তিন্দু ,বান্দরবান ,অপরূপ প্রকৃতির ছোঁয়া প্রতিটি বিন্দুতে .ঘুরে আসুন আপনিও ,জেনে নিন প্রয়োজনীয় তথ্য……


চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানের বাসে করে সোজা বান্দরবান চলে যেতে হবে। বেশি হলে ৩ ঘন্টা। ওখান থেকে টমটম এ করে যেতে পারেন বাস স্টেশন যেখান থেকে থানচির বাস ছাড়ে। এক্ষেত্রে বান্দরবান যাওয়ার জন্য সকাল এ খুব ভোরে যাওয়া ভাল।
থানচির উদ্দেশ্যে বাস রওনা দিবে ১১:৩০ নাগাদ। এর আগে বা পরেও বাস আছে। তবে দুপুরের পর কোনো বাস ছাড়বে না। ২০০ টাকা টিকেট .থানচি এখান থেকে ৭৯ কিলোমিটার .পাহাড়ি উঁচু নিচু সব বিপদজনক পথ পেরোতে বাসের সময় লাগবে প্রায় ৪-৪:১৫ ঘন্টা। পথে নীলগিরি নীলাচল বলিপাড়া পড়বে।

ভাল হয় থানচি গিয়ে একজন গাইডের সাথে যোগাযোগ করে নেয়া। ও থাকলে থাকার বন্দোবস্ত ও পুলিশ বা বিজিবির কাছে রেজিস্ট্রেশন নিজ দায়িত্বে করে দিবে। থাকার ব্যবস্থা বলতে দোতলা রেস্ট হাউজ আছে .কিন্তু রাতে যেহেতু কারেন্ট নেই মোম দিয়ে থাকতে হবে। আমরা রাতে যথেষ্ট ভয় পেয়েছিলাম .আলো নেই ,ঘরের চাল থেকে পলেস্টার খসে পড়ে ,ভূতের গল্প করেছি সবাই মিলে ,সব মিলিয়ে অন্য রকম এডভেঞ্চারাস অনুভূতি .তবে সকালের সূর্য দেখে সব কষ্ট মুছে যাবে কথা দিচ্ছি .

খুব ভোরে চা পরটা খেয়ে নৌকা ভাড়া করে বেরোতে হবে তিন্দুর পথে। অবশ্যই বিজিবিকে নাম ঠিকানা লিখে দিয়ে। নৌকায় সর্বোচ্চ ৬ জন উঠা যাবে।দুপুরের মধ্যে চলে আসলে ২-২:৫ হাজার নিবে। ২:৩০ র পর থানচি থেকে বান্দরবানের বাস ছাড়ে না। আসলে এর আগেই আদতে হবে। সাথে গাইড নিয়ে গেলে তেমন কোনো ঝামেলা হলে সমস্যা হবে না।

চমৎকার ভ্রমন হবে গ্যারান্টি .বছরের এই সময়ে পানি কম। তাই কিছু নৌকায় কিছুটা হেঁটে কিছুটা পাথরের উপর দিয়ে যেতে হবে। এটাই আসল মজার্।

যতদূর চোখ যায় অবারিত জলরাশি ,পাথরের অফুরন্ত যোগান ,দুইপাশে পাহাড়ের সারি। আপনার জীবনে স্বর্গের অনুভূতি নিয়ে আসতে যথেষ্ট .সাথে আদিবাসী জীবন ধারা। চরম সুন্দর

ঘন্টা দেড়েক এভাবে যাওয়ার পর সামনে শুধুই পানি পাথর আকাশ আর পাহাড়। বড় বড় পাথরের মাঝে চিকন পথে চলতে হয়। আছে রাজা পাথর্। আছে বড় পাথর্। বড় পাথরের গায়ে আছে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট কলসি .দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে।
আসার পথেও একই দৃশ্য .পানি কম থাকায় স্নান করে আসতে পারবেন এই সময়ে। দুপুরে ২:৩০ টায় বান্দরবানের বাস। ব্যস। দেখা হয়ে যাবে বান্দরবানের স্বর্গ তিন্দু। হোটেলের খাবারে মুরগি খেয়ে দেখবেন। অসম্ভব ভাল।

২ thoughts on “তিন্দু ,বান্দরবান ,অপরূপ প্রকৃতির ছোঁয়া প্রতিটি বিন্দুতে .ঘুরে আসুন আপনিও ,জেনে নিন প্রয়োজনীয় তথ্য……

  1. পোস্ট পড়ে এবং ছবি দেখে যেন
    পোস্ট পড়ে এবং ছবি দেখে যেন আবার ঘুরে এলাম ঘুরে আসা যায়গাগুলিতে। সুন্দর।
    কয়েকটি বানান চোখে পড়ল। অসাবধানতায় হয়ত এভাবে রয়ে গেছে।

    আমারও বানান ভুল হয়, আশাকরি সাহায্য করবেন।

    বান্দরবানের>বান্দরবনের (যদিও অনেক যায়গায় ব-য় আ-কার দিয়ে লেখা হয়, তারপরেও আ-কার না দিয়ে লেখাটাই মনে হয় সিদ্ধ। শব্দটি ইংরেজি থেকে বাংলায় আসেনি, বাংলা থেকে ইংরেজিতে গেছে। সুতরাং ban থেকে বান না হয়ে, বন থেকে ban হয়েছে সেটিকেই সিদ্ধ ধরা যৌক্তিক। আমি বানানটিকে ঠিক ভুল বলছি না, তবে আমার বাংলা সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এ অবস্থান নিচ্ছি।)
    ঘন্টা>ঘণ্টা (ণ+ট, তৎসম শব্দে ণ হয়)
    ভ্রমন>ভ্রমণ
    মজার্>মজার
    পাথর্>পাথর

  2. পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ .কিছু
    পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ .কিছু বানান সত্যিই আমি না জেনে দিয়েছি। আর জায়গাটা এমন ই ভাল না লেগে পারা যায় না। ধন্যবাদ 🙂 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *