“চীনা বাম”, “চিকনা বাম”, “ছুপা বাম”।

বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অনলাইন আন্দোলন এবং অনলাইন এক্টিভিজম। যার কারণেই গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের একটা সুনজর/কুনজর কিনবা চাপ পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবেই পড়েছে এটির উপর। যার ফলে গিয়ে দেখা যাচ্ছে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিশেষ কিছু উদ্দেশ্য সাধনেই নেমে পড়েছে। খুব স্পষ্ট করে খেয়াল করার পর বেশ কিছু জিনিস নজরে এসে পড়েছে তাই ভাবলাম একটু তুলে ধরি।


বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অনলাইন আন্দোলন এবং অনলাইন এক্টিভিজম। যার কারণেই গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের একটা সুনজর/কুনজর কিনবা চাপ পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবেই পড়েছে এটির উপর। যার ফলে গিয়ে দেখা যাচ্ছে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিশেষ কিছু উদ্দেশ্য সাধনেই নেমে পড়েছে। খুব স্পষ্ট করে খেয়াল করার পর বেশ কিছু জিনিস নজরে এসে পড়েছে তাই ভাবলাম একটু তুলে ধরি।

১) অনলাইনের প্রথম জীবন থেকেই আমার উপর একটা বিশেষ ট্যাগ আছে “কট্টর/অন্ধ আওয়ামী পন্থী” এক্টিভিস্ট, সেটি নিয়ে কিন্তু কম গালমন্দও শুনি নাই। তবে ছোট থেকেই যেটি অভ্যেস বা যেই চর্চা করে আসছি সেটিতো বদলাতে পারি না, তাই এখনো সেই পথেই আছি অথচ এই মুহুর্তে ট্যাগ আসছে “চীনা বাম”, “চিকনা বাম”, “ছুপা বাম”।

২) ব্লগ জীবনে নাগরিক ব্লগে সেইমাপের অনেক ব্লগারের কম বিষোদগার পাই নাই, সেইসব দিনগুলোর কথা কেমনে ভুলি? অথচ আজকের দিনে এসে সেইসকল ব্লগারদের একটা বিশেষ অংশ, বিরাট মাপের আওয়ামী বুদ্ধিজীবীতে পরিণত হয়েছেন। এই মুহুর্তে খুব মনে পড়ছে যখন আওয়ামীলীগের নানা খারাপ দিকগুলো নিয়ে সেসকল সুশীলেরা আলোচনা করত সেখানে গিয়ে বাগড়া দিলে আমারে কিইনা করা হতো!!!!

৩) তবে ভালো লাগছে এই দেখে একসময় যারা “জয় বাংলা” বললে নাক সিটকাতো আজ তারা “জয় বাংলা”-কেই সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করছে দিনের প্রত্যেক কাজে।

৪) আবার কিছু কিছু সুশীল শ্রেণী কিনবা সুশীল আওয়ামী মনা লোকজনের কিছু কীর্তিকলাপ এই আন্দোলনের শুরুতে দেখেছিলাম আর আজকের দিনেও দেখছি। হায়রে কি আবেগ ছিলো তাদের যার কারণে গিয়ে আওয়ামীলীগকে গালাগালি, হাসিনাকে গালাগালি আর আজ তারা এসে আওয়ামীলীগের অনলাইন কান্ডারী তো হতেই চাইছে সেই সাথে আন্দোলনের চরম নেতা সাজতেছে। অথচ প্রথম দিন যখন আন্দোলনের সুত্রপাত হয় সেদিন ভাবছিলাম কার বিরুদ্ধে আমি আন্দোলনে নামবো? তবে পরে এই আন্দোলনকে দাবী হিসেবে ধরে নিয়েই নেমেছিলাম। এরা আবার অনেকটা গিরগিটি স্বভাবের এই মুহুর্তে সরকার তাদের স্বার্থবিরোধী কিছু করুক সাথে সাথেই এরা আওয়ামীলীগের জাত-খানদান এক করে দিতে সময় নিবে না, তবে এই সবকিছুই কিন্তু ফেইমের জন্যই করে এরা।

৫) যতবারই এই আন্দোলন নিয়ে কিছু বলেছি বা বলবার সুযোগ পেয়েছি প্রত্যেক স্থানেই বলে আসছি এই আন্দোলন কারো ব্যক্তিগত ডাকের আন্দোলন নয়, এটি জনতার আন্দোলন।প্রত্যেক আন্দোলনকারীরা এসেছেন তাদের আবেগের স্থান থেকে দাবী আদায়ে। সেই দাবী আদায়ে তাদের ব্যক্তিমত থাকতেই পারে কিন্তু সেই ব্যক্তিমতকে অবজ্ঞা কিনবা সেটি নিয়ে বাণিজ্য করা, স্বার্থ উদ্ধার করা কোনভাবেই কাম্য নয়। অথচ তাই হচ্ছে বারবার।

এরই মধ্যে শহীদ রুমি স্কোয়াড নিয়ে বেশ গরম রয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফরম। শহীদ রুমি স্কোয়াড নিয়ে কিন্তু কম জল ঘোলা হয়নি অনেকেই চেষ্টা করেছে জল ঘোলা করতে এবং এখনো করছে। কেউ কেউ তামাশা করছে এদের নিয়ে। তবে ভালো লাগছে যে এতে তারা মোটেও বিচলিত নয়। এরা এদের পথেই এগুচ্ছে। এরা এদের কর্মসুচি ঘোষণা করেছে আর এই কর্মসুচি নিয়ে অনেক বুদ্ধিজীবী ইতোমধ্যেই জ্ঞান ঝেরে দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার এদের মাঝে ঢুকেও অপকর্ম করবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আশা করছি এদের কারোরই অসত উদ্দেশ্য সফলকাম হবে না। ধরে নিলাম যারা অসত উদ্দেশ্য নিয়ে এই দলে ভিড়েছে তারা চাইছে ঐদিন অর্থাৎ ৪ এপ্রিল একটা ভজঘট কিছু করে বসবে। কি করবে? প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হামলা করবে? হামলা করলে পুলিশ নিশ্চয় দেখে থাকবে না। এখন পুলিশ মারলে সেটাকে ইস্যু বানাবে? ইস্যু বানায়া কি করবে? নির্বাচন? নাকি ক্ষমতা দখল? গুটি কয়েক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে কিনবা কুচক্রে যদি আওয়ামীলীগ সরকারের গদি এতো সহজে নড়ে যায় তাহলে বিএনপি-জামায়াত গত চারবছর ধরে ঘোড়ার বাল ছাটচে মনে হয়। যারা এই ধারনা পোষণ করছে তারা আসলেই মনে প্রাণে দুব্বল নাইলে আওয়ামীলীগের মত একটা দলকে এতো হালকা করে কেমনে দেখে ঠিক বুঝে পাইনা। সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে এই আন্দোলন করছে তরুন প্রজন্ম যারা অনলাইনে দুনিয়ার বাদঁরামি করে বেড়ায়। আর তাদের এই আন্দোলনে কি হইলো না হইলো তা বুঝি তারা তাদের মুঠোফোনে কিনবা ক্যামেরায় বন্দী করে রাখবে না? আরে ফেসবুকে খোমা দেখাইতে হইলেও তো ছবি তুলবে আর সেখানে এমন একটা ঘটনা ঘটবে সেটা বুঝি রেকর্ড করবে না? ধরলাম তারা করলোই না কেউ, মিডিয়াগুলো কি করবে? তারা নিশ্চয়ই বসে বসে আঙ্গুল চুষবে না, তাহলে কেউ যদি এই অহিংস আন্দোলনে সহিংসতা দেখায় নিশ্চয় তারে ধরা হবে এবং তারে জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে আসবে কে বা কাদের প্ররোচনায় সে বা তারা ঐকাজ করেছে। ফলে আমাদের সকলের কাছে ঐসকল লোকেরা একদম আজীবনের জন্য সীল-মোহর লাগিয়ে নিবে নিজেদের গায়ে।

সবশেষে কিছু কথা বলি, তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলনে দয়া করে এই মুহুর্তে বিভক্তি করতে যাবেন না। একলাফে দশতলায় উঠা যায় না যেমন ঠিক এইমুহুর্তেও সেইরকমভাবে এককভাবে আগানো যাবে না। তাহলে পরে জনতার আস্থা হারাবে এই আন্দোলন। এখন প্রয়োজন ঐক্য। আপনাদের কথা যদি হয় এই মুহুর্তে আপনারা বাংলা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাহলে সেটিই করুন সেখানে ইকোনমিক্স টানবেন না। লক্ষ্য এখন সুস্পষ্ট রাজাকারদের ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। সুতরাং ঐ পথেই সকলকে আগানো দরকার। আবারো বলছি বারবার বলছি যুদ্ধাপরাধের বিচারটা এই আওয়ামীলীগ সরকার ছাড়া কারোই দ্বারা করা সম্ভব না, তাই এই সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে তরুণ প্রজন্ম তাদের দাবীকে মেরে ফেলবে না। এই সরকার নির্বাচিত হয়েছে আমাদের প্রত্যেকের ভোটে এটা আমাদের সরকার সুতরাং এই সরকারের কাছে আমাদের দাবী থাকবে না তো কি জামায়াত-শিবির দাবী করবে?

২১ thoughts on ““চীনা বাম”, “চিকনা বাম”, “ছুপা বাম”।

  1. গুটি কয়েক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে

    গুটি কয়েক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে কিনবা কুচক্রে যদি আওয়ামীলীগ সরকারের গদি এতো সহজে নড়ে যায় তাহলে বিএনপি-জামায়াত গত চারবছর ধরে ঘোড়ার বাল ছাটচে মনে হয়।

    কর্মসূচি যতোই কঠোর হোক, এই আন্দোলনের বি এন পির পকেটে যাবার সম্ভাবনা নাই। এই ব্যাপারটা আওয়ামী সরকার না বুঝতে পারে, তথাকথিত আওয়ামী ঘরানার প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীদের অন্তত বোঝা উচিত।

    1. আওয়ামী সরকার ঠিকই বুঝতে
      আওয়ামী সরকার ঠিকই বুঝতে পেরেছে সমস্যা হচ্ছে “খোন্দকার মোস্তাক” এর প্রেতাত্মাদের দিয়ে।

  2. প্রথমেই বইলা নেই সুমিতের গায়ে
    প্রথমেই বইলা নেই সুমিতের গায়ে ট্যাগ আসছে “চীনা বাম”, “চিকনা বাম”, “ছুপা বাম”। কস্কি মমিন :কনফিউজড: :কনফিউজড: :কনফিউজড:
    দ্বিতীয় কথা, জামাত শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে কঠোর কর্মসুচিতে যাওয়াকে কেউ যদি মনে করে থাকে এটা সরকার পতনের আন্দোলন তাইলে সেটা তার :দিবাস্বপ্ন: :দিবাস্বপ্ন: :দিবাস্বপ্ন:
    তৃতীয় কথা, আল্টিমেটামের দিন শেষ সরকার জামাত শিবির নিষিদ্ধের দাবীকে বাল দিয়াও পোছে নাই। আমি মনে করি এটা আমাদেরই ব্যার্থতা। আমরা জনগনের শক্তি কি জিনিস তা দেখাতে পারি নাই বইলাই সরকার গনজগরন মঞ্চকে অপমান করেছে।
    আর যাই হোক স্মারক লিপি পেশ কিংবা পদযাত্রা কোনটাই বেলুন ঊড়ানোর চেয়ে বেশি কিছু না। মঞ্চ থেকে যখন ঘোষনা আসছে এই কর্মুসুচি আমিও তা প্রত্যাখান করেছি। চেয়েছি আরো কঠোর কিছু। সেখানে ঘেরাও বা গনঅনশনই হতে পারে কঠোর কর্মসুচি। অনশন কখনোই ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি চলতে পারে না। তার মানে ইতি টানার প্রসঙ্গ আসে।
    আমিও ঘেরাও চেয়েছি এবং চেয়েছি তা যেন মঞ্চ থেকেই আসে। আসেনি। শহিদ রুমি স্কয়ার যখন অনশনে বসে মঞ্চ থেকে বহু চাপ দেয়া হয়েছে ওদের উঠিয়ে দেয়ার জন্য, শোনা কথা নয়, নিজের দেখা। সেই মঞ্চের পক্ষ থেকে ইমরান সঙ্ঘতি প্রকাশ করে কি হাস্যকর। আর বিশিষ্ট যোদ্ধা অমি রহমান পিয়াল তো ছিলোই, আছে
    যে গনজাগরনে লাখ লাখ মানুষ এসেছে, সেখানে এখন মাত্র হাজার খানেক। এটাকে কার বা কাদের ব্যররথতা বলবো। কোনো কুচক্রী মহলের?? প্রশ্ন রইলো
    যাই হোক আমরা সবাই মনে প্রানে যে কোনো মুল্যে চাই জামাত শিবির নিষিদ্ধ হোক। হতেই হবে তার জন্য সামনে যেই শত্রু হয়ে দাঁড়াবে তার বিরুদ্ধেই সংগ্রাম চালাতে হবে

    1. আন্দোলন আর উৎসব এক নয়, যদিও
      আন্দোলন আর উৎসব এক নয়, যদিও গণজাগরণ সৃস্টির জন্য আন্দোলনকে উৎসবের ফর্মে নেওয়াই যায়। কিন্তু আন্দোলনের সুস্পষ্ট লক্ষ্য আছে, সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনকে জঙ্গি রূপ দেওয়ার প্রয়োজন পড়লে তা করতে হবে। আর যে প্রয়োজনের সময় কঠোর কর্মসূচি দিতে গড়িমসি করবে আন্দোলনে তার উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হবে

    2. হুম ট্যাগ আসছে, কেননা নিজের
      হুম ট্যাগ আসছে, কেননা নিজের বুদ্ধিতে যেটাকে শ্রেয় মনে করি সেটাই করি বলেই আসছে।

      তৃতীয় কথা, আল্টিমেটামের দিন শেষ সরকার জামাত শিবির নিষিদ্ধের দাবীকে বাল দিয়াও পোছে নাই। আমি মনে করি এটা আমাদেরই ব্যার্থতা।

      সরকার পুছছে কি পুছে নাই এটা কেমনে এতটা নিশ্চয়তার সহিত বললেন। সিম্পলি একটা ব্যাপার কেন মানুষ বুঝতে চায় না আমি জানিনা। একজন ব্যক্তি যখন জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকারের আসনে বসেন তখন তিনি শুধু যাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তাদেরই প্রতিনিধি নন বরং তিনি সমগ্র জাতির প্রতিনিধি, সেজন্য তাকে সেভাবে ভেবে চিন্তে কাজ করতে হয়। আর আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করছি এটা আমাদেরই ব্যার্থতা, যদি আন্দোলন আরো জোরদার হতো যদি আন্দোলনকারীরা না পিছাতো তাহলে অবশ্যই সরকার আমাদের দাবী পূরণে ভুমিকা রাখতেন।

      হাস্যকরের কি আছে? তিনি বর্তমানে গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিনিধি, তিনি মুখপাত্র সে হিসেবে তিনি সঙ্ঘতি প্রকাশটা অবশ্যই যুক্তিযুক্ত হয়েছে। আর অমি পিয়াল কেন বলেছেন সেটাও একটু পরিষ্কার করা দরকার, শতভাগ তথ্য আছে জনৈক ব্যক্তি ক্যু করতে চাইছেন। আন্দোলনকারীদের উস্কে দিচ্ছেন সরকারের বিরুদ্ধে। মূল ব্যাপারটা হলো কেউ প্রকাশ্যে বলে আর কেউ চিপাতে বলে আর যথারীতি প্রকাশ্যব্যক্তিই মারা খায়।

      কুচক্রী মহল কোন একটা বিশেষ দলের মধ্যে ছিলো না, প্রত্যেক মহলেই ছিলো। সেটা অনলাইন হোক আর সাধারন পাব্লিকই হোক।

      1. শতভাগ তথ্য আছে জনৈক ব্যক্তি

        শতভাগ তথ্য আছে জনৈক ব্যক্তি ক্যু করতে চাইছেন।

        শতভাগ তথ্য থাকলে সেই তথ্য প্রকাশ করা হোক। তার বিচার তরুন প্রজন্মই করবে। এতো লুকাছাপার কি আছে?

        1. দুঃখিত সেটি ব্যক্তিবর্গ হবে।
          দুঃখিত সেটি ব্যক্তিবর্গ হবে। তথ্য প্রকাশ করার কিইবা বাকী আছে, শাহবাগে যারা ছিলো কিনবা সেদিন অর্থাৎ ২৬ তারিখ কর্মসূচী ঘোষণার পর কে বা কারা উস্কে দিয়েছি সেটি কি প্রকাশিত নয়? সেখানে একটু খোঁজ লাগালেই তো হয়ে যায় স্যার।

          1. আপনি জানলে সেটা বলতে সমস্যা
            আপনি জানলে সেটা বলতে সমস্যা কোথায় বুঝলাম না। খোঁজ দ্যা সার্চ ক্যান লাগব বুঝবার পারলাম না। বারবার একটা কথাই বলতেছি- এতো লুকাছাপার কি আছে?

  3. গত দুইদিন ধইরা এসব দেখতে
    গত দুইদিন ধইরা এসব দেখতে দেখতে বিরক্ত। কয়েকটা বিষয় ক্লিয়ার করা দরকার। আন্দোলন চলতেছে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ থেকে। প্রথম থেকেই বলা হচ্ছে এখানে কেউ নেতা না। তাইলে আমার জানতে ইচ্ছা হয় আন্দোলনের যেই কর্মসূচী ঘোষণা করা হয় সেটার সিদ্ধান্ত কে/কারা দেয়? নিশ্চয়ই কেউ বা কয়েকজন বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েই কর্মসূচি দেয়? কারা তারা? স্পষ্টভাবে নাম ঘোষণা করা হোক।
    চীনা বাম, চীনা বাদাম ইত্যাদি বলে মাঠ গরম করা হচ্ছে। আমাদের কাছে এইসব ধোঁয়াশা কথাবার্তার কোন দাম নাই। গণজাগরণ মঞ্চ যদি মনে করেই থাকে চীনা বাম পন্থী কেউ কেউ আন্দোলনে বাম হাত ঢুকায়ে ফায়দা নিয়ে আন্দোলন বানচাল করতে চাচ্ছে, তাইলে কে কে সেই চীনা বাম তাদের নাম ঘোষণা করে মঞ্চ থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা কেন করা হচ্ছে না? কেন অমুক-তমুক ইত্যাদি লুকাছাপা নাম উল্লেখ করে করে ফেসবুক গরম করে সাধারণ আন্দোলনকারী যারা ডান- বাম কিছুর সাথে জড়িত না তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া হচ্ছে?
    সবাই দেখতেছি অমুকে খারাপ, তমুকে ধান্দাবাজ, সময় হইলে অমুকের ল্যাঞ্জা বাইর হইব ইত্যাদি ইত্যাদি বলে স্ট্যাটাস দিচ্ছে লম্বা লম্বা। যদি স্পষ্টতই এরকম কোন তথ্য থাকে যে কেউ আন্দোলন বানচান করার পায়তারায় আছে তাদের চিহ্নিত করে কেন অবাঞ্চিত ঘোষণা করে আন্দোলনকে বিভক্তির হাত থেকে বাঁচান হচ্ছে না? এভাবে লামছাম করে আর কতো?

    1. যারা আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ
      যারা আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এই ধরনের ট্যাগ লাগায়া স্ট্যাটাস দিচ্ছে তারাই আন্দোলনের বারোটা বাজাচ্ছে। এদেরকে সবাই চিনে রাখুন। আর বাম বা চীনাবাদাম বলে যাদের দিকে ঠারে ঠুরে ইঙ্গিত করা হচ্ছে, অনলাইন অনেক আগে থেকেই এদেরকে বাতিল মাল বলে ঘোষনা করেছে। এদের সাথে ট্যাগ লাগায়া যারা ফেসবুক নোংরা করছে তাদের উদ্দেশ্যও আমজনতা বুঝতে পারছে। চিনে রাখুন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক অনলাইন এক্টিভিস্ট কারা আর কারা দলবাজ এক্টিভিস্ট। মানুষ এখন আর বোকা নাই। রাজনীতিবিদদের নোংরামী আমজনতা এখন নিমিষেই ধরে ফেলে। জামায়াত-বিএনপি অনলাইন থেকে আস্তাকুঁড়ে চলে গেছে। চীনাবাম, ধর্মীয় বাম ও দলবাজ বাম যাদের কথাই আমরা বলিনা কেন, দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের দল, ইজম বা ব্যক্তি স্বার্থের বাইরে যারা আসতে পারে নাই; এই সুযোগে তাদের পরিচয় প্রকাশ হয়েছে। নিজের ঢোল নিজে পেটানোর পাবলিকগুলোকে অনলাইন এক্টিভিস্ট বলে এখন আর আমি স্বীকার করিনা। ওরা যদি এক্টিভিস্ট হয়, আমি নিজেকে নিতান্তই অনলাইন পর্যবেক্ষক মনে করি। গত দুইদিন অনলাইন থেকে বেশ বিনোদন নিচ্ছি। আর যারা রুমী স্কোয়াডের অনশনরত প্রতিবাদকারীদের নিয়ে হাস্যরসে মেতেছেন, তাদেরকে আমি অসুস্থ ছাড়া আর কিছুই বলব না। এরা রঙ বদলায় দিনে কতবার তারা নিজেরাও জানে না। পল্টিবাজে এরা এরশাদকেও হার মানাবে।

      আমার কথা একদম স্পষ্ট। এই আন্দোলন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে, জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে। চাওয়া ও প্রতিবাদ হচ্ছে সরকারের কাছে। এখন কেউ যদি মনে করেন জামায়াতের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যাচ্ছে, তাদের কাছে প্রশ্ন- সেই সুযোগটা কারা করে দিচ্ছে? পুতু পুতু মার্কা আন্দোলন হয়েছে, প্রাপ্তিও হয়েছে। এখন আর পুতুপুতু আন্দোলনে প্রাপ্তি হচ্ছে না। তাই প্রতিবাদটা একটু শক্তভাবে করা হচ্ছে। এখানে সরকারকে গদি থেকে টেনে নামানোর কোন আন্দোলন হচ্ছে না।আজ যাদেরকে ট্যাগ লাগাচ্ছেন, তারাই কিন্তু আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য পাঁচ বছর আগে ফাইট দিয়েছিল। তখন সদ্য বাল গঁজাইন্যা এত অনলাইন এক্টিভিস্ট ছিলনা। আবার এদেরকেই ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।

  4. আমার ট্যাগ একটু ভিন্ন।আগে
    আমার ট্যাগ একটু ভিন্ন।আগে ছিলাম বিভিন্ন বিশেষণে বিশেষিত বাম আর অনশনে অংশ নিয়ে নাকি মানবতাবাদীদের খপ্পরে পড়ে গেলাম।এত তত্ত্ব বুঝি না,সময়ের প্রয়োজনে যা করা উচিত্‍ বলে মনে হয়েছে তাই করেছি।কারও অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন অনুভব করি নি।শ্রীঘ্রই হয়তো আমাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে,তবু আমরা বলতে চাই যা করছি তা সময়ের প্রয়োজনে,যে ব্যবস্থা বা যে ট্যাগই লাগাও না কেন আমরা লক্ষ্যে অবিচল।

    1. আমরা বলতে চাই যা করছি তা

      আমরা বলতে চাই যা করছি তা সময়ের প্রয়োজনে,যে ব্যবস্থা বা যে ট্যাগই লাগাও না কেন আমরা লক্ষ্যে অবিচল।

      আপনাকে স্যালুট :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  5. বাম-ডান বুঝি নাহ।আন্দোলনের
    বাম-ডান বুঝি নাহ।আন্দোলনের শুরুতে আওয়ামী লীগের আতাৎ নিয়া কাহিনী।এরপর দেখলাম আন্দোলন নিয়া রং-তামাশা।এখন শহীদ রুমি স্কোয়াডরে নিয়াও দেখি আরেক কাহিনী।ভাই তুই ই ক,আন্দোলনে আর যাই হোক দেশ তো জাগসে।আমাদের মধ্যে এখন বাম-ডান না করে,কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের প্রয়োজন।আমরা রাস্তায় ছিলাম,আছি থাকবো।এমন কি হয়ে গেলাম যে নেতৃত্য কিংবা পদের লোভের আশায় সব কিসুরে কু-নজরে দেখবো???????

    1. দেশ জাগসে এখন সেই জাগ্রত
      দেশ জাগসে এখন সেই জাগ্রত দেশটারে ভুল পথে চালিত করলে কেমনে হবে?
      করতে চাই না কিন্তু যখন বাঁধা এসে দাঁড়ায় তখন কি করা যায়?

  6. যে কোন আন্দোলন বা কর্মসুচির
    যে কোন আন্দোলন বা কর্মসুচির পরিণতি না দেখেই নানা প্রকার পজিটিভ-নেগেটিভ সমালোচনায় মেতে উঠি ! আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য না জেনেই সমালোচনায় লেগে পড়ি এটাই আমাদের একটা বদ অভ্যাস ! যে আন্দোলন বা সংগ্রামের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য জানার পরই কেবল সমলোচনা করা বাঞ্চনীয় বলে আমি মনে করি……..

    1. লক্ষ্য উদ্দেশ্য তো থাকে
      লক্ষ্য উদ্দেশ্য তো থাকে কিন্তু সুবিধাবাদীরা তা নিজেরদের করে নিয়ে ফায়দা লুটতে চায় আর তখনই ঝামেলা বাঁধে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *