আমজনতা বলছি

শুনলাম শহীদ রুমি স্কোয়াড জামাত শিবির নিষিদ্ধের দাবীতে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচীতে গেছে।এক শাহবাগে এখন দুইটা মঞ্চ।দুইটা মঞ্চ দাঁড়ানো মানেই এক মঞ্চের সাথে আরেক মঞ্চের যাচ্ছেনা। তাই আমরা আমজনতা বিপদে আছি! কোন মঞ্চে যাব!দুটো মঞ্চইতো জামাত শিবির বিরোধী।এদিকে আল্লামা শফির হেফাজতে ইসলামও নাকি লীগের থেকে বেশি জামাতবিরোধী!এতো গেল জনগণ,সরকার কোন মঞ্চে অবস্থান করছে? সরকার এই মুহুর্তে নাস্তিকবিরোধী মঞ্চে অবস্থান করছে,যেভাবে ব্লগ নিয়ন্ত্রণ ও ব্লগারদের তথ্য চাওয়া হচ্ছে সেটাই সরকারের ব্লগার বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করে।ব্লগারদের আর সরকারের প্রয়োজন নেই,এরা এখন একে একে মামলা খাবে কিংবা জামাত শিবিরে সাইলেন্ট কিলিংয়ের শিকার হবে। গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে আমার কয়েকটা কথা- #প্রথমত, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনে গড়ে ওঠে। #দ্বিতীয়ত,শাহবাগে মানুষ কারো ডাকে আসেনি,এসেছে নিজের প্রাণের দাবীতে। #তৃতীয়ত,সকল দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনতার পক্ষের সকল মানুষ এই আন্দোলনে এসেছে। আন্দোলন মূলত গড়ে উঠেছিল কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে জনক্ষোভ এবং সকল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি নিশ্চিত করতে। এর পাশাপাশি জামাত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ আরও কিছু দাবী চলে আসে।গণজাগরণ মঞ্চের এখনও পর্যন্ত কোন কর্মসূচী অসফল হয়নি।যেখানেই তারা সমাবেশ করেছে সেখানেই সফল হয়েছে। চট্রগ্রাম­ ে প্রশাসনের
১৪৪ধারা জারি এবং ডাঃ ইমরানের গাড়িবহর আটকে দেওয়া সরকারেরই ব্যর্থতা। এখনও ধরতে গেলে মূলদাবী একটাও কার্যকর হয়নি।সামনে আরও কিছু রায় আসছে।এ অবস্থায় সর্বোচ্চ ঐক্য দরকার।সেখানে শোনা যাচ্ছে বিভক্তির সূর!গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ২৬শে মার্চের পর কঠিন কর্মসূচীর প্রত্যাশা ছিল সবার কিন্তু সেখানে যে ধরনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হল তা সরকারের ঘুম ভাঙাতে যথেষ্ট নয় বলেই মনে করি। গণজাগরণ মঞ্চের একটি অগ্রগামী অংশ শহীদ রুমী স্কোয়াড যে অনশনের কর্মসূচী পালন করছে এটা গণজাগরণ মঞ্চকে ঘিরে সারাদেশে যে আন্দোলন চলমান সেটার ঐক্য কতটুকু ধরে রাখতে পারবে এটা প্রশ্নসাপেক্ষ। শহীদ রুমি আজ
বেঁচে থাকলে কি অনশনে যেতেন,নাকি যুদ্ধ করতেন?এই প্রশ্নটা শহীদ রুমি স্কোয়াডের অনশনকারীদের প্রতি। গণজাগরণ মঞ্চ কোন সংগঠন বা দলীয় মঞ্চ নয়,এটা জনগণের মঞ্চ। এই মঞ্চ আপোষকামীদের জায়গা নেই, এই মঞ্চ বিভক্ত হবার নয়। কোনরকম ষড়যন্ত্র করলে সে যেই হোক,জনগণের হাত থেকে নিস্তার পাবেনা। গণদাবীই হচ্ছে এই আন্দোলনের চালিকাশক্তি,কোন নেতৃত্ব বা সংগঠন নয়।জনগণ সব জানে এবং বোঝে। এতগুলো লোকের আস্থার জায়গায় দাঁড়িয়ে কোনরকম চুদুর বুদুর সহ্য করা হবেনা।গণজাগরণের নেতাদের
বলছি, এখনও সময় আছে জনগণের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচী দিন, তা না করতে পারলে সরে দাঁড়ান।

২ thoughts on “আমজনতা বলছি

  1. এদের কেউ এখনো গণজাগরণ মঞ্চকে
    এদের কেউ এখনো গণজাগরণ মঞ্চকে অস্বীকার করছেনা। নেতৃত্বকেও বাতিল করছেনা। কর্মসুচী নিয়ে মতদ্বৈততা আছে। শহীদ রুমি স্কোয়াড বা আপনার -আমার সবারই ব্যক্তিগতভাবে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। জামায়াত-শিবির বা যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে তরুনদের মাঝে যে জাগরণ তৈরী হয়েছে সেটা অবশ্যই শাহবাগ আন্দোলনের ফসল। আজ আমি বা আপনি আমাদের স্ব-স্ব অবস্থান থেকে আমাদের যে প্রতিবাদগুলো করছি সেটাও এই গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের ফসল। গণজাগরণকে পাশ কাটিয়ে এখনো কেউ বা কোন গোস্টি আলাদা কোন মঞ্চ করেনি। যা হচ্ছে এসব চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতা মাত্র। তাই আমি এখনো কেউ ভুল পথে হাটছে বলে মনে করছি। যখন মনে হবে, তখন প্রত্যাখ্যান করে মুল আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকব।

  2. আন্দোলনের শুরু তো সরকারের
    আন্দোলনের শুরু তো সরকারের জামাতের সাথে আঁতাৎ নিয়া।জামাত এর রাজনীতি যে ধর্মনীতি তা শেখ কন্যা বলে দিসেন ট্যাকনিক্যালী।সো সরকার কি করবে তা আল্লাহ মালুম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *