ব্যাক্তিগত জীবন আচার এবং বিশ্বাসের উপর দাড়িয়ে লিখা

আমি যেই নবীর উম্মত আমাদের সেই প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জমানায় অনেক বেশী নাস্তিক বা ধর্মহীন বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ ছিলো। তাই বলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তিনি কখনো রাতের আধারে নিরস্ত্র কাউকে চার-পাচজন মিলে কুপিয়ে হত্যা করতেন না। উপরন্তু আমাদের প্রিয় নবী রহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সঃ) দুহাত তুলে ফরিয়াদ করতেন, “হে আল্লাহ তুমি এদের হেদায়াত দাও, সঠিক পথের সন্ধান দাও, সুন্দরের দিকে এদের ফিরে আসার তাওফিক দাও।” আমি গর্বিত কারণ আমি সেই নবীর উম্মত, যিনি মানব প্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। কিন্তু আমরা কি করছি? রাতের আধারে নাস্তিক বলে কাউকে পরিবার সমেত কুপিয়ে সাফ করে দিচ্ছি? এইটাই কি সমাধান? কুপিয়ে বা জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে কেনো আপনার ইসলাম মহান দেখাতে হবে? ইসলামের মহান উদ্দেশ্য পৃথিবীর শান্তি-শৃংখলা রক্ষা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য। মানুষে মানুষে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি রক্ষার যে উপমা আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) রেখে গেছেন আমরা উনার রেখে যাওয়া সেই মহিমান্বিত ইসলামকে মানুষের সামনে ভীতিকর করে দিচ্ছি। সারা পৃথিবীতে ইসলামের নেতৃত্ব দিচ্ছে আলকায়দা, আইএসসহ আরো অনেক সংস্থা। এরা ইসলামের আদর্শিক রুপটাকেই বিনষ্ট করে বিরোধীপক্ষকে সুযোগ করে দিচ্ছে ইসলামকে নিয়ে গালগল্প করার জন্য।

আর যারা মুক্তমনার নামে ধর্মহীনতার চর্চা করে যাচ্ছেন তারা ধর্মহীন থাকেন কেন আরেকজনের বিশ্বাস নিয়ে টানাটানি করেন? চুলকানী বা খুজলি থাকলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান। আমি আপনার রোগমুক্তি কামনা করি।

আপনি কি জানেন? কোরআন মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছে নিজের মত বিশ্বাসের। ভাল মন্দের বিচার মহান আল্লাহ সুবাহানাহুতায়ালা করবেন। বিচারের মালিক মহান আল্লাহ আমি বা আপনি না। “বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক।”

———–(সূরা আল কাহফ, আয়াত-২৯)

যারা মানুষ মেরে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাদের কাছে অনুরোধ দয়া করে বিদায় হজের ভাষন পড়ে দেখবেন। আর আল্লাহ নিজেই ঘোষনা করেছেন তিনি ইসলাম ও পবিত্র কোরানের হেফাজত করবেন। আসুন আমরা আমাদের হেফাজত করি। আমাদের ইমান-আমল নিয়ে টানাটানি করছে কিছু দুষ্ট লোক। এরা মুখের মিষ্টি কথা, দুলাইন কোরান-হাদিস, শরীরে লম্বা জুব্বা, মাথায় টুপি লাগিয়ে ইসলামের ঠিকাদার বনে গেছেন। চাইলো তো কাউকে মুনাফিক/নাস্তিক বলে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। আবার কাউকে আল্লামা বলে ঘোষিত করছেন। কাউকে জান্নাতি/জাহান্নামি আবার কাউকে শহীদ কিংবা কাউকে মুরতাদ বলে সনদ দিচ্ছেন। আমরা আমজনতা সাধারন মুসলমানদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে আহবান জানাচ্ছেন। আমরাও তাদের এই মিথ্যা আহবানে সারা দিচ্ছি, সমর্থন করছি আর এইসব কিছু মিলেই আমরা বেলাশেষে ধর্মান্ধতাকে উস্কে দিচ্ছি। জঙ্গিবাদের যে বীজ বাংলার আনাচে কানাচে ছুটে বেড়াচ্ছে, আর ছড়িয়ে দিচ্ছে বিষবাষ্প তা থেকে প্রকৃতির মাঝে যে অদ্ভুত খেলা বা প্রতিকৃয়া ঘটে চলছে তার ফলাফল কখনোই ভালো হয়না-হবেনা- হচ্ছেনা।

ভালো কথা বলি যারা আড়ালে থেকে পরের জন্য গর্ত খুড়ে জঙ্গিবাদকে উষ্কে দিচ্ছেন তারা কি এই আগুন থেকে বাঁচবেন? আগুনের কোন বন্ধু হয়না। যেখানে যায় যেদিকেই যায় পুড়িয়ে ছারখার করাই তার ধর্ম। অতএব প্রস্তুত থাকুন এই আগুন আপনাকেই জ্বালিয়ে যাত্রা শুরু করবে। আসুন নতুন দিনের প্রত্যাশায় সুন্দর পথে হাটি। আস্তিক নাস্তিক যার যার বিশ্বাসে থেকে কেউ কারো বিশ্বাসের জায়গায় আঘাত না করে সাজিয়ে তুলি আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত পবিত্র কোরানে পাকে বলেছেন, “লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়াদিন”। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার ও বোঝার তৌফিক এনায়েত করুন—————————–আমিন

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু

নোটঃ লিখাটা আমার ব্যাক্তিগত জীবন আচার এবং বিশ্বাসের উপর দাড়িয়ে লিখা। আমার লিখায় কোন জায়গায় ভূল থাকলে জানানোর জন্য বিনীত অনুরোধ রইলো।

৩ thoughts on “ব্যাক্তিগত জীবন আচার এবং বিশ্বাসের উপর দাড়িয়ে লিখা

  1. আর যারা মুক্তমনার নামে

    আর যারা মুক্তমনার নামে ধর্মহীনতার চর্চা করে যাচ্ছেন তারা ধর্মহীন থাকেন কেন আরেকজনের বিশ্বাস নিয়ে টানাটানি করেন? চুলকানী বা খুজলি থাকলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান। আমি আপনার রোগমুক্তি কামনা করি

    কেন যে মুক্তমনা/নাস্তিকরা অন্যদের বিশ্বাস নিয়ে টানাটানি করেন এইটা আমার বোধগাম্য না।

  2. জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু-
    জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু- লিখে কেবলা চিনানির দরকার নাই।

    নোটঃ লিখাটা আমার ব্যাক্তিগত জীবন আচার এবং বিশ্বাসের উপর দাড়িয়ে লিখা। আমার লিখায় কোন জায়গায় ভূল থাকলে জানানোর জন্য বিনীত অনুরোধ রইলো।

    তালগাছটা চাইপা ধরেন, বেশি ভাবনা চিন্তার কি দরকার?

  3. স্রষ্টা মানুষের মধ্যে জন্মগত
    স্রষ্টা মানুষের মধ্যে জন্মগত ভাবে ভালো ও মন্দের পার্থক্য বোধ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। কুরআনে আল্লাহ বলেন- ‘আর আমি ভালো ও মন্দ উভয় পথ তার জন্য সুস্পষ্ট করে রেখে দিয়েছি’(সুরা আল বালাদ)। ‘আমি তাদের পথ দেখিয়ে দিয়েছি, চাইলে তারা কৃতজ্ঞ হতে পারে আবার চাইলে হতে পারে অস্বীকারকারী’। (সুরা আদ্দাহর)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *