“সারা নামের মেয়েটি” (পর্ব-১)

বালিকা রোজ বিকেলে রিকসা করে বাড়ি ফেরে। বালিকার নাম সারা। আমি রোজ তার অপেক্ষায় রাস্তার মোড়ের যে জায়গাটায় সুগন্ধমুক্ত ডাস্টবিন দাঁড়িয়ে থাকে, তার ঠিক ১০ হাত ২ আঙুল দূরে দাঁড়িয়ে থাকি।

সারা’র রিকসা আমার সামন দিয়ে চলে যায়। আমি ঠিক “অষ্টম আশ্চর্য দেখতাছি” টাইপ ভঙ্গী নিয়ে সারা’র দিকে তাকিয়ে থাকি। সারা’ও আমাকে দেখে একটা মুচকি হাসি দেয়।

সারা’র মুচকি হাসি আমার মনের ভেতর কালবৈশাখীর ঝড় তুলে দেয়।
লন্ডভন্ড হয়ে যায় আমার মনের আঙিনা।

অনেক সাহস করে সেদিন সারা’র সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম মনের কথাগুলো বলার জন্য, যেগুলো এতদিন ধরে কুটকুট করে কামড়াচ্ছে।


বালিকা রোজ বিকেলে রিকসা করে বাড়ি ফেরে। বালিকার নাম সারা। আমি রোজ তার অপেক্ষায় রাস্তার মোড়ের যে জায়গাটায় সুগন্ধমুক্ত ডাস্টবিন দাঁড়িয়ে থাকে, তার ঠিক ১০ হাত ২ আঙুল দূরে দাঁড়িয়ে থাকি।

সারা’র রিকসা আমার সামন দিয়ে চলে যায়। আমি ঠিক “অষ্টম আশ্চর্য দেখতাছি” টাইপ ভঙ্গী নিয়ে সারা’র দিকে তাকিয়ে থাকি। সারা’ও আমাকে দেখে একটা মুচকি হাসি দেয়।

সারা’র মুচকি হাসি আমার মনের ভেতর কালবৈশাখীর ঝড় তুলে দেয়।
লন্ডভন্ড হয়ে যায় আমার মনের আঙিনা।

অনেক সাহস করে সেদিন সারা’র সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম মনের কথাগুলো বলার জন্য, যেগুলো এতদিন ধরে কুটকুট করে কামড়াচ্ছে।

কণ্ঠস্বর অত্যধিক নমনীয় করে সারাকে বলললাম, এই যে শুনছেন??

সারা চোখ বড় বড় করলো, ‘আকাশ থেকে পড়লাম’ টাইপ ভঙ্গী করে বলল, আমাকে কি বয়ড়া মনে হয়? কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলুন, আমার পড়তে যেতে হবে।

সারা’র কথায় আমি হকচকিয়ে গেলাম। শেষমেশ নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম,”তোমাকে আমার খুব ভালো লাগে।”

আমার কথায় সারা একটুও বিচলিত হল না। চশমাটা ঠেলে নিয়ে বলল,”তো??”

সারা’র “তো” বলাটা আমার কাছে পজেটিভ পজেটিভ ঠেকলো। সামনে আয়না না থাকলেও বেশ বুঝতে পারছি আমার মুখের অবস্থা ‘মান মে লাড্ডু ফুটা’ টাইপ হয়েছে।
আমি হাত কচলাতে কচলাতে বললাম,”তোমার নাম্বারটা পেতে পারি?”

“নাম্বার মানে!!!” কথা বলার সময় সারা’র মুখ হা হয়ে গেলো, আর চোখ দুটো আবারো বড় বড় হয়ে গেলো।

আমি জিহ্বায় কামড় দিয়ে বললাম,”নাম্বার, আই মিন ফোন নাম্বার।”

সারা’র মুখ আর চোখের আকার আবার স্বাভাবিক হল। ভুরু কুঁচকে বলল,” কেন, রাত-বিরাতে ফোন করে ডিস্টার্ব করবেন?? দেখুন, আমার এসব করার একদম সময় নেই। আই আম অলওয়েজ বিজি উইথ মাই স্টাডি।
আপনারও এসব কাজে সময় নষ্ট করা একদম ঠিক হবে না। বাসায় গিয়ে পড়াশুনা করুন। কাজে দেবে।”

বালিকা আই মিন সারা’র কথা শুনে আমার মুখ হা হয়ে গেল, চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। আয়না সামনে না থাকলে বেশ বুঝতে পারছি আমার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।

আমি আমার বিকৃত মুখের ভঙ্গী নিয়ে সারা’র দিকে তাকিয়ে আছি।

যেতে যেতে সারা’র বলে গেল,” আপনার হেয়ার স্টাইলটা অনেক ফানি, দেখলেই হাসি পায়।”

মাটিতে দাঁড়িয়ে থেকেও আমার মনে হচ্ছিল আমি এই মাত্র আকাশ থেকে পড়লাম।
বালিকার মুচকি হাসির কারণ শোনার পর আমার মুখের ভৌত অবস্থার আরও ভয়াবহ পরিবর্তন হতে লাগলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *