“ভালোবাসা-ভালোবাসা”

অর্পা চশমাওয়ালা ছেলে একদম পছন্দ করে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তার কপালে একটা চশমাওয়ালা ছেলেই জুটেছে। অত্যন্ত সুদর্শন এবং অতি উচ্চ লেভেলের ভদ্র ছেলে। চশমা পড়লে তাকে আরো সুন্দর লাগে। কিন্তু অর্পার একেবারে ভিন্ন মত।
সে অয়নকে বলে,”চশমা পড়লে তোমাকে বাঁদর ছাড়া আর অন্যকিছু বলে মনে হয় না।”

অয়ন তখন নরমস্বরে বলে,”বাঁদর’রা কি চশমা পড়ে নাকি, অর্পা?”

অর্পা স্বরে রুক্ষতা এনে বলে বলে,”হুঁহ, পড়ে!”

অয়ন বলে,” তাই! আমি তো কখনও দেখি নি। আমাকে দেখাবা, অর্পা?”


অর্পা চশমাওয়ালা ছেলে একদম পছন্দ করে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তার কপালে একটা চশমাওয়ালা ছেলেই জুটেছে। অত্যন্ত সুদর্শন এবং অতি উচ্চ লেভেলের ভদ্র ছেলে। চশমা পড়লে তাকে আরো সুন্দর লাগে। কিন্তু অর্পার একেবারে ভিন্ন মত।
সে অয়নকে বলে,”চশমা পড়লে তোমাকে বাঁদর ছাড়া আর অন্যকিছু বলে মনে হয় না।”

অয়ন তখন নরমস্বরে বলে,”বাঁদর’রা কি চশমা পড়ে নাকি, অর্পা?”

অর্পা স্বরে রুক্ষতা এনে বলে বলে,”হুঁহ, পড়ে!”

অয়ন বলে,” তাই! আমি তো কখনও দেখি নি। আমাকে দেখাবা, অর্পা?”

অয়নের কথা শুনে অর্পার মেজাজ রুক্ষ হতে শুরু করে। সে রাগান্বিত কণ্ঠে বলে,”বাসায় আয়না আছে তোমার? আজ গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াবা। তাহলে চশমা পড়া বাঁদর দেখতে পাবা।”

শরতের মিষ্টি বিকেল। গোটা আকাশ নীল শাড়িতে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছে। পার্কের এক কোণে অয়ন বসে আছে। অর্পার জন্য অপেক্ষা করছে।

অয়ন হাতের ঘড়ির দিকে তাকালো। অর্পার বিকেল ৪টায় আসার কথা। এখন ৪টা ৫০ বাজে।

হঠাৎ অর্পা এসে অয়নের পাশে বসলো।

– কতক্ষণ হল এসেছো?
– এইতো, কিছুক্ষণ আগে।
– ও…আমি জানতাম তুমি দেরি করে আসবা। তাই আমিও ইচ্ছে করে দেরিতে বের হইছি।

অয়ন কিছু একটা বলতে গিয়ে চুপ হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ পর বলল,”পরেরদিন থেকে ঠিক সময়ে আসবো।”
অর্পা বিরক্তির ভাব এনে বলল,”এমন কথা তো রোজ শুনি। আজ নতুন কিছু বলো।”

অয়ন চুপ করে থাকে। অর্পা ঠিকিই বলেছে এমন কথা সে রোজ বলে। রোজ অর্পা ১ ঘণ্টা দেরি করে আসে। অয়ন ঠিক সময়েই এসে অর্পার জন্য অপেক্ষা করে। যখন অর্পা জিজ্ঞেস করে তখন অপরাধীর মতো বলে,”এইতো, কিছুক্ষণ আগে আসলাম।”

অয়ন অর্পাকে অসম্ভব ভালোবাসে। তাই সে অর্পার সব দোষ নিজের করে নেয়। বন্ধুদের সাথে হৈ চৈ করে কথা বলা ছেলেটা অর্পার সামনে এসে শান্তস্বরে কথা বলে। আর দশটা প্রেমিকদের মতো সে অর্পাকে বিরক্ত করে না। তার ভালোবাসার ধরণ শান্ত,নম্র।

অয়নের ভালোবাসার ধরণ অর্পা বুঝতে পারে না। সে তাকে বোকা মনে করে। অয়নের বোকা বোকা ভাবের সুযোগ নেয় সে। সে সবসময় অয়নকে শাসনের ওপর রাখে। অয়ন সেসব শাসনকে তার প্রতি অর্পার ভালোবাসা ভেবে নিরবে মেনে নেয়। কখনও কোন উচ্চবাচ্য করে না। পাছে রাগ করে সে তাকে ছেড়ে চলে যাবে এই ভয়ে।

অর্পা অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল,”বাদাম খাবা?”

অয়ন বাদাম খেতে পারে না। বাদামের গন্ধে তার কেমন বমি বমি লাগে। অর্পার আবার বাদাম খুব পছন্দ। তাই সে অর্পার কথায় হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়লো।

অর্পা ১০টাকার দুই প্যাকেট বাদাম কিনেছে। এক প্যাকেট অয়নকে দিয়েছে। অয়ন বাদামের প্যাকেট হাতে নিয়ে অর্পার দিকে তাকিয়ে আছে। তার বাদাম খাওয়া দেখছে।
অয়নের খুব বলতে ইচ্ছা করছে,”অর্পা, বাদামগুলোর একটু খোসা ছাড়িয়ে দিবে, প্লিজ। আমি পারছি না।”
অর্পা একটু দুষ্টু হেসে বলবে,”পাগল একটা!”

তারপর বাদামের খোসা ছড়িয়ে অয়নের হাতে দিয়ে বলবে,”এই যে জনাব, নিন এবার,খান! চিবুতে পারেন তো! নাকি সেটাও আমাকে শিখিয়ে দিতে হবে? হি হি হি…”

– কি ব্যাপার! কি ভাবছো?

অর্পার কথায় চমকে ওঠে আয়ন।
– না, কিছু না। আচ্ছা, তোমাকে একটা কথা বলি?

অর্পা মুখে বিরক্তি ভাব এনে বলল,”তুমি কি এক মুহূর্তও কথা ছাড়া থাকতে পারো না? আচ্ছা, কি বলবা বলো।”

অয়ন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,”আমি তোমাকে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে দেই?”

অয়নের কথা শুনে অর্পা হো হো করে হেসে ওঠে। হাসি থামাতে থামাতে বলে,”তুমি তো নিজের বাদামের খোসাই ছাড়াতে পারছো না! দাও, আমি তোমাকে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে দিই।”

মৃদুমন্দ বাতাস বইছে। বাতাসে অর্পার চুল উড়ছে। সে অয়নকে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে দিচ্ছে।…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *