এবাদত-উপাসনা, আচার পালনই কী উদ্দেশ্য, নাকি মানুষ হওয়া?

যে ধর্ম পালন করে, উপাসনা করে তুমি নিজেকে ধার্মিক মনে করো এবং এর পরেও ভিন্নমতের মানুষকে ভালোবাসতে পারনা, সুযোগ পেলেই চাপাতির কোপে কারো কল্লা ফেলতে তৈরি থাক, আগুন দিয়ে প্রতিবেশি সংখ্যালঘুর ঘরকে পুড়িয়ে দাও, হাজার হাজার সংখ্যার মানুষকে রাষ্ট্রীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে খুন করো, লাখো মানুষকে উদ্বাস্তু বানাও, শুধুমাত্র ভিন্ন বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে চাকুরি-বাকুরিতে বঞ্চিত করো, সর্বোপরি সবাইকে ভালোবাসতে না পার তবে ব্যর্থ তোমার সেই ধর্মকর্ম, ব্যর্থ তোমার উপাসনা-ধ্যান, ব্যর্থ তোমার ধর্মীয় আচার, রীতি-নীতি। যদি ধর্ম-কর্ম করে শুধু নিজ ধর্মের অনুসারীদেরকেই বড় করার প্রয়াস থাকে তবে ব্যর্থ তোমার সকল চেষ্টা-প্রচেষ্টা।
মনে রাখতে হবে ধর্ম-কর্ম তোমার জীবনের উদ্দেশ্য নয়। ধর্ম-কর্ম করে তুমি স্বর্গ-জান্নাত-হ্যাভেন পাবে না। কোন ধর্ম থেকেই সেটা তুমি দেখাতে পারবে না। ধর্ম-কর্মের মাধ্যমে তুমি নিজেকে পরিশুদ্ধ করবে। ধর্ম-কর্মের মাধ্যমে তুমি একজন সত্যিকার মানুষ হবে-যা তোমার হওয়া প্রয়োজন। নিজের আত্মার কালীমা, অহংকার, ক্রোধ, স্বার্থপরতাকে বিলীন করবে। সেটাই তোমার ধর্ম-কর্মের চূড়ান্ত লক্ষ্য। শুধুই ধর্ম-কর্ম করে যদি কেউ জান্নাতে যেতে পারত তবে ইবলিসই সেই ক্ষেত্রে জান্নাতে স্থায়ীভাবে থেকে যেত। কারণ তার চেয়ে বেশি ধর্ম-কর্ম কেউ বেশি করতে পারেনি। সুতরাং শুধু আনুষ্ঠানিক ধর্ম-কর্ম করে ভেবে বসোনা যে তোমার সফলতা এসে গেছে। প্রকৃত মানুষ হতে পারাতেই তোমার সফলতা। বাকীসব শুধুমাত্র প্রক্রিয়া। প্রক্রিয়া কখনো লক্ষ্য হতে পারে না। যে লক্ষ্যে প্রকিয়া অনুসরণ করছো সেটা পূরণ করতে পারলেই সফলতা। সেটাতে কতদূর যেতে পেরেছ তা আগে ভেবে দেখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *