উৎসবে আমি

সেমাই খাইতে ভালো লাগে নাহ।ঘরে গেলে এখনো সেমাই দিলে খাই নাহ।কিন্তু,ঈদের সময় পাশের বাসার আন্টির সেমাই খাইতে কোন ঈদ মিস গেছে জানি নাহ।ধর্মে গরুর মাংস জায়েজ নাহ।আন্টির রান্না ঘরে বসে বসে ছোট বেলায় কোরবানি ঈদে রুটি সেকতাম।হুজুর অতিথি আসলে তাদের সাথে মিলে আপ্যায়ন করতাম।নিজের মা-বাবা মানা করা তো দূরে থাক।তিন দিন বাসাই আসতাম নাহ।আন্টিরা বাইরে বেড়াতে গেলে নিজেদের আত্মীয়দের পরিচয় দিতো আমার ছেলে।

সেমাই খাইতে ভালো লাগে নাহ।ঘরে গেলে এখনো সেমাই দিলে খাই নাহ।কিন্তু,ঈদের সময় পাশের বাসার আন্টির সেমাই খাইতে কোন ঈদ মিস গেছে জানি নাহ।ধর্মে গরুর মাংস জায়েজ নাহ।আন্টির রান্না ঘরে বসে বসে ছোট বেলায় কোরবানি ঈদে রুটি সেকতাম।হুজুর অতিথি আসলে তাদের সাথে মিলে আপ্যায়ন করতাম।নিজের মা-বাবা মানা করা তো দূরে থাক।তিন দিন বাসাই আসতাম নাহ।আন্টিরা বাইরে বেড়াতে গেলে নিজেদের আত্মীয়দের পরিচয় দিতো আমার ছেলে।
জীবনে যারে নিজের হাতে কবর দিসি,বন্ধুর বাবা।জানাজা,কবরের হুজুর বন্ধুরে বলছিল,এমন বন্ধু-বান্ধব পাওয়া মুশকিল।আমি খুব কম ঈদ দেখেছি ঈদের জামাতের দিন সকালে বৃষ্টি হয় নাহ।সাত সকালে আঙ্কল আর তার ছেলে আমার বন্ধুরে ছাতা দিয়ে দাঁড়ায়ে থাকতাম মসজিদের সামনে।নিজে ধুতির গিট বাঁধা শিখি নাই।আগে শিখলাম পায়জামা বাঁধার গিট।পাঞ্জাবী পরা শিখলাম তাদের কাছ থেকে।এর পরের ঈদ গুলোতে যখন তাদের সাথে হাঁটতে হাঁটতে মসজিদের দিকে যেতাম অপেক্ষা করতাম কবে করব কোলাকুলি????আমাদের ঈদের বন্ধে বাড়ি যাওয়া হতো নাহ।বাবা ঈদের বন্ধে জামাতের মাঠে পানির গাড়ির দায়িত্বে থাকতেন।মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুবাধে বাবার কাছে মসজিদ কমিটির এইটা আবদার ছিল।হাসিমুখে তিনি দাবী পূরণ করতেন।বাবরী-রাম মন্দিরের ভাঙ্গা গড়ার তাণ্ডব লীলা দেখি নাই।তখন নাকি বাবাকে আর মাকে বলেছিল,এই পাড়ায় তোমগো গায়ে হাত দেওয়ার আগে আমাদের মাথা পড়বে।আমি ছিলাম ছোট।
এলাকায় থাকা অবস্থায়,আমি কোন দিন বুঝি নাই এরা মুসলমান।প্রমাণ দেবো?????এখন দেশ টিভিতে খবর পড়ে ডাক্তার নাতা-শা খুরশিদ আপুর সাথে বাবুদার প্রেম।এখনো বিয়ে-শাদী করে ঘর সংসার করছে সুখে।এখনো কেউ ধর্মান্তরিত হয়নি।আমাদের পাড়ায় এই রকম ঘটনা অনেক।কেউ কোর্ট কাচারি করে নাই।উল্টা আনন্দের সহিত দাওয়াতের সাথে ধুম-ধাম খেয়েছি।এদের আমার কখনো মনে হয়নি এরা পৃথিবীর বড় অসুখী।তখনো জানতাম নাহ নাতা শা দি মুসলিম।

পাহাড়ের দিকে বাবা চাকরী করার সুবাধে চাকমা,মারমা,বড়ুয়া এক কথায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাথে চলে আসছি জন্ম লগ্ন থেকে।পূর্ণিমার ফানুশ উড়ানোর সময় মনের ইচ্ছা মনে মনে ধারণ করা শিখেছি।ফানুশের পিছনে দৌড়ানোর পিছে পিছে এলাকা থেকে গ্রাম,রাস্তা-ঘাট বাড়ির ছাদ পর্যন্ত ছুটে গিয়ে না পেয়ে ফেরত আসা।ঘামে একাকার হয়ে খালী গায়ে নদীর বাতাসে সন্ধ্যার সময় পাড় করে রাতের দিকে বসে থাকা।শুধু পূর্ণিমা কেন??????আসছে চৈত্র সংক্রান্তিতে তাদের ঘরে পাঁচন খেতে যাওয়া ঘোরাঘুরি শেষে আবার নদীর পাড়ে বসি।সন্ধ্যায় যখন পূর্ণিমার চাঁদ যখন পুরো শরীর গ্রাস করে নেয় তখনো বুঝতে পারি নাই বন্ধু লেলিন,শুভ বৌদ্ধ।

কোট আর টাই পরে বিয়া করা যায় জানতাম নাহ।আজীবন দেখসি ধুতি পাঞ্জাবী পড়ে না হয় পায়জামা পাঞ্জাবী পরে বিয়া।বউটাকেও লাগে পরীর মত।ইস্টার সানডে,সান্টা ক্লস যে খ্রিস্টান বুঝতে পারতাম নাহ।ছাত্রজীবনে আমার প্রথম ক্লাসে কথা বলা মেয়েটি ছিল সোফিয়া।সে আমাকে আবার ইচ্ছাপূরণের মালিক সান্টা ক্লজকে চিনিয়েছিল।আমি বুজতে পারি নাই আজকে সোফিয়া বড় হয়ে খ্রিস্টান হয়ে যাবে।

আমাদের শিব রাত্রিতে হোক আর কালী পূজা।দুর্গা পূজা হোক আর পূর্ণিমায় ভরা লক্ষ্মী পূজা।বন্ধুদের আলাদা ডিমান্ড।কোন দুর্গা পূজায় নিজের জামা-কাপড় নিজে পছন্দ করে কিনেছি জানি নাহ।আজকের দোল পূর্ণিমার হোলী খেলা তারা আসলে আরও জমে ভালো।অনেক মহোৎসবে আমি বন্ধু আরাফাত মিলে ডাল খেচুরীর বালতি নিয়া দৌড়াইসি এই মাথা থেকে ওই মাথা।দুর্গা বিজয়া দশমীর তিলক লাগানোর জন্য তারা সবাই দাঁড়াত সামনের কাতারে।বাবা-মা কোন কিছু কিনে দেওয়ার আগে দশমীর পাঞ্জাবী গিফট করতো আজিজ আন্টি।সেই পাঞ্জাবী পড়ে দশমীর অঞ্জলি নিতে দাঁড়াতাম মনেই হতো নাহ আমি হিন্দু।

এতগুলো মন্দির ভাঙ্গার পর ভেবেছিলাম হিন্দুরা আর দাঁড়াতে পাড়বে নাহ।আজকে দোল এর রং খেলা দেখে বুজলাম এই শক্তি মাথা নোয়াবার নয়।আজকে দেখলাম শামীমা নিতু নামে একজন লিখলেন আমাদের উৎসব নিয়ে আমি বুজলাম আমার সম্প্রতির বাংলা হারিয়ে যায়নি।যেদিন জায়নামাজ পুড়ল পতাকা ছিঁড়ল দেখলাম কেঁপে উঠলো অনেক বজ্র কণ্ঠ এরা ইসলামকে শ্রদ্ধা করেছে মন থেকে হাজার গুনে।রামুর ঘটনায় লিখেছে ও চাপ পড়েছে অসংখ্য কী-বোর্ডের হরফে।লিখেছে অনেক মুসলিম-হিন্দু-খ্রিস্টান।ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে সবাই।সবাই এক সাথে এক কণ্ঠে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনে।

হলে থেকে থেকে যখন মায়ের রান্না ভুলতে বসেছি তখন বন্ধু তন্ময়ের মা ডেকে এনে খাওয়া দেয়।উনি মুসলমান।এখনো যে সবার আগে বিপদে আপদে সবার আগে দৌড় লাগায় শুভ,সে বৌদ্ধ।আসছে ইস্টার সানডে তে চার্চে যার থ্রো দিয়ে ঢুকবো,অ্যালেন খ্রীস্টান।আসছে দুর্গা পূজায় ভেবেছিলাম নাড়ুর স্বাদ বদল হয়ে নোনতা হবে চোখের জলে।নাহ,হবে নাহ।আমি হিন্দু।শেষ বিন্দু দিয়ে নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখবো।

আমরা নাস্তিক নাহ কাফের নাহ ফ্যাসিবাদী তারা বলার কে??????শেষ বিচারের মালিক উপরওয়ালা।যা হিসাব নিকাশ আছে থাকবে তারে দিব।তাগোরে দেওনের কথা তাদের মওদুদীর কিতাবে থাকতে পারে।সুতরাং,তারা তাদের মওদুদীরে সেলাম ঠুকুক।আমি ঠুকলাম নাহ।

১০ thoughts on “উৎসবে আমি

  1. খুব ভালো লাগল লেখাটা। আমার
    খুব ভালো লাগল লেখাটা। আমার ছোট বেলা কেটেছে আব্বা যেই কোম্পানিতে চাকরী করতেন সেটার কলোনিতে। বারো রকম মানুষের বসবাস একসাথে। নানা ধর্মের, নানাজেলার মানুষ। তাই আপনার স্মৃতিগুলোর সাথে দারুন মিল খুঁজে পেলাম। নস্টালজিক কইরা দিলেন মিয়া। :বুখেআয়বাবুল:

    আমরা নাস্তিক নাহ কাফের নাহ ফ্যাসিবাদী তারা বলার কে??????শেষ বিচারের মালিক উপরওয়ালা।যা হিসাব নিকাশ আছে থাকবে তারে দিব।তাগোরে দেওনের কথা তাদের মওদুদীর কিতাবে থাকতে পারে।সুতরাং,তারা তাদের মওদুদীরে সেলাম ঠুকুক।আমি ঠুকলাম নাহ।

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. কিছু বলার নাই। প্রতিটা লাইনই
    কিছু বলার নাই। প্রতিটা লাইনই মনে হলো আমার, আমাদের (যারা মানুষ) মনের কথা :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

    1. আপনার লেখাটা পড়ে খুঊঊব ভালো
      আপনার লেখাটা পড়ে খুঊঊব ভালো লাগসে।নিজেও ভালোভাবে বোঝাতে পারতেসিনা……কোন দিন দেখা হলে মাল্টোভা চা খীলামু……

  3. আমরা নাস্তিক নাহ কাফের নাহ
    আমরা নাস্তিক নাহ কাফের নাহ ফ্যাসিবাদী তারা বলার কে??????শেষ বিচারের মালিক উপরওয়ালা।যা হিসাব নিকাশ আছে থাকবে তারে দিব।তাগোরে দেওনের কথা তাদের মওদুদীর কিতাবে থাকতে পারে।সুতরাং,তারা তাদের মওদুদীরে সেলাম ঠুকুক।আমি ঠুকলাম নাহ।

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  4. আমি বুজতে পারি নাই আজকে
    আমি বুজতে পারি নাই আজকে সোফিয়া বড় হয়ে খ্রিস্টান হয়ে যাবে।

    অদ্ভুত আমাদের সমাজ, মানুষকে ধার্মিক বানিয়ে দেয়।
    ধর্ম ছাড়া মানুষের আর কোন পরিচয় মুখ্য নয় !!!

  5. আমি শুধু এটুকুই বলবো, ধর্ম
    আমি শুধু এটুকুই বলবো, ধর্ম যার যার দেশ সবার। যারা অন্য ধর্মের মানুষকে সহ্য করতে না পারে তাদের এদেশে থাকার নৈতিক অধিকার নাই। কারণ এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল ধর্মের মানুষই অংশগ্রহণ করেছিল। সুতরাং যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে এদেশে রাজনীতি করতে চায় তারা অবধারিতভাবে দেশদ্রোহী এতটুকু বোঝার জন্য অনেক জ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনি করি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *