ইঙ্গ-মার্কিন জোটকে বাংলাদেশ আক্রমনে ব্যর্থ আহবান জানিয়ে হতাশ খালেদা জিয়ার সেনা আহবান আর আমাদের করনীয়

বছর খানেক আগেও বি এন পি কোনো আন্দোলন কর্মসুচী বা হরতাল দিলেই আওয়ামী লীগ তাকে যুদ্ধাপরাধী বাঁচানোর আন্দোলন বলে আভিহিত করতো। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠাসহ অন্যান্য চলমান ইস্যুগুলো নিয়ে বিএনপি আন্দোলন করছিল। কিন্ত আওয়ামী লীগ সরকার একে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর আন্দোলন বলে আখ্যায়িত করায় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করতো বিরোধীদলের যে কোনো ন্যায্য আন্দোলনকে যুদ্ধাপরাধী বাঁচানোর আন্দোলন বলে সরকার তাকে নস্যাত করতে চাচ্ছে! যদিও বিভিন্ন জনসভায় বেগম জিয়া অনেক আগে থেকেই সাঈদী নিজামীর মুক্তি চেয়ে আসছিলেন, কিন্ত তিনি যুদ্ধাপরাধের স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত বিচারের কথা বলে একধরণের গা বাঁচিয়ে বিচার বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করেন।

কিন্ত এই রাখ ঢাক সরিয়ে পরিপুর্ণভাবে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে নেমে পড়লেন যখন কাদের মোল্লার রায়ের পর অসন্তষ্ট ছাত্র-জনতা শাহবাগের রাস্তায় নেমে এল। সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে একের পর এক হরতাল দিয়ে, হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত জামাত-শিবির কর্মীদের সমর্থন দিয়ে তিনি দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন স্রেফ যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। তিনি দেশের কোটি কোটি জনতা যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় তাদের নাস্তিক আখ্যা দিয়েছেন আর সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ উস্কে দিয়েছেন তাঁর হীন স্বার্থ চরিতার্থ করবার জন্য। জামাত-বিএনপি চক্র যে বর্বরতার সাথে সাধারণ মানুষের গাড়ী পোড়ানো আর সাধারণ মানুষ আর পুলিশ হত্যার মহোতসবে মেতেছেন তাতে তাদের আহুত হরতালের দিনে লোকজন ভয়ে গাড়ী বের না করলেও সরকার পতনের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন যে তাদের নেই তা বেগম জিয়া বুঝে গেছেন। তাই তিনি কখনো ইঙ্গ-মার্কিন চক্রকে বাংলাদেশ আগ্রাসনের আহবান জানাচ্ছেন, কখনো সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতা গ্রহণের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। বি এন পি আর তার নেত্রী খালেদা জিয়া যে জনতার শক্তিতে বিশ্বাস করে না, তার জ্বলন্ত ও দালিলিক প্রমাণ আজ প্রতিটি মানুষের সামনে এসে গেছে।

গনতন্ত্রে সরকার পরিবর্তনের দুটিই পথ থাকে। প্রথম পথে, বিরোধী দলগুলো সরকারের বিভিন্ন অসঙ্গতি-দুর্নীতিগুলো প্রকাশ করে, তার অসারতা বুঝিয়ে, জনমত গঠন করেন আর নিজেরা ক্ষমতায় এলে কি করবেন তা জনগনকে অবহিত করেন। এরপরে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। এই পথে বিএনপি আত্মবিশ্বাসী নয়, কারণ এমনিতেই তাদের দুই মেয়াদে দেখানোর মত কোন সাফল্য নেই তার উপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে তারা নির্বাচনে জেতার ভরসা পাচ্ছেন না। তাহলে থাকে দ্বিতীয় পথ। দ্বিতীয় পথটিও গণতান্ত্রিক, কিন্ত তা অশান্তিপুর্ণ। একটি নির্বাচিত সরকার যখন একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে থাকে তখন জনগনের নাভিশ্বাস উঠে যায়, আর মানুষ রাস্তায় নেমে এসে গণঅভ্যুত্থান ঘঠিয়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে, কিংবা তাদের কিছু দাবী মানতে বাধ্য করে। দ্বিতীয় রাস্তায় প্রথমে ত্যক্ত বিরক্ত জনতা রাস্তায় নেমে পরে, তারপর রাজনৈতিক দলগুলো তাতে যুক্ত হয়। কিন্ত শক্তিশালী একটা অর্থনীতি থাকার কারণে বিএনপি নেত্রী জনতাকে উত্তেজিত করতে বা রাস্তায় নামাতে পারছিলেন না।

বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া ভাল করেই বুঝেন যে গণ অভ্যুত্থান ঘটার মত কোন পরিস্থিতি দেশে নেই আর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার মত আত্মবিশ্বাসও তাঁর নেই। তাঁর সাম্প্রতিক কিছু কর্মকান্ডে তা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। তাই তিনি প্রথমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে উত্ত্যক্ত করতে চান। এই কিছুদিন আগে তিনি ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ নামে একটা নিম্নসারির পত্রিকায় ইঙ্গ-মার্কিন চক্রকে বাংলাদেশের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের আহবান জানান। তাঁর এই আমন্ত্রণে মনে পড়ে গেল মীর জাফর, জগত শেঠ আর রাজবল্লভদের কথা যারা সেই দুশ বছর আগে ইংরেজদের বাংলা আক্রমণে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ইঙ্গ-মার্কিন চক্রের অবরোধ সম্পর্কে পৃথিবীর স্বাধীনচেতা সকল মানুষই সচেতন আছেন, বিশেষ করে যারা ভুক্তভোগী তাদের কথা না বললেই নয়। এই অবরোধ চলছে ইরান আর সিরিয়ার জনগনের উপর, এই অবরোধ দেখেছে, ইরাক, লিবিয়া, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া, কিউবাসহ আরো অনেক মুসলিমপ্রধান আর সমাজতান্ত্রিক দেশ। সবাই আমরা সচেতন আছি যে, যখনই এই সমস্ত দেশ নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত আর সার্বভৌমত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গেছে তখনই ইঙ্গ-মার্কিন চক্র তাদের উপর অবরোধ আরোপ করেছে এবং এভাবে কাবু করতে না পারলে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এ থেকে অনেক ভিন্ন আবার অনেকটাই অভিন্ন। ভিন্ন এই কারণেই যে বাংলাদশের বর্তমান সরকার কোনো ইসলামিক বা সমাজতান্ত্রিক জঙ্গীগোষ্টীকে আশ্রয়-পশ্রয় দেয় না, পারমানবিক অস্ত্র তৈরীর অভিযোগ নেই, আবার প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্রের উপর আক্রমণ করেনা, কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো সন্ত্রাসী চক্রের সাথে তাদের কোনো সখ্যতা নেই। তাই ইঙ্গ-মার্কিন চক্রের হাতে সে ধরণের কোনো লোক দেখানো অস্ত্র হাতে নেই। অভিন্ন এই কারনেই যে, সাম্প্রতিক সময় বর্তমান সরকার কিছু স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেখানে মার্কিন সরকারের খবরদারী বা চোখ রাঙ্গানী ছিল স্পষ্ট। যেমন, ডঃ ইউনুস ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অবনতির হুমকী সত্বেও বাংলাদেশ সরকার তাকে গ্রামীন ব্যাঙ্কে ফিরিয়ে আনেন নি। পদ্মা সেতুতে ঋণ বন্ধ ছিল তার প্রথম প্রতিক্রিয়া। এখানে ইউনুসকে সরিয়ে ভাল করেছে না মন্দ করেছে তা সম্পুর্ন আলাদা ইস্যু। কিংবা পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে কিনা সেটাও সম্পুর্ণ ভিন্ন ব্যাপার যার উপরে এর মধ্যেই অনেক আলোচন হয়েছে; মার্কিন সরকারের আজ্ঞাবাহী সৌদি-তুরস্ক সরকারের অপছন্দ সত্বেও সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু ও শেষ করতে চলেছেন। অতি সম্প্রতি রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেণা আর পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহযোগীতা চুক্তি করে বাংলাদেশ তাঁর স্বাধীনতা পুনর্বার চর্চা করেছে। সুতরাং সরকার তাঁর সার্বোভৌমত্বের ঘোষণা দিয়েছে যা সাম্রাজ্যবাদী চক্রের ভাল লাগার কথা না।

যাই হোক খালেদা জিয়ার এই আহবান থেকে এটাই স্পষ্ট যে যেনতেনভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তিনি কতটা মরিয়া হয়ে আছেন! তাঁর জীবনাচারণ কতটা ধার্মিকতায় সমৃদ্ধ এ প্রশ্ন তুলেও আরো এক কাঠি এগিয়ে যাওয়া যায় এই বলে যে, তিনি কিভাবে ইঙ্গ-মার্কিন চক্রকে বাংলাদেশের উপর অবরোধ আরোপ করতে বলেন যা তাঁরই সমর্থক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সাহেবের ভাষায় ‘ইনভেশন(আক্রমণ)’?, যেই আক্রমণ চালানো হয়েছে, ইরাক, লিবিয়া, ইরান, সিরিয়া, পাকিস্থানসহ আরো অনেক ইসলামিক দেশে!!! দুইবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁর আছে, সুতরাং তিনি ভাল করে বুঝেন বাংলাদেশের তিলে তিলে গড়ে উঠা গার্মেন্টস সেক্টরের উপর অবরোধ আরোপ করা হলে বাংলাদেশের অর্থনীত ধ্বংস হয়ে যাবে। বিনা পাপে বাংলাদেশের উপর খৃস্টবাদী ইঙ্গ-মার্কিন চক্রকে হামলার আমন্ত্রণ জানিয়ে ভন্ড ইসলাম প্রিয় বেগম জিয়া প্রকারান্তরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছেন! তাঁর মানে কি তিনি ধ্বংসস্তুপে তাঁর প্রাসাদ নির্মান করতে চান?

সর্বশেষ, তিনি সেনাবাহিনীকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার জন্য! তাঁর কথাতেই স্পষ্ট তিনি কি চান! তাঁর ভাষায়, ‘সেনাবাহিনীরও দেশের প্রতি কর্তব্য আছে। তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না। মানুষ খুন করবে আর তারা চেয়ে চেয়ে দেখবে? কাজেই সেনাবাহিনী সময়মতোই তাদের দায়িত্ব পালন করবে।’ মীর্জা ফখরুল সাহেব যতই ব্যাখ্যা করুন না কেন, অতীত অভিজ্ঞতা, পরিস্থিতি পর্যালোচনা আর তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্যে এটা একটা শিশুর কাছেও পরিষ্কার যে তিনি আবার সামরিক শাসন চাচ্ছেন, হয়তো তিনি ভাবছেন বছর খানেক পরে সামরিক বাহিনী তাঁর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করবেন।

উপরের দুটি ঘটনাই খালেদা জিয়া কর্তৃক সঙ্ঘঠিত, সুতরাং অপপ্রচার বলে পাড় পাওয়ার কোনো পথ নেই। শুরুতেই গনতান্ত্রিক পদ্ধতির যে প্রচলিত নিয়মের কথা বলা হল, দুইবারের প্রধানমন্ত্রী আর দুইবারের বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার কর্মকান্ড শুধু তাঁর ব্যত্যয়ই নয় বরং দেশের জন্য হুমকীস্বরুপ। তিনি দেশের উপর বিদেশী আগ্রাসন আহবান করছেন যা আমাদের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক গার্মেন্টস খাত তথা অর্থনীতিকেকে ধ্বংস করবে; তিনি আমাদের একটা নিয়মিত বাহিনীকে অভ্যুত্থানের আহবান জানিয়ে সামরিক বাহিনী ও গনতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চান। বেগম জিয়ার ‘দেশ অচল’ করে দেয়ার হুঙ্কার শুনে মনে হয় তিনি বাংলাদেশের মানুষ নন, কোন শত্রু দেশের মানুষ! সর্বশেষ, ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের রিপোর্টে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্যটি বেড়িয়ে এসেছে। গত চারমাসের সহিংসতায় বাংলাদেশের ৫০০ মিলিয়ন ডলারের কার্যাদেশ ভারতে চলে গেছে। আরো অনেক বড় আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে ভারত ও ভিয়েতনামে চলে যাওয়ার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ( http://online.wsj.com/article/SB10001424127887324392804578362001112399228.html)। খালেদা জিয়া মুখে মুখে ভারত বিরোধীতার কথা বললেও এক্ষেত্রে ভারতের এজেন্ট হিসেবেই কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে। তাই সময় এসেছে, সাধারণ জনতার একত্রিত হবার আর দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার।

গত চার বছরে গার্মেন্টস কারখানায় আগুন দিয়ে, শ্রমিক পুড়িয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন সভায় বিল এনে বিভিন্নভাবে বিদেশী ক্রেতাদের বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলেছে। এভাবে ব্যর্থ হয়ে এখন হরতাল, জ্বালাও পোড়াও করে বাংলাদেশের গার্মেন্টসসহ অর্থনীতি ধংসের যে পায়তারা চলছে তা কারা করছে কাদের নির্দেশে করছে তা ভেবে দেখার অনুরোধ করছি প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককে।

২৩ thoughts on “ইঙ্গ-মার্কিন জোটকে বাংলাদেশ আক্রমনে ব্যর্থ আহবান জানিয়ে হতাশ খালেদা জিয়ার সেনা আহবান আর আমাদের করনীয়

  1. সময় এসেছে, সাধারণ জনতার
    সময় এসেছে, সাধারণ জনতার একত্রিত হবার আর দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার

  2. এটা এখন পানির মতন ক্রিস্টাল
    এটা এখন পানির মতন ক্রিস্টাল ক্লিয়ার যে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলা দেশের স্বার্থের চেয়েও নিজেদের এবং দলের স্বার্থ বড় করে দেখে। আমরা বিভিন্ন ইস্যুতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সমালোচনা করি, কিন্তু ভারতের রাজনৈতিক দলগুলাও দূর্নীতি করলেও সেটা দেশের স্বার্থ বজায় রেখেই করে।

    ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের রিপোর্টে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্যটি বেড়িয়ে এসেছে। গত চারমাসের সহিংসতায় বাংলাদেশের ৫০০ মিলিয়ন ডলারের কার্যাদেশ ভারতে চলে গেছে। আরো অনেক বড় আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে ভারত ও ভিয়েতনামে চলে যাওয়ার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    এই তথ্য দেখার পর আপনার আমার বুকের ভেতরটা মুচড়ে উঠলেও রাজনীতিবিদদের কিছুই যায় আসে না। তাদের আছে রহস্যময় সুইস ব্যাংক একাউন্ট। এই অবস্থা চলতে থাকলে এই দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার সেটা বলতে বিশাল জ্ঞ্যানি হওয়া লাগে না।

    চমৎকার এই পোস্টটির জন্য ইমরান ভাইকে ধন্যবাদ, আর পোস্টটি এক্সপ্রেস পোস্ট হিসেবে স্টিকি করায় ইস্টিশন কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা।

    1. ভাই আমি আশাবাদী মানুষ।
      ভাই আমি আশাবাদী মানুষ। নিগেটিভ নিউজ সহজে পড়তে চাই না! গত এক বছর ধরে গুগলে সার্চ দিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে, বিশেষত বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে প্রচুর পজিটিভ নিউজ পড়ছিলাম। সাম্প্রতিক ধ্বংসযজ্ঞে আর নিজেদের অবস্থা চিন্তা করে মনটা ভেঙ্গে গেছে। ইচ্ছা করে এইসব ধসকামী বিকৃত চিন্তা ভাবনার নেতাদের …করি। আপনার মন্তব্যে লিখতে উতসাহ পেলাম।

    1. ধিক্কার দিন সেই সমস্ত নেতাদের
      ধিক্কার দিন সেই সমস্ত নেতাদের যারা ক্ষমতার জন্য দেশ ধ্বংস করতে দ্বিধা করেনা। ফখরুল আজ হাসি হাসি মুখ বলছে, এইচ এস সি পরীক্ষায় ও নাকি হরতাল দেবে! জনগণের অবস্থা নাকি এই সরকার এমন খারাপ করে ফেলেছে যে, ছেলে মেয়েদের পরীক্ষা দেবারও দরকার নাই (মনে মনে সবচেয়ে খারাপ গালিটা দিলাম) ফখ্ররুল আপনার পায়ে ধরি আর আমাদের উপকার করবেন না। জনগনকে মাফ করে দেন!

  3. এক কথায় চমৎকার লিখেছেন। সময়
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    এক কথায় চমৎকার লিখেছেন। সময় করে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আশা রাখছি।

  4. এখন শুধু ভেবে না দেখে যে সব
    এখন শুধু ভেবে না দেখে যে সব মানুষেরা এই দুই দলের উপর এখনও আস্থা রাখছেন কিংবা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তাদের বোঝানো উচিত যে এই দুই দলের বাইরে আমদের বিকল্প এবং অবশ্যই সত্যিকারের জনগনের শক্তি গড়ে তুলতে হবে নিজেদের স্বার্থে । ভাল লিখেছেন ।

    1. বিকল্প কি তা এখনো জানিনা,
      বিকল্প কি তা এখনো জানিনা, তবে, পিকেটার নামধারী হত্যাকারী আর অগ্নিসংযোগকারীদের আমাদের রাস্তাতেই প্রতিরোধ করা দরকার। ধন্যবাদ!

  5. পোষ্টটা এক্সপ্রেস পোস্ট
    পোষ্টটা এক্সপ্রেস পোস্ট হিসেবে স্টিকি করায় শিহরিত। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা, আমাদের বড় দলগুলোর ভাল করার ক্ষমতা না থাকলেও ক্ষতি করার ক্ষমতা আছে। এই নেতিবাচক রাজনীতিকে দুর্বল করতে হলে আমাদের ব্যপক শিক্ষিত ও সচেতন জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন ছিল, একই সাথে ব্যপক স্বাধীন কর্মসংস্থানের প্রয়োজন ছিল। যারা উদ্যোক্তা, যারা বেতন দেন, বাড়ীভাড়া দেন তারা ধংসের দ্বারপ্রান্তে। গুনীজনের কথা মনে কোট করা যায়, ” হরতাল সফল করার অভিনন্দন গ্রহণ করলাম, হরতাল প্রত্যাখ্যান করার অভিনন্দনও গ্রহণ করলাম। এবার বলবেন কি পাইলস এর ডাক্তার কোথায় বসে?” বন্ধুদের সবাইকে ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। ইমরানুল কবির।

  6. চমৎকার লিখেছেন ভায়া। এইসব
    চমৎকার লিখেছেন ভায়া। এইসব কোথায় আমার আপনার কপালে দুশ্চিন্তার কাল ভাজ পড়লেও ওইসব কুলাঙ্গার রাজনীতিবিদদের কিছুই আসে যায় না। :মনখারাপ:

    1. আমাদের একসপ্তাহ কাজ না করলে
      আমাদের একসপ্তাহ কাজ না করলে খবর হয়ে যায়! আর এই পাঞ্জাবী-পাজামা আর স্যান্ডাল পরা নেতাগুলো আর তাদের লাল-কমলা শাড়ী পরা নেত্রীদের বছরের পর বছর কাজ না করলেও সম্পদ কমেনা। আমি ফকির আর আমার নেতা বিলিয়নিয়ার! এ কেমন নেতা আমরা পেলাম! ধন্যবাদ!

  7. কিছু দিন পূর্বে ইউরোপ
    কিছু দিন পূর্বে ইউরোপ আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের জরিপে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনার বিভিন্ন তথ্য দিয়ে লেখা পড়ে নিজেকে উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক থেকে উন্নত দেশের নাগরিক ভাবা শুরু করেছিলাম। কিন্তু তার পরই শুরু হলো এসব দেশ বিরোধী নেতা-নেত্রী এবং তাদের দলের ধ্বংসাত্মক কর্মসুচি। এখন মনে হচ্ছে তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না? তারা করেন নিজেদের ক্ষমতার রাজনীতি! সে ক্ষমতা যেভাবেই হোক না কেন? জনগণের ক্ষতি হলো না লাভ হলো সেটা দেখার মত ধৈর্য্য বা সময় তাদের কাছে নেই! এসব দেশ বিরোধীদের ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করার সময় এসেছে। সুতরাং এসব ক্ষমতালোভী নেতা ও দলকে প্রত্যাখান করার কোন বিকল্প আছে বলে আমার কাছে মনে হয় না।

    1. গত পরশু বোমা মেরে এক স্কুল
      গত পরশু বোমা মেরে এক স্কুল ছাত্রীর চোখ নষ্ট করে দিয়েছে বিএনপি-জামাত-হেফাজত জোটের এইসব খুনী, প্রতারক রাজনীতিবিদরা। আমরা এই সমস্ত ব্যক্তিগত আর জাতীয় ক্ষতির, ক্ষতিপূরণ চেয়ে খালেদা জিয়া- ফখরুলের বাড়ী অভিমুখে মিছিল নিয়ে যেতে পারি। আর প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের উচিৎ হরতাল আহবানকারীদের অভিযুক্ত করে মামলা করা। আমাদের অর্থনীতিকে দিনের পর দিন ধর্ষণ কড়ার অধিকার কেন দেয়া হচ্ছে, সাধারণ নাগরিকের জান-মাল কেন রক্ষা করতে পারছেন না তাঁর জবাবও সরকারের কাছে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *