‘স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে!’ এবং চারটে কবিতা।

স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে!
_______ নিবিড় রৌদ্র

স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা ঢুকরে কাঁদে দরজাআঁটা ঘরে,
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা বেঁচে আছে আজ ধর্মকে আঁকড়ে ধরে!
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা পেটের দায়ে অথচ পতিতার পরিচয়ে!
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা মরে পড়ে থাকে নগরীর ব্যস্ত মোড়ে।
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা চুরি যায় এখন রাতের আঁধারে!
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা ধর্ষিত হয় এখানে সৎ-ভদ্র ভর দুপুরে।
স্বাধীনাতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?

স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে!
_______ নিবিড় রৌদ্র

স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা ঢুকরে কাঁদে দরজাআঁটা ঘরে,
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা বেঁচে আছে আজ ধর্মকে আঁকড়ে ধরে!
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা পেটের দায়ে অথচ পতিতার পরিচয়ে!
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা মরে পড়ে থাকে নগরীর ব্যস্ত মোড়ে।
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা চুরি যায় এখন রাতের আঁধারে!
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা ধর্ষিত হয় এখানে সৎ-ভদ্র ভর দুপুরে।
স্বাধীনাতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা কানে বাজে ধর্ষিতার আত্মচিৎকারে!
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা ভেসে আসে বাতাসে মায়ের কান্না-সুরে।
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা পালিয়ে গেছে জেগে থাকা ভোরে,
স্বাধীনাতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা আঁৎকে উঠে বাকরুদ্ধ স্বরে।
স্বাধীনাতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা হারিয়ে গেছে সে কখনই বুঝে উঠার আগে!
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতার এখন প্রবাসে বসত সংসার বাঁচাতে।
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
আর্তজনের আর্তনাদে স্বাধীনাতা দাঁড়িয়ে থাকে নির্বিকারে!
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা সুবিচার পেতে ভিকটিম হয়ে ঘুরে ফেরে।
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা নিষ্ফল আশা যেন বিচারকের দ্বারে,
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
ওরা স্বাধীনতাকে রেখেছে নিজেদের পকেটে পুরে!
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
কলমটা নিয়ে গেলি যদি নে- খাতাটাও নিয়া নে!
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
পেটে খাবার নাই একমুঠো- আগে ভাত দে!
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
অনিয়মে চলতে যদি হবে সুনিয়ম ভেঙ্গে দে!
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা ছিল শৈশবে, স্বাধীনতা ছিল কলরবে।
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা ছিল গ্রামের আকাশ মাঠে-নদীতে,
স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে?
স্বাধীনতা আজ দীর্ঘশ্বাস দক্ষিন ঘরের জানালাতে।

তারিখ- ২৬।০৩।১৫ ইং
—————————–

মনসামঙ্গল!
_______ নিবিড় রৌদ্র

তুমি একবার বলো,
চিৎকার করে তোমরা একবার হলেও বলো
তোমার সম্মুখে হেঁটে যাওয়া মর্ডান
আপারকালচার পরিস্ফুট যুবকের শরীরে
জড়ানো পোশাকটা অশ্নীল ছিল!
যা তোমার,
তোমাদের দৃষ্টিতে কাম-উত্তেজনা গেঁথে দিয়ে
মাতিয়ে রেখেছিল অসাময়িক মাদকতায়।
আমি চাই সে যুবকটিও নীতিবন্দী হোক সমসরঞ্জামে।
আমি চাই সে যুবকেরাও ধর্ষিত হোক
মনসামনোনীত যুবতীর বিষজ্বালাময় তীক্ষ্ণ কটাক্ষে।

তারিখ- ২৩।০৩।১৫ ইং
———————————–

কেমন আছে!
________ নিবিড় রৌদ্র

সেই আঁধার শেষে কোন আলোকিত ভোর
সেই দিন শেষে সন্ধ্যার স্বর
যে দিনগুলো হয়ে গেছে রাত রাতগুলো প্রভাত
সেই কথাসমগ্র আজ হয়ে গেছে পর,

মাঝ দুপরের তিক্ত রোদ মাড়িয়ে
হেঁটে চলা জীবনকে জিজ্ঞেস কর
কেমন আছে শৈশব!
কেমন আছে ঘুড়ির কলতান
কেমন আছে নাটাই সূতোর গান
কেমন আছে শিশুর কলরব।

সময়টাকে আচ্ছাতম চেনা আমার
শিকড় থেকে শেখরে শেখরে
মানুষগুলো কেমন থাকে তাও জানি আমি
অপর পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্যের ঘরে,

ব্যঞ্জনবর্ণের ‘প’ কে জিজ্ঞেস কর
পাপ পূন্য শূন্যের আগে
কেমন সেই প্রস্থান!
কেমন আছে জাগ্রত বাঁধন
কেমন আছে পূনঃসজীব বদন
কেমন আছে শুষ্কমাটির প্রাণ।

তারিখ- ২৪।০৩।১৫ ইং
————————–

দুর থেকে বহুদূর!
__________ নিবিড় রৌদ্র

এভাবে আজ অস্তাচলে
যতখানি মিলায়েছে রোদ্দুর
আমি চলে গেলে পাড়ি দেব
তার চেয়ে বহুগুন দূর!
যেতে যদি হয় তবে,
তবে রেখে যাব কথামালাতে গাঁথা কিছু সুর।
যদি পারো ধরে রেখো,
বেঁধে রেখো প্রনয়ের ডোর-
আমি চলে গেলে পাড়ি দেবো
তার চেয়ে বহুগুন দূর!

এভাবেই ক্রমে ক্রমে রাত আসবে শিয়রে
গভীর হতে হতে ছেয়ে যাবে চারপাশ আঁধারে
মহাকাশের ব্যাথা জ্বলে উঠবে-
জ্বলতে থাকবে একে একে
নক্ষত্রদের পরিযায়ী চোখে,
গ্রহদের সম্মিলিত আলোচনা শেষে
এই মর্ম গৃহীত হবে কেউ চাইলেই পারতো
ডেকে নিয়ে ঠাঁই দিতে বুকে।

যেভাবে নিরবে বাড়বে রাত থেকে রাত
অবিচলে মিলায়ে যাবে অতঃপর আসন্ন ভোর,
সাথে সাথে তাঁর কাঁটিয়ে আঁধার-
আমি হারিয়ে যাব একদিন এভাবেই
অভিমানে দুর থেকে বহুদূর।
যদি পারো ধরে রেখো,
বেঁধে রেখো প্রনয়ের ডোর-
আমি চলে গেলে পাড়ি দেবো
তার চেয়ে বহুগুন দূর!

তারিখ- ২৪।০৩।১৫ ইং
—————————–

বিবর্ণ ধারাপাত!
________নিবিড় রৌদ্র

একদিন পৃথিবী পরিণত হবে মরুতে
জীবনগুলো জড়তে
গৃহযুদ্ধ বেঁধে যাবে তৃণলতা- তরুতে
ঠিক যেভাবে জন্মেছিল ঘাস
মস্তিষ্কের প্রতি খাতে,
ঠিক যেভাবে দিনদুপুরে সূর্য গেল ঘ্রাস।

আহ, একদিন যুদ্ধ হবে!
প্রেমের জন্য যুদ্ধ হবে- প্রিয়তমারা রক্তে ভিজবে
রক্ত মেহেদী হাতে,
একদিন খুব সকালে শুনবে প্রিয়া
রক্ত হয়ে জড়ায়ে আছে প্রিয় তার-
আলতা পায়েতে।
একদিন প্রেমের সুখবার্তা আসবে
স্নিগ্ধ প্রভাতে,
অথবা একদিন প্রেম হারিয়ে যাবে
বিবর্ণ ধারাপাতে।

তারিখ- ২৫।০৩।১৫ ইং
————————-

৪ thoughts on “‘স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে!’ এবং চারটে কবিতা।

  1. ১. স্বাধীনতার শুভেচ্ছা
    ১. স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানোর আমি কে!
    অনুভূত চেতনার কবিতা। বিণম্র শ্রদ্ধা কবিকে।

    স্বাধীনাতার>স্বাধীনতার (তিন যায়গায় টাইপো হয়েছে)
    আঁৎকে>আঁতকে
    দক্ষিন>দক্ষিণ>দখিন

    ২. মনসামঙ্গল!
    প্রত্যাশিত চাওয়া।

    অশ্নীল>অশ্লীল

    ৩. কেমন আছে!

    সূতোর>সূতর>সুতোর
    আচ্ছাতম>আচ্ছামত হবে বোধ হয়
    পূন্য>পুণ্য
    পূনঃসজীব>পুনঃসজীব

    ৪. দুর থেকে বহুদূর!

    বহুগুন>বহুগুণ
    প্রনয়ের>প্রণয়ের
    ব্যাথা>ব্যথা
    নিরবে>নীরবে

    ৫. বিবর্ণ ধারাপাত!

    ঘ্রাস> (মানে কি?)
    দক্ষিন>দক্ষিণ>দখিন

    বানানগুলি এডিট করে পোস্ট দিতে পারেন গুরুভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *