সময়কে ধন্যবাদ

আগের মত আর লেখালেখি করি না। আর করার সময়টাই বা পাবো কোথায়। আগে ঘুরতাম ফিরতাম পড়াতাম আর অনলাইনে লিখতাম। মজাই আলাদা ছিলো। কিন্তু এখন ভবঘুরে জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।

সময় কে ধন্যবাদ smile emoticon অন্যান্যদের মত জীবন কে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে না নিয়ে.. লাল বিপ্লবের আকাঙ্খায়।

পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই একটা প্রাইভেট হসপিটালে জব পেয়ে গেলাম। অনেক দিন আগের পরিচিত এক গাইনি ডাক্তার ছিলো। হঠাৎ গত ২২ শে ফেব্রুয়ারি সেই ডাক্তার আপুর ফোন। ফোনে সে আমাকে তার বাসায় দেখা করতে বলে ।


আগের মত আর লেখালেখি করি না। আর করার সময়টাই বা পাবো কোথায়। আগে ঘুরতাম ফিরতাম পড়াতাম আর অনলাইনে লিখতাম। মজাই আলাদা ছিলো। কিন্তু এখন ভবঘুরে জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।

সময় কে ধন্যবাদ smile emoticon অন্যান্যদের মত জীবন কে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে না নিয়ে.. লাল বিপ্লবের আকাঙ্খায়।

পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই একটা প্রাইভেট হসপিটালে জব পেয়ে গেলাম। অনেক দিন আগের পরিচিত এক গাইনি ডাক্তার ছিলো। হঠাৎ গত ২২ শে ফেব্রুয়ারি সেই ডাক্তার আপুর ফোন। ফোনে সে আমাকে তার বাসায় দেখা করতে বলে ।

পরের দিন তার বাসায় গেলাম। যাওয়ার পর সে বললো, রিলায়েন্স হসপিটালে একজন আইটি স্পেশালিষ্ট লাগবে আগের যে লোকটা ছিলো সে চলে গেছে। আমি প্রথমে রাজি ছিলাম না। মনে মনে ডিসিশন টা পেন্ডীং ই ছিলো। বাসায় এসে মা’কে বলার পর মা’ও সম্মতি দিলেন সাথে ভাইয়্যা, আব্বু সবাই। তাও আবার পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে।

পরের দিন সন্ধ্যায় হসপিটালের পরিচালকের সাথে কথা বলিয়ে দিলেন। তারপরের দিন ২৪ তারিখ, আমার জীবনের প্রথম চাকুরীতে জয়েন করার কথা। সময়টা বলে ছিলো, সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত থাকতে হবে। স্যালারী মানসম্মত। জামালপুরের মত যায়গায় অভার স্ট্যান্ডার্ড।

পরের দিন সকালে ঠিক ৮ টায় আমার খালাতো ভাই ফোন দিলো।
-কিরে কোথায় তুই?
আমিঃ বাসায়। কেন?
-টাঙ্গাইল যেতে হবে।
আমিঃ মানে কি? কেন?
-আপু’কে পাওয়া গেছে। (আমার খালাতো বোন জানুয়ারী মাসের শেষ দিকে হারিয়ে গিয়েছিলো; কোন এক দূষ্কৃতিকারী নিউস দেয়, টাঙ্গাইলের সেবা ক্লিনিকে আছে।)
আমিঃ ওকে, বাসায় সামনে দাড়াইলাম। আসো।

এক কিলোমিটার রাস্তা ওর আসতে মাত্র ৪০ সেকেন্ড সময় লেগেছিলো বোধহয় (বাইকে)।

আমার একথা তখন মনেই ছিলো না যে, আমাকে আজ চাকুরীতে জয়েন করতে হবে।
যাইহোক, জামালপুর ০ পয়েন্ট (দয়াময়ী মোড়) থেকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হসপিটাল পর্যন্ত গিয়েছিলাম মাত্র এক ঘন্টা ১৬ মিনিটে! জীবনে সর্বোচ্চ গতিতে বাইকের পিক’আপ টেনেছি। Hero কোম্পানীর CBZ Extreme বাইক ছিলো। সকাল বেলা ফাকা রাস্তা আর মাথায় টেনশান। এতদিন পর আপুকে পাওয়া গেছে এই খুশিতে নিজের জীবনের রিস্কের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। ৯২ কিলোমিটার রাস্তা একঘন্টায় যাওয়া মিরাকল একটা কিছু। বাইকের গতি কখনো ৯০ কিলোমিটারের নিচে নামেনি। আর সর্বোচ্চ গতি ছিলো ঘন্টায় ১১৮ কিলোমিটার। মাথায় কোন হেলমেট ছিলো না। চোখ দিয়ে অঝরে পানি ঝরছিলো। ভাগ্য সুপ্রসন্ন যে চোখে চশমা ছিলো।

মধুপুর পর্যন্ত যাওয়ার পর হাত যেন আর নাড়াতেই পারছিলাম না। হাত ফ্রিজ হয়ে গেছে। কারণ তখন মোটামুটি কুয়াচ্ছন্ন ছিলো পুরোদেশ। সেখানে মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য নামলাম। মোটামুটি ভালো একটা রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে গরম রুটি আর কোল্ড্রিংস খেলাম। আবার যাত্রা শুরু।

ঠিক ৯ টা ৩ মিনিটে গিয়ে টাঙ্গাইল এর ‘সেবা’ ক্লিনিকের সামনে পৌঁছুলাম। সেখানে রিসেপ্সনে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। এরকম এরকম অবস্থায় কোন মুমুর্ষ রোগী এসেছে কিনা?\
তারা স্পষ্টভাবে না করলো যে আজ সকালে কোন রোগীই আসে নি। তারপরও একদম শিউর হওয়ার জন্য উপরের তলায় রিসেপ্সনে আস্ক করলাম। কিন্তু উত্তর একই।

এখন আমি স্পষ্টভাবে বুঝে গেলাম যে এটা কোন দুষ্কৃতিকারীর নিউস ছিলো। আর মেডিকেল কলেজ হসপিটাল থাকতে প্রাইভেট ক্লিনিকেই বা কেন তাকে নেওয়া হবে? যদি সে এতটাই অসুস্থ হয়?

যাইহোক, হতাশ হয়ে লাভ নেই। খালাতো ভাইকে বুঝলাম। অনেক বুঝালাম কিন্তু সে বুঝবার পাত্র না। কিন্তু নিয়তির কাছে হেরে যেতে বাধ্য আমরা।

হঠাৎ পকেটে রাখা ফোনটা ভায়োব্রেট করে উঠলো । ফোন হাতে নিতেই মাথা নষ্ট ৫৪ টা মিসড কল আর ৭ টা মেসেজ। তারমধ্যে ডাক্তার আপুর ফোন ই ছিলো ৪০ টা। আর গুল্লো অন্যান্যদের। সাথে সাথে ডাক্তারকে ফোন দিলাম। তাকে বুঝলাম আমি কোন সিচুয়েশানে। পরে সে বললো ঠিক ২ টার মধ্যে হসপিটালে আসতে হবে। একদম কড়া নির্দেশ!

সেখানে আর বিন্দুমাত্র লেট করতে ইচ্ছা করছিলো না। যেমন ইচ্ছে তেমন কাজ। কিন্তু পথের দুরত্বের কথা ভাবতেই কান্না পাচ্ছিলো। এতদূর কিভাবে যাবো? আসার সময়তো কোন চিন্তাই ছিলো না। ধৈর্যের বাধ ভেঙে যাচ্ছিলো। কিন্তু আমি নিরুপায়। তারপরও অতীব কষ্টে মাঝারী গতিতে বাড়ি ফিরলাম। তারপরও ৬০-৮০ এরকম গতি ছিলো। আর মধুপুরে এক জ্যাম এ কাটিয়ে দিলাম ২৫ মিনিট। এখন চিন্তা শুরু হ’লো কত দ্রুত বাসায় ফিরে অফিসে যেতে পারবো?? অফিসে কি জবাব দেবো??

যাইহোক, ঠিক, একটার দিকে বাসায় ফিরে, বাথরুমে ঢুকে শাওয়ার ছেড়ে বেশ কিছুক্ষন ভিজলাম। যদিও সময় কম। তারপর খাওয়া দাওয়া করে। ঠিক ১;৪০ মিনিটের দিকে রওনা হলাম অফিসের দিকে। ঠিক ২;০৫ মিনিটে অফিসে পৌছানোর পর মেনেজার আমাকে দেখে ভুত দেখার মত ভ্যাবাছ্যাকা খেয়ে গেলেন।
-মারুফ! তোমার না আসার কথা ৯ টায়?
আমিঃ ভাইয়্যা, (সমস্ত কথা বললাম)
একটু আশার আলো জ্বললো। পরে আমাকে দেখিয়ে দেওয়া হ’লো আমার রুম। আমার কাজগুলো।

ভেবেছিলাম কাজগুলো খুবই সহজ হবে। (শুধু মাত্র আল্ট্রাসনোগ্রাম আর প্যাথলজি রিপোর্ট প্রিন্ট আউট করা)। কিন্তু না কাজ গুলো বড্ড কঠিন। যদিও কপি-পেষ্ট এর কাজ তারপরও। কারণ আমি মেডিকেল ল্যাংগুয়েজ জানিনা। আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে যে বর্ণনা থাকে সেটার কোন লাইনের পর কোন লাইন থাকবে সেটা আমার জানা নেই। জানবোই বা কিভাবে? সবে মাত্র এস এস সি পরীক্ষা দিচ্ছি। মেডিকেল আরও অনেক পরে।
আর প্যাথলজি একদম সোজা। রিপোর্টের আগের ফরম্যাট দেখে নতুন একটা ফরম্যাট বানালাম খুবই অল্প সময়ে। আসলে বানানোর কোন ইচ্ছা ছিলো না। আসলে উদ্দেশ্য ছিলো ম্যানেজার সাহেব কে তা’ক লাগানো। যাতে সে আমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি দিনটা ছিলো শুক্রবার। আর সেদিন এক্সাম ছিলো ৯টা থেকে। ঠিক ১২ টায় পরীক্ষায় হল থেকে বের হয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে গোসল করে, হালকা একটু নুডুলস খেয়ে গেলাম অফিসে।

ওরে বাপস! শুক্রবার আরও রোগী বেশি। সব ডাক্তার একসাথে। আল্ট্রাসনোগ্রাম রুমে ঢুকলাম। ডাক্তার আল্ট্রাসনোগ্রাম করছে। আর আমি রোগীদের রিসিট গুলো খাতায় এন্ট্রি করছি। প্রথম প্রথম এন্ট্রি করাটা ভালোভাবে বুঝি না। আর হাতের লেখাটা বুঝতে গেলেও মাথা নষ্ট হয়ে যায়। সিস্টারের সাহায্য নিতে হয়। কতবার সিস্টারের সাহায্য নেবো? ৩০ টা রিসিট লিখার পর আমার হাত ব্যাথায় কুঁকড়ে যাচ্ছিলো। সিস্টারকে বললাম আপু এগুলো পরে এন্ট্রি করছি। আগে রিপোর্ট গুলো প্রিন্ট করি। আর এদিকে অন্যান্য রোগীদের রিসিট জমা হচ্ছে।

নরমাল রিপোর্টগুলো দিতে থাকলাম। যেমন, W/A (whole abdomen) বা পুরো পেটের, L/A (Lower abdomen) বা uterus/ তলপেট, HBS (কোমর), KUB, Pregnancy.
এবনরমাল রিপোর্টগুলো জমা করে রেখেদিলাম। সবগুলো আল্ট্রাসনোগ্রাম শেষ হলে ডাক্তার দেখিয়ে দেবে তখন করবো।

আর এদিকে নন-এন্ট্রি রিসিটগুলোকে খাতায় এন্ট্রি করলাম। সর্বমোট ৫৭ টা। আর সেদিনই হসপিটালের রেকর্ড হয়েছিলো। at first ৫৭ টা আল্ট্রাসনোগ্রাম হলো।
আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ল্যাব ( প্যাথলজি) তে তড়িঘড়ি করে ঢুকলাম। সেখানকার রিপোর্টগুলো যদিও পানির মত সোজা। কিন্তু যথেষ্ট সেন্সেটিভ থাকতে হবে। মোটেও চিন্তা অন্যদিকে নেওয়া যাবে না। কারণ হচ্ছে, RBS (Random Blood Sugar) বা ডায়াবেটিস এর রেজাল্ট যদি S. Creatinine (Sirum Creatinine) কিডনির কোন একটা টেষ্ট। RBS এর রেজাল্টের নরমাল রেঞ্জ হচ্চে 7.8 আর সেটাকে যদি S. Creatinine রেজাল্টে দিয়ে দেই আর ব্যস্ততার খাতিরে মেডিকেল টেকনোলজিষ্টের চোখে পড়লো না, সে স্বাক্ষর করে দিলো। আর ডাক্তার সেটা দেখলো……সরাসরি ঢাকায় রেফার্ড। রোগীর হয়রানি/দৌড়ানি। আর হসপিটালের বদনাম!
কারণ কিডনি যদি 7.8 হয় তার মানে কিডনি ডেমেজড! সিরাম ক্রিটিনিন এর নরমাল রেঞ্জ হচ্ছে 1.3 ।

যাইহোক, অত্যান্ত সুন্দর চলছে জীবন। আগের মত ভবঘুরে জীবন নেই। এখন কর্ম জীবনে। মাস গেলেই ১০,০০০ টাকা স্যালারী পাচ্ছি। বাসায় দিচ্ছি অর্ধেকটা। আর বাকি সব খরচা করছি।

Abdullah Al Maruf
12-April-2015

১ thought on “সময়কে ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *