কলমের জবাব চাপাতি দিয়ে হয় না

লেখালেখির কারণে আক্রমণ হালে সহজাত হয়ে দাঁড়িয়েছে, এ বড়ই আশঙ্কার ব্যাপার। যাঁরা একটু রীতিবিরোধিতা করেন, স্রোতের বিপরীতে চলতে চান, তাঁরাই হয়ে ওঠেন হিংস্র রক্তপায়ীদের হামলার লক্ষ্যবস্তু। আদিম খোলস ফেলে একটুখানি আধুনিকতার সাজ পরলেই ধেয়ে আসে বিষাক্ত তীর। নিজের প্রগাঢ় উপলব্ধির নির্যাসটুকু শোভন ভাষায় প্রকাশ করলেও তা কারও না কারও অনুভূতিতে আঘাত হানে। তাই এখানে মুখ খোলাটাই অপরাধ, যেন মূক হয়ে বাঁচতে হবে! যা দিনকাল পড়েছে, মোরগের গলা কাটতে যতটুকু হাত কাঁপে মানুষের বেলায়ও ততটুকু কাঁপে না। সব মানুষের না আবার, বিশেষত তুঙ্গে থাকা লেখকদের। মানচিত্রজোড়া অন্ধকারে যাঁরা আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে এগোন, চিন্তাক্ষেত্রের প্রসারণের জন্যে, উপরন্তু তাঁরাই ছুরিচর্চার উৎকৃষ্ট উপকরণে পরিণত হন। কারণ, এখানকার এখনকার মানুষও মুক্তি চায় না। মগজকে যারা যুগ যুগ ধরে বর্গা দিয়ে আসছে, তারা জাগরণের প্রতি সহনশীলতা দেখাতে জানে না। স্বচ্ছ সমালোচনা এলে যদি মুখোশ খসে পড়ে বা কার্যকলাপ প্রশ্নবিদ্ধ হয়— সীমিত মাঠে আবছা পরিবেশে কানামাছি খেলতে অভ্যস্তরা এই আশঙ্কায় যুক্তিবাদকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করতে বদ্ধপরিকর। যাদের হৃদয়ে মানবিক কল্যাণকামনা নেই, ইতিবাচক বিবর্তনের বীপ্সার প্রবণতা নেই, তারা গোড়ায় গলদ রেখে ডগায় সমাধান খুঁজতেই পারে।

প্রথা মানে রেওয়াজ, যা প্রগতির প্রতিলোম। বেঁধে দেওয়া নিয়ম বা কাঠামোর ভেতর স্বতঃস্ফূর্ত সৃজনশীলতা আসতে পারে না। তাই প্রথার বিরুদ্ধে হাল ধরেন হুমায়ুন আজাদ, মুখর হন প্রণোদিত ধারায়। উজানে পা বাড়াবার ফলে আশীবিষরা ফুঁসে ওঠে তাঁর ওপর, দংশন করে ২০০৪ অব্দের ২৭শে ফেব্রুআরির বৈরী সন্ধ্যায়, বাঙলা অ্যাকাডেমির বইমেলা থেকে ফেরার পথে। রীতিবিরোধী লেখকের ওপর চাপাতির বোধ হয় সেবারই অভিষেক হয়। কোপ খেয়ে বিক্ষত হলেও কোনোমতে বেঁচে যান আজাদ। এ চাপাতিযজ্ঞের নেপথ্যে ছিল কথিত মৌলবাদীরা।¹

২০১৩ অব্দে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শুরু হয় শাহবাগ আন্দোলন, অনলাইন-অ্যাকটিভিস্টদের গণসংযোগে। আন্দোলনের প্রথমদিকেই, ১৫ই ফেব্রুআরি রাজিবকে বিদেয় করা হয়, হন্তারকদের সমর্থকদের ভাষায় যা “উইকেটের পতন”। অবশ্য তার আগেই ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীনকে জিহাদি ভঙ্গিতে ঘায়েল করা হয়, ভাগ্যিস গায়ে পুরু পোশাক (শীতবস্ত্র) ছিল বলে অক্কা থেকে রক্ষা পান তিনি। ২০১৫ অব্দের ২৬শে ফেব্রুআরি নাটকীয়ভাবে হত্যা করা হয় মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অভিজিৎ রায়কে। এ বছরই ৩০শে মার্চ ওয়াশিকুর বাবু ও ১২ই মে অনন্ত বিজয় দাশকে হত্যা করা হয়— আড়াই মাসে তিন-তিনটা কাণ্ড! আক্রান্তদের মধ্যে লেখক দুজন: অভিজিৎ প্রথিতযশা, অনন্ত উঠতি বয়েসী। বাদবাকিরা দুষ্ট ব্লগার মাত্র, অনলাইনের বাইরে নামগন্ধ নেই। ধানের সঙ্গে চোঁচা চলতে পারে, তবু অভিজিৎ-অনন্তের সঙ্গে অন্যদেরকে প্রগতিশীল বলে চালানো যাচ্ছে না। “ঘাতকরা ধরে ধরে অগ্রগণ্যদেরই রসাতলে পাঠাচ্ছে, অতএব আক্রান্ত সব ব্লগার গুরুত্বপূর্ণ” এমন বিবৃতি অগ্রাহ্য। প্রথমদিকে যা বলেছি তা স্রেফ বলগা হরিণদের জন্যে নয়, লেখকদের জন্যে।

মুক্তমনা ব্লগের লেখাগুলি ধর্মীয় মৌলবাদীদের কাছে বেশি আপত্তিকর ঠেকে। অন্যান্য ব্লগের ধর্মবিরোধী লেখাগুলিও অনেকের কাছে নিন্দার্হ। প্রকৃত রুচিমান লেখকরা গালাগালি পছন্দ করেন না, অভিমত লেখেন যুক্তি দিয়ে। অশোভন ভাষায় কটাক্ষ করা, ধর্মমতকে হেনস্তা করা, গালাগালি চর্চা করা সেসব মূর্খপ্রায় কুরুচিপূর্ণ চাটুকারদের কাজ, যারা দ্রুত পরিচিতি পাবার জন্যে ও সমালোচনায় ওঠার জন্যে ধর্মকে ব্যবহার করে মাত্র। বলা দরকার, অভিযুক্ত লেখকদের (সব্যসাচী/ব্লগসর্বস্ব) কেউ কেউ নাস্তিক,² কেউ আবার ধর্মদ্বেষী। ইসলামি মৌলবাদীদের শ্লোগান হল “নাস্তিকমুক্ত বাঙলাদেশ চাই”। কিন্তু কেন, বিশ্বাসের কারণে কাউকে মেরে ফেলা কেন? বিশ্বাস একান্তই ব্যাক্তিক ব্যাপার, এ চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করা নৈরাজ্য সৃষ্টির সাজানো পাঁয়তারা বৈ কিছু নয়। কাউকে তার বিশ্বাসের কারণে কতল করা মোটেই সঙ্গত নয়। নাস্তিক আস্তিককে বা ধর্মদ্বেষী ধর্মপ্রাণকে তার বিশ্বাসের কারণে সরাসরি আক্রমণের কয়টি নজির আছে? না থাকলে, কেন এ অসহিষ্ণুতা? কেন বাঙলাদেশকে বঙ্গস্তান বানাবার চেষ্টা?

প্রেম-হিংসা আছে, সৌন্দর্য-কালিমা আছে, বিশ্বাস-অবিশ্বাস আছে, নানা মুনির বৈচিত্র‍্যময় নানা মত আছে। থাকবে। মতামতের সঙ্ঘাতহীন সহাবস্থান কাম্য। জগৎকে প্রেমময় করবার সদিচ্ছায়, যাদেরকে হিংসুক বলে মনে হয় তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া হলে তা হবে বড় হিংসাপ্রসূত। সৌন্দর্য ছড়াবার মানসে, কালিমাময় বলে মনে হওয়া বস্তুগুলি নাশ করতে গেলেই কালিমা বেশি ছড়াবে। যাদেরকে মনে হয় অবিশ্বাসী, তাদেরকে সরালে অপসারক বিশ্বাসীরা নিজেদের ওপর থেকেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে। কারণ, সমজাতের একাধিক জিনিস না থাকলে তুলনা করা যায় না, প্রকৃত মূল্য বোঝা যায় না। নিজের বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে ব্যক্তি পছন্দের পথে চলবে, কারও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না করা পর্যন্ত তাকে তার পথে চলতে দেওয়া উচিত। কেবল আপনি সিদ্ধ আর বাকি সব যে ভ্রান্ত, সে ভালো করেই বুঝি। আত্মপক্ষ সমর্থন মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। বিরুদ্ধ মতকে সহ্য না করলে, কেবল নিজের মত টেকাতে ও চাপাতে চাইলে সঙ্ঘাত অবশ্যম্ভাবী। কারও মূল্যবোধে হস্তক্ষেপের চেষ্টা নেহাত আহম্মকি।

নাস্তিক তার বিশ্বাসের ব্যাপারে বিশটা বই লিখলে, আস্তিক নিজের বিশ্বাসের ব্যাপারে চল্লিশটা লিখুক। ধর্মদ্বেষী ধর্মের অপ্রয়োজনীয়তা প্রমাণের জন্যে যা লিখেছে, ধর্মের জরুরত বোঝাতে ধর্মপ্রাণ লিখুক তার দ্বিগুণ। কলমের জবাব কলম দিয়ে দিলে এ থেকে ভালো কিছু আসতে পারে। কিন্তু তা না করে, লেখালেখির কারণে ছুরিকাঘাত? নেই, এমন কাপুরুষোচিত আক্রমণের কোনো যাথার্থ্য নেই। তাহলে এ ধরনের খুন-খারাপি বন্ধ হচ্ছে না কেন? চলে যাচ্ছে তো এ কারণে যে, আস্তিক-ধর্মপ্রাণ সংখ্যাগুরু, আর নাস্তিক-অধার্মিক সংখ্যালঘু। ফলে ইচ্ছেমতো যা-তা করতেও চিন্তায় বাধে না। সংখ্যাগুরু সংখ্যালঘুকে শুষে ফেলা যদি ন্যায্যতা পেত, তবে তো বৈচিত্র‍্য নষ্ট হত। রক্তারক্তি চলত ক্রমাগত, এবং এভাবে চলতে থাকলে এক সময় মাৎস্যন্যায় দেখা দিত। বোয়াল যদি পুঁটিকে খেয়ে ফেলে, তবে হাঙ্গর এসে গিলে ফেলবে বোয়ালকে, অতঃপর হাঙ্গরকে দিয়ে উদরপূর্তি করত তিমি— ফলটা যারপরনেই শুভ, তা-ই না! এখানে অধার্মিক বা নাস্তিক খুব বেশি নেই ঠিক, তাই বলে ধর্মীয় মৌলবাদ তাদের গ্রাস করে ফেলবে? বিশ্বে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী ২১০ কোটি, আর ইসলাম ধর্মাবলম্বী মাত্র ১৪০ কোটি (২০০২ অব্দের ধর্মশুমারি অনুযায়ী)। সংখ্যাগুরু এবার সংখ্যালঘুকে নিষ্পেষণ করলে কেমন হয়? নিজেকে সংখ্যালঘুর অবস্থানে কল্পনা করে দেখুন, সংখ্যাগুরুর কাছ থেকে কেমন আচার আশা করেন।

ঈশ্বর অতি সহনশীল। তিনি যদি অসহিষ্ণু হতেন, তবে দুনিয়ার মুমিন বাদে আর সবাইকে নিমিষে নিশ্চিহ্ন করে দিতেন। কিন্তু না, তিনি এমনটি করছেন না। কৃতজ্ঞ-অকৃতজ্ঞ, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী, অনুগত-অননুগত সবাইকে তিনি অনুগ্রহ দান করছেন। উগ্র আস্তিকরা এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে নি, ইসলামি মৌলবাদীরা পারে নি প্রভুর গুণে (এখানে সহনশীলতা) গুণান্বিত হতে; যদিও বলা হয়েছে তাখাল্লাকু বি আখলাকিল্লাহ। হিসেবে ধার্মিকরা অত্যন্ত শান্তিকামী হবার কথা, কারণ তারা পরকালের শেষ বিচারে আস্থা রাখে, পরমেশ্বরের কাছে জবাবদিহির তাড়া আছে (নাকি মতবিরোধীদের হত্যার মধ্যেই তাদের শান্তিচিন্তা নিহিত? তারা কি ভাবে যে, নাস্তিকের মুণ্ডুপাত করলে প্রভুর শুভদৃষ্টি জোটে এবং স্বর্গ অবধারিত হয়ে যায়?)। আর নাস্তিকরা আগ্রাসী, হিংসাপ্রবণ ও দাঙ্গাবাজ হবার কথা এ কারণে যে, স্বকীয় বিশ্বাস অনুযায়ী তাদের অস্তিত্বের চূড়ান্ত আশ্রয় বলে কিছু নেই, জবাবদিহির ভয় নেই— কিন্তু প্রশংসনীয় মূল্যবোধের কারণে তারাও শান্তিকামী হয়ে থাকে।

অশোভন ও আপত্তিকর শৈলীর কারণে অভিযুক্ত ব্লগারদের কেউ কেউ খানিকটা অপরাধী, স্বীকার্য। তাই বলে প্রাণে মেরে ফেলাটা লঘু পাপে গুরুদণ্ড হয়ে যায় না! নাস্তিকতা পরকালে বিচার্য অপরাধ হতে পারে, জাগতিক নয়। মানুষের বিচারে ভুল থাকতেই পারে, কারণ বৈচারিক মূল্যবোধের পরম মান সে জানে না। হত্যা করবার পর, নিজের কোনো ভুল ধরা পড়ে হত্যাকাণ্ডকে অসঙ্গত মনে হলে তা থেকে নিষ্কৃতির পথ আর উন্মুক্ত থাকে না, জীবনভর অনুশোচনা হয়। এমনও তো হতে পারত যে, বেঁচে থাকলে অই ব্যক্তিটি ভাবান্তরের ফলে আপনার অনুসৃত মতকে সমর্থন করে বসেছে, হতে পারত না?

ইসলামি মৌলবাদীরা নিজেদেরকে পুণ্যাত্মা মুহাম্মদের যথার্থ অনুসারী ভেবে থাকে, এদেরই অনেকে আবার “নাস্তিকদের আস্তানা বাঙলাদেশে রাখব না” বলে চেঁচায় এবং প্রায়শ ঝাঁপিয়েও পড়ে, এমন দুমুখো সাপ আর কে কবে দেখেছে! তাবলিগি বান্দারা যখন ঐশ্বরিক ঢোল পিটিয়ে নাস্তিকদের পতন কামনা করে, তখন তো নাস্তিকরা চাপাতি নিয়ে হামলা করে না। অথচ নাস্তিকরা নিজেদের লালিত মত চর্চা করলে তা অতিধার্মিকদের তৈলাক্ত ধর্মানুভূতিকে ঝাঁজরা করে দেয়! হাজার বছর লালনের পরও ইসলামি মৌলবাদীদের ইমান এতই দুর্বল যে, সামান্য নাস্তিকের লেখালেখি তাদের ইমানের বেদিতে কাঁপন ধরিয়ে দেয়, তারা বিশ্বাস টুটবার শঙ্কায় ভোগে! তোমাদের জন্যে তোমাদের ধর্ম, আমাদের জন্যে আমাদের ধর্ম (এখানে ধর্ম মানে পন্থা)। তোমাদেরকে খুন করা আমাদের কর্ম, কল্লা ধসাতে চালিয়ে যাই বর্ম— এদের মূলমন্ত্র সম্ভবত এরকম কিছু। তা হলে দেখা যাচ্ছে, সময়ের পরিক্রমায় ধর্মের অপব্যবহার হচ্ছে। ধর্ম এখন একটা ব্যবসার নাম, যা রাজনীতিসহ সবখানে দিব্যি চলছে। সব ধর্মই এসেছে মানুষের কল্যাণের জন্যে, কিন্তু অপব্যবহারের কারণে এখন অকল্যাণ কম হচ্ছে না।

ধারণা করা হয়, উল্লিখিত খুনগুলির সবই পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের পুরো সময় জুড়ে সুশীলরা থাকেন দর্শকসারিতে। এখনও কোনো খুনিকে ধরা যায় নি। নিভৃতে রাতে ঘটিত হত্যার দায়ীকে বার করা তো দূরে থাক, দিনের আলোয় জনসমুদ্রে ঘটে যাওয়া হত্যার দায়ীরাও চিহ্নিত হয় নি। আমলারা ললিপপ না আঙুল চোষে তাও ঠিক জানা যাচ্ছে না। লেখক-হত্যায় জড়িতদের বিচার করতে না পারার দায় রাষ্ট্রের, এ ব্যর্থতা এড়ানো যাবে না। অরাজকতা ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ঘাতকরা লাই পেয়ে যাচ্ছে, ফলে একই রকম দুর্ঘটনার পুনর্ঘটন হচ্ছে। নিদেনপক্ষে একটা খুনের বিচার হলে জিহাদি বান্দাদের কান খাড়া হয়ে যেত, কিন্তু তা হচ্ছে না। হচ্ছে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা। ধর্ম ও নারীকে নিয়ে লেখা যে-বইগুলির ওপর আপত্তি আসে সেগুলি নিষিদ্ধ করা হতে পারে, অথচ হন্তারকদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে ভূমিকা নেই! পুলিস, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সন্দেহভাজন ও হুমকিদাতাদের গতিবিধি লক্ষ রাখতে পারত। লেখকরা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। লেখকদেরকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে দেখে বহির্বিশ্ব নিন্দা জানায়। আমরা এমন দেশের গর্বিত নাগরিক, যেখানে নিশ্বাসের নিরাপত্তা নেই।

অপমৃত্যু দুঃখজনক। কিন্তু না, প্রতিটি হত্যার পরই আমরা বিশেষ গোষ্ঠীকে বা গোষ্ঠীবিশেষকে উল্লাস করতে দেখেছি। অবশ্য এমন বুনো উল্লাসে পশুদের মানায়। এদেশের কলমবাজির ভবিষ্যৎ শ্বাপদসঙ্কুল ও চাপাতিগ্রস্ত দেখে নিদারুণ খারাপ লাগছে। কলমের জবাব চাপাতি দিয়ে হয় না। এসবের প্রতিবাদ হোক। চিন্তার সহাবস্থান সহজভাবে নেওয়া হোক। সব লেখকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। অভিজিৎরা প্রতিদিন জন্মান না। অনন্ত আমাদের ছাতকের (জাউয়া) সন্তান, তাঁর জন্যে অনন্ত শোক।

শব্দ হল ব্রহ্ম। শব্দের মৃত্যু নেই। কলম চলবে। কলম চলবেই।

1. কাউকে মৌলবাদী বলে প্রমাণ করা যায় না।

2. প্রকৃত নাস্তিকরা নিজেদেরকে নাস্তিক ভাবে না। অতএব যারা নিজেদেরকে নাস্তিক বলে পরিচয় দেয়, তারা ধর্মদ্বেষী।

অনুপম হক
গাঙপার, ছাতক।

২ thoughts on “কলমের জবাব চাপাতি দিয়ে হয় না

  1. লেখকের নিরাপত্তা ভার সরকারকেই
    লেখকের নিরাপত্তা ভার সরকারকেই নিতে হবে, জোড় দাবীতে পরিনত হওয়া উচিৎ। ভালো লেখেছেন ভাই, সবগুলো কথাই গুনি।

  2. অথচ নাস্তিকরা নিজেদের লালিত

    অথচ নাস্তিকরা নিজেদের লালিত মত চর্চা করলে তা অতিধার্মিকদের তৈলাক্ত ধর্মানুভূতিকে ঝাঁজরা করে দেয়!

    উহু মোটেও তা নয়। নাস্তিক ঐ ব্যক্তি যার সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস নেই এবং ধর্মের কোন রীতিনীতির উপর বিশ্বাস এবং আস্থা নেই। এরা প্রকৃতিবাদী, জড়বাদী এক কথায় ডারউইনের মতবাদে বিশ্বাসী। এধরনের নাস্তিক সব সময়ই ছিলো। এরা এদের ধ্যান ধারনা নিয়ে থেকেছে, আস্তিকদের সাথে তর্কও করেছে, নিজস্ব যুক্তি দিয়ে বইও লিখেছে। এদের সাথে কারো কোন বিরোধ নেই।

    কিন্তু সমস্যা তখনি বাধে যখন বিদ্যেষ ছড়ান হয় । ইসলাম, আল্লাহ , আল্লাহর রাসূল , আমাদের প্রিয় নবীর (সা) স্ত্রীগন সম্পর্কে নোংরা আর উস্কানীমূলক কথা লিখা হয়। বিদ্যেষ জন্ম দেয় আরো বিদ্যেষের । যে কোন বিদ্যেষ আর উষ্কানীমূলক লিখার প্রতিক্রিয়া হবেই। ফলে যা হবার তাই হয়েছে।

    হুমায়ূন আজাদ, রাজীব হায়দার, আসিফ মহিউদ্দিন, অভিজিত রায়—এরা বিদ্যেষ ছড়িয়েছেন। এরা নাস্তিক নন, মুক্তমনাও নন। এরা স্রেফ ধর্ম বিদ্যেষী সাইকোপ্যাথ। এরা কলমের ভাষায় হিংসা ছড়িয়েছেন, আর মৌলবাদী সাইকোপ্যাথেরা চাপাতির ভাষায় জবাব দিয়েছে।
    এরা দু’দলই পরিত্যাজ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *