আজকে বিয়ের লাইসেন্স কালকে কী?

(এক)

(এক)
সদ্য বিয়ে করেছেন বাবু চন্দন দাশ।ঘরের বড় ছেলে হওয়াতে অনেক দায়-দায়িত্ব কাঁধে।জীবনে অবশ্য এই নিয়ে তিনি কম ঝামেলা পোহান নি।যা পেরেছেন তা করেছেন।যে বিয়েটি তিনি করেছেন আধা প্রেম পুরোটা অ্যারাঞ্জ বলা যায়।ছাত্র জীবনে অসম্ভব বাস্তববাদী ছিলেন বাবু মশায়।প্রেম টেম তেমন একটা পাত্তা পায় নি।কিন্তু তাই বলে প্রেম যে আসেনি তা নয়।চন্দন বাবু ও মেয়েদের ভালো করে বোঝেন।নিজের অসচ্ছলতার দায়ে নিজেকে সরিয়ে নিতেন।অসম্ভব মা-বাবা-ভাই ভক্ত চন্দন বাবুও প্রেম এর দিকে না গিয়ে জীবনে বন্ধুত্ব জিনিসটাকে ষোল আনা পুঁজি করে বেঁচে থাকার।ইঙ্গিনিয়ারিং পাশ করার আগে করে একটি চাকরী জুটিয়েছিলেন।এরপর নিজের যোগ্যতায় আর পিছনের দিকে তাকাতে হয় নি।

(দুই)

বিয়ে করার পর চারপাশের পরিস্থিতি ভালো করে বোঝার চেষ্টা করছেন।পরিবারের সকলে তার উপর বন্ধু-বান্ধব থেকে শুরু করে সবাই তার দিকে তাকিয়ে মিট-মিট করে হাসছেন।রাত্রে কি হয়েছে তা নিয়েও কয়েক জনের ইশারা ইঙ্গিত তিনি বুঝে নিয়েছেন।কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই পাগল গুলোকে কিভাবে বোঝাবেন?জীবনে একটু আধটু কবিতার চর্চা করতেন।ছাত্র জীবনে কিংবা এখনো তিনি প্রচণ্ড মুভি ক্রিটিক।গীটার ও ছবি আঁকাতে আগ্রহ চূড়ান্ত রকমের।খেলাধুলার সব খবরাখবরও নখ দর্পণে।কি রাজনীতি কি অর্থনীতি কি দেশ।তর্ক যুদ্ধে সামিল হতে দু’মিনিট ও লাগে নাহ।শুধু যে যুদ্ধ করেন তা নাহ,একটু পাগলাটে স্বভাবের হওয়াতে অনেকের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন।কি পরিবার কি আত্মীয় স্বজন কি বন্ধু-বান্ধব।অমান্য নীতির কাছে নতি স্বীকারে তার ঘোরতর আপত্তি।প্রচণ্ড পরিমাণে স্বাধীন চেতা এই ব্যক্তি নিজের জীবনের শত অভাবকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ছুটে চলেছেন দারুণ ভাবে।তাকে একটু থামানোর জন্য বাবা-মায়ের এই বিয়ের প্ল্যান।

(তিন)

কদিন আগে জার্মানির স্কলারশিপ এর ভিসাটা এসেছে।এর আগে রিফিঊস করেছেন একবার।এবার এসেছে পুরো ফ্যামিলি স্কলারশিপ।বাবুর বউটাও ইঞ্জিনিয়ার।বাবু বউকে জিজ্ঞেস করলো এত ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে তারা কি করে?এই দেশে তো ঠিক মতো রুজি-রুটিও জোটে নাহ।তার উপর দেশের পরিস্থিতি টাও খারাপ।বাবু যেমন বাবুর বউ টাও হয়েছে সেয়ানে সেয়ানে।দারিদ্রটার কুঠার ঘাত সেও জীবনে কম পোহায় নি।ভালো গাইতে পারা থেকে শুরু করে অভিনয়,কবিতা লিখা,সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েদের নিয়ে নানা রকম অঙ্গসংগঠনের সাথে জড়িত।ছাত্রী জীবনে বাবুর বউ তো ইউনিভার্সিটি প্রোজেক্ট ফেয়ারে বাবুকেও আরেক্টু হলে ঘোল খাইয়েছিলেন।তাছাড়া আরও একটি গুন আছে এই মেয়ের।ইউনিভার্সিটির বাঘা বাঘা বি তার্কিকদের একজন।বাবুও মাঝে মাঝে দমে যান।

(চার)

বাবু সকালে ঘুম থেকে উঠে বউ আর মায়ের ঝগড়া শুনতে পান।বাবুর বউ দাবী তুলেছে সে আর বাবু আজ রিক্সা নিয়ে সন্ধ্যার পর ঘুরে বেড়াবে।রিক্সার হুড নামিয়ে দিয়ে,হাতে হাত রেখে ঘুরে বেড়াবে সারা শহরময়।মায়ের বিশেষ আপত্তি ছিল নাহ।কিন্তু এখন দেশের যা পরিস্থিতি।বের হতে দেন কিভাবে?কিন্তু এই মেয়ে অসম্ভব জেদি।এই প্ল্যানটা অবশ্য ছিল বাবুর।কাল রাতে বউকে বলেছিলেন।কিন্তু কিভাবে যেন এই প্ল্যানটা এই মেয়ের ভালো লেগে গেল কে জানে?শুধু ভালো লাগে নি।আজকে যথারীতি বাস্তবায়ন করতে উঠে পরে লেগে গেছে।তার বউ ভাল করে বুঝে গেছে,বাবুর ভয়ে বাহিরের মানুষ তথা অফিস আদালত কেঁপে উঠলেও ঘরের ভয়ে বাবু কাঁপেন।

(পাঁচ)

বিকেলের দিকে উভয়ে ফিরে এলো অফিস থেকে।বের হবে।মায়ের চোখ লাল।বউয়ের সেদিকে নজর নেই।আজকে বউ টাকে লাগছেও দারুণ।বাবু পড়লো জিনস এর সাথে নীল কালারের পাঞ্জাবী।বউ সাদার সাথে মিলিয়ে কালো পাড়ের শাড়ি।হাতে শাঁখা,কপালে সিঁদুরের টিপ।বাবু যেন দুনিয়াদারী হারিয়ে ফেললেন।হটাত বউ এর ডাকে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন।বাইরে বিরাট মিছিল।কাদের মিছিল শ্লোগানেও বোঝা যাচ্ছে নাহ।ইদানীং সব শ্লোগান ও পটভূমি পালটে ফেলেছে।আর মিছিলে হাতে লোহা-শলাকা মাথায় হেলমেট।এবার বোঝা গেলো।তের দফার রফাদফা নিয়ে কি একটা কানে আসতেই সবাই বুঝে গেলো।বাবুর মা সজ্ঞানে বললেন,না যেতে।কিন্তু বাবুর বউ নাছোড়বান্দা।বাবু পড়লেন বিপদে।

(ছয়)

রিকশা নিয়ে আগাচ্ছেন।বউ তার হাতে হাত রেখে মুচকি মুচকি হাসছে।রাস্তায় মানুষজন অবাক হয়ে তাকাচ্ছে।অনেকদিন ধরে তারাও এই রকম দৃশ্য দেখেনি মনে হয়।বাবু ও গানটান ধরেছে একটু ভরাট গলায়।রিকশাটা সোজা মেইন রোড ধরে আগাতে আগাতে রাস্তার মাথায় আসলো,কেউ একজন ইশারায় রিক্সা থামালও।তাদের রিক্সা থামিয়ে দিয়ে বলল তোমরা কারা?একে অপরের সাথে সম্পর্ক কি?বাবু কম্পিত গলায় জবাব দিল আমারা স্বামী-স্ত্রী।এবার বাবুর বউয়ের চেহারার দিকে তাকিয়ে তার গায়ে হাত দিয়ে আর একজন বলল প্রমাণ কি?এবার কাজের কাজ করে বসল বউ।সোজা গাল বরাবর কষে লাগালেন।এবার বাবু ভাবলেন যা আছে কপালে।লাগালেন আরও দু এক ঘা।এতেই তাদের পুরো টিম যেন ছত্রভঙ্গ। কয়েকজন দোকানদার লক্ষ্য করছিলেন ব্যাপারটা।রিকশাওয়ালারাও বিড়ি ফোঁকা বাদ দিয়ে কাছে আসলেন।এরপর আস্তে আস্তে আম জনতা।সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ল দ্রোহের আগুন।এবার বাংলা হয় মুক্ত হবে না হয় আমরা ছেড়ে যাব বাংলা।বাবুর বউ বাবুর দিকে তাকিয়ে ছিলও।হটাত করে তার মুখটিকে টেনে ধরে………ভীতুর ডিম একটা।

আজকের ঘটনাটা কাজীর দেউরির মোড়ে এমন ও হতে পারত।বাঙালি আর কত মাইর খাওয়ার পর জেগে উঠবে জানি নাহ।আজকে বিয়ার লাইসেন্স চেয়েছে।কাল প্যান্ট খোলাবে।আর বেশিদিন নাই।রেডি থাকেন।

৬ thoughts on “আজকে বিয়ের লাইসেন্স কালকে কী?

  1. চান্দু বিয়া করলি অথচ কইলি
    চান্দু বিয়া করলি অথচ কইলি না?

    যাক বাদ দে ব্যাডা, আপাতত বুকে আয়, শাদী মুবারক।

    (*** ফডুশপে একখান কাবিন বানাইয়া লইস, কাজী হিসেবে নরজুল ইসলামের নাম লাগাইস, দেহিস বুল কইরে মালাউন রবীন্দরনাথের নাম দিস না।)

  2. নারে মামু বিয়া করি নাই,তয়
    নারে মামু বিয়া করি নাই,তয় প্রেমে পড়সি।লিখলাম বউ এর লগেও চলবে সংগ্রাম।

  3. চমৎকার লিখেছেন। এভাবেই রুখে
    চমৎকার লিখেছেন। এভাবেই রুখে দাঁড়াতে হয়। কারন অন্যায়কারী সবসময়ই ভীতু। শুধু প্রয়োজন আমাদের একটু সাহস দেখিয়ে রুখে দাঁড়ানো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *