বেল ল্যবরেটরি থেকে সাস্টঃ পরিচিত একটি মুখ ড. মুহাম্মাদ জাফর ইকবাল!

১.

১.
২০১৩ সালের ডিসেম্বরের দিকে সিলেট টুরে গিয়েছিলাম, সিলেটে সেটাই প্রথম এবং শেষ ভ্রমন ছিলো আমার! কিছু সময় কেটেছিলো সাস্টের পরিসংখ্যন বিভাগে, তাদের ল্যব ফ্যসিলিটি দেখে অবাক হয়েছিলাম হাই হুলুস্থুর অবস্থা! সবই হেপেকের কেরামতি, সাস্ট পুরা ক্যম্পাস হাই স্পিড ওয়াইফাই ইন্টারনেট কানেকশনে যুক্ত! কথা প্রসঙ্গে সেদিন সাস্ট ক্যম্পাসের পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যন স্যার আমাদের সেই ইন্টারনেট কানেকশনের ইতিহাসের কিছু কথা বলেছিলো, তিনি এভাবে বলছিলেন, প্রথম সাস্ট ইন্টারনেট কানেকশনের মুখ দেখে জাফর স্যরের হাত ধরে, তিনি তখন সবে মাত্র সাস্টে শিক্ষকতা শুরু করেন, বেল ল্যবরেটরি ফেরত জাফর স্যার সঙ্গে নিয়ে আসেনে একটি মডেম, মডেম কি জিনিস এটাই জানতেন না তৎকালিন অনেক বাঘা বাঘা প্রফেসর! সেই সময় সাস্টের প্রফেসররা জাফর সারের নিয়ে আসা মডেমটি ব্যবহার করতেন জার্নাল পড়ার কাজে, পরবর্তিতে সেই মডেমটি পি.এইচ.ডির ছাত্ররাও ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিলো! এরপর সবার হাতে হাতে মডেম এরপর ওয়াইফাইয়ে পুরা ক্যম্পাসেই ইন্টারনেট কানেকশন। তিনি এও বলেছিলেন ক্যম্পাসের ইন্টারনেট কানেকশনের সিংহভাগ অবদানটা তারই, অ্যরেন্জমেন্ট মেনেজমেন্ট দুটোতেই তার যথেষ্ট অবদান রয়েছে! সাস্ট ক্যম্পাসের ইন্টারনেট কানেকশনের ইতিহাসটা আমার সেদিন জানা হয়েছিলো! সেবার সেই সময় জাফর স্যার ঢাকায় ছিলেন, তাই আমাদের ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান স্যার প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন স্রেফ জানিয়ে দিলেন ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের সাথে দেখা হচ্ছে না!

২.
২০১০ সালের কথা একুশে বইমেলায় দুর থেকে দেখেছিলাম একটা লোক যাচ্ছে পরিচিত মনে হচ্ছিলো লোকটাকে, কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছিলাম না লোকটাকে কোথায় দেখেছি! বারবার মনে হচ্ছিলো কোথায় যেন দেখেছি! কিছুক্ষন পর দেখেছিলাম কিছু ছেলেপেলে তাকে ঘিরে ধরে কথা বলছে, কাছাকাছি যেয়ে দেখি ছেলেমেয়েরা অটোগ্রাফ নিচ্ছে, আমার অবশ্য কারো অটোগ্রাফ নেওয়া কোন কালেই পছন্দ ছিলো না, দেখলেও রাগ লাগতো! অযাথা কাউকে ইচ্ছাকৃত বিরোক্ত করার সামিল মনে করতাম! তাই আমি হাটা ধরেছিলাম, সামনে এগুতে না এগুতেই একটা পোষ্টার চোখে পড়েছিলো, পোষ্টারে জাফর স্যারের একটা ছবি দিয়ে সাইন্স ফিকশন বইয়ের বিজ্ঞাপন দেওয়া ছিলো, কোন বইয়ের ছিলো সেটাও মনে করতে পারছি না, সেটা দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম এটাই জাফর স্যার যিনি লেখালেখি করেন! সেটাই আমার প্রথম দেখা স্যারকে, তখনও আমি সারের লেখা কোন বই পড়িনি, মাঝে মাঝে তার লেখা সাদাসিধে কলাম চোখে পড়ত আর সেই সাদাসিধে কলামের কারনেই তার নামটা আমি প্রথম জানি! যাইহোক তার লেখা একটা বই “আমার বন্ধু রাশেদ” এই বইটি পড়ার জন্য আমাকে অনুরোধ করেছিলো আমার এক শ্রোদ্ধেয় বড়ভাই! তার নিজের টাকার কেনা বইটি আমাকে পড়তে দিয়েছিলো সেই বড়ভাই! ওটাই ছিলো আমার পড়া জাফর স্যারের লেখা প্রথম বই, এবং আমার প্রিয় বইয়ের তালিকার একটি। পরের বইমেলায় জাফর স্যরকে দেখিয়ে দিয়ে আমার বন্ধু রিফাত, সে স্যারের সরাসরি ছাত্র! ও আমায় বলেছিলো, ওই দেখ আমাদের জাফর ইকবাল স্যার! তুই চিনিস! আমি বলেছিলাম হুম চিনি, সেদিন রিফাতকে বলিনি আমি তাকে কিভাবে চিনি! এরপর পরবর্তি বই মেলাগুলোতে যাওয়ার সুযোগ হয়নি, জাফর স্যরের মত ছবি দেখে কাউকে চিনতেও হয়নি! যাইহোক সাস্টে অনেক নামকরা প্রফেসর আছে যাদের আমি নামও কোনদিন শুনিনি জানিনা, কিন্তু জাফর স্যার নিজেকে আমার কাছে এভাবেই পরিচিত করেছেন!

৩.
সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে কোর্ট পয়েন্টে এনে চাবুক মারতে চেয়েছেন মাহমুদুস সামাদ চৌধুরি নামক এক সাংসদ! সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একটা মিছিলো হয়েছে “নাস্তিক ব্লগার” আখ্যা দিয়ে। আমার জানা নাই জাফর স্যার কোন ব্লগে লেখেন! কোথায় তিনি নাস্তিকতার চর্চা করেছেন, কিংবা কিভাবে তিনি ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন! তিনি যদি ব্লগে লিখতেন তাহলে খারপ হতো না এক ক্ষেত্রে ভালোই হতো লেখাগুলো হাতের কাছেই থাকতো! বাই দা বাই আন্দোলনকারিদের একটা ভিডিও দেখলাম তাদের একজন প্রতিনিধিকে দেখলাম তিনি জাফর সারের বিপক্ষে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দিতে গিয়ে তুলে ধরছেন জাফর স্যার কুটুক্তি করেছেন, ঠিক কি কুটুক্তি করেছেন সেটা তিনি বলতে পারছিলেন না, মানে তিনি হুজুগেই অভিযোগ দায়ের করেছেন! এই সাংসদ এবং আন্দোলনকারিরা তাদের রাজনৈতিক পরিচয় পরিচয় দিয়েছেন তারা আওয়ামিলীগার!


এই আওয়ামিলিগারের এখন বজ্রকন্ঠ শোনা যাচ্ছে! ওয়ান ইলেভেনের পরবর্তি সময় কেউ শুনে থাকলে জানাবেন!, বিম্পি-জামাত জোট আমলে কেউ শুনে থাকলে দয়াকরে জানাবেন!! শুনলাম ঠিক আওয়ামি সরকারের আমলেই! অপর দিকে জাফর স্যারের আওয়াজ তখনও যেমন শোনা যেত এখনও তেমন শোনা যায় কি? ২০০৬ সালের শুরুর দিককার কথা, সে সময় প্রথম আলো পত্রিকাটা নেওয়া হতো আমাদের ম্যচে, ওখান থেকেই জাফর স্যরের সাধাসিধা কলাম পড়া শুরু এবং দেখতাম তার সমালোচনা! সাংসদ মিয়াসাব বড় আওয়ামিলীগার হয়ে গেছেন!আপনারা আওয়ামি নীতিনির্ধারকের কাছে জেনে নিয়েন তারা জাফর ইকবালকে কতটুকু সমীহ করে, সম্মান দেয়! তাকে ততটুকু সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করুন, যথেষ্ট হবে! একটু ঘাটাঘাটি করে দেখেন তার পারিবারিক পরিচয় কি? তিনি মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদের সন্তান, যাকে ১৯৭১ সালের ৫ মে পাকিস্তানী আর্মি রা নদীর ধারে গুলি করে হত্যা করেছিলো! খোজ নেন তার ভাইবোন কারা? কারা কি করেছে? স্বাধিনতার পর তৎকালিন আওয়ামি সরকার তার পরিবারের জন্য কতটুকু কি করেছে! তার পরিবারের কথা বাদই দিলাম! জাফর ইকবাল যা করেছে সেটাই তার পরিচয়ের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করি! জাফর ইকবাল কি দিয়েছেন এই প্রশ্ন অবান্তর! অতিত বর্তমান দেখলে বুঝা যায় তিনি কতুটুকু দায়িত্বশীলের ভূমিকা পালন করেছেন, তাকে দালাল বলে ট্যাগ দিচ্ছেন ভেবে দেখুন তাকে দালাল মনে হবে না, মনে হবে তিনি একজন অবিভাক। একজন অবিভাবকে এরকমভাবে অপমান অপদস্থ করার চেষ্টাটা খুবেই গর্হিত কাজ বলে মনে করি! মনে রাখা প্রয়োজন যেখানে গুনিজনের কদর হয় না, সেখানে গুনিজন জন্মগ্রহন করে না। প্রতিটি দেশেই কিছু অবিভাক আছে, আমাদের দেশেওে আছে শুধু জাফর স্যর নয় অনেকেই কিন্তু সে অবিভাবকগন কি যোগ্য সম্মান বা মর্যাদাটুকু পাচ্ছে! আমি এটাও মনে করি যে ব্যক্তি একজন যোগ্য ব্যক্তিকে তার সেই সম্মানটুকু দিতে পারলো না, সে নিজে নিজেকেই অপমান করলো! তাই কিছু বলার আর প্রয়োজনবোধ করছি না মি. সাংসদ আপনি নিজে নিজেকেই অপমান করেছেন, যদি সেটাও মানতে না পারেন তাহলে আপনার নিজের আত্ন-সম্মান বলতে কিছু নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *