স্মৃতি থেকে মুছে ফেলা যাবতীয় পাপ

১.

তপ্ত রৌদ্রমাখা একটি পূর্নদৈর্ঘ্য দুপুরের শূণ্যতা মাথায় নিয়ে হাঁটি। অনেক আগে, মনে পড়ে, এক বিষণ্ন কোমল ম্লান বালিকার মেঘরঙ আঁচলে ছাঁকা এক আঁজলা লেবুজলে আজন্মের তৃষ্ণা মিটিয়েছিলাম। সেই জলে ডুবে কসম মরে যেতে ইচ্ছে হয় এখন।

২.

১.

তপ্ত রৌদ্রমাখা একটি পূর্নদৈর্ঘ্য দুপুরের শূণ্যতা মাথায় নিয়ে হাঁটি। অনেক আগে, মনে পড়ে, এক বিষণ্ন কোমল ম্লান বালিকার মেঘরঙ আঁচলে ছাঁকা এক আঁজলা লেবুজলে আজন্মের তৃষ্ণা মিটিয়েছিলাম। সেই জলে ডুবে কসম মরে যেতে ইচ্ছে হয় এখন।

২.
অন্ধকারে ঝুমবৃষ্টির এক অস্পষ্ট ঘ্রাণ আছে, খুব আলাদা। জানলা’র পাশে মেহগনি গাছটার বেরঙ পাতার আড়ালে টুপটাপ টুপটাপ ঝরে পড়ে যখন, রক্তের শিরায় শিরায় অচেনা এক ক্ষোভের জন্ম হয়, অপ্রাপ্তির বেদনায় আচ্ছন্ন কেমন ধোঁয়াটে ক্ষোভ। তিরতির করে কাঁপে। উন্মাতাল আলোড়ন তোলে গভীরে। তখন অরুণদের বাসার পেছনে পুকুরঘাটের শ্যাওলাধরা সিড়িতে বসে থাকি। থৈ থৈ জলে আনমনে কার যেন ছবি আঁকি, খুব গোপনে। বাতাসে বৃষ্টিদগ্ধ নিঃশ্বাস ফেলে আসি।

৩.
আজ সবুজ রঙের তুলিতে সেই কিশোরটিকে আঁকতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে আমার। সেই গ্রাম্য দুরন্ত কিশোর। যার মুখে লেগে আছে সাঁঝবেলায় মায়ের হাতে মাখানো দুধভাতের ঘ্রাণ। দুপুর বেলা ঘুম পালিয়ে একছুটে চলে যেতে চায় সে জন্মাবধি অচেনা দূরের কোনো গাঁয়ে। খুব সকালে তার চুল পরিপাটি করে অচড়িয়েদেয় মা। তারপর দিগন্তজোড়া হলুদ ধানক্ষেতের আলপথে ধারাপাত শিক্ষা বই সযতনে বুকের সাথে চেপে ধরে ইশকুলে যায়সে। বিকেলে অঘ্রানের ভরা নদীটির টলটলে স্নিগ্ধ জলে ছোট্ট ডিঙ্গি নৌকা বেয়ে এলোমেলো ঘুরে বেড়ায়। ঘুড়ি উড়িয়ে সন্ধ্যায় তড়িঘড়ি ঘরে ফিরে। উঠোনের ধারে কলপাড়ে হাত মুখ ধোঁয়। পড়তে বসে। কিছুতেই সেই কিশোরটির মুখের আদল আঁকতে পারছি না আমি। তার মায়াময় টলটলে গভীর চোখ। স্নিগ্ধ হাসি। কেবলই ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে। ক্রমাগত চেষ্টা করেই যাচ্ছি। সন্তর্পণে গাঢ় হচ্ছে রাত।

৪.
মাঝ বোশেখের এক দুপুরে উন্মত্ত বাতাসের ঝাপটায় উত্তুরের নদীটির কিনারে কাশফুল-ঝাড়ের ভেতর আচমকা পথ হারিয়েছিলো যে দুর্দান্ত ফড়িং, বহুকাল আগেই তার রোদপাখায় লিখে রেখেছিলাম প্রেম। তরুণী দূর্বাঘাসের আচঁল থেকে চুরি করেছিলাম স্নেহ ও মমতা। তারপর বহতা নদীর চ্ছলচ্ছল মাতাল জলের শব্দছন্দে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তন্দ্রাচ্ছন্ন সুখময় ক্লান্তিতে। মনে পড়ছে … স্মৃতি.. ক্রমশ …

৫.
প্রায়ান্ধকার ঘরে আজ, মাঝরাত্তিরে চাঁদ জ্যোস্না জ্বালিয়ে দিয়ে গ্যাছে আর আমি বিস্মৃতির অরণ্য থেকে তুলে আনছি পাপ। নির্বাচিত মেঘ।

২৮/১০/১২

৫ thoughts on “স্মৃতি থেকে মুছে ফেলা যাবতীয় পাপ

  1. খণ্ড খণ্ড দৃশ্যকল্পের মাঝে
    খণ্ড খণ্ড দৃশ্যকল্পের মাঝে নিজেরই যাপিত জীবনের চিত্রের ছাপ দেখতে পেলাম। ভালো লাগল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *