ব্লগানুভূতির রূপকথা

সবার ধারণা কিছুদিন বিশ্রামের পর আবার আমাদের সেলিব্রেটি ‘ধর্মানুভুতি’ স্বমহিমায় ফিরে এসে বাংলা কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে।কিন্তু আমি মনে করি এই সেলিব্রেটি মশাই আদৌ কোনদিন ছিলেনই না।

কেন ছিলেন না?কারণ বাঙালি বাবুরা কখনো ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামান না।অবশ্য বাংলাদেশে কেবল মোসলমানদেরি ধর্ম পালন করতে এবং ধর্ম নিয়ে সচেতন থাকতে দেখা যায়।কেননা অন্য ধর্মের লোকের মন্দির.প্যাগোডা আপনি পাইকারি হারে ভাঙলেও তারা গান্ধীনীতি অনুসরণ করে নির্বিকার থাকবে।

সে যাই হোক,মোসলমানরাও তাদের ধর্মানুভুতি নিয়ে তেমন সচেতন নয়।কারণ বিটিভিতে আজানের পরপর ববিতার নাচ যেমন তারা নিয়মিত দেখে তেমনি মাঝে মাঝেই শুক্রবার বাদ জুম্মা তারা সিনেমা হলে গিয়ে আয়েশ করে রিসেন্ট কাটপিস উপভোগ করে এবং এক্ষেত্রে তারা ‘কোথাকার কোন ধর্মের ‘ধার ধারতে পছন্দ করে না।
সুতরাং বাঙালির ধর্মানুভুতি একটা বাজে কথা।তবে ধর্ম অনেকের জীবিকা বটে।শুধু কয়েকজন গালিবিদ মধ্যরাতে দেবদেবীকে গালি দিয়ে আর হুরের কিছু সেক্সি গল্প বলে দুটো টাকা উপার্জন করছে; তাতে আমার বিন্দুমাত্র হিংসে নেই।
তবে আমার উতসাহ আছে এদের ‘ব্লগানুভূতির আঘাত ‘ শিরোনামের নতুন গল্প নিয়ে।আহ,খাসা বানিয়েছে একদম।এদের অধিকাংশই ব্লগ বানানই জানেনা কিন্তু তারা ইতিমধ্যে ধর্মানুভুতির আড়ালে ব্লগানুভূতি বানিয়ে ফেলেছে এবং তারা দাবি করেছে কয়েকটা লুচ্চা,নাস্তিক,বানরের উত্তরপুরুষ দ্বারা সেই অনুভূতি উপর্যুপরি ধর্ষিত হয়েছে!
যাই হোক আমাদের মহামান্যীয়া প্রধানমন্ত্রী এই নিষ্ঠুর মানবতাবিরোধী ধর্মানুভুতি তথা ব্লগানুভূতি ধর্ষণের বিচারে শপথ গ্রহণ করেছেন এবং সবাইকে একটি স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের তামাশা দেখানোর খায়েশ জানিয়েছেন।

সঙ্গত কারণেই আমার মনে হচ্ছে আমরা অসাধারণ এক রূপকথার রাজ্যে বাস করছি।যেখানে সবার কাছে একটা ধর্মানুভুতি নামের একটা জাদুর কাঠি আছে।আর অল্প কিছু মানুষ আছেন যারা এই কাঠিটিকে আবর্জনা মনে করে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন এবং কেবলমাত্র তারাই মহারাণীর বিষ নজরে পড়েছেন।

পুনশ্চঃ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনজন ধর্ষক কট খেয়েছে এবং তাদের কটপরবর্তী ফটোসেশন সুন্দরভাবে শেষ হয়েছে।ফটোসেশন নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে কিছু করার নাই,কারণ রূপকথার রাজ্যে সবকিছুকেই যুক্তি ছাড়াই মেনে নিতে হয়।

৩ thoughts on “ব্লগানুভূতির রূপকথা

  1. বাংলা কন্টেন্ট লেখা বাদ দিমু
    বাংলা কন্টেন্ট লেখা বাদ দিমু ভাবতেছি, ইংরেজীতে পুটু মারতেই তো মজা বেশি, সাজা কম…..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *