নারী উপাখ্যান

৮ ই মার্চ পার হল। পার হল আরও একটি বিশ্ব নারী দিবস। ‘নারীদের প্রতি আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টানো উচিৎ’ এ জাতীয় কিছু তত্ত্বকথা বলতে বলতে অনেকেই মুখে ফেনা তুলে ফেললেন। সেমিনার সিম্পজিয়াম হল। মহিলা এম পি কিংবা মহিলা কোন মন্ত্রী আনলে ভালো দেখাবে কিনা টা নিয়ে কিছু বাক বিতণ্ডা হল। এখন অবশ্য যথারীতি নারীকে ভুলে যাওয়ার পালা। তারপরও ভাবলাম এই বিষয়ে কিছু না লিখলে কেমন দেখায়? নারী বিদ্বেষী ভাবতে পারে অনেকে।


৮ ই মার্চ পার হল। পার হল আরও একটি বিশ্ব নারী দিবস। ‘নারীদের প্রতি আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টানো উচিৎ’ এ জাতীয় কিছু তত্ত্বকথা বলতে বলতে অনেকেই মুখে ফেনা তুলে ফেললেন। সেমিনার সিম্পজিয়াম হল। মহিলা এম পি কিংবা মহিলা কোন মন্ত্রী আনলে ভালো দেখাবে কিনা টা নিয়ে কিছু বাক বিতণ্ডা হল। এখন অবশ্য যথারীতি নারীকে ভুলে যাওয়ার পালা। তারপরও ভাবলাম এই বিষয়ে কিছু না লিখলে কেমন দেখায়? নারী বিদ্বেষী ভাবতে পারে অনেকে।

নারীর অবদানকে ভুলে যাব কথাটা বলা ঠিক হচ্ছে না। বলা উচিৎ আবার আগের মত মনে রাখবো। কলেজে কোন সুন্দরী মেয়ে ভর্তি হলে হা করে তাকিয়ে বলব, ‘জোশ মাল, না?’ কিংবা কোন মেয়ে সম্পর্কে কেউ জানতে চাইলে বর্ণনা দিতে যেয়ে প্রথমে বলব, ‘দেখতে মোটামুটি ভালোই, পড়াশুনায়…’। একটি মেয়ের একমাত্র কাজ সুন্দর একটা মুখস্রী নিয়ে জন্মানো। এরপরের কাজ ফিগার মেইন্টেন। পড়াশুনা কতদুর করেছে এই তথ্যটাই জানতে চাওয়া হয়, তবে তা নেহাত ভদ্রতা। ছাত্রী কেমন ছিল এই সম্পর্কে একটা আইডিয়া নেয়ার জন্য জানতে চাওয়া হয় সাইন্সে না আর্টসে পড়ে।

খুব ভালো ছাত্রী হওয়া কি খুব আনন্দের? আমাদের চেয়ে এক বছরের ছোট এক মেয়ে একবার বোর্ডে প্রথম হল। শুধু তাই না অনেকগুলো বিষয়ে রেকর্ড নম্বর পেল। রেজাল্টের পরের দিন তাঁকে নিয়েই আলাপ আলোচনা হচ্ছিল বিভিন্ন জটলায়। ‘ফাটাফাটি রেজাল্ট’ ‘খুবই ব্রিলিয়ান্ট মেয়ে’ এমন সব উচ্ছাস বাণীর মাঝে একজন বিজ্ঞের মত জানান দিল, ‘দেখে নিস এই মেয়ের বিয়ে হবে না।‘ সবাই হেসে উঠেছিলাম ঠিকই, কিন্তু একটা তথ্য সে ঠিক দিয়েছিল। সত্যিই কি আমরা পুরুষরা নিজেদের চেয়ে ব্রিলিয়ান্ট মেয়ে বিয়ে করতে চাই?

স্ত্রী স্বামীর চেয়ে ব্রিলিয়ান্ট এমন কিছু সংসার ভাঙতে দেখেছি শুধু ইগোর দ্বন্দের জন্য। স্ত্রী ভালো কিংবা ট্যালেন্টেড মেনে নিতে হয়তো আপত্তি নাই তবে আমার চেয়ে বেশী এই তথ্য হজম করতে আমরা এখনও বোধহয় প্রস্তুত না। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়া কোন মেয়ে যদি পড়াশুনা করতে চায় অনেক পরিবারই হয়তো আপত্তি করবেন না তবে স্বামীর চেয়ে বেশী পড়তে চাইলে বিপত্তি অবশ্যম্ভাবী। ‘মেয়েদের এতো পড়াশুনার দরকার কি, ঘর সংসার করার জন্য যতটুকু লাগে…’

শুধু কি শ্বশুর বাড়ী বা পরের বাড়ীতেই এই বিদ্বেষ? এই দ্বৈত নীতি শুরু হয় ঘর থেকেই। বাড়ীতে বড় মাছ আসলে পেটি অবধারিত ভাবে পুত্র পাবে। কিংবা পুত্র মাছ খায় না বিধায় বাড়ীতে মাংস করা হতে পারে কিন্তু মেয়ে মাছ খায়না এমন ঘটনায়? খুব সহজে এমনটা ঘটতে দেয়া হয় না। নেহাত একমাত্র মেয়ে কিংবা অল্প বয়সে এই বায়না মেনে নেয়া হয়। এরপর শুরু হবে উপদেশ, ‘সব খেতে শিখতে হবে।‘ একমাত্র ছেলেকে মাছের বড় পিস না দিয়ে একমাত্র মেয়েকে দেয়া হয়েছে এমনটা কি খুব বেশী দেখা যায়?

বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে যখন একজন ছেলের সাফল্য দেখানো হয় তখন দেখানো হয় ছেলেটার খুব ভালো চাকরী হয়েছে। আর মেয়েটার খুব ভালো বিয়ে হচ্ছে কিংবা কোন সুন্দরী প্রতিযোগিতা জিতছে। ছেলের চাকরীর জন্য যত উতলা হয় পিতামাতা মেয়ের চাকরীর জন্য কি হয়? মেয়ের জন্য প্রথম খোঁজ হয় ‘পাত্র’। ব্যাপারটা এখানেই থামে না। বিবাহিত ছেলের বর্ণনায় থাকে সে কেমন উন্নতি করছে, বেতন বেড়েছে কি না, প্রমশান হয়েছে কি না। আর মেয়ের? কত ভালো জামাই পেয়েছে। মেয়ে খুব সুখে আছে। শ্বশুর বাড়ীর সকলেই খুব খুশী এমন বউ পেয়ে।

এই বৈষম্য কি নিপুণ হাতে তৈরি করা? যাদের পরিবারে সবগুলো সন্তানই কন্যা তাঁদের ক্ষেত্রে তো এমনটা হওয়ার কথা না। তা কি হয়? বিয়ের পর মেয়ের চাকরী কেমন চলছে, প্রমোশান দেয়া উচিৎ কিন্তু দিচ্ছে না– এমন আলাপচারিতা খুব বেশী কি শুনেছেন? সমস্যাটা কোথায়? বাড়ীতে টেলিভিশান দেখবার সময় লক্ষ্য করে দেখেন, পুরুষ আর মহিলা দের দেখবার বিষয় একদম আলাদা। আমার এক আত্মীয়া একবার তাঁর এক বান্ধবীর সঙ্গে টেলিফোনে গল্প করছিলেন। যথারীতি শাশুড়ি আর ননদের বদনাম। টেলিফোন রাখবার পরে বললাম, বাঙ্গালী মেয়েদের শাশুড়ি ননদের বদনাম করতে না দিলে মনে হয় এরা দুঃখেই মরে যাবে। উনি হেসে বললেন, তা ঠিক বলেছিস।
এদেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধীদলীয় নেত্রীও নারী। দুজনই পরিস্থিতির শিকার হয়ে রাজনিতিতে এসেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা জিয়াউর রহমান এর অকস্ম্যাৎ মৃত্যু না হলে এঁরা রাজনীতিতে আসতেন কি না সন্দেহ। কিংবা তাঁদের কোন পুরুষ উত্তরসূরি থাকলে তাঁরা সুযোগ পেতেন কিনা জানি না। তারপরও তাঁরা দুই দুইবার করে পূর্ণ মেয়াদে দেশ চালাবার সুযোগ পেয়েছেন। এই ব্যাপারটাকে নারীর ক্ষমতায়ন হিসেবে দেখতে চাইতে পারেন। আমি আপত্তি করব না। একটা গল্প শেয়ার করব শুধু।

একদিন চেম্বারে বসে আছি। রুগী না থাকার সময়টা টিভি দেখি। এমন সময় একজন রুগীনি এলেন। টিভিতে তখন হরতালের ভাংচুরের ছবি দেখাচ্ছে। মহিলা রাগতঃ স্বরে বললেন, কি অবস্থা দেশের। বুঝলাম সরকারের বিপক্ষের সমর্থক। তারপরও জানতে চাইলাম, এবার কাকে ভোট দিবেন। জানালো বি এন পি কে। আমি বললাম, তখনও তো হরতাল হবে, ভাংচুর হবে। মেনে নিলেন। তারপরও বললেন তারপরও বিএনপি কে ভোট দিব। বললাম, দুই নেত্রীর ভিতর কাকে বেশী পছন্দ? উত্তর পেলাম খালেদা জিয়া।
জানতে চাইলাম কেন?
খালেদা জিয়া দেখতে বেশী সুন্দর।

১ thought on “নারী উপাখ্যান

  1. বললাম, দুই নেত্রীর ভিতর কাকে

    বললাম, দুই নেত্রীর ভিতর কাকে বেশী পছন্দ? উত্তর পেলাম খালেদা জিয়া।
    জানতে চাইলাম কেন?
    খালেদা জিয়া দেখতে বেশী সুন্দর।

    :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    মিস গুলাফি 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *