আমার গ্রাম একাল সেকাল

দীর্ঘ কয়েকবছর পর ঈদের ছুটিতে নানা বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম।গিয়ে দেখি কয়েক বছরে সব কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে।হারিকেনের বদলে বিদ্যুৎ এসেছে কাঠের পুল আর বাশের সাকোর বদলে নতুন ব্রিজ তৈরি হয়েছে রেডিওর বদলে ক্যাবল টিভি অর্থাৎ ডিশ চলে এসেছে।চারিদিকে যেন উন্নয়নের জোয়ার বইছে কিন্তু উন্নয়নেরও বিড়ম্বনাও রয়েছে।আগের পালাগান যাত্রা ইতিমধ্যেই স্তিমিত হতে শুরু করেছে।


দীর্ঘ কয়েকবছর পর ঈদের ছুটিতে নানা বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম।গিয়ে দেখি কয়েক বছরে সব কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে।হারিকেনের বদলে বিদ্যুৎ এসেছে কাঠের পুল আর বাশের সাকোর বদলে নতুন ব্রিজ তৈরি হয়েছে রেডিওর বদলে ক্যাবল টিভি অর্থাৎ ডিশ চলে এসেছে।চারিদিকে যেন উন্নয়নের জোয়ার বইছে কিন্তু উন্নয়নেরও বিড়ম্বনাও রয়েছে।আগের পালাগান যাত্রা ইতিমধ্যেই স্তিমিত হতে শুরু করেছে।

যেই এলাকায় আগে দেখতাম প্রচুর মারফতের লাইনের মানুষ অর্থাৎ পির মাশায়েখ সুফিদের প্রচুর উপস্থিতি তাদের আজ হারিকেনের মত হারিকেন জ্বালিয়ে খুজতে হয়। তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির চরম নিদর্শনও স্থাপন করেছিলো।প্রতিবছর বিভিন্ন সময় তাদের ওরশ হতো মেলা বসত সারা গ্রাম আনন্দ উৎসবে ভরে উঠত।হিন্দু মুসলিম সহ নানা সম্প্রদায় ও গোত্রের মানুষ একই সাথে সে উৎসবে অংশগ্রহন করতো কিন্তু সেই এলাকাও আধুনিকতার সাথে সাথে কট্টর মোল্লা ফতোয়াবাজ কওমি তাবলিগওয়ালা থেকে শুরু করে এক্সট্রিমিস্টদের আতুর ঘরে পরিনত হচ্ছে।এ থেকে আমি অনুধাবন করলাম প্রযুক্তির সাথে এক্সট্রিমিস্ট লাইনের গুরুতর সম্পর্ক রয়েছে কারন উগ্রপন্থা ছড়ানো হয় প্রযুক্তির মাধ্যমে নানা মিডিয়ায়।যোগাযোগ ব্যাবস্থা উন্নত হওয়ার সুবিধা নিয়ে মরন নেশা ইয়াবা শহর বন্দর ছাড়িয়ে সেই অজপারাগায়েও ঢুকে পরেছে এবং আমার ছোট বেলার সেই এলাকার কয়েকজন বন্ধুও এখন নিয়োমিত ইয়াবায় আসক্ত।কিছুদিন আগে শুনেছিলাম আমার মামা নাকি বাড়ির পাশেই মসজিদ দিয়েছে কিন্তু এবার গ্রামে গিয়ে দেখি শুধু আমার মামাই নয় অনেকের মামাই কাচা টাকা হওয়ার সুবাদে বাড়ির পাশে একটা করে মসজিদ দিয়ে বসেছে।সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প এখানে উল্টা হয়ে একটি বাড়ি একটি মসজিদে রুপান্তরিত হয়েছে।আর সেসব মসজিদে এবং তৎসংম্লিষ্ট ধর্মব্যাবসায়ীদের পিছনে প্রবাসিরা না বুঝেই নানাভাবে টাকা পয়সা ঢালছে এবং এর ফলে যে উগ্রপন্থা বিস্তার লাভ করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই্ কারন প্রগতির চর্চা সেখানে নেই বললেই চলে।স্কুল কলেজে অযোগ্য টিচারদের ঠুটো জগন্নাথ করে বসিয়ে রাখা হয়েছে যারা পাঠ্য বইয়ের বিষয়গুলোই ঠিকমতো কিছু বোঝে না অন্যান্য বিষয়গুলো না হয় বাদই দিলাম।এটি একটি গ্রামের অবস্থা নয় এটি উন্নয়নের ছোয়া লাগা বাংলাদেশের ৮৭,৩২০ টি গ্রামের সামগ্রিক চিত্র।গোড়া শক্ত না করে আগায় পানি ঢাললে যা হয় আমাদেরও তাই হয়েছে।

৩ thoughts on “আমার গ্রাম একাল সেকাল

  1. গিয়ে দেখি কয়েক বছরে সব কিছু

    গিয়ে দেখি কয়েক বছরে সব কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে।

    আসলেই কি সব কিছু? দারিদ্র্যের কী অবস্থা? জমির মালিকানার কি অবস্থা? সামন্ত প্রথা-শালিসির কি অবস্থা? বাল্য বিবাহ, শিল্প, শিক্ষার কি অবস্থা? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া এ আলোচনা অর্থহীন হবে।

    1. আমি যে প্রশ্নগুলো করেছি,
      আমি যে প্রশ্নগুলো করেছি, সেগুলোর উত্তর দিতে শুরু কর এখানেই। তাহলেই আলাপ এগুবে। আলাপ এগুলে লিখতেও সুবিধা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *