বিজিত মনের বিজয়ী পিতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়ালেখা করে ১৯৫৭ সালে সাতক্ষীরা কলেজে যোগদান করলেন তিনি। এর মাঝে ‘৫৮-৫৯ এ ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে, পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক হসেবে। ১৯৫৯ রিসার্চ ফেলো এবং ‘৬০ সালেই তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাষক হিসেবে দেখা গেল। মোটামুটি ১৯৬৮ এর দিকে উচ্চতর সব ডিগ্রি(ডিপ্লোমা, পিএইচডি, পোস্টডক) নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন এই ব্যক্তি। ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ফেললেন এই মেধাবী। ১৯৮৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হয়ে যান।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়ালেখা করে ১৯৫৭ সালে সাতক্ষীরা কলেজে যোগদান করলেন তিনি। এর মাঝে ‘৫৮-৫৯ এ ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে, পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক হসেবে। ১৯৫৯ রিসার্চ ফেলো এবং ‘৬০ সালেই তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাষক হিসেবে দেখা গেল। মোটামুটি ১৯৬৮ এর দিকে উচ্চতর সব ডিগ্রি(ডিপ্লোমা, পিএইচডি, পোস্টডক) নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন এই ব্যক্তি। ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ফেললেন এই মেধাবী। ১৯৮৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হয়ে যান।

১৯৯২ ও ১৯৯৫ সালে পদার্থবিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের জন্য বিশ্বের কোন কোন বিজ্ঞানীকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা যায় তার নাম প্রদানের জন্য নোবেল কমিটি এই গুণীমানুষটিকে অনুরোধ করে। ২০০০ সালে ৬৫ বছর বয়সে তিনি অবসর নেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

তাঁর ৪১ বছর শিক্ষকতা জীবনে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে গড়ে তুলেছেন ‘শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চ’; তরুণ প্রজন্মে বিজ্ঞান ছড়িয়ে দেবার প্রয়াসে নিজের সন্তানকে সাথী করে গড়ে তুলেছেন ‘মুক্তমনা’ ওয়েবসাইট ও ‘মুক্তান্বেষা’ পত্রিকা। এই মহান ব্যক্তি ২০১২ সালে সম্মাননা সূচক ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হন।
___________________________________
এতো বড় মাপের এই মানুষটি আমার পরম শ্রদ্ধেয় একজন শিক্ষক। অধ্যাপক অজয় রায়
সবাই পদার্থ বিজ্ঞানের প্রফেসর হিসেবে তাঁকে পরিচয় দিচ্ছেন। আমি যেভাবে পরিচয় দিব- স্যার আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইন্সটিটিউটের এক সময়ের অতি জনপ্রিয় পরিচালক।

স্যারের সাথে পরিচয় হবার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলাম তথ্য প্রযুক্তি ইন্সটিটিউটের বার্ষিক একটি উৎসবের জন্য আমার সম্পাদিত সুভ্যেনিরঃ ‘প্লাটফর্ম অনিঃশেষ’-এর সুবাদে। সেখানে স্যারের একটি লেখা ছাপানো হয়েছিল। স্যারকে বেশ তথ্য সরবরাহ করেছিলাম আমরা। তাঁর সময়টায় এই প্রতিষ্ঠানের গল্পগুলো নিয়ে স্যার অনেক আন্তরিকতা আর পরিশ্রম দিয়ে বিশাল একটি লেখা দাঁড় করান। দুইদিন ব্যাপী উৎসবের প্রথম দিনে ১৪ ফেব্রুয়ারি, উৎসব শেষে স্যারকে তাঁর গাড়িতে তুলে দিতে যাচ্ছিলাম, স্যার আমার নাম আবার জিজ্ঞেস করলেন এবং ক্ষমা চাইলেন এজন্য যে নামটা তিনি ভুলে গেছেন! এরকম বিনয় আমি স্বপ্নেও কল্পনা করিনি। তাঁর লেখা শেষে জীবনীর জায়গায় ‘Sons & daughters’ এর স্থানের প্রথম কয়েকটি লাইন স্যারের লেখা থেকে হুবুহু তুলে দিচ্ছিঃ

Dr. Avijit Roy, B.Sc (Mechanical), BUET
M. Phil & Ph.D (Biotechnology), Singapore National University (NUS). A popular science books and science fiction writer, has published so far 10 books.

Anujit Roy, B.Sc (Hons), Mathematics, DU, B.Ed, a skilled Software Engineer. A Govt. Primary School teacher. Published a book on concept & philosophy of Geometry.

___________________________________
হ্যা। তাঁর বড় ছেলেকেই গত বৃহস্পতিবার রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়! এ মানুষটি দেশের জন্য বয়ে এনেছিলেন স্বাধীনতা, এনেছেন বিরল অনেক সম্মাননা(আমার কাছে বিরাট লিস্ট আছে), সকল স্তরের মানুষের জন্য অক্লান্তভাবে করে চলেছেন নানাবিধ একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, সাহিত্য ক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর অসামান্য পদচারণ। মুক্তমনা এই শিক্ষক শেষমেশ দেশকে নিজের মৃত সন্তানের লাশটাও দিয়ে দিলেন!

আর এই দেশ, তাঁকে প্রতিদানে কি দিল??? নিশ্চয়ই আর বলার অপেক্ষা রাখে না!

পুত্রশোকে একটুও ম্রিয়মাণ হতে দেখিনি স্যারকে। অবাক হয়ে লক্ষ করেছি ভাঙা মন নিয়ে কীভাবে তিনি স্থবির অটল আছেন! স্যারের এই দৃঢ় আত্মপ্রত্যয় থেকে আসুন এই আমি, আমরা, এই দেশ- সবাই মিলে কিছু শিখি…

স্যার,
আপনাকে অল্প সময়ের জন্য পেলেও কাছে থেকে যা দেখেছি, দূর হতে যা শুনেছি, আপনার লেখা পড়ে যা বুঝেছি তা হল- আপনি একজন সত্যিকারের বিজয়ী মানুষ! আপনি সবকিছু দৃঢ়চিত্তে সামাল দিয়ে দেশকে দেখিয়ে দিলেন, আপনি হারতে পারেন না! আপনাকে হারানো যায় না!
সেটা বাবা হিসেবেই হোক, শিক্ষক হিসেবেই হোক অথবা হোক একজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে!

৪ thoughts on “বিজিত মনের বিজয়ী পিতা

  1. অজয় রায় স্যারকে দেখলেই অসম্ভব
    অজয় রায় স্যারকে দেখলেই অসম্ভব শ্রদ্ধা জাগে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে। আশা করি তিনি এই শোককে কাটিয়ে উঠবেন…

    1. স্যারকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ
      স্যারকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ না পেলে বুঝতাম না এতো বড় মাপের মানুষ এতো বিনয়ী হয় কীভাবে!

    1. 🙁 একজন বাবা কীভাবে এই শোক
      🙁 🙁 একজন বাবা কীভাবে এই শোক কাটিয়ে উঠবেন ভেবে কুল পাইনা। স্যার বাইরে থেকে যতটা মজবুত, ভেতরে ততটাই ভেঙ্গে পড়েছেন আমার ধারণা… তারপরেও শক্তভাবে সব সামলে নিচ্ছেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *