স্বপ্নের বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে স্বপ্নযাত্রার মিছিল থেকে একটি গণদাবী :: ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়গুলোর একটি আহত প্রশ্ন

স্বাধীনতার বেদীমূলে ৪২ বছরের যে জঞ্জাল-আগাছা-আবর্জনা তা সমূলে উপড়ে ফেলে পরিস্কার করে একটি সুন্দর সুখী সমৃদ্ধশালী ও অসম্প্রদায়িক নতুন বাংলাদেশ গড়ার সূচনায় এই প্রজন্মের যারা কলম-কিবোর্ড ছেড়ে রাজপথে নেমে গনজাগরণ সৃষ্টি করে নতুন আলোর মিছিলের যাত্রা শুরু করেছিলো। সে পথে কখনো শত্রুর পেতে রাখা নানারকম কাঁটার আঘাতে রক্তাক্ত জর্জরিত হয়ে আবার কখনো কখনো রাজনৈতিক দল কিংবা ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠী ও নানান যড়যন্ত্রকারী প্রতাপ-প্রভাবশালী মহলগুলোর বিভিন্ন অপপ্রচার বাধা-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে প্রজন্মের হাতে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া প্রত্যয়ে প্রিয় প্রজন্মের স্বপ্নপথের মিছিল আজ অনেকটা দূর এসেও এখনো তীরে না পৌঁছানো অস্থির জাহাজের মত ছুটে চলছে।

কঠিন এই যাত্রাপথে হয়তো কেউ ক্লান্ত. হয়তো কারো কারো ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে আমরা আজ অস্থির। কিন্তু হাল ছেড়ে দিয়ে পরাজয় মেনে নেওয়ার যোদ্ধা কেউই নন। দাবী আদায়ে প্রজন্ম যে আরো কঠোর হওয়ার পথে অগ্রসর হচ্ছে তার উদাহরণসরূপ স্পষ্টভাবে বলতে গেলে উঠে আসে গত ২৬শে মার্চ থেকে শহীদ রুমী স্কোয়াড সদস্যদের জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়ে এখনো পর্যন্ত দাবীর প্রতি অবিচল থেকে কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়া।

শহীদ রুমী স্কোয়াডের অনশনরত প্রত্যেক ভাইবোনের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই গণদাবীর সাথে সম্পুর্ণভাবে সহমত সংহতি প্রকাশ করেনি প্রগতিশীল এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা এখন। সর্বস্তরের মানুষের আকাংখা থেকে যে গণদাবী ৩০ লক্ষ প্রান আর সম্ভ্রমের দামে কেনা স্বাধীন বাংলাদেশে চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করা।
বাস্তবের প্রেক্ষিতে সেটির কার্যকর পদক্ষেপে আদালতে জামায়াত ইসলামীকে একাত্তরের কর্মকান্ডের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধপরাধী দল হিসেবে চিহ্নিত করে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করাই হবে আজীবন সুফল ভোগ করার মত একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যেন বর্তমান সরকারের পরিবর্তে ভবিষ্যতে অন্যকোন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসেও এক কলমের খোঁচায় জামায়াত-শিবিরকে বৈধ করে পুনরায় এই স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধপরাধী দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার মত দৃষ্টতা আমাদের আর কেউ দেখাতে না পারে। সেই রাস্তাগুলো চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় আসুক। তবে আইনি প্রক্রিয়ার সকল পদক্ষেপ তো অবশ্যই রাস্ট্রপক্ষকে নিতে হবে।
অথচ এই গণদাবীর প্রতি সরকারের নির্লিপ্ত ভুমিকায় পুরো প্রগতিশীল জাতি ও সমাজ আজ চরমভাবে হতাশ। এহেন কড়া চেতনানাশক বড়িতে সরকার মহোদয়ের নিদ্রা লংকার রাবন-সহোদর কুম্ভকর্ণের নিদ্রাকেও যেন হার মানায়। মেয়াদ ফুরাতে থাকা এই শেষবেলায় সরকার কখন এই গণদাবীর প্রতি সোচ্চার হবেন — প্রশ্ন জাগে মনে

“তারুণ্যের এই উচ্ছ্বাসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরে একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার প্রত্যাশায় আমরা এই প্রজন্ম যে স্বপ্নের বাংলাদেশের বীজ বপন করেছি তা অংকুরিত হয়ে গাছ হয়ে বেড়ে উঠাটুকু কি আদৌ দেখে যেতে পারবো?”

প্রজন্মের লক্ষ-কোটি অগ্নি-হৃদয় আজ এমন ভাবনায় কঠিনভাবে প্রশ্নবিদ্ধ …

৩ thoughts on “স্বপ্নের বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে স্বপ্নযাত্রার মিছিল থেকে একটি গণদাবী :: ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়গুলোর একটি আহত প্রশ্ন

  1. “তারুণ্যের এই উচ্ছ্বাসে

    “তারুণ্যের এই উচ্ছ্বাসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরে একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার প্রত্যাশায় আমরা এই প্রজন্ম যে স্বপ্নের বাংলাদেশের বীজ বপন করেছি তা অংকুরিত হয়ে গাছ হয়ে বেড়ে উঠাটুকু কি আদৌ দেখে যেতে পারবো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *