একটি পরিপূর্ণ ভালবাসা

ঘড়িতে দুপুর ২টা বেজে ৪০। আর অঝোরের কাছে রাত ২টা বেজে ৪০ ছুঁই ছুঁই। এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো ক্রিং……ক্রিং…।। ফোনটা বিরক্তি সহকারে রিসিভ করে
অঝোর – হ্যালো, আসসালামুয়ালাইকুম।
ওপাশ থেকে- ওয়ালাইকুম আসসালাম।
অঝোর – কে বলছিলেন?
ওপাশ থেকে- গলার স্বরটা ভুলেই গেছ।
অঝোর – না সত্যিই চিনতে পারছি না। কে বলছিলেন?
আবারও ওপাশ থেকে- আঝর আমি রিদি বলছি। ভালো আছ?


ঘড়িতে দুপুর ২টা বেজে ৪০। আর অঝোরের কাছে রাত ২টা বেজে ৪০ ছুঁই ছুঁই। এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো ক্রিং……ক্রিং…।। ফোনটা বিরক্তি সহকারে রিসিভ করে
অঝোর – হ্যালো, আসসালামুয়ালাইকুম।
ওপাশ থেকে- ওয়ালাইকুম আসসালাম।
অঝোর – কে বলছিলেন?
ওপাশ থেকে- গলার স্বরটা ভুলেই গেছ।
অঝোর – না সত্যিই চিনতে পারছি না। কে বলছিলেন?
আবারও ওপাশ থেকে- আঝর আমি রিদি বলছি। ভালো আছ?

বিছানা থেকে এক মোচড়ে উঠে বসলো আঝর। এতক্ষন রিদির সাথে কথা বলছিল সে। ও কেন এতদিন ফোন দিল হঠাত! যে মেয়ে একদিন তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো। শুধু মাত্র একটি মাত্র যুক্তিহীন কারন দেখিয়ে যে আমি তোমার কোন ফিউচার দেখতে পারছি না। তোমার সাথে থাকলে আমি হয়তো জীবনে সুখি হতে পারবো না। এ জীবনে কোন কিছু উপভোগ করতে পারবো না। আর আজ অঝোর সাক্সেসের পথে দেখেছে বলে ফোন দিয়েছে। হারামজাদী বেঈমান কোথাকার। নিজের জীবন দিয়ে তোকে ভালবাসতাম। আর তুই কিনা আমাকে ধোঁকা দিয়ে চলে গেলি। ওপাশ থেকে কথা আসলো,
রিদি- হ্যালো অঝোর, শুনতে পারছ? আমি রিদি বলছি।
অঝোর- হুম, তা বলে ফেল। ফোন দিয়েছে কিসের জন্য আমার মত অক্ষম মানুষের কাছে যে তোমাকে কোনদিন সুখি করতে পারবে না? আর তুমি তার ভবিষ্যৎ বানী করেছিলে।
রিদি- সরি বলার জন্য ফোন দিয়েছি। এর পর আর কোনদিন আমার কণ্ঠ তোমাকে শুনতে হবে না।
অঝোর- কেন, গলার স্বর কি প্লাস্টিক সার্জারি করাচ্ছ নাকি?
রিদি- অঝোর, আমি আজ মৃত্যুর দোরগোড়ায়। নাহ, তোমার অভিশাপে এমনটা ভেবে কষ্ট পেয় না। ঠিক যেদিন তোমায় ছেড়ে চলে এসেছিলাম তার ২দিন আগেই এর রিপোর্ট হাতে পেয়েছিলাম। আমার blood ক্যান্সার। একদম শেষ পর্যায়।
অঝোর- what? কি বলছ এসব? আমি কি তোমার মজার পাত্র নাকি যে সারা জীবন মজা করে যাবে!
রিদি- হিহহিহহিহ। কিন্তু দেখ ডাক্তারদের রিপোর্টের ভুল প্রমান করে আমি ঠিকিই আরও দু বছর বেঁচে গেলাম। রিপোর্ট টা হাতে পাওয়ার পর অনেক ভেবে ঐ সিদ্ধান্ত টা নিয়েছিলাম। কারন, আমি জানতাম তুমি আমাকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসো। আর আমার জন্য পৃথিবীকে তছনছ করে দিতেও দ্বিধা করবে না। খুব রাগ করেছ না? মিথ্যে মিথ্যে বলেছিলাম যে তোমার কোন ভবিষ্যৎ নেই। আমাকে কোনদিন সুখি করতে পারবে না। আমার কি দোষ বল? আর কি বা বলতাম তোমাকে! তোমার মত মানুষের যে বিধাতা কোন ত্রুটি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠায়নি। তখন যদি বলতাম- তুমি অনেক ভালো মানুষ। তোমার মত মানুষই হয় না। তাই তোমার সাথে আর সম্পর্ক রাখবো না। তুমি কি মেনে নিতে!

অঝোর এবার চিৎকার করে- কি বলছ তুমি এসব? মাথা কি ঠিক আছে? মজা নিচ্ছ আমার সাথে?
রিদি- অঝোর আমি জানি তুমি এখন অনেক চেঁচামেচি করবে। কিন্তু কোন যে লাভ হবে না। তোমার চেঁচামেচি তো আর আমার কানে পৌঁছাবে না বাবু। তুমি যখন আমার এ কথাগুল শুনছো তখন আমি মৃত্যু পথের পথিক। মৃত্যুর কিনারায় দাঁড়িয়ে তোমায় দেখছি। কথাগুল রেকর্ড করে আমার ছোট বোন তিথির কাছে দিয়ে গেলাম। ভালো থেক। আর পারলে আমাকে ক্ষমা করো। জানি আমাকে কোনদিনও ক্ষমা করতে পারবে না তুমি। যেভাবেই হোক একসাথে থাকার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমরা। কিন্তু আমি যে তা রাখিনি। প্রতারণা করেছি তোমার সাথে। এমনকি মৃত্যুর আগ মুহূর্তেও কথাগুল জানাইনি তোমায়। কি করবো বল! তোমার সাথে কথা বলার সাহস যে ছিল না। হয়তো দেখা যেত আজরাইল এসে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু আমি বায়না জুড়ে দিলামা আমি আর তার সাথে যাব না। হাহ হাহ হাহ। কি ক্ষমা করবে না আমায়?
প্লিস ক্ষমা করে দিও। না হলে যে আমার আত্মাকেও খোদা মাফ করবেন না। আর হ্যাঁ, দয়াকরে কোনদিন আমার কবরের পাশেও এসো না। দেখা যাবে যে আমি কবর ফেড়ে চলে আসলাম তোমার কাছে। আর লোকে ভূত ভূত বলে হৈচৈ বাঁধিয়ে দিল। তখন কি হবে বলত! মনে আছে তোমাকে ছেড়ে থাকতে পারতাম না বলে আমার ইতিহাস ক্লাস বাদ দিয়ে তোমার সাথে কেমেস্ট্রি ক্লাসে বসে পড়তাম। আচ্ছা শোন এখন আর কথা বলতে পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে এবার। শুধু শেষ একবার বলতে চাই ভালবাসতাম, ভালবেসেছি আর ভালবেসে যাব জনম জনম। বিদায় দাও এবার আমায়। ভালো থেক।
অঝোর- কান্নায় ফেটে পড়ে চিৎকারের সাথে রিদি।। তুমি কোথায়? কোথায় চলে গেলে। আমাকে ছেড়ে কেন চলে গেলে? আমার সাথে এমন করতে পারলে বেঈমান কোথাকার!
ওপাশ থেকে- হ্যালো অঝোর ভাইয়া। আমি তিথি। আপু তার মৃত্যুর ১ মিনিট পর আপনাকে ফোন করে এই রেকর্ড টা শুনাতে বলেছিল। তাই আপনাকে ফোন করা।
অঝোর- তিথি, তিথি আমার কথা শোন। তোমার আপু মজা করছে তাই না? ওয় স্বভাব টাই এরকম। নিজেকে বিশাল কিছি ভেবে অন্যের সাথে ফাজলামি করা তার hobby. আমি সিওর অ মজা করছে।

তিথি- না ভাইয়া, আপু মজা করেনি। ও আর এ দুনিইয়াতে নেই। তবে হ্যাঁ ও সত্যিই নিজেকে বিশাল কিছু ভাবতো। কিন্তু সেটা ততদিন যতদিন আপনি তার পাশে ছিলেন।
অঝোর- কোন হাসপাতালে তোমার আপু? এক্ষুনি বল আমাকে। আমি আসছি। অকে থাপড়িয়ে ঠিক করে ফেলব। আমাকে ধোঁকা দিয়ে চলে যাওয়া বের করছি।
তিথি- অঝোর ভাইয়া প্লিস পাগলামি করবেন না। কান্নাকাটি বন্ধ করে শান্ত হন। আপু চাইনি যে আপনি এমন করেন। আর ও এও চাইনি যে সেদিনের পর আর আপনি তাকে দেখেন। হয়তো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপনার চোখে নিজের জন্য ঘৃণা দেখতে হয় এই ভেবে। আর মৃত্যুর পর ভালবাসা। ঐ ভালবাসা দেখলে নাকি সে কবর পর্যন্ত যেতে পারবে না। এটাই আপুর শেষ ইচ্ছা ছিল। ভালো থাকবেন ভাইয়া। পারলে আমার আপুকে ক্ষমা করে দিবেন।
অঝোর- চিৎকারের সাথে না, আমি ক্ষমা করবো না ঐ প্রতারককে। ধোঁকাবাজ মেয়ে। আমাকে ধোঁকা দিয়ে চলে গেছে সে।

ওপাশ থেকে ফোন কেটে গেল। অঝোর এবার হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলো। আর বলতে লাগলো রিদি তুমি কোথাই? আমাকে ছেড়ে চলে যেও না। দুনিয়াতেই থাকতে তবুও নিজেকে শান্তনা দিতাম যে তুমি আছ। কিন্তু এখন আমি কি ভেবে নিজেকে শান্তনা দিব! আমিও আর বাঁচবো না। এ জীবন রাখতে চাই না আমি।
এবার একটা ম্যাসেজ আসলো ফোনে। ম্যাসেজ টা ওপেন করে পড়তে লাগলো অঝোর।
ভাইয়া আমি তিথি। আপুর বলে যাওয়া একটা কথা বলতেই আপনাকে ম্যাসেজ করছি।দয়াকরে মরার কতজা ভাববেনও না। আপনিই না আপুকে বলতেন আপনাদের দুজনার মধ্যে যে আগে মারা যাবে তখন অন্যজন যেন মরার কথা নাও ভাবে। সারা জীবন তার সৃতি বহন করে পথ চলে।

অঝোর উত্তরে জানালো- ধন্যবাদ তিথি। হ্যাঁ, তোমার আপুকে আমার জীবনে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। তুমি না মনে করালে হয়তো মৃত্যুর দিকেই পা বাড়াতাম। নতুন করে রিদিকে হারিয়ে ফেলতাম আমার জীবন থেকে। কিন্তু না, রিদি তুমি নতুন করে বাঁচবে। আমার মনের মাঝে আজ থেকে তার নতুন করে বেঁচে থাকার পথ চলা শুরু। সে কথা দিয়ে না রাখতে পারে। আমি আমার কথা রাখবো সারা জীবন। এ থেমে যাওয়া ভালবাসাকে পরিপূর্ণতা প্রদান করবো আমি। আর তোমার আপুকে বল তাকে বুঝতে না পারার জন্য যেন এ অক্ষমকে ক্ষমা করে দেয়। ভালো থেকো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *