মৃত্যুক্ষুধার পরিসংখ্যান!

আজকে আমার শ্রেদ্ধেয় বড় ভাই বাপ্পি , তিনি ফেসবুকে একটা ছবি আপলোড করেছিলেন শিরোনাম ছিলো “মৃত্যুক্ষুধা, ঢাকার পথে পথে” ছবিটি দেখে প্রচন্ড খারপ লাগলো , ফোনে কথা বললাম , তিনি জানালেন ছবিটা ঢাকা প্রেস ক্লাবে এলাকা থেকে তোলা!!


আজকে আমার শ্রেদ্ধেয় বড় ভাই বাপ্পি , তিনি ফেসবুকে একটা ছবি আপলোড করেছিলেন শিরোনাম ছিলো “মৃত্যুক্ষুধা, ঢাকার পথে পথে” ছবিটি দেখে প্রচন্ড খারপ লাগলো , ফোনে কথা বললাম , তিনি জানালেন ছবিটা ঢাকা প্রেস ক্লাবে এলাকা থেকে তোলা!!

আমি বিশ্বাস করেতে পারিনি এখনো মানুষ রাস্তার ফেলে দেওয়া খাবার কুড়িয়ে খায়!! তিনি অবশ্য আমাকে শান্তনাও দিলেন এরকম দৃশ্য প্রায়ই চোখে বাধে বিশেষ করে কমলাপুর রেল স্টেশনে তাছাড়া এই ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কম নয় , ”WHO এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী ২০ হাজারের বেশী মানুষ খাদ্যহীনতায় মারা যায়” এ পরিসংখ্যানটাও আমার জানা ছিলো গুগোলে একটু ঘাটাঘাটি করে আরও যা জানতে পারলাম তা আরো বেশী ভয়াবহ !!

ডব্লিউএফপি তথ্যমতে,
বিশ্বের ৭৯৫ মিলিয়ন মানুষ সুস্থ সক্রিয় জীবন যাপন করতে যথেষ্ট খাবার পাচ্ছে না. যা পৃথিবীতে নয় জনের মধ্যে প্রায় এক জন!!
উন্নয়নশীল দেশে বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যাই বেশী, যেখানে মোট জনসংখ্যার ১৩.৫ শতাংশ অপুষ্ট !
এশিয়া মহাদেশই সবচেয়ে বেশী ক্ষুধার্ত মানুষ বাস করে!! যা মোট ক্ষুধার্ত মানুষের দুই-তৃতীয়াংশ ! দক্ষিণ এশিয়ার শতাংশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমে গেছে কিন্তু পশ্চিম এশিয়া এটি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে.
”সাব সাহারান আফ্রিকা” ঔ অঞ্চলে ক্ষুধার্তের পরিমান সর্বোচ্চ (জনসংখ্যার শতকরা হার)!! চারজনের একজন ক্ষুধার্ত!!
দরিদ্র পুষ্টির কারনে মৃত্যুবরন কারী শিশুদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক (৪৫%) পাঁচ বছরের কম বয়সী !! যার সংখ্যা প্রতি বছর ৩.১ মিলিয়ন শিশু !!
উন্নয়নশীল দেশে ছয়জন বাচ্চার মধ্যে একজন বাচ্চা আন্ডারওয়েটেড!!! যা প্রায় ১০০ মিলিয়ন!!
বিশ্বে চারজন শিশুর মধ্যে একজন পথশিশু !! উন্নয়নশীল দেশে যার অনুপাত বৃদ্ধি পেয়ে তিনজনে একজন !!
যদি নারী কৃষকরা পুরুষদের সম্পদে কিছু প্রবেশাধিকার পায়, তাহলে, বিশ্বের ক্ষুধার্ত সংখ্যা পর্যন্ত ১৫0 মিলিয়ন কমে যেতে পারে!!
উন্নয়নশীল বিশ্ব জুড়ে ৬৬ মিলিয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয় বয়সের শিশু ক্ষুধার্ত অবস্থায় স্কুলে যায়!! যার মধ্যে আফ্রিকাতেই ২৩ মিলিয়ন !!
টিএইচপির তথ্যমতে ২০০৫ সালে বাংলাদেশে অপুষ্ট শিশুর সংখ্যা ছিলো মোট শিশুর চল্লিশ শতাংশ!

২০১৪ সালের Global Hunger Index এ বাংলাদেশের ইনডেক্স ৫৭ যেখানে শূন্য হলে ভালো!!
স্কোর ৫.৯ এর কম হলে “কম ক্ষুধার্ত ” এর ইঙ্গিত
৫ এবং ৯.৯ মধ্যে হলে “মধ্যপন্থী ক্ষুধার্ত “,এর ইঙ্গিত
১০ এবং ১৯.৯ মধ্যে হলে “গুরুতর” ,এর ইঙ্গিত
২০ এবং ২৯.৯ এর মধ্যে মান “ভয়াবহ”এর ইঙ্গিত
এবং ৩০ অধিক হলে ক্ষুধা সমস্যা “অত্যন্ত ভয়াবহ “এর ইঙ্গিত।।

তাহলে গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স অনুশারে বাংলাদেশের স্কোর ৫৭ হলে সেটা কি পরিমান হবে ?? কিভাবে লেখা যাবে !!?? মন্তব্য কি হবে??!! অত্যান্ত ভয়াবহ , নাকি গুরুতর অত্যন্ত মহাভয়াবহ চিন্তার বিষয়!!!

তথ্যসুত্রঃ

Bangladesh


https://www.wfp.org/hunger/stats
https://en.wikipedia.org/wiki/Global_Hunger_Index

১ thought on “মৃত্যুক্ষুধার পরিসংখ্যান!

  1. কিছুদিন আগেই ইস্টিশনে এ বিষয়ক
    কিছুদিন আগেই ইস্টিশনে এ বিষয়ক আরেকটি লেখা পড়েছিলাম। http://istishon.blog/node/12492

    তবে প্রশ্ন হচ্ছে, আধুনিক সভ্যতা কেন এই দারিদ্র্য পুষে রেখেছে। আজ তো মানুষের আর না খেয়ে থাকার কোনো কারণ নেই। যে লেখাটির লিঙ্ক দিলাম, তাতে দেখানো হয়েছে, পৃথিবীতে কিভাবে উন্নত দেশগুলো বিপুল পরিমাণ খাদ্য অপচয় করে। আসলে পুঁজিবাদ এমনই এক সমাজব্যবস্থা, যেখানে দরিদ্র মানুষদের মানুষ ভাবা হয় না। কিছু লোক এখানে না খেয়ে বা রাস্তায় থাকবে, এটা তারা মেনেই নিয়েছে। এই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার। সমস্যার সঙ্গে সমাধানের আলোচনাও জরুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *