মা দিবসের বিড়ম্বনা

মা দিবসের বিড়ম্বনা শিরোনাম দেখে ভ্রু কুঁচকানোর কিছু নাই।বাংলার আকাশে মা দিবস কিঞ্চিৎ বিড়ম্বনা নিয়ে আসছে বই কি!বিরম্বনার কথায় আসছি আগে একটু মা দিবস সম্পর্কে বলি।মা দিবসের বয়স বেশি দিনের না,বিশ শতকেই এর জন্ম।আমেরিকাতে এর যাত্রা শুরু।মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বেশির ভাগ দেশে মা দিবস পালন করে। দিনে দিনে এই জিনিস এমন বাণিজ্যিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে যে এই দিবসের মূল প্রবক্তা আনা জার্ভিস একে হলমার্ক হলিডে হিসেবে অভিহিত করেছেন।উনার নিজের প্রবর্তিত দিবসের বিরুদ্ধে উনি নিজেই প্রচারনা চালানো শুরু করেন।

মা দিবসের বিড়ম্বনা শিরোনাম দেখে ভ্রু কুঁচকানোর কিছু নাই।বাংলার আকাশে মা দিবস কিঞ্চিৎ বিড়ম্বনা নিয়ে আসছে বই কি!বিরম্বনার কথায় আসছি আগে একটু মা দিবস সম্পর্কে বলি।মা দিবসের বয়স বেশি দিনের না,বিশ শতকেই এর জন্ম।আমেরিকাতে এর যাত্রা শুরু।মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বেশির ভাগ দেশে মা দিবস পালন করে। দিনে দিনে এই জিনিস এমন বাণিজ্যিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে যে এই দিবসের মূল প্রবক্তা আনা জার্ভিস একে হলমার্ক হলিডে হিসেবে অভিহিত করেছেন।উনার নিজের প্রবর্তিত দিবসের বিরুদ্ধে উনি নিজেই প্রচারনা চালানো শুরু করেন।
যাই হোক,আমার ব্যাক্তি গত মত হল মা দিবস বাবা দিবস ধরনের দিবস গুলা ঐ পশ্চিমাদের জন্য ঠিক আছে।বাণিজ্যিক হোক আর যাই হোক ঐ দিনের উপলক্ষে তো তাও মায়ের একটু খোঁজ নেওয়া হয়।তাদের জন্য এই দিন টা ঠিক আছে যাদের মায়ের সাথে ১৯ বছর পর টিউবে দেখা হয়ে যায়।হয়ত দেখাই হয় না,মায়ের লাশ যখন কবরে নামাচ্ছে তখন হয়ত ছেলে টাইয়ের নট ঠিক করতে করতে কালো চশমা পরে দাড়িয়ে দেখছে আর হয়ত চিন্তা করছে কখন এই ফর্মালিটি শেষ হবে আর কখন তার ডলারের চাষে আবার ফিরে যেতে পারবে।এই দিবসটা তাদের জন্য ঠিক আছে,ঠিক আছে বললে কম বলা হবে,তাদের জন্য আসলে জরুরি।
আমাদের সমাজে কিন্তু পরিস্থিতিটা এতটা খারাপ না।আমরা ধারনা আমাদের দেশে বেশির ভাগ সন্তান তার নিজ মায়ের খোঁজ খবর রাখে। আমাদের দেশের বেশির ভাগ ছেলেই ছুটিতে অন্য কোথাও যাওয়ার চেয়ে মায়ের কাছে যাওয়া শ্রেওতর বলে মনে করে। আমাদের দেশের ছেলে মেয়ে এখনও মায়ের হাতের রান্না থেকে বের হতে পারে নাই।তাদের কাছে এখনও দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ রান্না হচ্ছে মায়ের হাতের রান্না। কাজেই আমাদের জোর করে এমন একটা বাণিজ্যিক ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন যুক্তি আছে কি?আমরা তো এমনেই ঠিক আছি,আমাদের মা দিবস নিয়ে বারাবারি করাটা কতটুকু যৌক্তিক?তারপরেও না হয় মেনে নিলাম,পৃথিবীর সবার সাথে মিলিয়ে মা দিবস পালন করবেন কিন্তু তা শুধু অনলাইনে কেন? গতকাল মা দিবসে অনলাইন জগতে যে ঝড় বয়ে গেছে তার সিকি ভাগ কি অফ লাইনে দেখা গেছে?অফ লাইনে যেটুকু দেখা যায় তা সব সময়ই দেখা যায়,এর জন্য মা দিবস লাগে না।
এবার আসি বিড়ম্বনার কথায়।ঘটনাটা বলি, আমার গ্রামের এক বন্ধু, চাকরি সুত্রে আমরা দুইজনেই এখন ঢাকায় থাকি।তো কালকে দুপুরের পরে ওর মায়ের ফোন আসল আমার কাছে,আমি কিছু বলার আগেই ওপাশ থেকে ওর মা বলছে,বাবা,সুমনের কি হইছে?ও কি উল্টা পাল্টা নেশা করে?ওর তো কোন বদ অভ্যাস ছিল না?ওর কি হইল!!!আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম!!আমার বন্ধুর কতখানি বদ অভ্যাস আছে তা আমি জানি কিন্তু এর জন্য ওর মা আমাকে ফোন দিবে!আমি বললাম,না মানে,খালাম্মা,কি হইছে,ঘটনা কি?উনি বললেন,সুমন আজকে হঠাৎ ফোন দিয়ে কি সব বলছে,আমি তো কিছুই বুঝলাম না,তুমি একটু ওর খোঁজ নেও তো বাবা,ছেলে আমার কেসের পাল্লায় যে পড়ল!!আমি বললাম খোঁজ নিচ্ছি,কিন্তু ও কি বলছে?উনি বলেন,কি কি যে বলল!!বলে তোমারে অনেক কষ্ট দিছে,তোমাকে অনেক ভালবাসি!!যে মহিলা সারা দিন গরু,ক্ষেত খামার নিয়ে দৌড়ের উপরে থাকেন তিনি হঠাৎ ছেলের মুখে এইসব শুনে চিন্তায় পরে যাওয়াটা অস্বাভাবিক না। শুনে আমারও মাথা চুলকানো শুরু হয়ে গেলো,ঘটনা কিছুই বুঝলাম না,ছেলে হঠাৎ আবেগি হয়ে গেলো ক্যান!!দিলাম বন্ধু কে ফোন। ফোন ধরল এবং গলা অতান্ত স্বাভাবিক।আমি বললাম কি খাইছস?ও বলে,ভাত,গোস্ত দিয়া!!আমি বললাম,হারামি,তোর গোস্ত ভাতের কথা আমি জিজ্ঞাস করি নাই,উল্টা পাল্টা কি খাইছস?আমি জানি তোর খবর,তুই মাঝে মাঝেই বিশেষ বিশেষ মেসে যাস!!ও বলে নাতো,কিছুই খাই নাই,ইমানে।আমি বললাম তোর মা আমাকে ফোন দিয়ে বলল তুই নাকি ফোন দিয়া,ভালবাসি,কষ্ট দিছি আরও কি কি বলছস?নেশা করলে পুলাপান এমন আবেগি হয়,আমি আগেও দেখছি,তোর কেসটা কি?ও বলল,আয় হায়,কস কি!!আমি তো মা দিবস উপলক্ষে ফোন দিসিলাম!!এবার আবার আমার মাথা চুলকানো শুরু হয়ে গেলো। বললাম,তোর হঠাৎ মা দিবসে ফোন দিয়া এই সব বলার বুদ্ধি কে দিল?তুই তোর মায়ের সাথে আগের দিনও না আমার সামনে ফোন দিয়া কতক্ষণ কথা বললি?ও বলল,তা বলছি,কিন্তু ভাবলাম মা দিবসসে একটু ফোন দেই।আমি বললাম,ফোন দিবি ঠিক আছে কিন্তু এইগুলা বলার বুদ্ধি কার?ঠিক করে বল,হেড অফিস থেকে নির্দেশ পাইছিলি এমন কিছু বলার?ও বলল হ্যাঁ,সিন্থিয়া বলল,আজকে নাকি এগুলা বলতে হয়!!!আমি বললাম ধরণী দ্বিধা হও!!

না,মা দিবসে এইটা কোন বিড়ম্বনা না।মা দিবসের মূল বিরম্বনায় পড়ি আমরা যারা সব সময় প্রানপনে ভুলে থাকার চেষ্টা করি আমাদের মা নাই,মা কে যারা হারিয়েছি তাদের এই বিড়ম্বনা।আমাদের ঐ দিন ফেসবুক ডিএক্টিভেট করে বসে থাকতে হয়,যথাসম্ভব অনলাইন থেকে দূরে থাকতে হয়। যাদের মা বর্তমান তাদের দ্বারা সম্ভব না আমাদের কষ্ট বুঝার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *