আপনার সন্তানকে মুক্তমনা হওয়া থেকে দূরে রাখার উপায় কি!মুক্তমনা লেখকদের জন্যই কি বর্তমান জেনারেশন নাস্তিকতার দিকে ঝুঁকছে!!

নিজের ও মুক্তমনা বন্ধুদের দেখে একটা অদ্ভুত জিনিস আবিষ্কার করেছি! আমাদের এই প্রথাবিরোধী মনোভাবের জন্য আমাদের আসেপাশের মানুষগুলো সবসময় কিছু লেখকদের দোষ দিয়ে আসছে। এদের মধ্যে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, হুমায়ুন আজাদ, তসলিমা নাসরিন, আরজ আলী মাতব্বর আর ইদানিং বলছে অভিজিৎ রায়ের নাম ; বিদেশি কারো নাম সচরাচর বলে না আর তার প্রভাবটাও তারা বুঝে না হয়ত।

সে যাই হোক, যে উদ্দেশ্যে লিখছি তা হলো, এসব লেখকদের দোষটা কোথায়? খেয়াল করুন আমি এসব লেখকদের শ্রেষ্ঠ বানাচ্ছি না।

নিজের ও মুক্তমনা বন্ধুদের দেখে একটা অদ্ভুত জিনিস আবিষ্কার করেছি! আমাদের এই প্রথাবিরোধী মনোভাবের জন্য আমাদের আসেপাশের মানুষগুলো সবসময় কিছু লেখকদের দোষ দিয়ে আসছে। এদের মধ্যে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, হুমায়ুন আজাদ, তসলিমা নাসরিন, আরজ আলী মাতব্বর আর ইদানিং বলছে অভিজিৎ রায়ের নাম ; বিদেশি কারো নাম সচরাচর বলে না আর তার প্রভাবটাও তারা বুঝে না হয়ত।

সে যাই হোক, যে উদ্দেশ্যে লিখছি তা হলো, এসব লেখকদের দোষটা কোথায়? খেয়াল করুন আমি এসব লেখকদের শ্রেষ্ঠ বানাচ্ছি না।
প্রথম কথাটা হচ্ছে, এসব লেখকদের বই পড়ে সবাই বুঝে না। জাফর ইকবালের বই পড়ে সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস শুরু করবে তা কিন্তু না! আবার হুমায়ুন আজাদ যা বলবে তা একজন হুজুরের পক্ষে বোঝাও পসিবল না।তাদের বইগুলো লেখাই হয় সমাজের একটা স্তরের মানুষের জন্য। আপনার সন্তানকে আপনি স্কুলে পড়াচ্ছেন, সে জ্ঞান অর্জন করছে তার বুদ্ধির বিকাশ ঘটছে। একটা সময়ে গিয়ে সে এসব লেখা পড়ে সত্যটা বুঝতে পারবে আর এরপরে সে অন্যরকম হয়ে যাবে, অন্যরকম ভাবে দেখবে সব, কূপের ব্যাঙ হয়ে থাকতে চাইবে না আর তার মন। এখন বলেন মুক্তমনা হওয়া যদি দোষের হয় তো দোষ কার? আপনি আপনার সন্তানকে মাদ্রাশায় দিতেন! জ্ঞান বিজ্ঞান থেকে দূরে রাখতেন যদি! ঘুমের দোয়া, খাওয়ার দোয়া, গাড়িতে ওঠার দোয়া, বাথরুমে ঢোকার দোয়া, বেরুনোর দোয়া শিখানোর ব্যাবস্থা করতেন তাহলে সে তো আর মুক্তমনা হতে পারতো না! এসব লেখকদের বই পড়েও কিছু বুঝতো না।

কিন্তু আপনি তাকে মাদ্রশায় পড়াবেন না। আপনার ইচ্ছে ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু আপনি তো আপনার ছেলেকে মুক্তমনা হওয়ার দিকে একধাপ ঠেলে দিলেন।

দ্বিতীয়ত, আপনার সন্তান স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে পড়বে। তখন সে দেখবে তারা যা পড়ছে তার ৮৫% ই বিধর্মীদের লেখা। যেই ১৫% আছে তাও ঠেকা না পরলে দেয়ার দরকার হয় না। তখন তার মন পরিবর্তন ঘটবেই! সে হঠাৎ করে বুঝে যাবে জ্ঞানচর্চায় এই ধর্মটা নিশ্চই একটা বিশাল বাধা। তারপর যেই বিপদের আশংকা করেছেন তাই হবে।

তৃতীয়ত, মুক্তমনা নাস্তিক হতে হলে নাস্তিকদের বই পড়তে হয় না। আপনার সন্তান যদি বিজ্ঞান বই মুখস্থ না করে বুঝে পড়ার চেষ্টা করে তো আপনি শেষ। সে যখন বিগ ব্যাং পড়বে তখন একটু যাবে, যখন সভ্যতার স্তরগুলো পড়বে তখন একটু যাবে, যখন মহাকাশটাকে বুঝার চেষ্টা করবে তখন একটু যাবে সর্বশেষ যখন বিবর্তনবাদ পড়বে তখন সব যাবে। এই ছেলে ধর্মকে ম্যারাডনা কিক দিয়ে মুক্তমনা হয়ে যাবে কারন সে তো তার পাঠ্যবই খালি এ+ পেতেই পড়ে নাই। তাহলে বুঝেন! আপনি কই যাবেন এখন?

আপনি যদি মুক্তমনা, নাস্তিক ঘৃণা করেন তো নিজের সন্তানকে তার থেকে দূরে রাখতেই হবে। এ জন্য তাকে জ্ঞান বিজ্ঞান থেকে দূরে রাখতে হবে। অর্থাৎ তাকে মাদ্রাশায় ভর্তি করতে হবে। তাহলে একটু নিশ্চিন্ত হবেন আরকি! এখন ছেলে মেয়েকে বিজ্ঞান শেখার সুযোগ দিয়ে মুক্তমনা হতে নিষেধ করলে ক্যামনে কি! দোষ খালি বিজ্ঞানলেখক, প্রথাবিরোধী লেখকদের দিলেই হবে?

আর তাছারা ছেলের মাথায় যদি ঘিলু থাকে তাহলে মাদ্রাশায় পড়েও লাভ নাই। সে টপাস কাহিনী পড়তে পড়তে বুঝে ফেলবে এমন আরব্য রজনীর গল্প ক্যামনে ক্যামনে জানি ধর্ম গ্রন্থে ঢুকে গেছে :3 বাঙলাদেশে ২০১০ এর পর থেকে যে হারে অবিশ্বাসীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে আপনার নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নাই। এসব অবিশ্বাসীদের একটা অংশ মাদ্রাশা থেকেও আসে।

এখন আপনি কি করবেন? কোনো কিছুতেই তো কিছু হচ্ছে না।এদিকে দুনিয়া মুক্তমনায় ভরে যাচ্ছে… ২০০ কোটি ছারিয়েছে। একটা সময় দুই টাইপ লোক থাকবে পৃথিবীতে। মুক্তমনা আর জঙ্গিমনা। ইয়েস… আপনি তখন জিহাদ ঘোষনা করবেন। বুদ্ধি আর জ্ঞানে যখন হচ্ছে না তখন অস্ত্র হাতে নিতেই হবে! কিন্তু ঐ যে কথায় আছে না কলমের জোর তলোয়ারের চেয়ে বেশি! তার মানে বুঝে গেছেন আপনাদের ধ্বংস অনিবার্য। নিজে ধ্বংস হবেন সাথে সন্তানদের ও ধ্বংস করবেন এমন পিশাচ কি আপনি হতে পারেন? তাই সন্তানের ভালোর জন্যই তার হাতে বিজ্ঞানের বই তুলে দেয়ার দায়িত্ব আপনার। আর তখন এসব নাস্তিকদের কোনো বিকল্প আপনার সামনে থাকবে না 🙂

৭ thoughts on “আপনার সন্তানকে মুক্তমনা হওয়া থেকে দূরে রাখার উপায় কি!মুক্তমনা লেখকদের জন্যই কি বর্তমান জেনারেশন নাস্তিকতার দিকে ঝুঁকছে!!

  1. আপনার দাবী আর বাস্তবতা কিন্তু
    আপনার দাবী আর বাস্তবতা কিন্তু অনেক ভিন্ন। উন্নত বিশ্বের উচ্চশিক্ষিত বিপুল পরিমান লোকজন প্রতিদিন ইসলাম গ্রহন করছে।অনেক অনেক বিজ্ঞান শিক্ষা দিয়েও ইসলাম থেকে ফিরিয়ে রাখা যাচ্ছে না। হয়ত চলমান বিশ্ব নিয়ে তেমন ধারনা রাখেন না, কিম্বা হুমায়ূন আজাদ আর অভিজিতের মত সাইকোপ্যাথের বাইরে কিছু ভাবতে পারেন না বলে এরকম পোস্ট দিয়েছেন। নিচের লিংক গুলো দয়া করে একটু দেখুন–

    http://www.independent.co.uk/news/uk/home-news/the-islamification-of-britain-record-numbers-embrace-muslim-faith-2175178.html

    http://time.com/3671514/islam-europe/

    https://www.youtube.com/watch?v=WSyzcn1_9yQ

    1. আপনি কি বলতে চাচ্ছেন? ইসলাম
      আপনি কি বলতে চাচ্ছেন? ইসলাম বিজ্ঞানপন্থী? ইসলামের বেশিরভাগ ব্যাপার ই বিজ্ঞান প্রমান করতে পারে না। এখন কেউ যদি বিজ্ঞান পড়ে ইসলাম মানে তাহলে তার ব্যাপারে কি বলার থাকে!!!

      1. আপনি কি বলতে চাচ্ছেন? ইসলাম

        আপনি কি বলতে চাচ্ছেন? ইসলাম বিজ্ঞানপন্থী?

        উহু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইসলাম বিজ্ঞানের বিপ্রীত। মুহাম্মদ (সা) জীবরাইল ফেরেস্তার কাছ থেকে ওহী পেতেন। কিন্তু বিজ্ঞান এসব প্রমান করতে পারে না। এটা বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। পৃথিবীর অনেক মৌলিক প্রশ্নের উত্তরই বিজ্ঞান দিতে পারে না। বিজ্ঞান – আল্লাহ নেই এমনটাও কিন্তু প্রমান করতে পারে নি।
        তাই বিজ্ঞান কখনই শেষ আর চূড়ান্ত কিছু নয়। যারা তেমনটি ভাবে তারা আসলে বোকার স্বর্গে বসবাস করে। তাই বিজ্ঞান চর্চা বাড়লেও , ইসলাম গ্রহনের পরিমান কিন্তু কমে না।

  2. হা হা… আমি এসব কাহিনী র
    হা হা… আমি এসব কাহিনী র সাথে আলিফ লায়লা বা সিনবাদের গল্পের কোনো পার্থক্য দেখি না। আর ইসলাম গ্রহন বাড়ছে খুব?

    ২০১০ সালে কজন নাস্তিক ছিলো দেশে? আর এখন কতজন আছে? নিজেই বুঝবেন। ১ জন ইসলাম গ্রহন করলে ১০ জন ছেরে যায়।

  3. এত কথা কইয়া কাম কাজ
    এত কথা কইয়া কাম কাজ নাই,বুঝলাম আল্লাহ বা ঈশ্বর নাই এটা বিজ্ঞান প্রমান করতে পারে নাই।আপনি এক কাজ করুন,আল্লাহ আছে সেটা প্রমান করে দিয়ে যান! প্রমান বলতে কি বুঝায় তা নিশ্চয় বুঝেন?

    1. আপনারা তো মূর্খের মত কথা
      আপনারা তো মূর্খের মত কথা বলছেন। আস্তিক হতে আবার প্রমান লাগে নাকি? লাগে বিশ্বাস। কিন্তু নাস্তিক হতে লাগে তথ্য প্রমান। এখন দ্রুত বিজ্ঞানের কোন কোন সূত্র দিয়ে আল্লাহ নেই সেটি প্রমাণিত হয়েছে সেটি দয়া করে আমাদের জানান। বিজ্ঞানের সেসব সূত্র যেনে আমরাও নাস্তিক হতে চাই।

      1. ক্যান্সারের প্রতিষেধক জানি না
        ক্যান্সারের প্রতিষেধক জানি না মানে এই না যে আপনাদের মত ঝারফুকে বিশ্বাস করবো!

        এরপর ও না বুঝলে কিছু করার নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *