সাংবাদিকের ভোগান্তিঃ জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি মামলার নকল পাওয়ার আবেদন কপি উদাহে’র বিরুদ্ধে তিন বছরেও অভিযোগের বিচার কিংবা সুনির্দিষ্ট তথ্য আবেদনকারীকে প্রদান না করে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও প্রতারণা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি মামলার নকল পাওয়ার আবেদন কপি উদাহে’র বিরুদ্ধে তিন বছরেও অভিযোগের বিচার কিংবা সুনির্দিষ্ট তথ্য আবেদনকারীকে প্রদান না করে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও প্রতারণা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধে ৭জন শহীদ পরিবারের সদস্য প্রবীণ সাংবাদিক, লেখক, রাজনীতিবিদ, জেলা ১৪দলের অন্যতম নেতা নীহারেন্দু হোম চৌধুরী নীহার সজল, গত ২৪জুন ২০১২ইং তারিখে নামজারি মামলা নং ৬৬/৬৩ ও ৫৬৯/৭৯-৮০ মৌলভীবাজার জেলা ই-সেবা কেন্দ্রের আইডি নং ৫৮১২০১২০৬২৪১০৩/৫৮১২০১২০৬২৪১০৪ এর মাধ্যমে পৃথক পৃথক দু’টি আবেদন করেন। সে অনুযায়ী ৮জুলাই ২০১২ইং তারিখে উক্ত নথি সার্টিফাইট কপি ডেলিভারী দেওয়ার কথা থাকলেও তা প্রদানে ব্যর্থ হয় জেলা প্রশাসন। এব্যাপারে নীহারেন্দু ৯জুলাই শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভুমি অফিসে অফিস সহকারী নিরেন্দ্র দেবনাথকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, আপনার আবেদনগুলো শ্রীমঙ্গল অফিসে আসেনি। সাথে সাথে ভুমি অফিসের দ্বায়িত্বে থাকা শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশফাকুল হক চৌধুরীকে তার মুঠোফোনে এ বিষয় সম্পর্কে নীহার সজল জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন মহান জাতীয় সংসদে সরকারি দলের চীপ হুইপ শ্রীমঙ্গলে অবস্থান করছেন। তাই আপনি দুই তিনদিন পর দেখা করবেন। অন্যথায় আবারও ভুমি অফিস সহকারীর সাথে কথা বলুন। বাধ্য হয়ে নীহারেন্দু হোম চৌধুরী মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান-এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি উত্তরে বলেন, এই মাত্র শ্রীমঙ্গল ভুমি অফিসে অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) রায়হান কাওছার উপস্থিত আছেন, আপনি তাঁকে বিষয়টি জানান, তিনি ব্যবস্থা নিবেন। সে অনুযায়ী নীহারেন্দু অভিযোগ করলে ফাইল ডিলিংকারী অফিস সহকারী নিরেন্দ্র দেবনাথ আবেদনকারীর আবেদন প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন। রাজস্ব কর্মকর্তার সম্মূখে এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তিনি এ বিষযে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন বলে অভিযোগকারীকে আশ্বস্থ করেন। বেশ কিছুদিন অপেক্ষার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে নীহারেন্দু হোম চৌধুরী বিষয়টি লিখিত ভাবে ১৫জুলাই ২০১২ইং তারিখে জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান বরাবরে ই-মেইল যোগে অত্র অভিযোগ দাখিল করেন। ফলে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ৭৩ (৫) তারিখ ২৩ আগষ্ট ২০১২, ৭৭ (৬) তারিখ ২৯ আগষ্ট ২০১২ ও ১৪৩ (৬) তারিখ ২২ আগষ্ট ২০১২ সোহানা ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) জেএম শাখা কর্তৃক পৃথক পৃথক ৩টি স্মারকে তদন্তের দিন ধার্য্য করে নীহারেন্দু হোম চৌধুরীকে পত্র দিলে প্রশাসনিক অজ্ঞাত কারণে তদন্ত কার্য্য সম্পাদন করা হয়নি। পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ ফারুক আহমদ স্বাক্ষরিত ০২ স্মারকে ২১ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে শ্রীমঙ্গল ভুমি অফিসে বিকাল ৩ ঘঠিকার সময় তদন্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য প্রদান করতে নীহারেন্দু হোম চৌধূরীকে জানান। সে অনুয়ায়ী অভিযোগকারী যথা সময়ে যথা স্থানে উপস্থিত থেকে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য প্রদান করেন। ওপর দিকে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট অভিযুক্ত নিরেন্দ্র দেবনাথকে লিখিত বক্তব্য প্রদান করার জন্য বলেন। ইতোমধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান-এর বদলী হলে তার স্থলে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মৌলভীবাজারে প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। সে সময় ভিপি ভুক্ত (খ) তালিকার মামলা খারিজ হলে উত্তরাধীকারী হিসেবে নামজারি মামলা নং ০১-১৩৭৩/১৩১৪ দায়ের করেন। তফশীলদার অসিত দেব ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ নুরুল হুদা শ্রীমঙ্গল মিলে বিরাট অঙ্কের উৎকোচ দাবী করে নীহারেন্দু হোম চৌধুরীর কাছে। উল্লেখ্য, আরো দুটি নামজারি মামলা নং ১৮৩১/১৮৩২/১৩১৪ ছিল, জনৈক সাংবাদিক কোনরূপ অর্থ না দিয়ে, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান ও সিলেট বিভাগীয় কমিশনার সাজ্জাদুল হাসান (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত) কে পৃথক পৃথক মুঠোফোনে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে তহশীলদার অসিত দেব ও সহকারী কমিশনার মোঃ নুরুল হুদার বিরুদ্ধে উৎকোচের দাবী ও রাত্রব্যাপী অফিস করার অভিযোগ করলে, তাঁরা বিষয়টি জেনে ফেলায় নীহারেন্দু হোম চৌধুরীর নামজামি মামলাগুলো খারিজ করে দেয়। এমনকি পূর্বের তদন্ত কার্যে অভিযুক্তকারীর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং আবেদনকারীর উধাও হয়ে যাওয়া আবেদনের তথ্য প্রদানে জেলা প্রশাসক সম্পূর্ণভাবে নির্বিকার। ফলে আবেদনকারী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সরকারে থাকা সকল দলমতের নেতাকর্মী, সংবাদপত্র, সাংবাদিক ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নীহারেন্দু হোম চৌধুরী নীহার সজল।

১ thought on “সাংবাদিকের ভোগান্তিঃ জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *