বিশ্বাস বিজ্ঞান নাস্তিকতা নাকি ধর্মান্ধতা পর্ব -০১

অভিজিত আজ নেই, তিনি রেখে গেছেন তার সৃষ্টি এবং সেই সাথে অসংখ্য প্রশ্ন এবং জিজ্ঞাসা।


অভিজিত আজ নেই, তিনি রেখে গেছেন তার সৃষ্টি এবং সেই সাথে অসংখ্য প্রশ্ন এবং জিজ্ঞাসা।

মানুষের জানার আগ্রহ নিরন্তর, কৌতূহলী মনের খোরাক মেটাতে তাই মানুষ বার বার ছুটে যেতে চায় তার জ্ঞান মনন এবং বিজ্ঞানের কাছে। বিজ্ঞানের আলোকে যেটা সে সত্য বলে প্রমাণ করতে পারে সেটা সে গ্রহন করে আর যেটা প্রমানাতীত সেটা সে ছুড়ে ফেলে দিতে চায়। দ্বন্দ্ব এবং সন্দেহের সৃষ্টি হয় প্রমাণ অপ্রমানের মাপকাঠিতে, বিশ্বাসের সেখানে ফুটো-কড়ির মূল্য নাই। আবার পৃথিবীতে সমস্ত ধর্মবিশ্বাস একমাত্র বিশ্বাসের ভিত্তিতেই প্রতিপালিত হয়ে থাকে, সেখানে প্রমাণ বা অপ্রমানের প্রশ্ন গৌণ। বিজ্ঞান চায় প্রমাণ, ধর্ম চায় বিশ্বাস কিন্তু প্রমাণ বিহীন বিশ্বাস এবং বিশ্বাসবিহীন প্রমাণ দুটোই পারস্পারিক সাঙ্ঘরশিক। ধর্ম এবং বিজ্ঞানের এই সংঘর্ষ নৈমত্তিক তবুও মানুষ এই দুটো বিষয়কে আলাদা রেখে বিজ্ঞান এবং ধর্মের চর্চা করে আসছে।

একটু উদাহরন দিয়ে বলি। বিজ্ঞানের একজন ডাকসাইটে অধ্যাপক তার সন্তানের অজানা অমুলক অমঙ্গলের আশঙ্কায় এখনও সাধুবাবার দারস্ত হন বা কবিরাজ বাড়ী’র পড়া পানি খাওয়ান। আবার একই রকমভাবে কোন একজন ধর্মীয় আলেম দোয়া কালামের তোয়াক্কা না করে ছুটে যান এফ সি পি এস ডাক্তারের কাছে। এখানে কোনটা কাজ করছে, পুরোটাই বিশ্বাস নাকি পুরোটাই প্রমাণ? তাই মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে একাধারে বিজ্ঞান এবং ধর্মের চর্চা করে আসছে কোন বাঁধাবিঘ্ন ছাড়াই। বর্তমানে এই পাশাপাশি চলার পথে বিশ্বাস এবং যুক্তির পরোয়া না করে কাঁটা হয়ে বিঁধেছে উগ্র ধর্মান্ধতা এবং কট্টর ধর্মীয়বিদ্বেষ। নাস্তিকতা তার চরিত্র হারিয়ে পা বাড়িয়েছে কট্টর ধর্মবিদ্বেশের পথে আর পথ বেকে ধার্মিকতা গিয়ে শেষ হয়েছে উগ্র ধর্মান্ধতার ঠিকানায়।

কোন ধর্মেই উগ্রপন্থীদের স্থান নাই, জানি অনেকেই কোরান হাদিসের খন্ড খন্ড টুকরা জোড়াতালি দিয়ে আমার এ বক্তব্যের অসারতা প্রমানে মরিয়া হয়ে উঠবেন।যুক্তি এবং বিজ্ঞানের আলোকে কাফের কতল, ইয়াহুদি নিধন, বহু বিবাহ, দাসী সহবত, নবীর চরিত্র, আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন তুলবেন। কিন্তু প্রথমেই বলে রেখেছি, সব কিছু যুক্তি দিয়ে বিচার করতে চাওয়া বোকামি, বরং তা বিশ্বাসের উপর ছেড়ে দেওয়া মঙ্গল। তাতে আর যাই হোক, বিশ্বাস এবং বিজ্ঞানের জাত পাতের চৌদ্দগুষ্ঠির ঠিকুজি উদ্ধার করার জন্য গলদঘর্ম হতে হয় না। ধর্মের দোহায় দিয়ে মানুষ হত্যা যতখানি অপরাধ, বিজ্ঞানের দোহায় দিয়ে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করাও তার চাইতে কম অপরাধ নয়।

সারা পৃথিবীতে অনুসন্ধিৎসু বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের চেয়ে ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুসারি আস্তিক মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। হোক হিন্দু বা বৌদ্ধ কিম্বা খ্রিস্টান বা মুসলিম, প্রত্যেককেই তাদের কিছু ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুগত থাকতে হয়, এর বাইরে যারা যুক্তির ভেলায় ধর্মের সাগর পাড়ি দিতে চান তারা হয় বেকুব না হয় দানব। শত শত কোটি ধর্মীয় বিশ্বাসী মানুষের ধর্মকে অবহেলা করা, হেয় করা, গালি দেওয়া শুধু অদূরদর্শিতার লক্ষণ’ই নয়, এটা চরম রকম মূর্খতাও বটে।

অভিজিত যা চেয়েছিলেন সেটা হল বিজ্ঞানের আলোকে ধর্মকে ব্যাখ্যা করা। আবার উল্টোপিঠে ফারাবী শফিউর রহমান’রা চান সমস্ত কিছুই ধর্মের চোখে দেখতে। উভয়েই ভুলে যান, বর্ণনা এবং ব্যাখ্যার অতীত কিছু থাকবেই এখানেই সৃষ্টির উৎকর্ষতা আর এখানেই মানুষের নিদারুন জানার আকাঙ্ক্ষা। মানুষ এই দুইয়ের সমন্বয়ে তার জ্ঞানকে পরিশীলিত করে তুলবে। মানুষের মনে এখনও এমন অনেক প্রশ্ন’ই আছে যা এখনও বিজ্ঞান প্রমাণ করতে পারেনি বা তার ব্যাখ্যা দিতে পারেনি আবার ধর্মেও এমন অনেক বিষয়ের আলোচনা আছে যা এখন পর্যন্ত প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা বিজ্ঞানের অপারগতাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখি যার মুল উপজীব্য প্রমাণ অথচ ধর্মে যেখানে প্রমানের বালাই নেই সেখানে আমরা খুঁজি যুক্তি! এটা হাস্যকর নয়? বিজ্ঞানের সবটাই কি প্রামাণিক? অনুশিদ্ধান্ত কি বিজ্ঞানের অংশ নয়? যেটা একসময় বিজ্ঞানে সত্য বলে প্রমানিত হয়েছে সেটা কি কালে কালে মিথ্যা বলে প্রমানিত হয় নি ? বিজ্ঞান কি অকাট্য? বিজ্ঞান যদি অকাট্য না হয়, প্রামাণিক বিষয়াবলীও যদি এক সময় মিথ্যা বলে প্রমানিত হয়ে থাকে তবে ধর্মকে কেন অকাট্য হতে হবে? বিজ্ঞানের ভুলকে মেনে যেমন আমরা বিজ্ঞানের চর্চা করি, সেরকম ভাবে ধর্মের ব্যাখ্যাতীত বিষয় মেনে নিয়ে কি ধর্ম চর্চা চলতে পারে না?

কথায় কথায় “মুক্তমনা” শব্দটির যথেচ্ছ ব্যবহার দেখছি। এটা বেশিরভাগ যারা ধর্মকে নিয়ে সমালোচনা করেন তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, যারা ধর্মের নানা অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করেন তারাই মুক্তমনা! ”মুক্তমনা”র সংজ্ঞা কি এই রকম? একটু পরিষ্কার চোখে, সাদা মন নিয়ে যারা কোন বিষয়ের নানা রকম অসঙ্গতি তুলে ধরেন তারাই মুলত মুক্তমনা হওয়ার দাবীদার। সমাজ নিয়ে আলোচনা, দর্শন নিয়ে পর্যালোচনা, অর্থনীতি বিষয়ে সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে যারা নানা রকম পরীক্ষানিরীক্ষা করেন, তারা কি মুক্তমনা নন?

তাহলে, ধর্মই কেন একমাত্র মুক্তমনাদের টার্গেটের বিষয় হবে? এ যাবত মুক্তমনা’রা যত আলোচনা সমালোচনা করেছেন সেটার মুল উপজীব্য ধর্ম, ধর্মকে নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলাটাই কি মুক্তমনা হওয়ার প্রথম শর্ত?

আপনি বিজ্ঞানের ছাত্র না হলে কোনদিন বিজ্ঞানী হতে পারবেন না, আপনি অর্থনীতির ছাত্র না হলে কখনও অর্থনীতিবিদ হতে পারবেন না। তাহলে, ধর্ম না জেনে আপনি ধার্মিক হবেন কি করে বা ধর্মের সমালোচনা করবেন কি করে? একজন ধার্মিক, একজন ধর্মান্ধ, একজন নাস্তিক এবং একজন ধর্মবিদ্বেষী অবশ্যই ধর্মজ্ঞানে জ্ঞানী হবেন, অন্তত ধর্ম পালন এবং সমালোচনা উভয়ই করার জন্য ধর্মজ্ঞান থাকাটা জরুরী যেমন জরুরী সম্মুখ অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞান রাখাও। একজন মুক্তমনা কোরানের হাফেজ নন, তাফসির জানেন না, তিনি মুফতি বা মুহাদ্দিস নন তাহলে তিনি ধর্মের সমালোচনা করবেন কোন জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে? বিজ্ঞানের জ্ঞান দিয়ে কোরানের সমালোচনা করবেন? একজন লোক যদি বিজ্ঞান না জেনে বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানের কোন আবিষ্কারকে অস্বীকার করেন তবে তিনি যেমনটি মূর্খ বলে বিবেচিত হবেন তেমনি একজন লোক যদি ধর্ম না বুঝে ধর্মকে সমালোচনা করেন বা গালি দেন তিনিও ততটাই মূর্খ বলে বিবেচিত হবেন। মুক্তমনা তকমাধারী কাউকে আমি এখন পর্যন্ত ধর্ম সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হতে দেখিনি তাই এই শ্রেণীর মুক্তমনাদেরকে জ্ঞানী ভাবাটা মূর্খতা।

ধর্মান্ধরা কি করছে?

নাস্তিক বা ধর্ম বিদ্বেষীরা ধর্মের সমালোচনা করেন ধর্ম না জেনে আর ধর্মান্ধ’রা ধর্মকে অপমান করেন ধর্মের অপব্যাক্ষা বা ভুল ব্যাখ্যা করে। এখানে উভয়ই সুচারুভাবে ধর্মকে সমভাবে অপদস্ত বা বিতর্কিত করে তোলেন। তাই, একজন ধর্মান্ধ এবং একজন নাস্তিক বা ধর্মবিদ্বেষী প্রত্যেকেই সম অপরাধে অপরাধী। একজন উগ্র ধর্মান্ধ যেমন একজন নাস্তিককে ধর্মবিদ্বেষী হতে উস্কানি দ্যায় তেমনি একজন উগ্র নাস্তিক বা ধর্মবিদ্বেষী একজন চরম ধর্মান্ধ সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ অবদান রাখে। অপরাধের মাপকাঠিতে এরা হয়তো সমান নয় কিন্তু নিশ্চিতভাবেই একজন চরম নাস্তিকের চেয়ে একজন উগ্র ধর্মান্ধের প্রতিক্রিয়া মারাত্মকরকম ভাবেই বেশি পরিলক্ষিত হয়। লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, বিশ্বজুড়ে উগ্রধর্মান্ধরা ধর্মের নামে শয়ে শয়ে নাস্তিককে কতল করেছে এবং এখনও করছে কিন্তু একজন নাস্তিক বা একজন ধর্মবিদ্বেষী তার মতবাদ প্রকাশ বা বাস্তবায়নের বিরোধিতা করার কারনে কোন ধর্মান্ধকে খুন করেছে এমন প্রমাণ বিশ্বজুড়ে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। একারনে স্বীকার করুন চাই না করুন, একজন উগ্র ধর্মান্ধ’র চাইতে একজন নাস্তিক বা ধর্মবিদ্বেষীকে আপনার অনেক বেশি সহনশীল বলে মেনে নিতেই হবে এবং বিশ্বজুড়ে উগ্র ধর্মান্ধদের কার্যকলাপ সেটাই নির্দেশ করছে।

ঘৃণ্য উভয়েই, তবে একজন মানুষ হিসেবে নাস্তিক এবং ধর্মবিদ্বেষীদের পাশাপাশি এইসব ধর্মান্ধ উগ্রবাদীদেরকেও সমভাবে নিন্দা জানাই।

১৭ thoughts on “বিশ্বাস বিজ্ঞান নাস্তিকতা নাকি ধর্মান্ধতা পর্ব -০১

  1. নাস্তিকতা তার চরিত্র হারিয়ে
    নাস্তিকতা তার চরিত্র হারিয়ে পা বাড়িয়েছে কট্টর ধর্মবিদ্বেশের পথে আর পথ বেকে ধার্মিকতা গিয়ে শেষ হয়েছে উগ্র ধর্মান্ধতার ঠিকানায়।

    ইহাই মূল কথা।

  2. বিজ্ঞান আস্তিকদের পক্ষেও নেই
    বিজ্ঞান আস্তিকদের পক্ষেও নেই , নাস্তিকদের পক্ষেও নেই। বিজ্ঞান আছে বিজ্ঞানের মত। যারা মনে করে বিজ্ঞান নাস্তিকদের পক্ষে তারা নিতান্ত মুর্খ ছাড়া কিছুই নয়।
    সুন্দর পোস্টের জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

    1. বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ আর

      বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ আর ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান খোঁড়া

      একজন বিখ্যাত মনিষীর বানী এটা। আশা করি বিজ্ঞান এবং ধর্মের সম্পর্ক নির্ণয়ে এই বানী আপনাকে খানিকটা সাহায্য করবে।

  3. নাস্তিকতা তার চরিত্র হারিয়ে

    নাস্তিকতা তার চরিত্র হারিয়ে পা বাড়িয়েছে কট্টর ধর্মবিদ্বেশের পথে আর পথ বেকে ধার্মিকতা গিয়ে শেষ হয়েছে উগ্র ধর্মান্ধতার ঠিকানায়।
    কোন ধর্মেই উগ্রপন্থীদের স্থান নাই, জানি অনেকেই কোরান হাদিসের খন্ড খন্ড টুকরা জোড়াতালি দিয়ে আমার এ বক্তব্যের অসারতা প্রমানে মরিয়া হয়ে উঠবেন।যুক্তি এবং বিজ্ঞানের আলোকে কাফের কতল, ইয়াহুদি নিধন, বহু বিবাহ, দাসী সহবত, নবীর চরিত্র, আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন তুলবেন। কিন্তু প্রথমেই বলে রেখেছি, সব কিছু যুক্তি দিয়ে বিচার করতে চাওয়া বোকামি, বরং তা বিশ্বাসের উপর ছেড়ে দেওয়া মঙ্গল। তাতে আর যাই হোক, বিশ্বাস এবং বিজ্ঞানের জাত পাতের চৌদ্দগুষ্ঠির ঠিকুজি উদ্ধার করার জন্য গলদঘর্ম হতে হয় না। ধর্মের দোহায় দিয়ে মানুষ হত্যা যতখানি অপরাধ, বিজ্ঞানের দোহায় দিয়ে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করাও তার চাইতে কম অপরাধ নয়।

    অসাধারণ বলেছেন !

    বিজ্ঞানের ভুলকে মেনে যেমন আমরা বিজ্ঞানের চর্চা করি, সেরকম ভাবে ধর্মের ব্যাখ্যাতীত বিষয় মেনে নিয়ে কি ধর্ম চর্চা চলতে পারে না?

    প্লশ্ন রয়েই যায় …

    ধর্মকে নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলাটাই কি মুক্তমনা হওয়ার প্রথম শর্ত?

    আসলে বর্তমান একচোখা উগ্র নাস্তিকদের দ্বারাই শুধুমাত্র ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় ।প্রকৃত মুক্তমনারা ধর্ম নিয়ে যে রকম কিছু প্রশ্ন তুলতে পারেন তেমনি উগ্র নাস্তিকতা নিয়েও কিছু প্রশ্ন তুলতে পারেন।

    একজন লোক যদি বিজ্ঞান না জেনে বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানের কোন আবিষ্কারকে অস্বীকার করেন তবে তিনি যেমনটি মূর্খ বলে বিবেচিত হবেন তেমনি একজন লোক যদি ধর্ম না বুঝে ধর্মকে সমালোচনা করেন বা গালি দেন তিনিও ততটাই মূর্খ বলে বিবেচিত হবেন।

    সহমত !

    নাস্তিক বা ধর্ম বিদ্বেষীরা ধর্মের সমালোচনা করেন ধর্ম না জেনে আর ধর্মান্ধ’রা ধর্মকে অপমান করেন ধর্মের অপব্যাক্ষা বা ভুল ব্যাখ্যা করে।

    ধর্মের এই আয়াতগুলোর অপব্যাখা এরা কিভাবে করবেন ?
    কোরআনের এই আয়াতগুলোর অপব্যাখা করুক আর ব্যাখা করেন তাহলেও বের হবে ,অভিজিত্‍কে হত্যা ,তথা যুদ্ধ ছাড়া কখনোই কোন বিধর্মীকে হত্যা কখনোই ইসলাম সম্মত নয়।অভিজিত্কে হত্যা করেছে তারা কোরআনকে অবমাননা করেই করেছে কারন মহান আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে বলেছেন:

    সুরা ইউনুস (মক্কাবতীর্ণ)
    আয়াতঃ ৪০
    وَمِنهُم مَّن يُؤْمِنُ بِهِ وَمِنْهُم مَّن لاَّ يُؤْمِنُ بِهِ وَرَبُّكَ أَعْلَمُ بِالْمُفْسِدِينَ‏‎ ‎
    আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোরআনকে বিশ্বাস করবে এবং কেউ কেউ বিশ্বাস করবে না। বস্তুতঃ তোমার পরওয়ারদেগার ‎যথার্থই জানেন দুরাচারদিগকে। ‎ ‎ ‎
    আয়াতঃ ৪১ ‎ ‎
    وَإِن كَذَّبُوكَ فَقُل لِّي عَمَلِي وَلَكُمْ عَمَلُكُمْ أَنتُمْ بَرِيئُونَ مِمَّا أَعْمَلُ وَأَنَاْ بَرِيءٌ مِّمَّا تَعْمَلُونَ‏‎ ‎
    আর যদি তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে বল, আমার জন্য আমার কর্ম, আর তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম। তোমাদের ‎দায়-দায়িত্ব নেই আমার কর্মের উপর এবং আমারও দায়-দায়িত্ব নেই তোমরা যা কর সেজন্য।সুরা ইউনুস (মক্কাবতীর্ণ)
    আয়াতঃ ৯৯
    وَلَوْ شَاء رَبُّكَ لآمَنَ مَن فِي الأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا أَفَأَنتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُواْ مُؤْمِنِينَ‏‎ ‎
    আর তোমার পরওয়ারদেগার যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর বুকে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান নিয়ে আসতে সমবেতভাবে। ‎তুমি কি মানুষের উপর জবরদস্তী করবে ঈমান আনার জন্য?
    সূরা:আল-মায়েদা (মদিনায় অবতীর্ণ)
    আয়াতঃ ৩২
    مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنَّهُ مَن قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا وَلَقَدْ جَاءتْهُمْ رُسُلُنَا بِالبَيِّنَاتِ ثُمَّ إِنَّ كَثِيراً مِّنْهُم بَعْدَ ذَلِكَ فِي الأَرْضِ لَمُسْرِفُونَ
    এ কারণেই, আমি বনী ইসরাঈলের উপর এই হুকুম দিলাম যে, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করা কিংবা যমীনে ফাসাদ সৃষ্টিকারী ছাড়া যে কাউকে হত্যা করল, সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল। আর যে তাকে বাঁচাল, সে যেন সব মানুষকে বাঁচাল। আর অবশ্যই তাদের নিকট আমার রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছে। তা সত্ত্বেও এরপর যমীনে তাদের অনেকে অবশ্যই সীমালঙ্ঘনকারী।

    যারা বিনা কারনে (যুদ্ধছাড়া),ব্লাশফেমির আইনের তোয়াক্কা না করে নাস্তিক ,বিধর্মীদের হত্যা করেন তারা ও কিছু আয়াত পেশ করেন যে হত্যা বৈধ।যে আয়াতে কারীমা গুলো মূলত ইসলামিক যুদ্ধের সময় নাজিল হয়েছিল সাহাবায়ে কেরামদের জন্য যেন তাঁরা যুদ্ধ থেকে পিছপা না হন আর সেই আয়াতগুলোকে এরা বর্তমানে পেশ করেন।

  4. চমৎকার সুশীলতা দোচানো মার্কা
    চমৎকার সুশীলতা দোচানো মার্কা পোস্ট

    ধর্মের দোহায় দিয়ে মানুষ হত্যা যতখানি অপরাধ, বিজ্ঞানের দোহায় দিয়ে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করাও তার চাইতে কম অপরাধ নয়।

    বাহ কি চমৎকার উক্তি

    একসময় মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল, পৃথিবী সৌর জগতের কেন্দ্র, পৃথিবী স্থির, পৃথিবী সমতল
    এবং ব্রুনো, কোপার্নিকাস, গ্যালিলিও এই বিশ্বাসকে আঘাত করে অপরাধ করে ফেলেছে

    1. চমৎকার সুশীলতা দোচানো মার্কা

      চমৎকার সুশীলতা দোচানো মার্কা পোস্ট

      ভদ্রোচিত সমালোচনা প্রত্যাশা করছি। আর গালি দিতে চাইলে সেটা পরিষ্কার করে বলবেন, কথা দিতে পারি আপনার চাইতে আমার কথা খুব বেশি শালীন হওয়ার সম্ভাবনা নাই।

        1. অভদ্র(!) আচরণের জন্য

          অভদ্র(!) আচরণের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী

          এক্সক্লামেটরি সাইনটি চোখ এড়িয়ে গেলে আপনার প্রশ্নের জবাব দিতাম। মুড়ি সস্তা, খাইতেও মজাদার………

          1. মুড়ি সস্তা, খাইতেও মজাদার
            তা

            মুড়ি সস্তা, খাইতেও মজাদার

            তা এখন তাই খাচ্ছেন বুঝি
            মুড়ি সস্তা বুঝলাম, তেল ও কি সস্তা হয়ে গেল নাকি
            কি তেল গায়ে মাখছেন যে এত পিছালাইতেছেন

            আমার প্রশ্নের জবাব কষ্ট করে দিতে হবেনা
            আপনার লেখাতেই তার জবাব পরোক্ষ ভাবে আছে

            সরাসরি শুনতে চেয়েছিলাম এই আরকি

    1. গাছেরটাও খাব, তলেরটাও খাব

      গাছেরটাও খাব, তলেরটাও খাব টাইপের সুবিধাবাদি মডারেট ধার্মিকের পোস্ট।

      তবে কি উগ্রধর্মান্ধ বা কট্টর ধর্মবিদ্বেষী হলে আপনার সুবিধা হতো জনাব?

      1. সুবিধাবাদি হওয়া বুঝি গর্বের
        সুবিধাবাদি হওয়া বুঝি গর্বের বিষয়? কট্টর হতে কেউ বলে নাই। যাহা সত্য তাকেই ভাল জানলে চলবে। যুক্তির পক্ষে থাকলেই হবে।

        1. সুবিধাবাদি হওয়া বুঝি গর্বের

          সুবিধাবাদি হওয়া বুঝি গর্বের বিষয়?

          সকল নরম এবং মধ্যপন্থীদের আপনাদের ভাষায় হয়তো সুবিধাবাদী বলে কিন্তু আপনার মন মানসিকতা সবার মতো হতেই হবে এমনটি তো হতে পারে না। তাই নয় কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *