শহীদ রূমি স্কোয়াড ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের কথা

অনেক শুনছি, অনেক মানছি। তাদের মুক্তিযুদ্ধের গবেষক হিসেবে স্যালুট করছি। তারা যখন বলে, সাম্যবাদ বাতিল মাল-তখন তাদের কথা মাইনা নিছি। আবার যখন ছাত্র ইউনিয়নের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করার আহবানের কথা বলে, তখন অবাক হইলেও মাইনা নিছি। কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের গবেষক। ফেলানির মৃত্যুতে তাদের যেমন কেবল করুণা হয়, মালালা গুলি খেলে তাদের সেইটাও হয়না। কারণ, মালালা কোন কিশোরী নয়, সে পাকিস্তানী।বিশ্বজিতের হত্যাকারীরা কোন দলের এইটা তাদের কাছে মুখ্য নয়, তারা কোন সময় জামাত-শিবিরের সংস্পর্শে ছিল কিনা এইটাই মুখ্য- আমরা মাইনা নিই। কারণ তারাই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত গবেষক। জগন্নাথে বর্ধিত বেতন কমানোর দাবিতে আন্দোলনকে ছাপিয়া তাদের কাছে মুখ্য হয়ে ওঠে আন্দোলনকারীর পরিহিত হিজাব। যে একইসাথে সরকার বিরোধিতা আর জামাত বিরোধিতা করে, তাকে ‘চিনাবাম’ বইলা গালি দেওয়া তাদের সকাল বিকালের অভ্যাস। এই চিনাবামরা যখন তাদের কাছে জামাতের চেয়েও বড় শত্রু হইয়া দাঁড়ায় তখন আমরা মাইনা নিই, কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের গবেষক। ফাকতালে পেয়ারাবাগানের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা স্বত্তেও সিরাজ শিকদারের খেতাব হয় রাজাকার। ভাষানীর খেতাব হয় ধান্দাবাজ।

যখন শাহবাগ আন্দোলন শুরু হয়, তখন গবেষকদের সুরত আমাদের সামনে ধরা পড়তে থাকে। আল্টিমেটাম শেষ হইলেও যখন জামাত নিষিদ্ধ হয়না, তখন একপাল কিশোর অনশন শুরু করে গবেষকদের কব্জায় থাকা মঞ্চের সিদ্ধান্তের বাইরে। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে গবেষকরা ওই কিশোরদের বাপ মার পরিচয় নিয়া চিল্লাপাল্লা শুরু করে। একপর যখন দেখা গেল সেইখানেও সমস্যা নাই, তখন সেই পুরানো গালি-‘ চিনাবাম’। বাকশালের জন্য সমাজের যেইসব উপাদান হুমকি স্বরূপ, গবেষকদের জন্যও তা হুমকি স্বরূপ। এরপর কি চাই, চাই বাঙালী জাতীয়তাবাদ- অবাঙ্গালীদের কথা ভাবছ? আরে ওরা তো রাজাকার। চাকমা রাজা রাজাকার ছিল, সো অবাঙ্গালীদের অত গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নাই। আর কি চাই? চাই সমাজ তন্ত্র। কিন্তু মাইন্ড ইট, সাম্যবাদ হইল বাতিল মাল। আমাদের দরকার সমাজতন্ত্রের আধুনিক সংস্করণ, সেইখানে আমাদের কর্মীদের লুটপাটের লাইসেন্স থাকবে। আর কি যেন চাই? ও হ্যা, ধর্মনিরপেক্ষতা। মুরুব্বি, বড়োভাই ইন্ডিয়াও তাদের সাথে এইটা লাগাইছে। তবে ব্যাপার কি জানো তো? বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মুসলমান কিনা, তাই এইখানে ধর্মনিরপেক্ষতারও নতুন ভার্সন থাকবে। সংবিধানে আল্লার প্রতি বিশ্বাসও থাকবে, বিসমিল্লাও থাকবে আবার ধর্মনিরপেক্ষতাও থাকবে। ব্যাস, ষোলকলা পূর্ণ। ও একটা জিনিস বাকি আছে, গণতন্ত্র। গণতন্ত্র মানে নির্বাচন। নির্বাচন মানে ত্বত্তাবধায়ক, থুক্কু দলীয় সরকার। আরে, যখন যেইডা লাগে সেইডা। সময় হইলে এইডার জন্য আমরা জামাতের সাথেও আন্দোলন করুম, আবার সময় গেলে আমাদের অধীনেই নির্বাচন হইব।

শেষ কথা,
যে এর বাইরে কিছু বলতে যাবে হয় সে হয় ছাগু না হয় সে একটা! সে একটা চিনাবাম।
জয় বাংলা
জয় বাকশাল

৪ thoughts on “শহীদ রূমি স্কোয়াড ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের কথা

  1. শুধু মুক্তিযুদ্ধের গবেষকেরা
    শুধু মুক্তিযুদ্ধের গবেষকেরা কেন,অনেক “বাম”রাও নীতিগত সমর্থন দিতে পারছেন না
    :অসুস্থ:

    1. ব্যাপারটা নীতিগত সমর্থনের
      ব্যাপারটা নীতিগত সমর্থনের চেয়েও বেশী তারা এইটা নিয়ে কি ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। বিপক্ষে অনেক ধরণের যুক্তি থাকতে পারে। তার মধ্যে রয়েছে, মঞ্চের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে হাইলাইট হওয়ার চেষ্টা, শো-অফ টেন্ডেন্সি, তারপর, এইমুহুর্তে সরকারের সমর্থন থাকা স্বত্তেও অনশনের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়া ঠিক সময়োপযোগী কিনা। কিন্তু অনশন যে কতোবড় সাহসী পদক্ষেপ এবং মঞ্চের দুর্বল কর্মসূচির বিপরীতে একটা কতোবড় জবাব- সেই বিবেচনায় এটাকে সমর্থন না করে উপায় নেই। তথাকথিত গবেষকরা এতে তেলেবেগুনে জ্বলে যখন অনশনকারীদের ‘অতিবিপ্লবী চিনাবাম’ কিংবা তাদের মা-বাপ তুলে গালি দেন তখন গবেষকদের মূল উদ্দেশ্য কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ হয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *