গুরুত্ব বিচারে সওম ও জিহাদ

সওমের মাস আসলে গণমাধ্যমগুলি ক্রোড়পত্র বের করে, প্রতিদিন পত্রিকায় বিশেষ ফিচার, প্রবন্ধ ইত্যাদি লেখা শুরু হয়। টেলিভিশনে জাদরেল মওলানা, মৌলভীরা আলোচনার ঝড় তোলেন। কিছু ডাক্তার আসেন সওমের উপকারিতা বোঝাতে। সারারাত চলে হামদ ও নাত, শেষরাতে সেহরী অনুষ্ঠান। সব মিলিয়ে যেন এক এলাহি কাণ্ড।


সওমের মাস আসলে গণমাধ্যমগুলি ক্রোড়পত্র বের করে, প্রতিদিন পত্রিকায় বিশেষ ফিচার, প্রবন্ধ ইত্যাদি লেখা শুরু হয়। টেলিভিশনে জাদরেল মওলানা, মৌলভীরা আলোচনার ঝড় তোলেন। কিছু ডাক্তার আসেন সওমের উপকারিতা বোঝাতে। সারারাত চলে হামদ ও নাত, শেষরাতে সেহরী অনুষ্ঠান। সব মিলিয়ে যেন এক এলাহি কাণ্ড।

এটা প্রশংসাযোগ্য, কারণ ইসলামের একটি বিষয় যত বেশি আলোচিত হবে, সেটা মানুষের জীবনেও তত বেশি আচরিত হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো যেখানে আল্লাহ কোর’আনে সওম ফরদ হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন মাত্র একবার আর সওম পালনের নিয়ম কানুন উল্লেখ করেছেন আর দুই/তিনটি আয়াতে, আর সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে ফরদ হওয়ার কথা বলা হয়েছে বহুবার আর এর বিবরণ দেওয়া হয়েছে প্রায় সাতশ’র মতো আয়াতে। জিহাদ সংক্রান্ত সব আয়াত একত্র করলে আট পারার মতো হয়ে যায়। মুমিনের সংজ্ঞার মধ্যেও আল্লাহ এই জিহাদকে অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন শুধুমাত্র তারাই যারা আল্লাহ ও রসুলের প্রতি ঈমান আনার পর আর সন্দেহ পোষণ করে না এবং সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে (সুরা হুজরাত ১৫)।’ এ সংজ্ঞাতে আল্লাহ সওমকে অন্তর্ভুক্ত করেন নাই, সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে করেছেন। শুধু তাই নয়, সওম পালন না করলে কেউ ইসলাম থেকে বহিষ্কার এ কথা আল্লাহ কোথাও বলেন নি, কিন্তু জিহাদ না করলে আল্লাহ কঠিন শাস্তি দিবেন এবং পুরো জাতিকে অন্য জাতির গোলামে পরিণত করবেন (সুরা তওবা ৩৯)। আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, সংগ্রাম ছাড়া ইসলামের এমন কোন আমল নেই যা পালন না করলে ইসলাম থেকে বহিঃষ্কার হবার কথা বলা হয়েছে।

আল্লাহ বলেছেন, ‘কুতিবা আলাইকুমুল কিতাল- তোমাদের জন্য কিতাল (সংগ্রাম) ফরদ করা হলো (সুরা বাকারা ২১৬, ২৪৬, সুরা নিসা ৭৭)। ঠিক একই শব্দমালা ব্যবহার করে আল্লাহ সওমকেও ফরদ করেছেন- কুতিবা আলাইকুম সিয়াম (সুরা বাকারা ১৮৩)। একেবারে শব্দে শব্দে এক, কেবল এক স্থানে বলা হয়েছে কিতাল, আরেক স্থানে সিয়াম। আল্লাহ কোনও বিষয়ে একবার মাত্র হুকুম দিলেও সেটা অবশ্যই ফরদ ও গুরুত্বপূর্ণ কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে বিষয়টি একইভাবে ফরদ করা হলো এবং সেই কাজের বিষয়ে শত শত বার বলা হলো সেটির গুরুত্ব আর দুই তিনটি আয়াতে যে বিষয়টি বলা হলো এই উভয় কাজের গুরুত্ব কি সমান? নিশ্চয়ই নয়। মহান আল্লাহ কোর’আনে শত শতবার আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম সম্পর্কে বলার পরও এ প্রসঙ্গে কেউ একটি শব্দও উচ্চারণ করেন না। মিডিয়াতে তো প্রশ্নই ওঠে না, এমন কি যে ইমাম সাহেব মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে সিয়ামের ফজিলত নিয়ে সুরেলা ওয়াজে শ্রোতাদের মোহিত করেন, তিনিও ভুলেও জিহাদের নাম উচ্চারণ করেন না।

এর কারণ কী? এর কারণ সওম অতি নিরাপদ একটি আমল যা করলে সুঁইয়ের খোঁচাও লাগার আশঙ্কা নেই। এতে জীবনের ঝুঁকি নেই, আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ারও সম্ভাবনা নেই, কোন কোরবানীরও প্রশ্ন নেই। পক্ষান্তরে সংগ্রাম এমন একটি কাজ যা করতে গেলে জীবন ও সম্পদের সম্পূর্ণ কোরবানী প্রয়োজন।

৩ thoughts on “গুরুত্ব বিচারে সওম ও জিহাদ

  1. এই ব্লগে এসে আপনি সিয়ামের
    এই ব্লগে এসে আপনি সিয়ামের তুলনায় জিহাদের গুরুত্ব আলোচনা করছেন কার সাথে? এখানে তো অধিকাংশই ধর্মগুলোর বিরুদ্ধেই যুদ্ধঘোষণা করে বসে আছে।

    আপনার ভুল হচ্ছে। সামুতে যান। সেখানে এ বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলাপ হবে। কারণ অনেকে আছেন, যারা আপনার বক্তব্যের তাৎপর্য ধরতে পারবে।

    আর যদি সাধারণ মানুষের কাছে এসব বলতে চান, তাহলে বলব এ মুর্খামি। জনগণের বাস্তব সমস্যার দিকে নজর না দিলে সে আপনার কোনো কথাই শুনবে না।

  2. যে খোদা নিজে তার
    যে খোদা নিজে তার প্রতিদ্বন্দ্বী শয়তানকে মোকাবেলা করতে পারে না, সে কি করে শক্তিমান?
    যে খোদা তার প্রশংসার লোভ সামলাতে পারে না, সে কি করে অনন্য?
    যে খোদা ক্রোধ সামলাতে পারে না, সে কি করে মহান?
    যে খোদা মানুষকে যুদ্ধে নামায়, অন্যভাবে শান্তি আনতে পারে না, সে কি করে সর্বজ্ঞ?

    এইসব খোদার খাসির বক্তৃতা সামুতে গিয়াই দেও।

  3. ধর্মছেড়েছি ৭১এ
    ধর্ম মানিনা

    ধর্মছেড়েছি ৭১এ
    ধর্ম মানিনা আর
    ধর্মের নামে ধর্মের ষাঢ়ে
    গুতিয়েছে বার বার

    তুই আর গুতাইছ না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *