আমার শুরুটা

[ এটা কোনো গল্প না। লেখাটা অনেক আগেই লিখেছি ; আজ পোস্ট করলাম]

২১ মে,২০১৩।আজ থেকে প্রায় ৬ মাস আগের কথা বলছি। সিলেটে ছিলাম, ফেসবুক ফ্রেন্ডদের নিয়েই বেশ ঘুরাঘুরি করে দেখছি শহরটা, শহরের আসপাশটা।


[ এটা কোনো গল্প না। লেখাটা অনেক আগেই লিখেছি ; আজ পোস্ট করলাম]

২১ মে,২০১৩।আজ থেকে প্রায় ৬ মাস আগের কথা বলছি। সিলেটে ছিলাম, ফেসবুক ফ্রেন্ডদের নিয়েই বেশ ঘুরাঘুরি করে দেখছি শহরটা, শহরের আসপাশটা।

ওই দিন বিকেল এ এক ভাইয়ার সাথে বেড়িয়ে সন্ধায় বাসায় (ফুপার বাসা) ফিরলাম। এসে দেখি ফুপা এয়ারপোর্ট এর কাছে তার জমি আছে সেখানে যাবে তার প্রস্তুতি নিতেছে। জমি মানে পুরোটাই পাহাড়, রাতে সেগুলা কেটে সমতল করা হয় কারন দিনে পুলিশ ঝামেলা করে।বরিশালের ছেলে, জীবনে কখনো পাহাড় কাটা দেখি নি তাই খুব ইচ্ছে করছিলো ফুপার সাথে যাওয়ার। ফুপা ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই হয়ত আমার জন্য একটা রেইন কোট নিয়ে এলো আর সেই ঝড়ের রাতে দুজন বেড়িয়ে পরলাম।

ফুপার জমিটা ঠিক এয়ারপোর্ট এর পাশেই। পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় ১১ টা বেজে গেছে, বৃষ্টি ও ইতোমধ্যে থেমে গেছে। আমার কোনো কাজ নেই, কিছুক্ষন পাহাড় কাটা দেখলাম।প্রথমে যতটা ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছিলো আসলে জিনিসটা ততটাই বিরক্তিকর।তখন প্রায় বারোটা বাজে। এতক্ষন ফেসবুকে কয়েকজনের সাথে কথা হচ্ছিলো; কথা মানে পাহাড় কাটা দেখার ফাঁকে ফাঁকে রিপ্লাই করছিলাম। ১২ টার দিকে ফোন রেখে পাশের একটা পাহাড়ে উঠা শুরু করলাম।এটাও ফুপার পাহাড়, দিনের বেলাতে আগেও একবার উঠেছিলাম। বেশ খারা পাহাড় তবে মানুষ নিয়মিত উঠে বলেই একটা রাস্তার মত আছে। ফুপা নিচ থেকে বেশ কয়েকবার সাবধান করে দিলো, পাহাড়টার অন্যপাশ কাটা হয়ে গেছে। ব্যাপারটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ কারন হঠাৎ করেই প্রায় ১০০+ মিটার নিচে নেমে গেছে সেখানে।

অতসব গায়ে না মেখে উঠে গেলাম। রাতের বেলা বৃষ্টিভেজা বাতাসের মধ্যে পাহাড়ের উপরে যেন একটা স্বর্গে উঠে এসেছি। তখন আমার ঘার ঝুলানো চুল বাতাসে উড়ছে বাধাহীনভাবে, দুই হাত ছড়িয়ে উড়তে ইচ্ছে করছিলো খুব। মনে হচ্ছিলো যেনো আমার সত্যিই সেই ক্ষমতা রয়েছে।

কিছুক্ষন পরে মাথার পাশ দিয়া একটা প্লেন নেমে গেলো আর আমি ওটা দেখতে পাহাড়ের অন্য পাশে চলে গেছি। সেখানে দাড়িয়েই পুরো পরিবেশটা উপভোগ করছি আর কানে বাজছিলো তখনকার আমার সবচেয়ে প্রিয় গানটা। Green Day এর 21 Guns শুনতে শুনতে অন্ধকারের মধ্যে তাল মিলিয়ে এগুচ্ছি, সেই অনুভুতিটাও যেনো উড়ে যাওয়ার মত ছিলো।

ঠিক তখন ই একটা ফোন আসলো।বিরক্তে ভরা মনে ফোন বের করলাম, একটা বাংলালিংক নাম্বার ছিলো। রিসিভ করে ফোনের আলোতে যা দেখলাম তাতে মুহুর্তে আমার জান শুকায় গেছে, কিছুক্ষনের জন্য সব অনুভুতিগুলো স্তব্ধ হয়ে ছিলো যেনো। যেখানটাতে দাড়িয়ে ছিলাম তার থেকে মাত্র কয়েক হাত দূরেই পাহাড়টা সোজা নিচে নেমে গেছে। ফোনটা কয়েক সেকেন্ড পরে আসলে যে কি হত ভাবতেই পারছি না।

ফোনের ওপাশ থেকে ক্রমাগত হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে, ওখানে দাড়িয়েই কাঁপা কাঁপা হাতে ফোন কানে তুল্লাম।হুম, যা ভাবছেন তাই,একটা মেয়ে ছিলো আর সে জন্যই খুব অবাক লাগছিলো।

-হ্যালো, কে?
-হ্যালো! তুমি কি অনিম ভাইয়া??
-হুম। কিন্তু আপনি কে?
-আমি শুচি।
-কোন শুচি?!
-সানজানা নামে যে মেয়েটার সাথে তুমি চ্যাট করতেছিলা এতক্ষন।
-ও আচ্ছা। তুমি সানজু?!
-হুম,ভাইয়া। তুমি বলছিলা গান শুনাবা একদিন।
গান শুনাও একটা, মাউথ স্পিকার এ প্রব আছে আমি বেশি কথা বলতে পারব নাহ।

এরকম ছিলো সে দিনের কথা গুলা। ভাগ্যদেবীতে আমার বিশ্বাস নেই কিন্তু এই বিশ্বাসটা ছিলো যে এই মেয়েটা থাকলে আমাকে অন্তত একা কোনো দুর্ভাগ্য বা বিপদকে ফেস করতে হতো না।সেই মেয়েটা আমাকে ওই দিন বাঁচিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু আমি তার প্রতিদান দিতে পারি নি, কখনো সেটা পারবো ও না। 😐

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *