ওয়াসিকুর কে যারা হত্যা করল বস্তুত তারাই কোরআনের আইন অমান্যকারী

ওয়াসিকুরকে হত্যা করা হয়েছে একজন হুজুরের আদেশে বলে জানা গেছে।একেকটা নাস্তিক ধর আর জবাই করে মর্গে স্থান করে দাও,সুযোগ পেলে নাস্তিক কুপিয়ে ইসলামের পতাকা উড়াও এমন আদেশ কোরআন কিংবা সহীহ্ হাদীসে টিকিটা ও খুঁজে পাওয়া যাবেনা ।ঠিক ১মাস ৬দিন আগে অভিজিত্‍ রায়কে ও হত্যা করা হল ইসলামেরই দোহাই দিয়ে।এরপর যে হত্যাগুলো হবে হয়ত তা ও ইসলামের দোহাই দিয়েই করা হবে তাই আর চুপ থাকা গেলনা।ইসলামের দোহাই দিয়ে এরকম সন্ত্রাসবাদ চলতে থাকলে ইসলামকে টিকিয়ে রাখা বড় দায় হয়ে যাবে তাই চুপ থাকটা একটা বড় রকমের বোকামী ও।

ওয়াসিকুরকে হত্যা করা হয়েছে একজন হুজুরের আদেশে বলে জানা গেছে।একেকটা নাস্তিক ধর আর জবাই করে মর্গে স্থান করে দাও,সুযোগ পেলে নাস্তিক কুপিয়ে ইসলামের পতাকা উড়াও এমন আদেশ কোরআন কিংবা সহীহ্ হাদীসে টিকিটা ও খুঁজে পাওয়া যাবেনা ।ঠিক ১মাস ৬দিন আগে অভিজিত্‍ রায়কে ও হত্যা করা হল ইসলামেরই দোহাই দিয়ে।এরপর যে হত্যাগুলো হবে হয়ত তা ও ইসলামের দোহাই দিয়েই করা হবে তাই আর চুপ থাকা গেলনা।ইসলামের দোহাই দিয়ে এরকম সন্ত্রাসবাদ চলতে থাকলে ইসলামকে টিকিয়ে রাখা বড় দায় হয়ে যাবে তাই চুপ থাকটা একটা বড় রকমের বোকামী ও।
এদেশে কবর পূজা,মাজার পূজা করে পীর সাহেবকে নবীর আসনে বসালে তাদের বিপক্ষে কেউ অস্ত্র ধরবেনা কিন্তু কেউ নাস্তিক পরিচয় দিলেই তাঁকে হত্যা করা হবে।মাথায় টুপি ,গায়ে ইসলামী লেবাজ পাঞ্জাবী,টাখনু গিড়ার উপর পায়জামা ইত্যাদি ইত্যাদি থাকলেই যে তাঁকে ইসলামের ধারক বাহক ভাবা ,ইসলামের চৌদ্দগোষ্ঠী রক্ষা করবে কিংবা ইনিই সহীহ্ ইসলামী যোদ্ধা এটা ভাবাও অযৌক্তিক।প্যান্টের ওপর জাইঙ্গা(আন্ডারওয়্যার)পরলেই যেমন সুপারম্যান হওয়া যায়না তেমনি মাথায় টুপি আর গায়ে পাঞ্জাবী পরলেই যে কেউ বিরাট বড় ইসলামিস্ট হয়ে যাবে এটা ভাবাও অযৌক্তিক।ইসলামের নামে খুন ,বোমাবাজি করে ইসলামকে রসাতলে নিয়ে যাওয়ার মানে কি?
এরা নিজেদের স্বার্থে খুন করে ইসলামের দোহাই দেয় অথচ ইসলাম অর্থ বোমা মারা,কাউকে হত্যা করে লাশ রাস্তায় ফেলে দেওয়া নয় ইসলাম যার ইংরেজী অর্থ Peace বাংলা অর্থ “শান্তি”।শান্তির ধর্মের নাম করে যারা অশান্তি বাধায় তাদের উদ্দেশ্য কি?
এই সমস্ত ফ্যাসিস্টদের উদ্যেশ্য করেই মহান আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে বলেছেন ,

পৃথিবীতে এমন কিছু লোক রয়েছে এবং ছিল ,এসেছে এবং আসবে ।পৃথিবীতে পার্থিব জীবনে তাঁদের কথা খুবই সুন্দর লাগবে ,বাহ্যিক প্রমাণ যুক্তিতে মনে হবে সুন্দর , দোহাই দিবে ইসলামের ,বলবে আল্লাহ্’র দোহাই দিয়ে,করবেও কিছু ইসলামের নামে।এই সমস্ত লোকেরা হচ্ছে অত্যাধিক ঝগড়াটে লোক।অশান্তি সৃষ্টিকারী।পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টাই চালায় তারা।এবং এরা সম্পদকে নষ্ট করে ,প্রজন্মকে ধ্বংস করে ।আল্লাহ্ এরকম ফ্যাসাদ পছন্দ করেন না!!
-সূরা বাক্বারা ,আয়াত নং ২০৪,২০৫

কোরআনের ভঙ্গিমা যেখানে এসব ফ্যাসাদকে হারাম করেছেন সেখানে এসব তারা কোন সাহসে এসব ফ্যাসাদ করেন ?
তারা কি ফ্যাসাদকারী নয় ?
তারা কি সীমালঙ্ঘনকারী নয়?
ইসলামের প্রথম শহীদ ছিলেন হযরত সুমাইয়া (রাঃ) ।তাঁকে অত্যন্ত নৃশংস ভাবে আবু জাহেল হত্যা করেছিল ।কই রাসুল সাঃ তো এর প্রতিবাদ স্বরুপ কোন সাহাবীকে বলেন নি তুমি অমুক জায়গায় ঝোপে গোপনে দাঁড়িয়ে থেকে আবু জাহেলকে কতল কর ,কিংবা হত্যা করে নিজেই আত্মহত্যা কর।মক্কায় রাসুল সাঃ নির্যাতিত কি হননি ?সাহাবায়ে কেরামগণ কি নির্যাতিন হননি ?
কই রাসুল সাঃ তো কোনদিন মক্কায় থাকাকালীন কাউকে অনুমতি দেননি পারলে রাতের অন্ধকারে আবু জাহেল এবং আরবের মাথাওয়ালা অমুসলিম নেতাদের মেরে দাও।
সাহাবীরা কি ইচ্ছা করলে রাতের অন্ধকারে আবু জাহেল কিংবা ঐ নির্যাতনকারীদের গোপনীয় ভাবে মারতে পারতেন না ?
অবশ্যই মারতে পারতেন ।কিন্তু মারেননি মারতে আদেশ ও দেননি বরংচ আল্লাহ্ ১৩বছর মক্কায় যুদ্ধ হারাম করেছিলেন কাফেরদের বিরুদ্ধে।মক্কার কাফেররা কি একা একা হাটতেন না যে তাদের মারা যাবেনা?
অবশ্যই হাটতেন কিন্তু তাদেরকে সাহাবীরা মারতেন না,কেননা তারা বিশ্বাস করতেন আল্লাহ্ আহকামুল হাকিমিন তাই ঐ কাফিরদের বিচার তিনিই করবেন।
আচ্ছা এখন খুনের আদেশকারী ঐ হুজুরদের কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে ,আপনারা কি মানেন না যে আল্লাহ্ হাকিম ?
যদি মেনেই থাকেন তাহলে ছাত্রদের খুনের আদেশ দেন কিসের ভিত্তিতে?
আচ্ছা আপনি ভাবছেন এই নাস্তিকদের দ্বারা ইসলামের ক্ষতি হচ্ছে তাই তাদের মারা উচিত্‍ !
কিন্তু তাঁদের মারলে আদৌ কি ইসলামের লাভ হবে?
যদি লাভই হত তাহলে আল্লাহ্ অবশ্যই রাসুলকে আদেশ দিতেন মক্কার কাফেরদের সুযোগ পেলে খুন করার।মহান আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনের সূরা নিসায় বলেছেন

হে নবী(নবীর মাধ্যমে বিশ্বের মুসলমানদের মেসেজ দেওয়া হয়েছে)তুমি কি দেখনি ওদেরকে(সাহাবীদের কে) যাদেরকে বলা হয়েছিল ,তোমাদের হাত কে সামলিয়ে রাখো কাউকে মারার জন্য।নামায কায়েম কর ,যাকাত প্রদান কর যখন জিহাদ ফরজ করে দেয়া হল।

এখন আমি যে আয়াতগুলো উপস্থাপন করব তাতে স্পষ্টই এই খুনের বিরোধীতা করা হয়েছে,

সুরা ইউনুস (মক্কাবতীর্ণ)
আয়াতঃ ৪০
وَمِنهُم مَّن يُؤْمِنُ بِهِ وَمِنْهُم مَّن لاَّ يُؤْمِنُ بِهِ وَرَبُّكَ أَعْلَمُ بِالْمُفْسِدِينَ‏‎ ‎
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোরআনকে বিশ্বাস করবে এবং কেউ কেউ বিশ্বাস করবে না। বস্তুতঃ তোমার পরওয়ারদেগার ‎যথার্থই জানেন দুরাচারদিগকে।

আয়াতঃ ৪১ ‎ ‎
وَإِن كَذَّبُوكَ فَقُل لِّي عَمَلِي وَلَكُمْ عَمَلُكُمْ أَنتُمْ بَرِيئُونَ مِمَّا أَعْمَلُ وَأَنَاْ بَرِيءٌ مِّمَّا تَعْمَلُونَ‏‎ ‎
আর যদি তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে বল, আমার জন্য আমার কর্ম, আর তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম। তোমাদের ‎দায়-দায়িত্ব নেই আমার কর্মের উপর এবং আমারও দায়-দায়িত্ব নেই তোমরা যা কর সেজন্য।

সূরা ইউনুস (মক্কাবতীর্ণ)
আয়াতঃ ৯৯
وَلَوْ شَاء رَبُّكَ لآمَنَ مَن فِي الأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا أَفَأَنتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُواْ مُؤْمِنِينَ‏‎ ‎
আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। ‎তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?

সূরা:আল-মায়েদা (মদিনায় অবতীর্ণ)আয়াতঃ ৩২

এ কারণেই, আমি বনী ইসরাঈলের উপর এই হুকুম দিলাম যে, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করা কিংবা যমীনে ফাসাদ সৃষ্টিকারী ছাড়া যে কাউকে হত্যা করল, সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল। আর যে তাকে বাঁচাল, সে যেন সব মানুষকে বাঁচাল। আর অবশ্যই তাদের নিকট আমার রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছে। তা সত্ত্বেও এরপর যমীনে তাদের অনেকে অবশ্যই সীমালঙ্ঘনকারী।

এখন আমি খুবই চিন্তায় আছি শেষের আয়াত অনুযায়ী ঐ খুনের প্রতিবাদ সকল মুসলিম না করলে আল্লাহ্ না আবার আমাদের উপর গজব নাজিল করেন।

৮ thoughts on “ওয়াসিকুর কে যারা হত্যা করল বস্তুত তারাই কোরআনের আইন অমান্যকারী

  1. ভূতের মতন চেহারা তাহার
    ভূতের মতন চেহারা তাহার নির্বোধ অতি ঘোর
    যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর। – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

    হুজুরদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা প্রবল।

  2. ইসলামের দোহাই দিয়ে এরকম

    ইসলামের দোহাই দিয়ে এরকম সন্ত্রাসবাদ চলতে থাকলে ইসলামকে টিকিয়ে রাখা বড় দায় হয়ে যাবে

    এটাই সত্য। ইসলাম সহ অন্য ধর্ম গুলো যতদিন টিকে থাকবে ততদিন ধর্ম তথা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার নামে সন্ত্রাসবাদ চলতেই থাকবে। কখনো এর মাত্রা হবে বেশি ,কখনো কম । ইসলাম ধর্ম কোন সংস্কার যোগ্য ধর্ম না, এটি একটি রাজনৈতিক দর্শন। কাজেই এটিকে কখনোই শুধু ব্যাক্তিগত জীবনের অংশ হিসেবে আটকে রাখা যাবে না। এর অনুসারীরা চিরকালই ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য রাস্তায় নামবে। কেউ তসবি হাতে নিয়ে আবার কেউ চাপাতি হাতে নিয়ে । আজ ওয়াশিকুর এর শিকার হয়েছে কাল হয়তো আমাদের মধ্যে অন্য কেউ হবে। সন্ত্রাসবাদ যতই বাড়বে ধর্মের মৃত্যু ততই নিকটে আসবে। এভাবেই অতীতের ধর্ম গুলোর মত একদিন পৃথিবী থেকে ইসলাম সহ প্রচলিত ধর্ম গুলোও বিলীন হয়ে যাবে । মনে হয় না সেদিন খুব বেশি দূরে …

  3. ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ যত
    ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ যত বাড়বে, ধর্ম তত তাড়াতাড়ি বিলীন হয়ে যাবে। সন্ত্রাসবাদ পৃথিবীর কোথাও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে নাই। নাস্তিকরা নয়, ধার্মিকরাই ধর্মের পোঙা মারতেছে। অবিশ্বাসীদের জন্য ধার্মিকরা পুন্দাপুন্দি করে পৃথিবীটা বাসযোগ্য করে তুলছে। সমগ্র পৃথিবীতে ইসলাম ধর্মের নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে আমি ধর্মহীন বিশ্বের নাগরিক দ্রুত হতে পারব বলে আশাবাদী। চলতে থাকুক ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ।

    1. প্রতিবাদের ভাষা হওয়া উচিত্‍
      প্রতিবাদের ভাষা হওয়া উচিত্‍ শ্রাব্য অশ্রাব্য নয়।অপার্থিবের কাছ থেকে আপনার অনেক কিছু শেখার আছে ছবক নিন ।

        1. (পোন্দাপুন্দি) এই লেখাটা কোন
          (পোন্দাপুন্দি) এই লেখাটা কোন ক্রোধ জাগ্রত করা লেখা নয় ।অতিক্রোধে আপনি উপরের শব্দটা ইউজ করতে পারেন কিন্তু প্রতিবাদের সময় নয় ।প্রতিবাদের সময় অশ্রাব্য ইউজ করলে প্রতিপক্ষ আপনার দাবী দাওয়া কখনোই মেনে নিবেন না ।

  4. ভস্মে ঘি ঢালার রূপকটা এই
    ভস্মে ঘি ঢালার রূপকটা এই পোস্টের জন্য প্রযোজ্য। এত পরিশ্রম করে কোরান হাদীস খুঁড়ে যে ‘বোধ ‘ মানুষরুপী পশুদের ,তথাকথিত ধার্মিক আর ধর্ম ব্যবসায়ীদের দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে তা নিয়ে তাদের মাথা ব্যথাই নেই।
    এখানে ইসলাম এর মহত্ব প্রমান বাতুলতা , কারণ বিষয়টা স্পেসিফিক কোন ধর্মের না , এটা সর্বধর্মীয়।
    যে নিজের মাঝে ও পারিপার্শিকে স্রষ্টাকে অনুভব করবে সে বলবে স্রষ্টা আছে এবং তার ধর্মমতে চলবে,এটা তার ধর্ম ।
    এর বিপরীত যে বোধ করবে সে বলবে স্রষ্টা নাই , কোন ধর্মমত সে মেনে চলবে না ,এটা তার ধর্ম ।
    উভয়েরই কোন অধিকার নাই পরস্পরের উপর জবরদস্তি করে নিজের মত সঠিক প্রমানের।
    ধর্ম মানুষের জন্য ,মানুষ ধর্মের জন্য না ,তাই পৃথিবীর নিকৃষ্টতম অপরাধীর জীবন শ্রেষ্ঠতম ধর্মের চেয়ে অনেক বেশী দামী।
    যারা দাঁড়ি টুপি আর পোশাকে বাইরেটা শ্রদ্ধেয় মানুষের মত সাজিয়ে জন্মসুত্রে পাওয়া ধর্ম থেকে কিছুমাত্র অর্জন /বর্জন না করে ভিতরটা ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত শয়তানের মত করে রাখে , তারা মানুষ না।
    যুক্তি ধর্ম বিচার মানুষের জন্য।
    :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *