখ্যক মানুষের অপকর্মের প্রতিবাদে এগিয়ে আসা মানুষের সংখ্যাও থাকে অল্প। বাকী সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ থাকে দর্শক। যুগে যুগে দেশে দেশে মানুষ এবং সমাজের সঙ্কটকালে এর প্রতিফলন আমরা বারে বারে দেখেছি।

যেকোন সমাজে অন্যায়-অবিচার-দুর্ণীতি-রাহাজানি ইত্যাদি সকল অপকর্ম যখন লাগামহীনভাবে চলে, তখন সেখানে দুটো বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে। প্রথমটা হলো , যারা এইসব অপকর্মে লিপ্ত থাকে তাদের সংখ্যা আপতদৃষ্টিতে বিশাল মনে হলেও আসলে বাস্তবে তা নয়। এই রকম মনে হওয়ার কারণ বিপুল প্রচারণা। অল্প সংখ্যক সংগঠিত মানুষের শক্তি যে অসংগঠিত কোটি মানেুষের চেয়ে বেশী- এই সত্যই এতে প্রমাণিত হয়।
অন্যদিকে এই অল্প সংখ্যক মানুষের অপকর্মের প্রতিবাদে এগিয়ে আসা মানুষের সংখ্যাও থাকে অল্প। বাকী সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ থাকে দর্শক। যুগে যুগে দেশে দেশে মানুষ এবং সমাজের সঙ্কটকালে এর প্রতিফলন আমরা বারে বারে দেখেছি।
দুনিয়ার অধিকাংশ দার্শণিক, সমাজবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রনায়ক রাজনীতিবিরা মানুষের চরিত্রের এই ব্যাপারটি লক্ষ করেছেন। কেউ এতে হতাশ হয়েছেন। কেউ এটাকে একটা সহজাত মানবিক বৈশিষ্ট্য বলে ধরে নিয়েছেন। হালের অমর্ত্য সেনের কাছেও বিষয়টি এড়ায় নি। তাই তিনি তাঁর এক লেখায় বলেছেন ‘Silence is a powerful enemy of social injustice’ মার্টিন লুথার কিং ষাটের দশকে তাঁর এক বক্তৃতায় আফ্রিকান-আমেরিকানদের অধিকার আদায়ে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী বা কু ক্লাক্স ক্লানের চেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন শ্বেতাঙ্গ মডারেটদের, যারা ভদ্রলোক হিসেবে এইসব সামাজিক সমস্যা বা আন্দোলন থেকে নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে রাখে। মালকাম এক্সেরও এই অভিমত ছিলো। তারা দুজন দুমেরুর মানুষ হলেও এই একটা বিষয়ে তাদের মতামত ছিলো অভিন্ন। এই ধরনের নিরাপদে থাকা লোকদের কেউ কেউ ‘ফেন্স পার্টি‘ বলেও অভিহিত করেন, যেহেতু সঙ্কটকালে তারা ফেন্সে বসে থাকতে পছন্দ করে।
আমরা সবাই জানি,আমাদের দেশের ইতিহাসে একমাত্র একবারই সব মানুষ ফেন্স থেকে নেমে এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছিল। সেটা হলো ‘৭১। যুদ্ধকালীন সময়ে মানুষের এৗক্য অস্বাভাবিক কিছু নয়, যেমন বন্যার সময় হিংস্র পশুও নিরীহ প্রাণীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্হান করে। কিন্ত শান্তিকালীন সময়েও একটা দেশ নানা সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যায়। যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়নের সংগ্রাম একটা স্হায়ী সংগ্রাম। রাজনৈতিক ব্যবস্হার বা পরিস্হিতির উন্নতি অথবা রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তনও একটা দীর্ঘস্হায়ী বা চলমান প্রক্রিয়া। এটাকে সামাজিক-রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের যুদ্ধও বলা চলে। এ সকল সংগ্রামে বা জাতীয় প্রচেষ্টায়, যাই বলি , যদি দেশের সংখ্যাগরিষ্ট , এমনকি একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ না ঘটে, তাহলে শুধু ‘ফেন্সে‘ বসে দেশের জন্য মাতম করলে বা আফসোস করলেই এই পরিস্হিতির উন্নতি ঘটবে না। ফেন্স পার্টিকে সক্রিয় করার জন্য কিছু সাহসী মানুষকে এগিয়ে আসতে হবেই। বলা যায় না, তারা হয়তো ফেন্স থেকে নামতে পারে। আর তারা যদি একবার ফেন্স থেকে নামে , তাহলে কার সাধ্য তাদের রুখিবার?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *