প্লিজ…আসুন কিছু একটা করি

“আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া, করিতে পারিনি চিৎকার/ বুকের ব্যাথা বুকে চাপাইয়া, নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার”

জানি, নিষ্পাপ এই মুখটির মর্মান্তিক হত্যকান্ডের জন্য কোনো মানব বন্ধন হবে না! হবে না কোনো প্রতিবাদ সভা,মিছিল-মিটিং!! খবরের কাগজে বড় জোড় একদিন হবে শিরোনাম-
“অমুক এলাকায় তমুক কে ধর্ষনের পর হত্যা”

কতটা নৃশংস হলে ধর্ষনের পর হাত পা বেধে নদীতে ফেলে দেয়া যায় বলতে পারেন??
না, বলার কোনো দরকার নেই!!
দরকার নেই কোনো “দু’ফোটা অশ্রু ফেলা” মার্কা স্টাটাস আর ব্লগ পোস্ট এর!!

অনেক হয়েছে আর অনেক দেখেছি-

“আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া, করিতে পারিনি চিৎকার/ বুকের ব্যাথা বুকে চাপাইয়া, নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার”

জানি, নিষ্পাপ এই মুখটির মর্মান্তিক হত্যকান্ডের জন্য কোনো মানব বন্ধন হবে না! হবে না কোনো প্রতিবাদ সভা,মিছিল-মিটিং!! খবরের কাগজে বড় জোড় একদিন হবে শিরোনাম-
“অমুক এলাকায় তমুক কে ধর্ষনের পর হত্যা”

কতটা নৃশংস হলে ধর্ষনের পর হাত পা বেধে নদীতে ফেলে দেয়া যায় বলতে পারেন??
না, বলার কোনো দরকার নেই!!
দরকার নেই কোনো “দু’ফোটা অশ্রু ফেলা” মার্কা স্টাটাস আর ব্লগ পোস্ট এর!!

অনেক হয়েছে আর অনেক দেখেছি-
হ্যা, ফেসবুক আর ব্লগ সেলিব্রেটিদের। ঘরে বসে বসে কী-বোর্ডের বোতাম চেপে বড় বড় দার্শনিক আর চিন্তাবিদের মতো স্টাটাস,পোস্ট লিখে সেলিব্রেটি হওয়া খুব খুব খুব সহজ! আর বাপরে… তাদের প্রতিবাদী লেখার কি ভাষা! মনে হয় এই বুঝি আন্দোলন শুরু হয়ে গেলো! বললে তো বলবেন, কি বলি এসব- সত্যি কথা হলো এইসব লেখালেখি করে সমাজের এইসব সমস্যার ইয়ে টাও ছিড়তে পারবেন না!!

এবার আসুন নিউজ টা পড়ি:

[দেখতে ফুটফুটে, নিষ্পাপ চাহনি। দশম শ্রেণীর ছাত্রী। বয়স ১৪ পেরিয়েছে। ডাক নাম অনিকা। মাদরাসার খাতায় লেখা হয় রাবিয়া খাতুন। ফুলের মতো নিষ্পাপ এ কিশোরীর নিথর দেহ পড়ে আছে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে। ওড়না দিয়ে হাত বাঁধা। বাঁধা ছিল ‍দু’পাও। শনিবার বিকেলে শত শত গ্রামবাসী জড়ো হয় নদীতীরে। আসে পুলিশও। লাশের সুরতহাল তৈরি করে। পুলিশ জানায়, অনিকাকে হত্যা করার আগে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। এরপর নদীতে ফেলে রেখে চলে যায় হত্যাকারীরা। স্থানীয়রা জানায়, অনিকা জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ঝালরচর গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে। তবে সে পাশের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারচর গ্রামে নানার বাড়ি থেকে পড়াশুনা করত। পড়তো মাদারচর এজিআই দাখিল মাদরাসায় দশম শ্রেণীতে। প্রতিবেশীরা জানায়, পাশের বাড়ির আহম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল আজিজের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল অনিকার। শুক্রবার রাতে অনিকাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডেকে কৌশলে ব্রহ্মপুত্রের তীরে নিয়ে যায় আজিজ। এরপর তার সহযোগীকে নিয়ে হাত পা বেঁধে গণধর্ষণ করে। শেষে নদীর পানিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।]

বাহ কি স্বাধীনতা রে!!!
শুনেছি ৭১ এ ধর্ষন করা হতো পড়ে তাদের জীবিত রাখা হতো। আর এখন স্বাধীনতা পেয়ে ধর্ষণের পর একেবারে হাতে পায়ে মুখে বেধে দে নদীতে ফেলে! কেল্লা ফতে। কে আর কাকে ধরে। বিচার আর কে কার করে এই দেশে!

লজ্জা থাকা উচিত এই দেশের শিক্ষিত নামের মূর্খ সমাজের!!

আচ্ছা, বলতে পারেন- আপনি যে লেখালেখি করেন, এর উদ্দেশ্য টা কি ?
কিচ্ছু হবে না, হবে না, হবে না! ওসব লেখালেখি ছেড়ে আসুন সামাজিক অবক্ষয়তা রোধে আন্দোলন গড়ে তুলি! এসব লেখালেখিই আমাদের অলস করে ফেলেছে, ভুলে গেছি জীবন মানেই যুদ্ধ!! আর এই সুযোগে সমাজ তথা রাষ্ট্র চলে যাচ্ছে স্বার্থান্ধ একটি মহলের কব্জায়! দেশের, সমাজের শাসন ভার একটি গোষ্ঠীকে দিয়েই আমরা নিশ্চিন্ত! ভুলে গেছি আমরা দেশ টা আমাদের সকলের! সকলেই আমরা এদেশের শাসক!!

দেশ টা কারো বাপের না, ভাইয়ের না, পৈতৃক কোনো সম্পত্তিও না! এটা আমাদের নিজেদের সম্পদ! তাই এটা আমাদের নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে!!

প্লিজ আসুন না…
সবাই মিলে কিছু একটা করি!!

৩ thoughts on “প্লিজ…আসুন কিছু একটা করি

  1. অনেক হয়েছে আর অনেক দেখেছি-

    অনেক হয়েছে আর অনেক দেখেছি- হ্যা, ফেসবুক আর ব্লগ সেলিব্রেটিদের। ঘরে বসে বসে কী-বোর্ডের বোতাম চেপে বড় বড় দার্শনিক আর চিন্তাবিদের মতো স্টাটাস,পোস্ট লিখে সেলিব্রেটি হওয়া খুব খুব খুব সহজ!

    কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত। আপনিও কী তাই নন? আপনিও কী সেই কি বোর্ড-এই প্রতীবাদ করছেন না ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *