এবার তোরা মানুষ হ

খান আতাউর রহমান পরিচালিত একটি উল্লেখযোগ্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবির নাম ছিলো “আবার তোরা মানুষ হ”। ছবির মূল কাহিনী কেন্দ্রীভূত ছিলো মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সদ্য স্বাধীন দেশের বিরাজমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ ফেরত মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও একতার অভাব। তবে আলোচ্য শিরোনামযুক্ত বিষয়ের মূল কাহিনী ৭১’এ বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সেইসব রাজাকার,আলবদর,জামায়াত ইসলাম,মুসলিম লীগ,আল শামস ইত্যাদি ইত্যাদি ব্যানারে অংশ নেওয়া আদম সন্তানদের মধ্যে অধুনা পরিলক্ষিত স্বজনপ্রীতি ও দলবাজি সংক্রান্ত।

খান আতাউর রহমান পরিচালিত একটি উল্লেখযোগ্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবির নাম ছিলো “আবার তোরা মানুষ হ”। ছবির মূল কাহিনী কেন্দ্রীভূত ছিলো মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সদ্য স্বাধীন দেশের বিরাজমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ ফেরত মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও একতার অভাব। তবে আলোচ্য শিরোনামযুক্ত বিষয়ের মূল কাহিনী ৭১’এ বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সেইসব রাজাকার,আলবদর,জামায়াত ইসলাম,মুসলিম লীগ,আল শামস ইত্যাদি ইত্যাদি ব্যানারে অংশ নেওয়া আদম সন্তানদের মধ্যে অধুনা পরিলক্ষিত স্বজনপ্রীতি ও দলবাজি সংক্রান্ত।
১৯৭১ এ কৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে স্থাপিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ট্রাইবুনালের রায়ে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন অপরাধী তাদের দন্ডাদেশ প্রাপ্ত হয়েছেন এবং আরো অনেকে বিচারাধীন আছেন। কিন্তু লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হচ্ছে কতিপয় অভিযুক্ত আসামীর দন্ডাদেশের আগে-পরে তাদের সমর্থনকারী রাজনৈতিক দলসমূহ যেরকম সোচ্চার প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছে,অন্য অনেকের বেলায়ই সেরকমটা দেখা যায় নি কিংবা অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্রতিক্রিয়াই হয় নি। যেমনটা বলা যায়,আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার,রাজাকার বাহিনীর স্বপ্নদ্রষ্টা একেএম ইউসুফ,এছাড়া ফোরকান মল্লিক কিংবা সাম্প্রতিক সিরাজ রাজাকার ও আকরাম রাজাকার। নিরবে নিভৃতে প্রতিক্রিয়াহীন ভাবেই তাদের বিচার কার্য হয়েছে। বিপরীতক্রমে কাদের মোল্লা,নিজামী,মুজাহিদ,স্বাধীনতা বিরোধীদের শিরোমণি গোলাম আযম,কামারুজ্জামান,দেলোয়ার হোসেন সাঈদী- এদের বিচার কার্য চলাকালীন ও রায়ের আগে-পরে যে ধরণের সংঘাতমূলক প্রতিক্রিয়া প্রদর্শিত হয়েছে তা সত্যিই বিচিত্র। কাদের মোল্লা তো “এই কাদের নয় সেই কাদের” তকমা দিয়ে দেশবাসীকে দ্বিধান্বিত করার চেষ্টা করেছে,গোলাম আজমের জানাযায় জনসমাগমের কথিত বিশাল সংখ্যা দিয়ে গিনেস রেকর্ডে নাম উঠানোর উপক্রম হয়েছে,আর সাঈদী তো প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে (নাকি পাকিস্তানী?) পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ অতিক্রম করে চাঁদে অবতরণ করেছে। নীল আমষ্ট্রংয়ের মতো চাঁদের মাটিতে পায়ের ছাপ না রেখে আসলেও সাঈদী তার মুখের ছাপ চাঁদে রেখে এসেছেন বলে তার গুণগ্রাহীরা বলে থাকেন। এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করা না গেলেও তার চাঁদে অবতরণের অব্যহিত পরেই চাঁদের বুড়ীর অন্তসত্তা হবার খবরটি মুখরোচক হয়ে ওঠে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে প্রতিক্রিয়াকারীরা তাদের প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষেত্রে এই ধরণের বিভাজন কিংবা বৈষম্য কেনো করছে। কেনো তাদের সকল পক্ষপাতিত্ব শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। প্রতিক্রিয়া বঞ্চিত অখন্ড পাকিস্তানের জন্য লড়াই করা সেদিনকার পাকিস্তানপ্রেমীরা আজ স্বাধীন বাংলাদেশের আদালতে অভিযুক্ত হয়ে তাদের কর্মফল প্রত্যক্ষ করছে। পাক সার জমিন সাদ বাদ- এর যে নেশায় তারা নিজ মাতৃভূমিকে অস্বীকার করে বায়বীয় তত্ত্বের নড়বড়ে ভিতের উপর দাড়ানো পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলো,আজ সেই তত্ত্বের আদর্শিক ধারক-বাহকেরা তাদের পক্ষে নেই। সমর্থকদের আদর্শ এখন দলীয় মোড়কে আবদ্ধ। অসার আদর্শের আদর্শহীনতা থেকে বের হয়ে অধুনা নব্য পাকিপ্রেমীরা কবে তাদের মোহ থেকে মুক্তি লাভ করবে?

১ thought on “এবার তোরা মানুষ হ

  1. পৃথিবী একদিন ধ্বংস হবে এটা
    পৃথিবী একদিন ধ্বংস হবে এটা যেমনটি বিশ্বাস করি, তেমনি সেইসব পাকবাদী স্বার্থবাদীরা পাকতন্ত্র ভুলবে না। আর নব্যরা তো আরো পারবেনা, এরা স্বাধীন বাংলাদেশকে অখন্ড পাকিস্তানে পুনঃসংযোজন করার স্বপ্নকে লালন করছে!
    নয়তো ভাবুন ‘BANGLADESH ISLAMI SATRO SIBIR’ তাদের ফেসবুক পেজের Sponsored পোষ্টে সিড়িতে বাংলাদেশের পতাকা, আর তার উপর একজনকে হাটতেও দেখা যাচ্ছে, আবার পোষ্টে কথাগুলোতে দেশপ্রেম পতাকায় সম্মান না থাকলেও বুলি কম জাড়েন নি। এরা কবে ভালবাসতে পারবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে? কেউ কি বলতে পারেন ?

Leave a Reply to অতৃপ্ত নয়ন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *