ছাগলের স্বপ্ন ভঙ্গ!

ঈশপ ২০১৫ (গল্প ৪)

একদা এমন এক জঙ্গল ছিল যেথায় জন্তু জানোয়ারেরা কক্ষনো খাবারের জন্য কেউ কাউকে হত্যা করিতো না। সে জঙ্গলেরই এক ছাগলের একদা খুব খায়েশ হইলো সে গাছে আরোহণ করা শিখিবে। যেই ভাবা সেই কাজ। ছাগল দিন ভর গাছে আরোহণের চেষ্টা করিতে লাগিলো। কিন্তু কিছুতেই কিছু হইলো না। ছাগলের এই চেষ্টা দেখিয়া সবাই হাসিতে লাগিলো। দিন শেষে নিরাশ ছাগল বাড়ির পথ ধরিলো। পথিমধ্যে শিয়াল পন্ডিতের তাহার সাথে সাক্ষাৎ হইলো। শিয়াল ছাগলের নিকট জানিতে চাইলো, ‘কিরে মুখ এমন গাধার মতো করে রেখেছিস কেন রে ছাগলা?’


ঈশপ ২০১৫ (গল্প ৪)

একদা এমন এক জঙ্গল ছিল যেথায় জন্তু জানোয়ারেরা কক্ষনো খাবারের জন্য কেউ কাউকে হত্যা করিতো না। সে জঙ্গলেরই এক ছাগলের একদা খুব খায়েশ হইলো সে গাছে আরোহণ করা শিখিবে। যেই ভাবা সেই কাজ। ছাগল দিন ভর গাছে আরোহণের চেষ্টা করিতে লাগিলো। কিন্তু কিছুতেই কিছু হইলো না। ছাগলের এই চেষ্টা দেখিয়া সবাই হাসিতে লাগিলো। দিন শেষে নিরাশ ছাগল বাড়ির পথ ধরিলো। পথিমধ্যে শিয়াল পন্ডিতের তাহার সাথে সাক্ষাৎ হইলো। শিয়াল ছাগলের নিকট জানিতে চাইলো, ‘কিরে মুখ এমন গাধার মতো করে রেখেছিস কেন রে ছাগলা?’

ছাগল বলিল, ‘দুঃখের কথা তোমাকে আর কি বলবো পন্ডিত মশাই। সকালে হঠাৎ ইচ্ছা হলো গাছে ওঠা শেখা দরকার। তাহলে বড় বড় গাছের পাতা গাছে ওঠেই চিবুতে পারবো। সারাদিন চেষ্টা করেও হলো না।’
ছাগলের কথা শুনিয়া ধুর্ত শিয়াল বলিল, ‘তুই এক কাজ কর ছাগল। আমার জন্য কিছু খাবার নিয়ে আয়। পেটে কিছু না পরলে আমার মাথা কাজ করেনা। তুই আমার জন্য খাবার নিয়ে আয়। আমি দেখি তোকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি।’
শিয়ালের কথায় ছাগল খুব আনন্দিত হইলো। সে ভাবিলো, শিয়াল পন্ডিত যখন আশা দেখিয়াছেন তাহলে নিশ্চয়ই উপায় রয়েছে। ছাগল সাথে সাথে বেড়িয়ে পরিলো শিয়ালের খাবারের খোঁজে। অনেক কষ্ট করিয়া কিছু খাবার নিয়ে আসিলো শিয়ালের জন্য। শিয়াল খাবার খাইয়া তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলিয়া বলিল, ‘শোন ছাগলা, কখনো আশা হারাবি না। চেষ্টা করে যা। প্রবাদ আছে একবার না পারিলে ভাবো শতবার। কঠোর পরিশ্রম করলে নিশ্চয়ই তুই গাছে উঠতে পারবি।’
শিয়ালের কথায় যেন শরীরে প্রাণ ফিরিয়া পাইলো ছাগল। পরদিন থেকে সে আরও কঠোর পরিশ্রম শুরু করিলো। এভাবে সাত দিন গত হইলো। কিন্তু ছাগলের আর গাছে আরোহণ শেখা হইলো না।
ছাগল আবারও শিয়াল পণ্ডিতের শরণাপন্ন হইলো। ছাগলের অবস্থা দেখিয়া শিয়াল খুব দুঃখ প্রকাশ করিয়া বলিল, ‘আহারে। খুব কষ্ট করেছিস দেখছি। তোকে দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। তুই এক কাজ কর ছাগলা। কাল সকালে আসিস। তোকে আমি বানরের কাছে নিয়ে যাবো। বানরের কাছে গাছের ওঠার উপর ৭ দিনের ওয়ার্কশপ করলে দেখবি তুই গাছে চড়ার মাস্টার হয়ে যাবি।’
শিয়ালের কথা শুনিয়া ছাগলের সব কষ্ট যেন নিমিষেই হাওয়া হইয়া গেল। পরদিন ভোর হতেই শিয়ালের বাসায় ছাগল হাজির হইলো। সে বলিল, ‘পন্ডিত মশাই আমাকে নিয়ে চলো।’

শিয়াল ছাগলকে বানরের নিকট নিয়া চলিলো । সব শুনিয়া চিন্তিত ভঙ্গিতে বানর বলিল, ‘অনেক পরিশ্রমের ব্যাপার। তবে অসম্ভব নয়। আমার চার পা, দুই চোখ, এক নাক আর এক লেজ আছে। এসব তোমারও আছে। তাহলে আমি পারলে তুমি পারবে না কেন? অবশ্যই পারবে। আমি তোমাকে শেখাবো। তবে শর্ত একটা, আমাকে প্রতিদিন পেট ভরে কলা খাওয়াতে হবে।’
বানরের শর্তে ছাগল রাজি হইয়া গেল। সে প্রতিদিন ভোরবেলায় কলা সংগ্রহ করিতে যায়। অতঃপর যায় বানরের ক্লাসে। বানর ছাগলকে দেখাইয়া দেয় কিভাবে সে এক গাছ হইতে আরেক গাছে লাফিয়া বেড়ায়। অতঃপর ছাগলকে করিতে বলে। কিন্তু তাই কি ছাগল কখনো করিতে পারে! সাত দিন গত না হইতেই অকালে প্রাণ হারাইলো ছাগল। ছাগলের মৃত্যুর পর বানর শিয়ালকে খবর দিলে সে এসে ছাগলের মৃত শরীর নিয়া যায়। কয়েক দিন সে বেশ আরাম করিয়া ছাগলের মাংস ভক্ষণ করে। কিন্তু তা নিয়ে জঙ্গলের কেউ কোন আপত্তি করিতে পারিলো না। কেন করিবে! সে তো আর ছাগলকে হত্যা করিয়া ভক্ষন করেনি!

মূলকথা: নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে না জেনে অযথা চেষ্টা করলে লাভ তো হয়না বরং অন্যরা এর ফায়দা লুটতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *