সচেতনতা ও প্রতিরোধই পারে নারী নির্যাতন রোধ করতে

আমাকে প্রথম যে দিন কুত্তায় দাবড়ানী দিছিল সেই দিন আমি একটা হাফপ্যান্ট পড়ে ছিলাম। আরসবচেয়ে মজার ব্যপার হল আমারসাথে আর দুই জন ছিল তারা পড়েছিল ফুল প্যান্ট। ভাবলাম কুত্তায় দৌড়ানী দিছে আমার পোশাক দায়ী, এর পর থেকে শুরু করলাম ফুলপ্যান্ট পড়া কুত্তার ডরে কয়েক দিন আমি ঐ পথেই যাইনি। কিন্তু আমাকে প্যান্ট পড়া অবস্থায় আবার দৌড়ানী দিল! তাহলে কি পোশাক দায়ীনয়?
মনে হল আমার সাইজ, ৩৮ ইঞ্চি উচ্চতার আমাকে কুত্তায় দৌড়ানি দিতেই পারে। এটা আমার শারীরিক গঠনের কারনে ।

আমাকে প্রথম যে দিন কুত্তায় দাবড়ানী দিছিল সেই দিন আমি একটা হাফপ্যান্ট পড়ে ছিলাম। আরসবচেয়ে মজার ব্যপার হল আমারসাথে আর দুই জন ছিল তারা পড়েছিল ফুল প্যান্ট। ভাবলাম কুত্তায় দৌড়ানী দিছে আমার পোশাক দায়ী, এর পর থেকে শুরু করলাম ফুলপ্যান্ট পড়া কুত্তার ডরে কয়েক দিন আমি ঐ পথেই যাইনি। কিন্তু আমাকে প্যান্ট পড়া অবস্থায় আবার দৌড়ানী দিল! তাহলে কি পোশাক দায়ীনয়?
মনে হল আমার সাইজ, ৩৮ ইঞ্চি উচ্চতার আমাকে কুত্তায় দৌড়ানি দিতেই পারে। এটা আমার শারীরিক গঠনের কারনে ।
কিন্তু, সেই ভুলও ভাঙল। আমার ৭০ ইঞ্চিলম্বা আর ভাল ফিগারের কাকাকেও দিল একই কায়দায় দৌড়ানী। তাঁর মানে ফিগারও কারন না? তাহলে কি কুত্তা গুলো পাগল হায়ে গেল? হতেপারে। আরেক চাচা বেন্দা(বাঁশের মোটা লাঠি)নিয়ে ইচ্ছা মত পিটাল একটা কুত্তাকে। বাকিগুলো দূর থেকে দেখল। আর ঘেউ ঘেউ করে চলে গেল। কাকার কাছেও আর কুত্তা গুলো আসার সাহাস করত না। কিন্তু আমাকে আরো এক দিন দৌড়ানী দিল, আরো কয়েক জনকে এমনি দৌড়ানীদিয়ে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে গেছে, কিন্তু ঐ কাকাকে কোনদিন দৌড়ানিতো দূরের কথা, কাকাকেদেখলেই পালাত। এর পর আমরা দশ বারো জন মিলে কয়েকটা কুত্তাকে ইচ্ছে মত মারলাম। মেরে ফেললাম ৬-৭টা। এর পর প্রায় এক বছর আমাদের গ্রামে আর কুকুর দেখা যায় নাই।

আমরা শেষ পর্যন্ত বুঝলাম

  • মাইরের উপর ঔষধ নাই/শক্তের ভক্ত নরমের যম।
  • কুত্তা যখন পাগল হয়ে যায় তখন তাদের কুয়েকটাকে মেরে ফেলতে হয়।

শুনেছি ভারতের স্কুল গুলোতেমেয়েদেরকে শেখানো হয় কিভাবে রেপিষ্ট ও নর-খাদকদের থেকে নিজেকে বাঁচাতে হয়। ভেবেছিআমাদের দেশের ছেলে গুলো যথেস্ট্য ভালো আর নর-খাদক নাই। তাই এ দেশে ছেলে-মেয়েদের এইশিক্ষা না দিলেও চলবে। কিন্তু আজ এই সময়ে এসে যা বুঝলাম, তাঁর আগে কিছুপ্রেক্ষাপটের বিবরন দেওয়া যাক-
১। কুয়েট এর এক দল শিক্ষার্থী ভারতেশিক্ষা সফরে গিয়ে জুনিয়র দের রেগিং করার মজাটা দেখে এল। শিখে এল সাথে করে নিয়ে এলোএই ভাইরাস।
ছড়িয়ে পরলো মহামারী আকারে, ভার্সিটিথেকে ভার্সিটিতে।
২। বাড়িতে বাড়িতে মা চাচিরা চর্চাকরে ভারতীয় সংস্কৃতি। স্টার জলশা, প্লাস, লাইফ, ওকে দেখে দেখে। সারা দিন ভারতীয়চ্যানেল চলে বাড়ির টিভিতে। বাড়ির ছেলে মেয়ে গুলো বড় হচ্ছে এক দিকে ভারতীয় সংস্কৃতিআত্ত্বস্ত করে, আরেক দিকে বাইরে মৌলবাদী আগ্রাসন।
ঘর আর সমাজ এক না হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়েপড়ছে। ফলে ছেলে গুলো একই সাথে দুই নৌকায় চড়ার মত অবস্থা।
৩। ইন্টারনেটের কল্যাণে পর্ণ মুড়িমুর্কি হয়ে পরেছে। পর্ণ উপভোগ কারীরা খব দ্রুতই সমাজ ও পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। আর সব কিছুই তারা দেখতে থাকে পর্ণ এর চোখে।
৪। আমাদের পরিবার আর সমাজের মাঝে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে দিনে দিনে। ফলে সমাজিক আচরন গুলো আমরা আমাদের বাচ্চাদের শেখাতে পারছিনা। বড় পরিবার ভেঙ্গে তৈরি হচ্ছে ছোট পরিবারে, যার ফলে প্রজন্ম হয়ে পরছে পারিবারিক বন্ধন হীন। সোস্যাল মিডিয়া গুলো হয়ে পরছে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যমে। ফলে কম্পিউটারের গন্ডি পেরিয়ে আমাদের প্রজন্ম পরিবার আর সমাজের সাথে মিশতে পারছে না।
৫। ভারতে প্রায়ই রাস্তায়, গাড়িতে রেইপের ঘটনা ঘটতে শোনা যায়, এই ঘটনা গুলো আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধমে ছড়িয়ে পরে খুব দ্রুত। এর একটা প্রভাব যুব সমাজে পড়বে সেটাই স্বাভাবিক। যার কারনে ইদানিং বাংলাদেশেও এ ধরনের ঘটনা গুলো ঘটছে।

এবার আসি সেই স্কুলে, যেখানে ছেলে-মেয়েদেরকেঅন্যের খাদ্যে পরিনত না হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়। নর-খাদক বা রেপিস্ট যাই হোক সে যখন প্রতিরোধ পাবে তখন আর সেই একই কাজ আর করবে না। আমাদের এখন উচিৎ নারী নির্যাতনের বিরোদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করা। স্কুল কলেজে বই পড়ানোর পাশাপাশি মেয়েদেরকে এই সব নর পশুদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার কৌশল শিক্ষা দেওয়া।

সাথে সাথে পরিবারের উচিৎ
১। ছেলে মেয়েদের সঠিক সামাজিক শিক্ষা দেয়া।
২। নারী পুরুষের বিভেদের দেয়াল ভেঙ্গে দেওয়া।
৩। মেয়েদেরকে কতটুকু আদর বৈধ তার সীমাটাও জানাতে হবে। এই দায়ীত্ব মায়েদের নিতে হবে।
৪। পর্ণ যেন মনকে বিকৃত করতে না পারে তার জন্য যৌনতা শিক্ষা অবৈতনিক করে দিতে হবে। পরিবারেও এ ধরনের শিক্ষা দেওয়া যেতে পারে। ছেলেদের কম্পিউটারে কি আছে তার নজরে রাখা, এতা বাবার কাজ।
৫। মায়েরা বেশি করে সিরিয়াল না দেখে সন্তানকে আরেকটু সময় দিলে তারা বেড়ে উঠতে পারত পারিবারীক পরিবেশে। তাদের নিয়ে প্রতিবেশীর বাড়ি যাতায়াত তাদের সামাজিক হতে শেখাবে।

সর্বোপরি আমাদের সচেতন হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *