দেশব্যাপী সুস্থ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সংস্কৃতি সংকট- মুক্তির পথ

দেশ ও জাতি এক ভয়াবহ সংকট কাল অতিক্রম করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরনে গোটা দেশ ও জাতিকে সুস্থ, সঠিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সংস্কৃতি চর্চার পথ খুঁজতে হবে। সে পথ আঁকা-বাঁকা, কাঁটার আবৃত্ব, কন্টকাকীর্ণ, অবশ্যই মসৃণ নয়।

দেশ ও জাতি এক ভয়াবহ সংকট কাল অতিক্রম করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরনে গোটা দেশ ও জাতিকে সুস্থ, সঠিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সংস্কৃতি চর্চার পথ খুঁজতে হবে। সে পথ আঁকা-বাঁকা, কাঁটার আবৃত্ব, কন্টকাকীর্ণ, অবশ্যই মসৃণ নয়।
একদিকে স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। ওপর দিকে বিপক্ষ শক্তি মুখোমুখী সংঘাতপূর্ণ অবস্থায় যুদ্ধাপরাধী নেতারা জেল-হাজতে বিচারিক অবস্থায় রয়েছেন। স্বাধীনতা বিরোধী উগ্র-মৌলবাদীকে স্বাধীনতার দাবীদার জাতীয়তাবাদী একটি শক্তি তাদেরকে মদদ যোগাচ্ছে। তারা নিজেদের অস্তিত্বের কথা ভাবছে; জনতার কথা নয়। ফলে যা ঘটার ঘটেই চলেছে। তারা সকলেই একই চিন্তা করছেন। কিভাবে গাড়ি-বাড়ি ও লাল পাসপোর্ট অর্জন করা যায়। সেই সাথে কি করে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতায় যাওয়া যায়। ক্ষমতাসীনরা ভাবছেন, কি করে ক্ষমতায় টিকে থেকে বিরোধীদের পদদলিত করে রাখা যায়; তারা উভয়-উভয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তারা সকলেই নীতিহীন, আদর্শহীন, দুর্নীতিবাজ, সে কারণে তাদের দ্বারা জনগণের কোন সমস্যারই সমাধান হচ্ছে না। তারা সু-কৌশলে জনগণের সাথে প্রতারণা করে নিজেদের স্বার্থ হাছিলের জন্য সদা তৎপর। এ অবস্থায় আস্থাশীল দেশপ্রেমিক দলগুলো মিলে প্রগতিশীল ধারার ডানেরা একটু বামে সড়ে এসে এবং বামেরা একটু ডানে সড়ে এসে মধ্যবাম তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব আশা করে। যা হবে এদেশীয় রাজনীতির মূল ধারার একটি অংশ।
বিদেশ থেকে প্রায় দুই লক্ষ দুইশত ছাব্বিশ কোটি টাকা অনুদান এসেছে। এগুলোর অর্ধেক তারা দেশের কাজে ব্যায় করে বাকী টাকাগুলো আত্মসাৎ করেছে। দেশের শিক্ষার হার ৫৫ভাগ, ৬৮ভাগ মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে চার কোটি লোককে সঠিক পরিকল্পনার অভাবে করে রেখেছেন বেকার। প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপী। অনাদায়ী প্রায় সত্তর হাজার কোটি টাকা। এ সকল টাকা লুট-পাট করেছেন, স্বাধীনতা উত্তর অতীতের ক্ষমতাসীনরা। দুই এক টাকা চুরি করলে তারে চোর/কোটি টাকা চুরি করলে তারে কয় স্যার। সমাজের এ কেমন বিচার! এ সকল পার্টিগুলো গরীব সাধারণ মানুষের পার্টি নয়। এ সুযোগে বিদেশীরা আমাদের দেশের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে। আগামী ২০১৩সালের মধ্যে এ পরিসংখ্যান কোথায় এসে দাঁড়াবে কে জানে?
দেশে আস্থাহীনতা ও অপরিপক্বতার কারণে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে সৃষ্টি করেছেন দূর-বৃত্তায়নের। এ সকল কারণে জাতীয় মূল্যবোধ ও দিক-নির্দেশনা গড়ে উঠতে দেয়া হচ্ছে না। বিরাজমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অপব্যবহারের দরুন সৃষ্টি হয়েছে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সীমাহীন পার্থক্য। আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ, কলাগাছ থেকে বটগাছ, বটগাছ থেকে জোড়া বটগাছে পরিণত হয়েছে সুযোগ সন্ধানীরা। এ জন্য ধনী-দরিদ্রের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে।
উগ্র-সাম্প্রদায়িক তৎপরতা উদ্রেগজনক। এই প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সমাজ প্রগতির পথে প্রধান অন্তরায়। তারা দেশব্যাপী জঙ্গী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে বিভিন্ন নামে। রাষ্ট্র ও সমাজের সকল মানুষকে এ সমূহ বিপদ থেকে রক্ষা করতে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে বিচ্ছিন্নতা পরিহার করে সাংগঠনিক ভাবে যার যার অবস্থান অনুযায়ী মর্যাদা দিয়ে এ বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ করে গড়ে তুলে রাজপথে এগিয়ে আসা একান্ত আবশ্যক।
কোন ভাবেই বিদেশীদের মধ্যস্থা ছাড়া, দেশীয় ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে চলমান অবস্থার সংকট নিরসন জরুরী প্রেক্ষাপটে সরকার ও বিরোধী দুই জোটের নেতানেত্রীরা এক টেবিলে শর্তহীন ভাবে বসে এজেন্ডা সুনির্দিষ্ট করে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
দেশে প্রচলিত ধনবাদী লুট-পাটমূলক এই ব্যবস্থা বহাল রেখে জনজীবনের জীবন জীবিকাসহ সকল সংকট সমাধান কোনভাবেই সম্ভব নয়। সরকার বার বার পরিবর্তন হলেও জনগণ প্রতারিত হবেন। চলমান অসুস্থ রাজনীতি পরিহার করে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ তৈরী করে, নেতৃত্ব শূন্যতা পূরণসহ সকল সমস্যাদি সমাধানের জন্য আশু প্রয়োজন; একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা। চুড়ান্ত সমাধানের জন্য ধর্ম, কর্ম, গণতন্ত্রের নিশ্চয়তাসহ সমাজতন্ত্র। এর বিকল্প হয় না। সমাজতন্ত্র মানেই প্রকৃত গণতন্ত্র তথা সুষম সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা আবশ্যক বিবেচনায়- আসুন, দেশ-বিদেশে পরীক্ষিতরা, বিদেশে কিংবা দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত বন্ধুদের নিয়ে সুস্থ ও পরিপক্ষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সংস্কৃতি চর্চার স্বাধীনতাকে সু-সংহত করি। পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমুক্তির সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করি এবং বিশ্বের প্রতিটি দেশের সাথে তাল মিলিয়ে তাদের যা কিছু ভাল, তা গ্রহণ করে সমাজ পরিবর্তনের ধারায় আদিম এরপর দাস, দাসের পর সামন্ত, সামন্তের পর ধনতন্ত্র প্রথা প্রচলিত রয়েছে। ঠিক তেমনি ভাবে এ অবস্থার পরিবর্তন করে সমাজতন্ত্রকে সম্ভাসন জানানো অপরিহার্য্য।
-এ নতুন ধারার নেতৃত্ব দিতে সুশিক্ষিত তরুণ প্রজন্মদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন করে সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসলে সবকিছুই অর্জন করা সম্ভব হবে। আমরা আশাবাদী প্রগতীশীল মধ্যবান (মিশ্র অর্থনীতি) কর্মসূচির আন্দোলনকে বেগবান করা আবশ্যক। এ পথে এগিয়ে আসলে মুক্তি সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *