দেশে সৃষ্ট সার্বিক অবক্ষয় বদলে দেবে প্রজন্ম

দেশ দুনিয়ার সাথে, প্রকৃতি ও বিজ্ঞানের হাত ধরে আধুনিক সমাজ থেকে অত্যাধুনিকতার চলমান সমাজ পর্যন্ত্ম তথ্য প্রযুক্তির সর্বশেষ উদ্ভাবন, প্রসার লাভ সম্ভব হয়েছে। অভিজ্ঞতায় দেখা যায় শেতাঙ্গ থেকে কৃষ্ণাঙ্গ, বুশ থেকে দ্বিতীয় বারের মতো ওবামা, পৃথিবীর শ্রেষ্টতম দেশ সুদুর আমেরিকা থেকে পরিবর্তনের চলমান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ আবহাওয়ার বলয় থেকে আমরাও বাদ পড়ছি না। আজকের প্রজন্ম ও ভবিষ্যত প্রজন্ম এ তথ্য প্রযুক্তির যুগে কল্পনাতীত ভাবে অনেকদুর এগিয়ে এসেছে। তারাও জানে রাজনৈতিক গণতন্ত্র কি। রাজনৈতিক গণতন্ত্রের সুষ্ঠু রূপ স্বচ্ছ সংসদীয় গণতন্ত্র। এ পথ ধরেই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে তারা। সমাজ বিকাশের প্রকৃত ইতিহাস এ কথাই বলে।
যুগে’র পর যুগ ধরে পৃথিবীর অন্যতম দেশ সহ- আমাদের দেশে গরীব দুঃখী মানুষেরা কত উপবাস, কত অসহায়, কত শোষণ, কত নির্যাতন, কত নিগ্রহ সহ্য করছে; যাপন করছে মানবেতর জীবন, তা চলমান রয়েছে। তাদের ওপর চলছে নানাবিধ শোষণ, সাম্রাজ্যবাদী, সামন্ত্মবাদী ও পুঁজিবাদী-শাষন-শোষণ। ভিন্ন ধরণের ষড়যন্ত্রের যাঁতাকলে নিঃপেষিত হচ্ছে তারা। অগুণিত আন্দোলনে রাজপথ রঞ্জিত হচ্ছে তাদের বা তাদের সন্তান-সন্ততির নুর হোসেনদের রক্তে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জানে-মালে, ইজ্জতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তারা। তথাকথিত শরীফ’রা সাধারণ ভাবে বলতে গেলে করেছেন, পাক-হানাদার বাহিনীর দালালি অথবা পালন করেছেন নীরব দর্শকের ভূমিকা।
দেশে’র প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থাকে গতানুগতিক পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা বলা সত্যের অপলাপ মাত্র। প্রচলিত ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয়, আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থাটা “কালো টাকার সমাজ ব্যবস্থা” “হালুয়া রুটির লুটেরা ধনীক-বণিক সমাজ ব্যবস্থা।” বিদ্বমান সরকার গুলো হচ্ছে বিদেশী শক্তির সমর্থন পুষ্ট লুটেরা ধনীক-বণিক ও সামরিক বেসামরিক আমলা স্বার্থের প্রতিভূ। তারাই প্রতিটি সরকারের মূল শক্তি। প্রতিটি সরকারের উত্থান-পতন ঘটায়। নির্বাচনে টাকা জোগায়। তারা যদি পরস্পরের ভালো দিকটা কিছুটা হলেও গ্রহণ করতে পারতো তাহলে এই ব্যবস্থার মধ্যেও কিছু ভালো কাজ করতে পারতো। তারা তা না করে পরস্পরের দোষ গুলোই রপ্ত করছে। পরিণতি যা হবার তাই হয়ে চলেছে। এখন তারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া কিছুই বুঝে না। নিজেদের স্বার্থের জন্য করতে পারে না হেন কাজ নেই। ভোটের গণতন্ত্র তাদের স্বার্থ রক্ষা না করলে তারা সামরিক ও স্বৈরাচারী সরকার কায়েম করে। তাদের আঙ্গুলী হেলেনে সরকার উঠে বসে। দেশের সরকারই হোক, পত্র-পত্রিকাই হোক, যেকোন গণমাধ্যম, বুদ্ধিজীবি, সাহিত্যিক হোক, এমন কোন ক্ষেত্র নেই যা তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। রাজনীতিবীদ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবি, কলামিস্ট, যাদের কথাই বলা যায় তারা বলেন, অনেকেই নাকি তাদের (বেতন লিষ্টেট)। পারতপক্ষে কেউই এই ‘ত্রয়ী’ শক্তির বিরুদ্ধে কলম ধরতে চায় না। আজ এদের বিরুদ্ধে কথা বলার লোক বিরল।
“জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস”, “জবাবদিহি সরকার” “গণতন্ত্র” “সংসদীয় গণতন্ত্র” এ গুলি কেবল কথার কথা। আসল কথা ক্ষমতার উৎস হচ্ছে, বিদেশী শক্তির মদদপুষ্ট এই ‘ত্রয়ী’ শক্তি। এদের মধ্যে একটি মহল আছে যারা হচ্ছে রাজনীতি ও গণতন্ত্র বিরুধী। তারা লোকদেখানো গণতন্ত্র রাখতে নারাজ। রাজনীতির নাম নিশানা ও মুছে ফেলতে চায়। এই ‘ত্রয়ী’ শক্তির সাথে তাদেরই আজ্ঞাবহ রাজনীতিবীদদেরকে ক্ষমতা বা হালুয়া রুটি’র লোটপাটে সামান্যতম অংশীদার করতেও নারাজ। এ মহল বিশেষটি কার হচ্ছে, দেশের পত্র-পত্রিকা ও অন্যান্য গণমাধ্যম গুলোর মারফতে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে জনমনে এমন একটি ধারণা জন্ম দেয় যে, রাজনীতি বা রাজনীতিবিদরা ও গণতন্ত্রই সকল অনর্থের মূল। তাদের হাতে অনেক পত্র-পত্রিকা। তারা অতি সুক্ষ ভাবে সুচারু রুপে প্রচার চালায় রাজনীতিবিদ দিয়ে কিছু হবে না, সব পার্টি, সব নেতাই খারাপ। কালো টাকার মালিক ও গণতন্ত্র বিরুধী এই শক্তি তথাতথিক অনেক বামপন্থীকেই কিনে নিয়েছেন। তাদের দ্বারা অতি বিপ্লবী কথা বলান, লেখান আর তার মাধ্যমে বোঝান, রাজনীতি ও গণতন্ত্র দেশের কোন সমস্যার সমাধান দিতে পারকেনা। কালো টাকার মালিক ও সামরিক-বেসামরিক আমলা কমপ্লেঙ্ দেশে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এ থেকে উত্তরোণের জন্য আজকের প্রজন্ম শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করতে পিছ-পা হচ্ছে না। জনগনের শত্রু সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও এক চেটিয়া পুঁজিবাদকে কিছুটা ব্যাখা মূলক (সংশোধন করে) মূল শত্রু চিহ্নিত করছে। এ ব্যবস্থা না বদলালে অবস্থা বদলাবে না এ কথা ঠিক। তবে ব্যবস্থার মূলটা (খুঁটি) চিহ্নিত করেই জনগণের রুটি-রুজি, ভাত-কাপড়, বাঁচার সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে।
পৃথিবী সৃষ্টির পর যুগ-যুগান্তরে ক্ষণজন্মা মহাপুরুষেরা গরীব দুঃখী মানুষের প্রতি মমত্ববোধ দেখিয়েছেন, এখনও দেখাচ্ছেন। তাদের জন্য সংগ্রাম ও নির্যাতন ভোগ করেছেন-করছেন। কিন্তু তারা শোষিত নির্যাতিত মানুষকে মুক্তির সঠিক পথ আজও দেখাতে পারেন নি। তবু দেশের গরীব দুঃখী মানুষ আছে ততক্ষণ তারা তাদের কথা বলেই যাবে। তারা জানে সত্যের জয় অবধারিত। এই দীক্ষায় দীক্ষিত হয়েছে আজকের তরুণ সমাজ। সেই সাথে জনগণ দিনের পর দিন শ্রেণী চেতনায় উজ্জীবিত হচ্ছে এবং শ্রেণী বিরোধ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ফলে সত্যিকার সময় উপযোগী উপযুক্ত রাজনীতি ও রণ কৌশল নিয়ে কাজ করার মত একটি অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুবক, মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত জেগেছে। শোষণের রূপ বদলেছে। পুরোনো সাম্রাজ্যবাদী শোষনের বদলে নব্য উপনিবেশিক শোষন, সামান্তবাদী শোষনের অবশিষ্টাংশ পুঁজিবাদী শোষনের ভিন্ন রূপ… অবশিষ্টাংশ পুঁজিবাদী শোষনের ভিন্ন রূপ… ঘুষ, দূর্নীতি, কালো বাজারী, পাচার, দ্রব্যমূল্যেও উর্ধ্বগতি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ট্যাঙ্-বৃদ্ধি, উপযুক্ত পারিশ্রমিক থেকে শ্রমজীবি মানুষ বঞ্চিত… এ সবই এখন আমজনতা বুঝতে পারে।
স্বাধীনতা, স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম, ধর্মঘট, হরতাল এর ক্ষয়-ক্ষতির সিংহভাগ পরছে আমজনতার উপরই। জানে-মালে উপবাস থাকতে হয়েছে রিঙ্াওয়ালা, ঠেলাওয়ালা, ভ্যানচালক, দিনমজুর ভাইদেরকে হতে হয়েছে কত না ভোগান্তির শিকার। অথচ এ সকল আন্দোলনের সুফলই তাদের ঘরে পৌছেনি। এ শোষন, বঞ্চনা, প্রতারণা, এ অবস্থা চলবে আর কতকাল?
বিগত অর্ধ্বশতাব্দীর অধিককাল ধরে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তে দেশ বিভাগ, রাজনীতির বহু উত্থান-পতন, ভাঙ্গা-গড়া, ভুল-ভ্রান্তি, হটকারিতা-অতি হটকারিতা, সুবিধাবাদ, স্বার্থপরতা, রাজনীতির নামে ব্যবসা, নেতাদের দল ত্যাগ, মন্ত্রী হওয়া, সম্পদশালী হওয়ার হিরিক, লাইসেন্সবাজী, পারমিটবাজী, ইনড্যান্টারী, সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্তের সহযোগী ও শিকার হওয়া, ষড়যন্তকারীদের সহযোগী হয়ে অগণতান্ত্রিক পথে যেন তেন উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রয়াস, হতাশায় রাজনীতি ত্যাগ, সংসদীয় গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার জন্য, স্বৈরাচার ও অগণতান্ত্রিক শক্তি এবং তাদের দোসরদের চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র, স্বনির্ভর ধনতন্ত্রের বদলে হালুয়া রুটির লুট-পাটতন্ত্র এর ফলশ্রুতিতে দেশীয় সমাজের সকল স্থরে সৃষ্ট সার্বিক অবক্ষয় আদর্শবাদী তরুন সমাজকে হতাশ করেনি। তারা আশার আলো নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। তারা মনে করে এ সমাজ ব্যবস্থা যতদিন বহাল থাকবে ততদিন একে বদল করার রাজনীতিও থাকবে। সত্যিকার অর্থে এটাই হবে দিন বদলের রাজনীতি-রাষ্ট্রনীতি।
অবিচল সততাই রাজনীতিকদের জীবনের আদর্শ। প্রকৃত সৎসাহসী ও বিবেকবান মানুষের কোন সঙ্গী থাকে না। সে নিঃসঙ্গ, বন্ধুহীন। এই নিঃসঙ্গ, বন্ধুহীন মানুষটিকে বিরূপ পরিবেশে তাকে মৃত্যু পর্যন্ত গ্রাস করে। খ্যাতিহীন, প্রতিষ্টানহীন, বন্ধনহীন পরিবেশে থেকেও সত্য ও আদর্শের জন্য তাকে আজীবন সংগ্রাম করতে হয়। তিনি কারো সুখ চেয়ে কিংবা কারো সমর্থন বা বিরূপতার কথা ভেবে কিছু করেন না। তিনি তার বিবেক, আদর্শ ও বিশ্বাসের জন্য এমনকি সারা পৃথিবীর বৈরীতাকেও ভয় পান না। সম্ভবত এই আত্মবিশ্বাস ও সৎসাহসের বলেই সক্রেটিস তার ক্রন্দনরত অনুরাগীদের বিলাপের প্রতুত্তরে হেমলক বিষ হাতে নিয়েও বলতে পেরেছিলেন… মরতে যখন হবেই তখন অপরাধ না করে মরাইতো ভালো। আজকের তরুণ সমাজের চলমান সংগ্রামকে সাফল্যের মঞ্জিল মকসুদে পৌছে দেবার জন্য চাই নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের এগিয়ে আসা ও তাদেরকে উজ্জীবিত করা একান্ত আবশ্যক।

১ thought on “দেশে সৃষ্ট সার্বিক অবক্ষয় বদলে দেবে প্রজন্ম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *