নিবিড় রৌদ্রে’র চার কবিতা…!

যাচ্ছে যদি যাকনা চলে রৌদ্রজ্বলা দিন,
আমার কাছে থাকনা জমা তোমার কিছু ঋণ
আজ শহরে আগুন ঝড়ে ঝরছে বারুদ
সেই মেয়েটির বারান্দাতে আজ অবরোধ!
কোন সে পথিক পথের মাঝে সন্ধ্যা হারায়
এ কোন পাখি রোদের ভেতর পালক ছড়ায়?
আজকে আমি পাখি হব আগুন পাখি
রোদন রোদের বক্ষ ছিঁড়ে উড়তে থাকি,
উড়তে উড়তে ডানায় আগুন- আগুন ডানায় লীন
আমার কাছে থাকনা জমা তোমার কিছু ঋণ।

এই নষ্ট শহরটাতে দৈন্যদশার দৈনিক গড়াগড়ি
এই যান্ত্রিক নগরটাতে নিয়মতান্ত্রিক বড্ড বাড়াবাড়ি!
নষ্ট ফুলের পরাগ যেন ধুলোয় চড়ে চড়ে
ঝুলে থাকে পর্দাটানা জানলার কাঁচ ধরে,
মানুষগুলো ইমারতে মানুষ খোঁজে
লজ্জাতে কেউ ক্লান্তিতে কেউ দুচোখ বুজে-

যাচ্ছে যদি যাকনা চলে রৌদ্রজ্বলা দিন,
আমার কাছে থাকনা জমা তোমার কিছু ঋণ
আজ শহরে আগুন ঝড়ে ঝরছে বারুদ
সেই মেয়েটির বারান্দাতে আজ অবরোধ!
কোন সে পথিক পথের মাঝে সন্ধ্যা হারায়
এ কোন পাখি রোদের ভেতর পালক ছড়ায়?
আজকে আমি পাখি হব আগুন পাখি
রোদন রোদের বক্ষ ছিঁড়ে উড়তে থাকি,
উড়তে উড়তে ডানায় আগুন- আগুন ডানায় লীন
আমার কাছে থাকনা জমা তোমার কিছু ঋণ।

এই নষ্ট শহরটাতে দৈন্যদশার দৈনিক গড়াগড়ি
এই যান্ত্রিক নগরটাতে নিয়মতান্ত্রিক বড্ড বাড়াবাড়ি!
নষ্ট ফুলের পরাগ যেন ধুলোয় চড়ে চড়ে
ঝুলে থাকে পর্দাটানা জানলার কাঁচ ধরে,
মানুষগুলো ইমারতে মানুষ খোঁজে
লজ্জাতে কেউ ক্লান্তিতে কেউ দুচোখ বুজে-
চৈত্র এলেই দুঃখ হাসে পাঁচদুপুরে
চৈত্র এলেই নুপুর বাজে বাঁশির স্বরে
চৈত্র এলেই ঝিঁঝিঁপোকার কান্না অন্তহীন,
আমার কাছে থাকনা জমা তোমার কিছু ঋণ।

ইচ্ছে ছিল শেষ বিকেলের সবুজ যদি হই
আকাশ বেয়ে উঠবো ফেলে নীল পাহাড়ের মই,
এখন বিকেল খুব সকালের চাঁদর গায়ে
এখন বিকেল আর আসেনা মাঝির না’য়ে-
প্রজাপতি আমের ডালে লুকিয়ে ঢাকে মুখ,
চৈত্রবেলায় হাওয়ায় ভাসে বঞ্চিতদের সুখ!
চৈত্রদিনে কেমন যেন বিষাদ আসে দ্বারে
চৈত্র মাসে ভাবতে ভাবতেই ভাবনাগুলো মরে,
চৈত্রে দিনে তোমার বয়স দুই দশকে তিন-
আমার কাছে থাকনা জমা তোমার কিছু ঋণ।

চৈত্রের চৈতিকথা!
– নিবিড় রৌদ্র
তারিখ- ২৩।০৩।১৫ ইং
————————————-

আমাদের উত্তেজনা নিমিষেই নিথর হয়ে যায়
সে সমস্ত ধ্বজভঙ্গ রোগীদের অর্গ্যাজমের মত,
আমরা নিয়ম ভেবে ধারাবাহিক অবোধ শিশুর ন্যায়
সজ্ঞানে ভুলে যাই আমাদের ইস্যূ-আন্দোলনের কথা!

আমরা সরব ভারী কাকের দল যেমন সরব সাময়িক
স্বার্থটাই মুখ্য- আড়ালে ভাণ করি তা প্রানয়িক-
ইস্যূর উত্থান হঠাৎ তেমন পতনও তার যথাতথা
ইস্যূটাই প্রধান বাহিরে, ঘরে প্রচলন সকল প্রথা।

আমরা হাহামরি যা নয় তার খুঁজে মরি সারণি
ঘরে বসে দাবী করি আমরাই জগৎচারিনী,
কিসের ব্যাথা কোনটা বৃথা সত্যটাকে করে মিথ্যা
কাজের চেয়ে অকাজেই বেশ ঘামাই মোরা মাথা।

আমাদের ইস্যূ কথা!
– নিবিড় রৌদ্র
তারিখ- ২৩।০৩।১৫ ইং
———————————–

যাছিত ঈশ্বরহীনতায় ভুগছি ভীষণ
মহাবিশ্ব উচ্ছন্নে গেলো বলে,
পৃথিবীটা ঘুরছে কক্ষ ছেড়ে অক্ষপথে
মর্ত্যলোকে ভিড় করেছে অসুর দলে দলে!

ওরা কারা পথের মাঝে কাটায় জীবন
ওরা কারা ঘুরছে পুরে মুঠোয় মরণ,
ঈশ্বরেরা মানুষ হলে খুব কি হত ক্ষতি
ঈশ্বরেরা পায় কি ব্যাথা খেলে হাতির লাথি?

প্রাচীনকালে ওপারে এক ঈশ্বর ছিল
প্রাচীনকালে ঘরেঘরে হাতেহাতে ঈশ্বর ছিল,
সভ্যতাদের অসভ্যতায় ঈশ্বরেরা মৃত এখন
তাই যাছিত ঈশ্বরহীনতায় ভুগছি ভীষণ।

ঈশ্বরাভাব!
– নিবিড় রৌদ্র।
তারিখ- ২৩।০৩।১৫ ইং
———————————

সামাজিকতার ভাণ ধরে বসে থাকবো
একটা সাধারণ বউ কিনবো
যা যা দেয়ার যা যা দিতে হয় সব দিয়ে,
কিনবো বলেছি বলে ভ্রু কুচকাবেন না!
ওরা বিক্রিই হতে চায় অনুমোদিত সামাজিক আসরে।

চুক্তিপত্রেরর ঝামেলা মিটে গেলে
চুপিচুপি দরজা এঁটে বউয়ের পাশে যেয়ে বসবো,
না না ফুলশয্যার প্রস্তুতি নিতে নয়,
আগে তো আমার সকল কন্টকশয্যার কথা
সাবলীল ভঙ্গিমায় বর্ণনা করি সোনা বউটার কাছে।

তার আগে একটা কাজ আছে খুব গুরুত্বপূর্ণ
এতক্ষন দেয়ানেয়া কেনাবেচার যে কথাগুলো বলেছি
সামাজিক চক্ষুর আড়ালে সেগুলো হিসেব করে করে
আদ্যপ্রান্ত তাকে ফিরিয়ে দেবো ভালবাসার যুক্তিতে,
চুকিয়ে নেবো সব চুক্তি, আর দুজনে আঁতাতবদ্ধ হবো।

তারপর সবার অগোচরে দুজন পালিয়ে যাবো সমাজ ছেড়ে
সুুদূর কোন বালুচরে- ঝর্ণার আশপাশ সবুজ পাহাড়ে,
সমাজ জানবে আমরাও সামাজিক, আমারও বৈদিক-
আর যোগ্যতার পানে চেয়ে যারা প্রেম খুঁজে বেড়ায়
ভবিষ্যতের চুক্তি নিয়ে, তারা বিক্রি হওয়ার জন্য
বসে থাক সেজেগুজে – কেউ তাদের কিনে নিয়ে
গিয়ে প্রেম শেখাক, কেউ তাদের ভালবাসা বুঝা’ক-
আবেগ চেনা’ক- চেনা’ক হৃদয়; যা বিক্রির জন্য নয়!

হৃদয়; যা বিক্রির জন্য নয়!
– নিবিড় রৌদ্র।
তারিখ- ২০।০৩।১৫ ইং
————————————–

১ thought on “নিবিড় রৌদ্রে’র চার কবিতা…!

  1. কবিতাগুলির বক্তব্য
    কবিতাগুলির বক্তব্য সুন্দর।
    ছন্দমিল রেখে কবিতা লিখতে হলে আরও অনেক দিকে খেয়াল রাখার দরকার হয়। সেগুলি রক্ষা হয়েছে বলে মনে হয়নি গুরুভাই।

    কঠিন মন্তব্য করে ফেললাম হয়ত। একজন পাঠক হিসেবে সেটি তো করতেই পারি, তাই না!

    কয়েকটি বানান চোখে পড়ল। সংশোধন করে পোস্ট দিতে পারেন। সাথে থাকবেন আশাকরি।

    নুপুর>নূপুর
    ইস্যূ>ইস্যু
    প্রানয়িক>প্রাণয়িক
    ইস্যূর>ইস্যুর
    ইস্যূটাই>ইস্যুটাই
    জগৎচারিনী>জগৎচারিণী (আমি নিশ্চিত নই, এটাই যৌক্তিক মনে হচ্ছে)
    ব্যাথা>ব্যথা
    যাছিত>যাচিত
    ঘরেঘরে>ঘরে-ঘরে>ঘরে ঘরে
    চুক্তিপত্রেরর>চুক্তিপত্রের
    কন্টকশয্যার>কণ্টকশয্যার (ণ+ট)
    এতক্ষন>এতক্ষণ
    দেয়ানেয়া>দেয়া-নেয়া (দ্বিত্ব শব্দে কখনও কখনও হাইফেন ব্যবহার করলে বুঝতে সুবিধা হয়)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *