“আপনার বাংলাদেশ আজ ভাল নেই, স্যার”


প্রতিদিন অফিস শেষ করে হাঁটতে হাঁটতে ৩২ নাম্বারে আসি। সেখান থেকে রাস্তা পার হয়ে বাসার উদ্দেশ্যে ছুটি। ৩২ নাম্বার পার হবার সময় প্রতিদিনই বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে একবারের জন্য হলেও তাকাই। যেদিন সময় পাই সেদিন বাড়িটার বিপরীত পাশে রাস্তার ধারে বসে বাড়িটার দিকে তাকাই। কিছুক্ষণ একা একা চুপচাপ বসে থাকি। এইখানেই বঙ্গবন্ধু থাকতেন; এই বাড়ির দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়েই তিনি তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতেন; এই বাড়িতেই তিনি সপরিবারে নিহত হয়েছিলেন ভাবলেই গা শিউরে উঠে। মনে হয় টাইম মেশিনে চড়ে অতীতে চলে এসেছি। চোখ বন্ধ করলেই মনে হয় সব কিছু আমি দেখতে পাচ্ছি। মনে হয়, ইতিহাস আমার সামনে এসে তাঁর দিকে আমাকে আহ্বান করছে। ঘোরটা বেশিক্ষণ থাকে না। গাড়ির হর্নের শব্দে কেটে যায়।

আজকেও বসেছিলাম কিছুক্ষণ। মনটা বিক্ষিপ্ত। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাতই দৃষ্টিবিভ্রম হল। মনে হল বঙ্গবন্ধু আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মুখে বিষণ্ণতার চাদর। আর আমি বলছি,

আপনি যেই দেশটা আমাদের এনে দিয়েছেন, সেই দেশটা আজ ভাল নাই স্যার। এইখানে আজ সাম্প্রদায়িকতার বিষাক্ত ছোবলে অসাম্প্রদায়িকটা ভূলুণ্ঠিত হয়। এইখানে আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে রাজনীতি রাজনীতি খেলা হয়। এইখানে আজ কীবোর্ড আর ইন্টারনেট মডেমকে চাপাতি কিংবা শটগানের থেকেও ভয়ংকর অস্ত্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়। আপনার বাংলাদেশ আজ ভাল নাই স্যার।

আমার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে। ঝাপসা চোখে দেখি বঙ্গবন্ধু নিজেও তাঁর চশমা খুলে চোখ মুছছেন আর বলছেন,

চিন্তা করিস না, সব ঠিক হয় যাবে। ৩০ লাখ লোকের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের মুল্য রাজনীতিবিদদের কাছে না থাকলেও মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে আছে। তিনি সবসময় সুবিবেচক। এই দেশটাকে তিনিই আবার পাকিস্তান হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবেন।

মাগরিবের আজানের শব্দে আমার ঘোর কেটে যায়। আমি দেখি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি আমার দিকে নির্বাক তাকিয়ে থাকে। আমি ফিরে চলি। ধানমন্ডি লেকের সন্ধ্যার হিমেল বাতাস আমার গাঁয়ে পরশ বুলিয়ে আমাকে সান্ত্বনা দেয়। আমাকে হতাশ হতে নিষেধ করে। আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখায়। সেই স্বপ্নগুলো নিয়েই আমি বেঁচে থাকি। স্বপ্ন দেখা ছাড়া এখন আমি আর কিই বা করতে পারি?

৬ thoughts on ““আপনার বাংলাদেশ আজ ভাল নেই, স্যার”

    1. নাহ, এখনও এই দেশ পাকিদের হয়
      নাহ, এখনও এই দেশ পাকিদের হয় নাই। তবে যা শুরু হয়েছে তাতে বাংলাস্তান হতে মনে হয় আর দেরী নেই।

  1. বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনে যেই কয়টা
    বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনে যেই কয়টা ভুল করছিলেন, ঠিক তাঁর কন্যাও ভুল করছেন। তবে ভুলের ধরন হয়ত এক নয়। জানিনা আমাদের ভবিষ্যৎ কি…………………………………

  2. আজ সন্ধ্যায় মশাল মিছিল
    আজ সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করছিলাম।স্লোগানের লিড দিতে গিয়ে গলা ধরে আসছিল।স্লোগান দিতে গিয়ে চোখে পানি চলে আসছিল বার বার।আমি হতাশ নই,অনুরোধ করব কেউ হতাশ হবেন না।এ যুদ্ধে আমাদের জিততেই হবে।যে যতই ষড়যন্ত্র করুক ডিসেম্বর,ফেব্রুয়ারি,মার্চ ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।আমরা জ্বলে উঠবোই,যতবারই তারা নিভিয়ে দিতে চাইবে,দ্বিগুণ শক্তিতে।মাঝখান থেকে শত্রুদের আপডেট তালিকাটাও চিনে নেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *