ইউরোপে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই

গত ৫ জুলাই গ্রিসে হয়ে গেল এক ঐতিহাসিক গণভোট। ট্রয়কা’র অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনগণের রায় প্রতিফলিত হলো ‘না’ ভোটের বিজয়ের মধ্য দিয়ে।এই ভোটের ফলাফল ট্রয়কা ও ইউরোপের পুঁজিপতি শাসকশ্রেণির জন্য এক বড় ধরনের চপেটাঘাত। যদিও এই ‘না’ ভোট প্রদানের মধ্য দিয়ে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হলো তার স্বার্থক পরিণতিতে পৌঁছুবে কিনা তা দেখার জন্য আমাদের বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। ইতিহাসের এই ক্রান্তিলগ্নে গ্রিসের সিরিজা পার্টি ও তাদের তরুণ নেতা সিপ্রাস জনগনকে সাথে নিয়ে সামনের দিনের বন্ধুর পথ কতটুকু সাহসিকতার সাথে অতিক্রম করতে পারলেন বা জনগনকে দেওয়া তার প্রতিশ্রুতির সাথে কতটুকু আপোস করলেন, ভবিষ্যতই তার উত্তর দেবে।

গ্রিস আজকের এই অবস্থায় রাতারাতি উপনীত হয় নি। আমরা দেখছি, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ কিংবা ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক এর ছত্রছায়ায় মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ছড়ি ঘোরাচ্ছে গোটা বিশ্বের ওপর। এই পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায় মুনাফাসর্বস্বতার পাগলা ঘোড়াকে লাগাম পড়ানো অসম্ভব। পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে নিজস্ব অর্ন্তনিহিত দ্বন্দ্বের কারনেই তাই কিছুদিন পর পর তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার শিকার হতে হয়। জনগণের পকেট কেটে সেই মন্দাকে সাময়িকভাবে রোধ করার চেষ্টা করা হয়, যদিও সেটি বারবার ফিরে আসে। ২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার সৃষ্টি হয় তার প্রভাব সারা বিশ্বে এসে পড়ে, বিশেষত ইউরোপে। গ্রিস সেই আঘাতে পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে। ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হতে শুরু করে। এই সুযোগে গ্রিসকে নতুন নতুন ঋণের জালে আটকে ফেলা হয়, একের পর এক শর্ত চাপানো হয় গ্রিসের ওপর। ট্রয়কার পরামর্শে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারী খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, বাজেটে কঠোর কৃচ্ছতাসাধনের পথ নিতে বাধ্য করা হয়, মজুরি ও ছাঁটাই চলে। ফলশ্রুতিতে বেকারত্বের হার ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়, জিডিপি ভয়াবহভাবে কমতে থাতে, জিডিপি ও ঋণের অনুপাত বাড়তে বাড়তে ২২৬ শতাংশে গিয়ে পৌঁছায়।

এই অবস্থায় গ্রিসে জনগণের আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সিপ্রাস ও তার সিরিজা পার্টির ৪০ দফা কর্মসূচি জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয় ও তারা নির্বাচনে জয়লাভ করে। সিরিজা পার্টির প্রতিশ্রুত বামঘেঁষা কর্মসূচির মধ্যে ছিলো মজুরী পূর্বের অবস্থায় নিয়ে আসা, ব্যাংকগুলোকে রাষ্ট্রীয়করণ করা, ৫ লাখ ইউরোর অধিক সম্পদের উপর ৭৫ভাগ করারোপ, বিলাসদ্রব্যের উপর করারোপ, সামরিকখাতে বরাদ্দ কমানো, আবাসন সংকট নিরসন ইত্যাদি। এর সাথে সাথে তারা ঋণচুক্তি সংশোধনের প্রতিশ্রুতিও দেয়। নির্বাচনে জয়লাভ করার পর সিরিজা পার্টি কিছুটা ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করে, এবং তাদের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বেশ কিছু ছাড় দিয়ে নতুন ঋণচুক্তির প্রস্তাবনা দেয়। এর মধ্যে আইএমএফ এর কাছ থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, ইউরোপিয়ান ব্যাংকের ঋণের কিস্তি শোধ করার সময়ও ঘনিয়ে আসে। এরকম এক পরিস্থিতিতে গ্রিসের ব্যাংকগুলো বন্ধ হয়ে যায়, এটিএম বুথে প্রতিদিন ৬০ ইউরোর বেশি অর্থ তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ট্রয়কার ব্লাকমেইল চলতে থাকে, নতুন ঋণ প্রদানের জন্য আরো কঠোর শর্ত আরোপ করে। সে শর্ত মানতে হলে সিপ্রাসকে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির পুরোটা বিপরীতমুখি অবস্থান নিতে হত। এমতাবস্থায় দাতাদের শর্ত মেনে ঋণ গ্রহণ করা হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জনগণের উপর ছেড়ে দেওয়া হয় এবং গণভোটের আয়োজন করা হয়।

গণভোটের আয়োজন করার পর ইউরোপীয় পুঁজিপতিদের সাথে হাত মিলিয়ে গ্রিসের পুঁজিপতিরা হ্যাঁ ভোটের জন্য প্রচারণা শুরু করে। হ্যাঁ ভোটের প্রচারণায় মূল অস্ত্র হয় প্যানিক সৃষ্টি। না ভোট মানে ইউরোপের বিরুদ্ধে ভোট, না ভোট দিলে গ্রিস আরো ভয়াবহ সংকটে উপনীত হবে, এ ধরনের বক্তব্য প্রচার করা হয়। মিডিয়াগুলো বেসরকারী মালিকানাধীন হওয়ায়, তারা না ভোটের পক্ষের প্রচারণার খবর ব্লাকআউট করে এবং বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করা শুরু করে। ফিনান্সিয়াল টাইমস এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় যে, সরকার ৮০০০ ইউরোর ওপর যেকোনো সঞ্চয় থেকে ৩০% কেটে নেবে, পরবর্তীতে যে খবর মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ইউরোপীয় মোড়ল রাষ্ট্রগুলো একের পর এক হুমকি দিতে থাকে, নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। এমনকি শ্রমিকদের মজুরী আটকে দিয়ে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করানোর চেষ্টাও করা হয়েছে।

মূলত হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে, সিরিজা পার্টি ও সিপ্রাসের সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়তো। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাজেটকর্তন ও কৃচ্ছসাধনের কর্মসূচির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে ওঠায় এবং বামপন্থী পার্টিগুলো জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকায়, সিরিজা পার্টিকে কোনঠাসা করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুঁজিপতি গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সিরিজার সাফল্য অন্যান্য দেশেও বামপন্থী ও গণমানুষকে অনুপ্রাণিত করবে, এই আশংকা থেকেই সিরিজার নেতৃত্বাধীন গ্রিসকে আরো সংকটের দিকে নিযে যাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে, একটি নীরব ক্যু সংগঠিত হয়ে যেতে পারত, সিপ্রাস পদত্যাগে বাধ্য হতেন। অনির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গ্রিসে একটি জাতীয় সরকার গড়ার পরিকল্পনাকে অনেকটুকু অগ্রসর করা হয়েছিলো। সেই পরিকল্পনার সাথে গ্রিসের পুঁজিপতি শ্রেণি ও ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছিলো। পাপেন্দ্রু সহ গ্রিসের সাবেক ৫ প্রধানমন্ত্রী হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছিলেন। এদিকে সিরিজা পার্টি আহ্বান জানিয়েছিলো না ভোটকে বিজয়ী করতে, কেননা এটি ইইউ এর অন্যান্য দেশগুলোর সাথে ঋণবিষয়ক ‘সমঝোতা’য় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

গ্রিসের কমিউনিস্ট পার্টি (কেকেই) অবশ্য এই গণভোটের ব্যাপারে অন্যরকম অবস্থান নিয়েছিলো। তাদের বক্তব্য ছিলো, এই গণভোটে না ভোট প্রদান করলেও জনগণের মূল আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন হবে না। না ভোটের মাধ্যমে ট্রয়কার প্রস্তাব নাকচ হলেও, তাতে সিপ্রাসের পূর্বের প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা হবে, যে প্রস্তাবে জনবিরোধী অনেক বিষয় রয়েছে। ছাড় দেবার নামে সিপ্রাস মূলত জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আপোসের পথ নিয়েছেন, এটাই মূলত কেকেই-এর বক্তব্য ছিলো। তারা ভোটারদের আহ্বান জানায় ট্রয়কা এবং গ্রিস সরকার উভয়ের প্রস্তাবকেই না জানানোর জন্য, এবং ব্যালটে কোনো ভোট না দিয়ে সেই কথা লিখে আসবার জন্য। সিরিজা সরকারের নানা নীতির ব্যাপারে সমালোচনাগুলো যৌক্তিক হলেও, গণভোটের ব্যাপারে কেকেই’র এই অবস্থান বেশ ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে।

সবকিছুর পরেও গ্রিসের মেহনতি মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের বিপুল উৎসাহে ‘না’ ভোট বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়। এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডগ্রসের ১৮-২৪ বছর বয়সীদের ৮৫ শতাংশ এবং ২৫-৩৪ বছর বয়সী তরুনদের ৭২.৩ শতাংশ না ভোট দিয়েছে। অপরদিকে ৫৫-৬৪ বছর বয়সীদের মাত্র ৫৯.৪ এবং ৬৫ উর্দ্ধ বয়সী মানুষদের মাত্র ৪৪.৯ শতাংশ না ভোট দিযেছে। ছাত্রদের মধ্যে ৮৫.২ শতাংশ , সরকারী ও বেসরকারী খাতের শ্রমিক এবং বেকার জনগোষ্ঠীর সত্তর ভাগেরও বেশী মানুষ না ভোট দিয়েছে। যারা গত জানুয়ারীর নির্বাচনে সিরিজা পার্টিকে ভোট দিয়েছিলো, তাদের ৮৭.৩ ভাগ না ভোট দিয়েছে। এমনকি কেকেই’র বিভ্রান্তিকর অবস্থানের মুখেও গত নির্বাচনে তাদের ভোটারদের ৮৬.৯ ভাগ এবার ভোট দিয়েছে না ভোটে।

গ্রিসের ৫৬টি নির্বাচনী আসনের সবকটিতেই না ভোট বিজয়ী হয়েছে, এবং সাতটি বাদ দিয়ে প্রতিটিতেই শতকরা ভোটের ব্যবধান ১০ এর অধিক ছিলো, ৩০টি আসনে ব্যবধান ছিলো ২০ এর অধিক। আরো দেখা গেছে, শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় না ভোট বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে, এবং কিছু বুর্জোয়া অঞ্চলে হ্যাঁ ভোট বেশ বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। সুতরাং না ভোটের এই বিজয় আসলে নিয়ে এসেছে শ্রমিক শ্রেণি, মেহনতী মানুষ ও উদ্যমী তরুণেরা।

প্রশ্ন হলো, গ্রিসের মানুষ যে আকাঙক্ষা নিয়ে না ভোটের পক্ষে রায় প্রদান করলো সিপ্রাস বা তার সিরিজা পার্টি সেই আকাঙক্ষার বাস্তবায়ন করতে কতটুকু সক্ষম? ট্রয়কার অব্যাহত ব্লাকমেইলিং এর মুখে তিনি কি জনগণকে দেওয়া তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবেন? সিপ্রাস বলেছেন, ঋণচুক্তির বিষয়ে তিনি আলোচনা ও সমঝোতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন, এবং আলোচনার পথ সুগম করতে তিনি তার অর্থমন্ত্রীকে অব্যাহতি দিয়ে সাকালোটোসকে নতুন অর্থমন্ত্রীর পদে বসিয়েছেন। সাকালোটোসকে বিভিন্ন ইউরোপিয়ান মিডিয়া ‘প্রো-ইউরোপ’ বলে চিহ্নিত করেছে, বিবিসি, গার্ডিয়ানের মত পত্রিকা সাকালোটোসের প্রশংসা করেছে। সিপ্রাস কি তবে আরো আপোস করবেন? গণভোটের ফলাফল অবশ্য আপোসের জায়গাকে অনেকটাই সংকুচিত করে দিয়েছে। এদিকে, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের কাছ থেকে অর্থ ছাড় না করা গেলে গ্রিসের ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে পড়বে, সেক্ষেত্রে সিপ্রাসকে নিজস্ব মুদ্রা ছাপানোর উদ্যোগ নিতে হতে পারে। ইউরো জোন থেকে গ্রিসের বিদায় তখন অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে পড়বে। এদিকে, ট্রয়কার কাছে নতুন ঋণ পেতে সিপ্রাস যত ছাড় দেবেন, ততোই আরো জেঁকে বসবে ট্রয়কা। নিজস্ব অবস্থান ধরে রেখে সমঝোতার আশা তাই অনেকটাই মরিচীকা। দুই নৌকায় পা দিলে সিপ্রাসের জন্য ভরাডুবি অপেক্ষা করছে, তার চাইতে জনগণকে সাথে নিয়ে ট্রয়কা ও অভ্যন্তরীণ পুুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলাই হবে সঠিক পথ। সিপ্রাসের গ্রিসকে সেই পথ পাড়ি দিতে হবে বিচ্ছিন্নতার পথ ধরে নয়, তথাকথিত ইউরোপীয় পুঁজিপতিদের ইউনিয়নের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে নয়, বরং প্রকৃত আন্তর্জাতিকতাবাদের চর্চা করে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের মেহনতী মানুষের সমর্থন নিয়ে।

অর্থনৈতিক মন্দার শিকার হয়ে গ্রিসের মতই স্পেন, পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড, ইটালির জনগণও ভয়াবহ কৃচ্ছসাধনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুঁজিবাদী বর্বরতার শিকার হচ্ছে ইউরোপের মেহনতী মানুষ। তারাও হানছে পাল্টা আঘাত, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে দেশে দেশে। এই আন্দোলনের মধ্যেই স্পেনের পদেমস (যার অর্থ ‘আমরা পারি’) পার্টি গত বছরের জানুয়ারিতে জন্ম নিয়ে মে মাসেই ৫৬ আসনের পার্লামেন্টে ৫টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, পদেমস পার্টির জনপ্রিয়তা ও সমর্থন স্পেনের ক্ষমতাসীন দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চেয়ে বেশি। হুগো শ্যাভেজের ভক্ত ইগ্লেসিয়াস এই দলটির প্রধান, যিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন এবং একজন যুব কমিউনিস্ট ছিলেন। সিপ্রাসের মত তিনিও বয়সে তরুণ, বয়স এখনো চল্লিশ পেরোয় নি। গ্রিসের গণভোটে না ভোটের পক্ষে পদেমস রাস্তায় নেমেছে, ভোটের ফলাফলে গ্রিসবাসীকে অভিনন্দিত করেছে। শুধু স্পেনে নয়, বামপন্থীদের উদ্যোগে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে গ্রিসের পক্ষে র‌্যালি হয়েছে, সাধারণ মানুষ পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে, মজুরি হ্রাস ও কৃচ্ছসাধনের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়েছে। সিরিজা, পদেমসের পথ ধরে আয়ারল্যান্ডের বামপন্থী র‌্যাডিকাল সিন ফেইন (যার অর্থ আমরা নিজেরা) পার্টি, জার্মানির ডি লিংকে (দি লেফট) পার্টির জনসমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরো জোনের মধ্যে জার্মানির অর্থনৈতিক অবস্থা সবচেয়ে শক্তিশালী হলেও, সেখানে বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে পূর্ব জার্মানির অধিকাংশ মানুষ মনে করে কমিউনিস্ট আমল বর্তমান সময়ের চেয়ে ভালো ছিলো।

একথা ঠিক, বিভিন্ন ইউরোপে প্রথাগত কমিউনিস্ট পার্টিগুলো খুব একটা শক্তিশালী অবস্থায় নেই। তবে তরুণদের নেতৃত্বে প্রগতিশীল, বামপন্থী, র‌্যাডিকাল পার্টিগুলো জনসমর্থন অর্জন করছে। প্রাইভেটাইজেশন এর বিরুদ্ধে তারা লড়ছে, সামাজিক নিরাপত্তা ও মজুরি বৃদ্ধির জন্য লড়ছে, বলছে সাধারণকে ধনীদের উপর উচ্চহারে কর বসানোর কথা, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ ও অস্ত্রব্যবসা বন্ধ করার কথা। কর্পোরেটাইজেশনের বিরুদ্ধে সোচ্চার সংগ্রামের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে ইউরোপে। তবে পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখে এই সংগ্রামে বিজয়ী হওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজন পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আমূল রূপান্তর, প্রয়োজন সমাজতন্ত্র। ইউরোপজুড়ে জ্বলে ওঠা প্রতিরোধের এই স্ফুলিঙ্গগুলোকে দাবানলে পরিণত করতে হলে, গ্রিসকেই পথ দেখাতে হবে। সেই পথ কঠিন বটে, তবে সেই পথই আগামীর পথ।

০৮.০৭.২০১৫
ক্লেভ, জার্মানি

আরো দেখুন

1. http://www.marxist.com/greek-referendum-a-slap-in-the-face-for-the-troika-what-next.htm
2.http://www.nationofchange.org/2015/07/05/greece-what-you-are-not-being-told-by-the-media/
3.http://www.globalpost.com/dispatch/news/regions/europe/141114/europe-left-spain-podemos-iglesias-euro-crisis

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *