মেরুপ্রদেশ দখল নেওয়ার জন্য ছুটছে আমেরিকা থেকে ইউরোপ–সুদূর এশিয়ার দেশগুলোও

েরুপ্রদেশে সন্ধান মিলেছে বিপুল তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ
পদার্থের৷ তাই মেরুপ্রদেশ দখল নেওয়ার জন্য ছুটছে
আমেরিকা থেকে ইউরোপ–সুদূর এশিয়ার দেশগুলোও পিছিয়ে
নেই৷
কয়েক বছর আগেই চিনা লালফৌজের জনৈক ‘অ্যাডমিরাল ইন ঝাউ
পার্টি’-র রাজনৈতিক সম্মেলনে সুমেরু নিয়ে মন্তব্য করে গোটা
বিশ্বে বিতর্কের ঝড় তুলে দিয়েছিলেন৷ তিনি বলেছিলেন,
‘সুমেরুর ওপর পৃথিবীর সকল জনতার অধিকার রয়েছে৷ কোনও
এক দেশ বা দেশসমূহের কোনও একচেটিয়া অধিকার থাকতে
পারে না৷’ সুমেরু বৃত্তের চতুর্দিকে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,
কানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে এবং রাশিয়া৷ কিন্তু এই সুমেরু পরিচালনার

েরুপ্রদেশে সন্ধান মিলেছে বিপুল তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ
পদার্থের৷ তাই মেরুপ্রদেশ দখল নেওয়ার জন্য ছুটছে
আমেরিকা থেকে ইউরোপ–সুদূর এশিয়ার দেশগুলোও পিছিয়ে
নেই৷
কয়েক বছর আগেই চিনা লালফৌজের জনৈক ‘অ্যাডমিরাল ইন ঝাউ
পার্টি’-র রাজনৈতিক সম্মেলনে সুমেরু নিয়ে মন্তব্য করে গোটা
বিশ্বে বিতর্কের ঝড় তুলে দিয়েছিলেন৷ তিনি বলেছিলেন,
‘সুমেরুর ওপর পৃথিবীর সকল জনতার অধিকার রয়েছে৷ কোনও
এক দেশ বা দেশসমূহের কোনও একচেটিয়া অধিকার থাকতে
পারে না৷’ সুমেরু বৃত্তের চতুর্দিকে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,
কানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে এবং রাশিয়া৷ কিন্তু এই সুমেরু পরিচালনার
জন্য যে পরিষদ তৈরি হয়েছে, তাতে এই দেশগুলোর সঙ্গে
পরিদর্শক হিসাবে আরও অনেকগুলো দেশকে নেওয়া
হয়েছে৷ তার মধ্যে চিন ও ভারতও রয়েছে৷ এখন প্রত্যেক
দেশ এখানকার এলাকার ওপর দখল রাখার জন্য চাপ তৈরি করছে একে-
অপরের ওপর৷ ভারতের ভূমিকা এখনও পর্যন্ত গবেষণামূলক৷
কর্তৃত্ব ফলানোর উদ্যোগ নেই৷ কিন্তু বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক
পরিস্হিতির যে পরিবর্তন ঘটছে, তাতে ভারতের পক্ষে নীরব
থাকা সম্ভব কি?•
সুমেরুর পরিস্হিতি ব্যাখ্যা করলেই বোঝা যাবে৷ রাষ্ট্রসংঘ
নির্দেশিত বর্তমানে সমুদ্র এলাকার অধিকার আইন অনুযায়ী উপকূল
থেকে ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উপকূলবর্তী দেশগুলো
সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ করতে পারে৷ কিন্ত্ত ইতিমধ্যেই সুমেরু
বৃত্তের চারপাশের দেশগুলো এই অধিকার ছ৫০ কিলোমিটার করার
আর্জি জানিয়েছে৷ একমাত্র রাশিয়া ব্যতীত অবশিষ্ট মেরুবৃত্তের
দেশগুলো আন্তর্জাতিক সামরিক মোর্চা ন্যাটো-র সদস্য৷
সুমেরুকে কেন্দ্র করে এই দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে
এখন নয়া সামরিক মোর্চা গড়ে তুলছে৷ যে নরওয়ে দীর্ঘদিন
ধরে রাশিয়ার সঙ্গে মেরু এলাকার দখল নিয়ে বিবাদ চালিয়ে
গিয়েছে, এখন তারাই সামরিক সমঝোতা করে ফেলেছে৷ দু’টি
দেশই মেরু অঞ্চলের দখলদারিবজায় রাখার জন্য বিশেষ সামরিক
বাহিনী গড়ে তুলেছে৷ রাশিয়া ‘বরফ শ্রেণির’ (আইস-ক্লাস) এক
বিশেষ যান তৈরি করে ফেলেছে৷ মোতায়েনও করে
দিয়েছে৷ সামরিক রসদ মেরুবৃত্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই যান
ব্যবহার করা হয়৷ মেরু এলাকায় নিজেদের অধিকার বজায় রাখতে
নরওয়ে বিশেষ এফ-৩৫ যুবিমানের স্কোয়াড্রেন তৈরি করে
ফেলেছে৷ অন্যরাও পিছিয়ে নেই৷ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা
হচেছ তুষার যুদ্ধে দক্ষ সামরিক বাহিনী তৈরি করতে৷ কানাডা এর
মধ্যেই বিশেষ নৌবাহিনী পাঠিয়ে দিয়েছে নিজেদের তথাকথিত
এলাকা দখল করতে৷ গ্লেসিয়ার গলে যাওয়া জলে ভাসমান প্রহরী
জাহাজ প্রয়োজনে বরফের পাহাড় ভেঙে ভিন্ন্ পক্ষকে
ঘায়েল করতে ফ্রিগেট জাতীয় আক্রমণাত্মক যুজাহাজও
মোতায়েন করেছে৷
এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ডেনমার্ক একত্রে
নিজেদের সামরিক শক্তির প্রদশ.র্নী করেছে মেরু অঞ্চলে৷
নরওয়ে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে হিমবাহের মধ্যে
ষোলো হাজার সেনার কুচকাওয়াজ করিয়ে পাল্টা শক্তির
প্রদর্শনী করেছে৷ এই সামরিক শক্তির প্রদর্শনীর নেপথ্যে
রয়েছে মেরুগর্ভের বিপুল সম্পদ৷ সেই কারণেই আগামী
দিনে সংঘাতের মূল মঞ্চ হয়ে উঠছে এই সুমেরু৷ তাত্পর্যপূর্ণ হল,
কুমেরুর ক্ষেত্রে কিন্ত্ত একটা আন্তর্জাতিক চুক্তিরয়েছে৷ যা
মেনে চলা সকলের কর্তব্য৷ সুমেরুর ক্ষেত্রে এই ধরনের
কোনও চুক্তি নেই৷
এটা ঠিকই রাশিয়ার ভূখণ্ডের এক-তৃতীয়াংশ মেরুবৃত্তের অন্তর্গত৷
যে কারণে তারা এই এলাকার ওপর দখল রাখার জন্য মরিয়া৷ কিন্ত্ত
মেরুগর্ভের সম্পদ আহরণে রাশিয়ার নিজস্ব পরিকাঠামো নেই
বলে অন্য দেশকে এখানে আহ3বান করছে৷ তাদের
অনেকেই মেরুবৃত্তের বহুযোজন দূরে৷ রাশিয়া যেমন ইতালির
সংস্হাকে ডেকে এনেছে, তেমনই নরওয়ে এনেছে
ফ্রান্সকে৷ এখন তো প্রায় হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে মেরু
দখলের জন্য৷ নরওয়ে তো এখন মেরুবাজার খুলতে চলেছে৷
সেই বাজারে শামিল এখন চিনের সঙ্গে ভারতও৷ কেবলমাত্র
আলাস্কাতেই নাকি ২৬ বিলিয়ন গ্যালন তেলভাণ্ডার রয়েছে৷
এই দখলদারির মধ্যে এখানকার ভূমিপুত্র এস্কিমো-রা প্রায় নিজভূমে
পরবাসী ৷
অথচ এখানকার এলাকার ওপর তাদের অধিকার প্রথম৷ এখামে যে
মেরু পরিষদ গঠিত হয়েছে, তাতে এস্কিমো-সহ ভূমিপুত্রদের
প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে৷ কিন্ত্ত বিশ্বেরক্ষমতাধর দেশের ভিড়ে
তাদের কথা শোনা যাবে তো•? কিন্ত্ত এই বাণিজ্যিক
প্রতিযোগিতার মধ্যে মেরু অঞ্চলের পরিবেশ এবং স্বাভাবিকতা
নষ্ট হলে বিশ্বের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকবে কি না, সেটাই
প্রশ্ন৷ এই প্রতিযোগিতা কীভাবে রোখা যাবে, সেটাই এখন
ভারতের চিন্তা৷ তাই ভারতের প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ–যাঁকে দূরদর্শী
বলে অভিহিত করা হয়, তিনি এই পরিস্হিতি দেখতে সরজমিনে
দেখতে ছুটে এসেছেন মেরুবৃত্তে৷ রাষ্ট্রপতি প্রণব
মুখোপাধ্যায়ের কথা বলছি৷
সদ্যগঠিত মেরু পরিষদ বৈঠকে বিজ্ঞান থেকে পরিবেশ–অনেক
কিছুই আলোচনা হচেছ৷ কিন্ত্ত এই পার্থিব প্রতিযোগিতার নামে
যে সামরিক উপস্হিতির প্রসার ঘটছে, তা নিয়ে কোনও আলোচনাই
হচেছ না৷ বিজ্ঞানের নামে তেল-গ্যাস আহরণের সঙ্গে
গোলা-বারুদের সম্ভার গড়ে উঠে মেরুবৃত্তকেই বিপজ্জনক
করে তুলছে, সেটা বিবেচনার বাইরে রয়ে যাচেছ৷ সাবেক
বিদেশসচিব শ্যাম সারণ এই নিয়ে অনেকবার সতর্ক করেছেন৷ এই
বিষয়ে তিনি বিশেষজ্ঞ বলে একবার কাঞ্চনজঙঘা দেখতে গিয়ে
আতঙ্কিত হয়েছিলেন৷ উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মতো
হিমালয়কেও তৃতীয় মেরু বলা হয়৷ সেই হিমালয়ের বরফ কমছে–
তিনি দেখেছেন৷ এখন সুমেরুতে যদি বরফ গলে যায়, তা হলে
তার প্রভাব বিশ্বের সর্বত্র পড়বে৷ তার থেকে হিমালয় বাদ পড়বে
না৷
বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর মতো মেরুমঞ্চে চিনের
সঙ্গে শামিল ভারতও৷ অনেকটা সেই কারণেই রাষ্ট্রপতির সফর৷
ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে তার ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে
উঠবে আগামী কয়েকদিনে৷ ২০ঙ্মজ্জ সালে ভারত এখানে একটি
বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলে৷ ‘হিমাদ্রি’ নামক
স্টেশনটির কাজ সামুদ্রিক স্রোতের গবেষণা করা৷ এখানকার
নিকটবর্তী দেশ আইসল্যান্ডকে একবার আর্থিক বিপর্যয় থেকে
বাঁচিয়েছিল ভারত৷ চিনও ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ সেই আইসল্যান্ডের
দৌলতেই ভারত ও চিনের প্রবেশ মেরুবৃত্তে৷ সমর্থন করেছিল
নরওয়ে৷ চিনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়া বাও এখানে নিজেই
ছুটে এসেছিলেন৷ ভারতের রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম সফর এই
মেরুবৃত্তে৷ ভারতের আগ্রহ মূলত বৈজ্ঞানিক গবেষণা হলেও
চিনের লক্ষ্য তা নয়৷ তারা গবেষণার থেকেও বেশি গুরুত্ব
দিয়েছে এখানকার সামুদ্রিক সম্পদ সংগ্রহে৷ ক্ষমতা করায়ত্ত
করতে৷ স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য রাখতে
ভারতকেও এবার নামতে হবে সেই প্রতিযোগিতায়৷ এতে মেরু
হিমবাহর অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা ক্রমেই গৌণ হয়ে উঠছে৷
Courtesy from:Hindustan Times

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *