আমরা কি মানুষ??

আমাদের সুশীল সমাজ , ভদ্র সমাজ । একটা ব্যাপার
কিছুতেই মাথায় ঢুকেনা, আমাদের সমাজের কিছু
অমানুষের ভুলের ফসল হিসেবে কোন
বাচ্চা জন্মালে তার কি কোন দোষ থাকে? তবে, তার
প্রতি কেন এত অবহেলা? কেন এত হেয় প্রতিপন্নতা?
আচ্ছা সে কি মানুষ নয়? তার কি মানুষের মত হাত-পা,
শরীর নেই? তাহলে কিছু মানুষের ভুলের ফসলস্বরুপ এই
বাচ্চা কিংবা মানুষেরা কেন জারজ পরিচয় পায়? এর
কি কোন উত্তর জানা আছে কারো ?
প্রথমেই ধরা যাক একটা দম্পতি তাদের সন্তান নেই।
তাদের শখ তাদের ও সন্তান হোক। সেই
ছোটো বাবুটা তার ছোটো ছোটো হাত দিয়ে তাদের
ধরুক , খেলা করুক , ঘুমের ঘোরে তাদের উপর

আমাদের সুশীল সমাজ , ভদ্র সমাজ । একটা ব্যাপার
কিছুতেই মাথায় ঢুকেনা, আমাদের সমাজের কিছু
অমানুষের ভুলের ফসল হিসেবে কোন
বাচ্চা জন্মালে তার কি কোন দোষ থাকে? তবে, তার
প্রতি কেন এত অবহেলা? কেন এত হেয় প্রতিপন্নতা?
আচ্ছা সে কি মানুষ নয়? তার কি মানুষের মত হাত-পা,
শরীর নেই? তাহলে কিছু মানুষের ভুলের ফসলস্বরুপ এই
বাচ্চা কিংবা মানুষেরা কেন জারজ পরিচয় পায়? এর
কি কোন উত্তর জানা আছে কারো ?
প্রথমেই ধরা যাক একটা দম্পতি তাদের সন্তান নেই।
তাদের শখ তাদের ও সন্তান হোক। সেই
ছোটো বাবুটা তার ছোটো ছোটো হাত দিয়ে তাদের
ধরুক , খেলা করুক , ঘুমের ঘোরে তাদের উপর
পা তুলে দিক। কিন্তু তারা তাদের সেই শখ পূরণ
করতে পারছেন না তাই তারা ডিসিশান নিলেন দত্তক
নিবেন।
হ্যাঁ এখন কথা হচ্ছে কোথা থেকে নিবেন
নিতে হলে হয় এতিম
খানা থেকে আনতে হবে বা মেডিকেল
থেকে চুরি করে আনতে হবে তাইতো। চুরি করার
কথা বাদ দিলাম এতিম খানা গুলোর কথা বলি। আমার
দেখা মতে এতিম খানায় পরিবারের একজন
বেঁচে থাকলে ও ওখানে থাকতে দেয়া হয় না।
প্রসঙ্গে আসি। আমাদের সমাজে এমন অনেক
বাচ্চা আছে যাদেরকে বিভিন্ন
এতিমখানা থেকে দত্তক নেওয়া হয়। এতিমখানার
প্রতিটি বাচ্চায় চরম দুর্ভাগ্যের স্বীকার্।
একটা মানুষের নামের পেছনে যখন এতিম শব্দটি যুক্ত হয়,
তখন তার সামনে-পেছনে আর কেউ থাকেনা। পৃথিবীর
সবচেয়ে হতভাগা হয় সেই এতিমরাই।
বেশ অদ্ভুত নিয়ম এই দুনিয়ার! দুজন ছেলে-
মেয়ে কিংবা প্রেমিক-প্রেমিকা শারীরিক সম্পর্ক
হলো। দুর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্যবসত
মেয়েটি অন্তঃস্বত্বা হলো তারপর? কিছু কিছু
ক্ষেত্রে নির্মম পরিনতির স্বীকার হয়ে কয়েক লক্ষ ভ্রুণ
পরিষ্ফুটনের আগেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যায় আবার কিছু
কিছু ক্ষেত্রে সময়ের ব্যাবধানে সেই ভ্রুণ
গুলো নিষেকের মাধ্যমে একটা বাচ্চায় পরিনত হয়।
আচ্ছা অন্যান্য সব বাচ্চারা মায়ের পেটে যেভাবে দশ
মাস দশ দিন কাটায় এই বাচ্চাটা অবৈধ বলে এমন কি হয়
যে তার দশ মাস দশ দিন অন্যান্য বাচ্চাদের
চেয়ে ভিন্ন। না, তেমন কিছুই হয় না। পার্থক্য শুধু এতটুকুই
এরা অবৈধ।এদের বাবা মা এদের পরিচয় দেয়
না সমাজের ভয়ে।
অবৈধ বলে এদের কিন্তু কোন দোষ নেই।দোষ
কেনো দিব সেই সব ছোট বাচ্চারা কি বলেছিল
তাদের পৃথিবীতে আনার জন্য ? নিষ্পাপ বাচ্চাটার
কি দোষ ? কেনো তাকে আমরণ
শুনে যেতে হবে যে তোর মা বাবা নেই ? কেনো?
তাদের কি অধিকার নেই স্বাভাবিক জীবন পাবার?
আমরা সবাই তো ছোট বেলায় পাঠ্যপুস্তকে পড়েছি,
কানাকে কানা বলিও না, খোড়াকে খোড়া বলিও
না।
আমাদের সেই অর্জিত শিক্ষার কতটা মুল্য
রেখেছি আমরা? বরং সেই শিক্ষাটাকে কেবল মুখস্তই
রেখেই দায়সাড়া ভাবে পার হয়ে এসেছি, কোন
বাস্তব প্রতিফলন ঘটেনি।
আর তাইতো, আজ সমাজে সেই দত্তক নেওয়া এতিম
বাচ্চারা চরম অবহেলার স্বীকার, চলার
পথে প্রতিটি পদে পদে তাকে কটু কথা শুনা লাগে? আর
সেই এতিম বাচ্চাটা যদি আরো হয় জন্মপরিচয়হীন
তবে তো কোন কথায়ই নেই। আমরা আমাদের সমস্ত
অর্জিত শিক্ষাকে বিসর্জন দিয়ে রীতিমত
মাইকিংয়ের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ি। সে জারজ,
সে অবৈধ!!!
আমরা কি মানুষ??

২ thoughts on “আমরা কি মানুষ??

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *