৪২বছর শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক ভোগকৃত দেশ এবং একটি গণজাগরণ!

আজকে বাংলাদেশ এমন একটি ইউটেকটিক অবস্থানে এসে পৌঁছেছে যেখান থেকে আমরা হয় একটি পরিবর্তিত উন্নতির পথে ধাবমান;মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করে-ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশ তৈরির পথে কয়েক বছর এগিয়ে যেতে পারি নয়ত অন্য দিক থেকে আমরা আরো ৫০ বছর পিছিয়ে যেতে পারি;যেখান থেকে আবারো উঠে আসতে হয়ত আমাদের আরো কয়েক শতাব্দী পার করে দিতে হবে।একাত্তরের নয় মাস যুদ্ধ,ত্রিশ লাখ শহীদ আর তিন লাখ মা বোনের সম্ভ্রম হানির মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশ আমরা ছিনিয়ে এনেছি পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর কাছ থেকে সেই প্রাণের দেশটিকেই ধ্বঃসের পথে নিয়ে যেতে মরিয়া এদেশে বেড়ে উঠা কিছু পরগাছার দল।এই পরগাছারা এদেশের খেয়ে পরে এদেশের মাটিকে ব্যবহার করে আজ যে মহীরুপ ধারন করেছে তাকে নির্মূল করার প্রয়াসেই আজ নতুন প্রজন্ম মাঠে নেমেছে একটি নির্মল দেশ গড়ার লক্ষ্যে।শাহবাগের আন্দোলনে এদেশের বাঙ্গালী যেন আবারো ফিরে পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্বাদ,আবারো ওরা গলা ফাটিয়ে বলেছে নির্ভয়ে বলেছে “রাজাকারের ফাঁসি চাই”।ফিরে এসেছে মধুর সেই কাব্যখনি “জয় বাংলা”।এই সাহস এই শ্লোগাণ এই দেশপ্রেম বাঙ্গালি সবসময়ই প্রকাশ করেছে,প্রমাণ করেছে বাহান্ন তে,প্রমাণ করেছে উনোসত্তর এ,ছিনিয়ে এনেছে দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই “বাংলাদেশ” ১৯৭১ এ।এদেশের মানুষ কি তবে ভীরু?কাপুরুষ?এরা কি সত্য মিথ্যা নিরুপন করতে পারেনা?এরা কি বুঝেনা তাদের অধিকার?না ওরা বুঝে,বাঙ্গালি জেগে উঠে,সময়ে সময়ে বাঙ্গালি ঠিকই গর্জে উঠে।

কিন্তু এদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আজো বুঝে উঠতে পারেনি সেই দেশপ্রেম,অনুভব করেনি এদেশের মানুষের আশা আকাংখা।কখনো বুঝেনি এদেশের মানুষ গুলো প্রাণ দিয়ে হলেও চায় এই দেশটি এগিয়ে যাক,এই সোনার বাংলাদেশ শুধু মুখেই সোনার বাংলাদেশ না হয়ে একটি সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশে পরিনত হোক।কিন্তু আমাদের দেশের রাজারা সেটা বুঝেনি,আজো তারা বুঝতে চায় না।আমরা দেখেছি এদেশে কি করে রাজাকাররা দম্ভ করে হেটেছে,গাড়িতে বাংলার পতাকা উড়িয়েছে,সভাতে ওয়াজে ঝেরে বক্তৃতা দিয়েছে আর তা এদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের বদৌলতেই।

হুমায়ুন আজাদ তাঁর “আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম” বইয়ে লিখেছিলেন-
“একটি অপপাকিস্তান উৎপাদনের জন্যে কি আমরা পাকিস্তান বর্জন করেছিলাম?অপপাকিস্তান আমরা চাইনি,পাকিস্তান কে সম্পূর্ণ সংশোধনের নামই বাংলাদেশ;কিন্তু সেই বাংলাদেশকেই কেটে ছেঁটে ভেঙ্গে চুরে পিষে চেপে দুমড়ে মুচড়ে সংশোধন করে ফেলা হচ্ছে।“ (পৃষ্টা-১৬)

এই রকম একটি অপপাকিস্তাঙ্কৃত বাংলাদেশ আমরা কেউই চাইনি।আমরা এখনো চাই না।কোন সৎ ও সৃষ্টিশীল মানুষ কেউ চাইতে পারে না।তবে হ্যা তারাই চাইতে পারে যারা নষ্ট,ভ্রষ্ট,পরগাছা,রাজনীতিক আর রাজাকার দালাল।এদেশের রাজনৈতিক দলগুলো আজো কেনো এদেশের মানুষের জন্য এগিয়ে আসেনি তার কারন হয়তো আমাদের অতীতের ইতিহাসেই লুকিয়ে আছে।

আসুন একটু ইতিহাস ঘেটে আসি…।

১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ের পরবর্তী সময়ে এদেশে কেবল স্বাধীনতার লুটপাট ব্যতীত আর কিছুই হয়নি।ক্ষমতাসীন শাসকেরা নানা ভাবে ব্যস্ত ছিলেন এদেশকে ভোগ করতে যখন প্রয়োজন ছিলো এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার।যে তাজউদ্দিন কে এদেশের মস্তিষ্ক ভাবা হতো তাকেই মন্ত্রীসভা থেকে বিতারিত করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা হত্যা, নারী নির্যাতন, লুট ও অগ্নিসংযোগ করে যুদ্ধাপরাধ করেছিল বঙ্গবন্ধু তাদের বিচারের জন্য ‘দালাল আইন’, ৭২-র সংবিধানে সংযোজিত করেছিলেন। দালাল আইনের আওতায় প্রায় ৩৮ হাজার পাকিস্তানি দালাল গ্রেফতার হয়।১৯৭৩ এর ৩০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু যারা পাকিস্তানকে নৈতিক সমর্থন দিয়েছিলেন কিংবা যাদের যুদ্ধপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি তাদের কে তিনি সাধারন ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।কিন্তু যারা হত্যা, নারী নির্যাতন, লুট ও অগ্নিসংযোগ করে যুদ্ধাপরাধ করেছিল তারা এই ক্ষমার বাইরে ছিলো।সাধারন ক্ষমা পেয়েছিল প্রায় ২৬হাজার।কিন্তু ১১হাজারের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজ চলছিলো বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত।কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর(হত্যার) পর মেজর জিয়া ১৯৭৫-এর ৩১ ডিসেম্বর সামরিক শাসনের অধীনে বিশেষ অর্ডিন্যান্স জারি করে ‘দালাল আইন’ তুলে নেন।সেই সাথে সংবিধান পরিবর্তন করে এদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দ্বার খুলে দেন।৭২ পরবর্তীতে এদেশে কেবল সংবিধান সংশোধনই করা হয়নি,করা হয়েছে দংশন,করা হয়েছে ধর্ষন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়া গঠন করেন “বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি” সংক্ষেপে বিএনপি।আদৌ এটাকে রাজনৈতিক দল বলার তেমন কোন যুক্তি পাওয়া যায় না,কারন তেমন কোন আদর্শ নিয়ে দলটি গঠিত হয়নি,তেমনি গঠিত হয়নি কোন রাজনীতিকদের দ্বারা।হঠাৎ করেই একজন জেনারেলের মাধ্যমে গঠিত হয় দলটি।জিয়াই ৭৯র ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের শুরুতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” যুক্ত করেন,তিনি বাঙ্গালি জাতিকে করে তুলেন বাংলাদেশি।তিনি ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেয়া পূর্বক আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন করার মাধ্যমে ইতি টানেন এদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এবং বীজ বপন করে দিয়ে যান যে সাম্প্রদায়িকতার তা আজো আমরা বহন করে চলেছি।

ধর্ম যদি মানব জাতির উন্নতির মূল পাথেয় হতো আজকে এই নব্বই শতাংশ মুসলিমের দেশ হতো বিশ্বের বুকে অন্যতম একটি উন্নত রাষ্ট্র।কিন্তু এই রাষ্ট্র মূলত পরিণত হয়েছে একটি নষ্টতম,ভন্ডতম আর দূর্নীতির অভয়ারণ্যে।

জিয়ার পা চাটা বিচারপতি সাত্তার বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে অধিষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রপতির আসনে ১৯৮১র ১৫নভেম্বর।কিন্তু তার কপালে বেশীদিন টিকে থাকা জুটেনি ১২৮দিনের মাথায় আরেক একনায়ক এরশাদ কেড়ে নয় রাষ্ট্রপতির আসন- সাত্তারকে হটিয়ে ১৯৮২র ২৪ মার্চে।বাঙ্গালি জাতি সুদীর্ঘ ৪বছর (১৯৮২ থেকে ১৯৮৬)উপভোগ করে একজন নষ্ট একনায়কের সামরিক শাসন।

হুমায়ুন আজাদ এরশাদকে নিয়ে দারুন একটি কথা বলেছিলেন “সে দুটি নতুন জিনিস যোগ করেছিলো তার সময়ে – লাম্পট্য ও কবিতার দূষন।সব কিছুকে সে দূষিত করেছে,কবিতা ও নারীকেও বাদ দেয়নি,দূষন হচ্ছে তার প্রকৃত নাম।”

এত সুন্দর একটি বক্তব্যের পর এরশাদ সম্পর্কে বিশদ করে কিছু বলার থাকেনা।তার সমস্ত চরিত্র যেন হুমায়ুন আজাদ তুলে ধরেছেন তার এই বক্তব্যে।
১৯৮৮ তে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে এবার ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে এরশাদ।বাংলাদেশ পরিনত হয় একটি ইসলামি রাষ্ট্রে।এই অবধি যদি আমরা দেখার চেষ্টা করি তাহলে দেখা যাবে একাত্তর পরবর্তী সময়ে এদেশের রাষ্ট্রকে একটি ধর্মীয় রাষ্ট্র বানানোর ব্যাপক তোড়জোড় এবং তাতে সফল হওয়া।যেনো রাষ্ট্র ধর্ম না থাকলে একটি দেশ কখনো উন্নতির দিকে এগুতে পারবে না।কিন্তু দূর্ভাগ্য এখন অবধি আমরা কেবল পেছনের দিকেই যাচ্ছি আর সে যাওয়াটা এতদিনে হয়ত মধ্যযুগে গিয়েই ঠেকেছে।

জনআন্দোলনের মুখে এরশাদ বাধ্য হয় রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে ১৯৯০ এর ৬ডিসেম্বরে।আমাদের আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়া এরশাদকে তার তেজোদীপ্ত ক্ষমতা বুঝাতে সক্ষম হোন।১৯৯১ সালের২৭ ফেব্রুয়ারীতে বিএনপি নির্বাচনে জেতে আর খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হোন ১৯মার্চ।বাংলাদেশ এগিয়ে চলে গণতন্ত্রের পথে,বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখতে থাকে গণতন্ত্রের,একটি সোনালি দিনের,একটি উন্নতির সিড়িকে।কিন্তু এই খালেদা জিয়াই ৩৯ জন শীর্যস্থানীয় দালাল ও যুদ্ধাপরাধীর নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া সত্বেও খালেদা জিয়া ক্ষমতাসীন হয়ে গোলাম আযমকে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেন।পতাকা উড়ে রাজাকারদের গাড়িতে।৯৬ এর প্রহসনের নির্বাচন ,পরবর্তীতে জনতার মঞ্চ,আমলাদের যোগদান এবং খালেদাজিয়া পদত্যাগ করতে বাধ্য হোন ৯৬র ৩০মার্চ।৯৬এর ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় আসে এবং জাতি আবারো স্বপ্ন দেখে,জাতি আবারো আশায় বাঁধে বুক।২০০১ এর ১ অক্টোবর আবারো ক্ষমতায় আসে বিএনপি+জামায়াত জোট।ইতিমধ্যে জামায়াত এই দুদলকেই বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে তাদের শিশু থেকে বড় হয়ে উঠার কথা।আর দুদলও তা বেশভাবে মেনে নিয়ে এগিয়ে গেছে।

২০০১ সালে বিএনপি কে ক্ষমতায় আনার মাধ্যমে জনগণ দেখেছে এদেশের সাম্প্রদায়িকতার শুশীতল বটবৃক্ষের নীচে অবাধ রক্তবৃষ্টি।কিছুদিন আগে সুব্রত শুভ মুক্তমনায় এ নিয়ে একটি লিখা “ফিরে দেখা ২০০১ সাল এবং যুদ্ধাপরাধী প্রেমিক বিএনপি” দিয়েছেন যেখান থেকে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা পূর্বক কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করছিঃ

২০০১ সালে নির্বাচনী পরবর্তি সাম্প্রদায়িক হামলার ক্ষুদ্র চিত্রঃ

৪ অক্টোবর ২০০১ প্রথম আলো
বরিশালে বিএনপির দখল অভিযান।

৮ অক্টোবর ২০০১ প্রথম আলো
সরিষাবাড়ীতে বিএনপির নির্বাচনোত্তর তাণ্ডব।
আ.লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থক ও সংখ্যালঘুরা ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে।


৯ অক্টোবর ২০০১ মঙ্গবার প্রথম আলো
আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘুরা অসহায়

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় নির্যাতিন অব্যাহত, প্রশাসন নীরব

১০ অক্টোবর ২০০১ প্রথম আলো
লুটপাটের পর বাড়ির সামনে ‘বিক্রি হবে’ সাইনবোর্ড!


১২ অক্টোবর ২০০১ আজকের কাগজ
গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় নির্বাচনী বিজয়ের পাশবিক উল্লাস, প্রশাসন নীরব

কাগজ প্রতিনিধি: অষ্টম জাতীয় সংসদের নির্বাচনের আগেই গৌরনদী আগৈলঝাড়ায় যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্ম ও সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন ও সন্ত্রাস শুরু হয়েছে, নির্বাচনের পর তা আরো বেড়ে গেছে। সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ নেত-কর্মীরা কেউ কেউ নির্যাতনের শিকার হয়ে আবার কেউ কেউ নির্যাতনের আশঙ্কায় ভীত সন্ত্রাস্তভাবে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে গৃহবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। গৌরনদী-আগৈলঝাড়া থানার বিভিন্ন গ্রামে লুট-পাট, অগ্নিসংযোগ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায় গৌরনদী থানায় বিএনপির কতিপয় নেতা-কর্মী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা পার্টির জিয়া গ্রুপের আঞ্চলিক নেতা রেজাউল করিম, সেকান্দার মৃধা, জাহাঙ্গির মৃধা ও জাহাঙ্গির গোমস্তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার নিপীড়ন চালাচ্ছে, এরা চাঁদাবাজি লুটপাট, ধর্ষণসহ গরুছাগল পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।

১২ অক্টোবর ২০০১ প্রথম আলো
বরিশালের হিজলায় বিএনপি ক্যাডারদের দাপট
গ্রামছাড়া নিতাই মায়ের মৃত্যুর খরব পেয়েও ঘরে ফিরতে পারেননি।

বরিশাল অফিস: বরিশালের হিজলার ধুলখোলা ইউনিয়নের আলীগঞ্জ বাজারের ক্ষুদ্র সেলুন ব্যবসায়ী নিতাই শীল বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে শেষ দেখাও করতে পারেননি। ধর্মীয় বিধান অনুসারে মায়ের মৃত্যুর পর শেষ কৃত্যানুষ্ঠানেও যোগ দিতে পারেন নি তিনি। বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাকে গ্রাম ছাড়া করেই ক্ষান্ত হয় নি, উপরন্ত মায়ের মৃত্যুর পর নিতাইকে নিজ গ্রামে ঢুকতে দেয়নি।

২০ অক্টোবর ২০০১ জনকণ্ঠ
নির্বাচনের পর নির্যাতন। পার্বতীপুর নৌকার সমর্থকরা হাটে যেতে না পেরে বসিয়েচে আলাদা বাজার

৭ নভেম্বর ২০০১ আজকের কাগজ
মীরসরাই দাশপাড়ায় মধ্যরাতে বিএনপি সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব। নিহত ১ আহত ৩০


১৭ নভেম্বর ২০০১ যুগান্তর
চট্টগ্রামে নিজ বাসভবনে অধ্যক্ষ গোপাল মুহুরীকে গুলি করে হত্যা
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জামাত-শিবির ক্যাডাররা জড়িত, পুলিশ

১২ ডিসেম্বর ২০০১ জনকণ্ঠ
সাকা ক্যাডাররা পাঁচ লাখ টাকা না পেয়ে অপহরণ করেছে নলিনী মাস্টারকে

এগুলো জোট আমলের সামন্য কিছু চিত্র।এরকম আরো হাজারো চিত্র ছড়িয়ে রয়েছিলো দেশে।দেশ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো রক্তের তান্ডবে,সন্ত্রাসের ভয়াল চোখে।

এর পর আবারও জাতি উপহার পায় একটি এক এগারো।দিন বদলের শ্লোগাণ নিয়ে,ডিজিটাল বাংলার অঙ্গীকার নিয়ে,মূল কথা যুদ্ধাপরাধীর বিচারের অঙ্গীকার নিয়ে মুজিব কন্যার উপর আস্থা রাখে এদেশের সিংহ ভাগ মানুষ,বিশেষ করে তরুনদের একচেটিয়া সমর্থনের মাধ্যমেই আওয়ামিলীগ অর্জন করে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা।এর পরের ঘটনা এক এক করে বলতে গেলে মনে হয় একটি মহাভারত হয়ে যাবে।কিন্তু যে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের আশা নিয়ে এদেশের সকল মানুষ আস্থা রেখেছে আওয়ামিলীগের উপরে সেই বিচার নিয়েও আমরা দেখেছি রাজনীতির নোংরা খেলা শুরু হয়েছে।কাদের মোল্লার রায়ের প্রতিবাদে শুরু হওয়া শাহবাগ আন্দোলনের মাধ্যমে আবারো জাতি আজকে নেমেছে রাজপথে,আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের স্বাদ পাইনি তারা অনুভব করেছি আরেকটি নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধের।যে ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্টদের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হয় তাদেরকে নিয়েও এখন শুরু হয়েছে রাজনীতি।ব্লগার মাত্রই নাস্তিক ট্যাগ খাওয়া এই ব্লগাররা এখন হয়ে উঠেছেন নাকি ধর্মদ্রোহী।যে আওয়ামিলীগ মুখে অসাম্প্রদায়িকতার বুলি আওড়ায়,একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশের স্বপ্ন দেখায়,সেই দলেরই নেত্রী মুজিব পুত্রী শেখ হাসিনা গঠন করেন ধর্ম রক্ষা কমিটি,যা এদেশের মুক্তবুদ্ধির চর্চার পথে একটি নেক্কারজনক আক্রমন বৈ আর কিছুই নয়।আমরা দেখছি ২৬মার্চের ভিতরে জামায়াতের নিষিদ্ধের কোন প্রক্রিয়া তো দূর আজ তারা ব্যস্ত ব্লগ এবং ব্লগারদের আটকাতে।তারা আমাদের কথা বলার স্বাধীনতাকে তালা মেরে রেখে দিতে চায় একটি সরকারি ঘুপচি ট্রাংকে।অথচ এদের মাধ্যমেই আজকে এই জাতি একটি জাগরন দেখেছে,প্রতি্টি মানুষ আবারো মুখ খুলার সাহস পেয়েছে।

৪২বছর ধরে এদেশের শাসক গোষ্ঠী এদেশকে কেবল ভোগই করেছে,করেছে নিষ্প্রাণ,মেধাহীন। তারা এই দেশকে তাদের নিজেদের সম্পত্তি ভেবে এখনো গনতন্ত্রের নামে স্বৈরাচারি মনোভাব ছেড়ে দিতে পারেনি।আজ পর্যন্ত কি আমরা একটি শুদ্ধ গণতন্ত্র পেয়েছি?৯১,৯৬,২০০১,২০০৮ আমাদেরকে কি গনতন্ত্র এনে দিয়েছে?এই গনতন্ত্রের উপরে যেনো আজো সেই জিয়া,এরশাদের ছায়া।
কিন্তু এবার এই ২০১৩ তে এদেশ এমন একটি জায়গায় এসে পৌঁছেছে যেখান থেকে আমাদেরকেই বুঝে নিতে হবে আমরা কি এগিয়ে যাবো নাকি এদেশকে নিয়ে যাবো আরো পঞ্চাশ বছর পেছনে।আমরা জানি আমাদের আর কিছুই হারাবার নেই,এখন যা আছে সেটা কেবলই পাওয়ার কিছু।যুদ্ধপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি,জামায়াত নিষিদ্ধের দাবী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এদেশের মানুষ নিভে যাবে না।রাজপথ এখন কেবল নতুন দিনের শ্লোগানে মুখর হবে।যতই বাধা দিক স্বেচ্ছাচরেরা এদেশের এগুনোর পথে,আর ওদের বাঁধা আমরা কেউ মুখ বুজে মেনে নিব না।

জয় বাংলা।

১১ thoughts on “৪২বছর শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক ভোগকৃত দেশ এবং একটি গণজাগরণ!

  1. আজকে বাংলাদেশ এমন একটি

    আজকে বাংলাদেশ এমন একটি ইউটেকটিক অবস্থানে এসে পৌছেছে যেখান থেকে আমরা হয় একটি পরিবর্তিত উন্নতির পথে ধাবমান;মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করে-ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশ তৈরির পথে কয়েক বছর এগিয়ে যেতে পারি নয়ত অন্য দিক থেকে আমরা আরো ৫০ বছর পিছিয়ে যেতে পারি;যেখান থেকে আবারো উঠে আসতে হয়ত আমাদের আরো কয়েক শতাব্দী পার করে দিতে হবে।

    ঘটনা প্রবাহ যেভাবে এগুচ্ছে তাতে এখন দ্বিধাহীন ভাবেই বলা যায় এই আন্দোলন আমাদের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। অস্তিত্বের লড়াই।
    চমৎকার ভাবে ৪২ বছরের বাংলাদেশের রাজনীতির চিত্র তুলে ধরেছেন।
    পোস্টটি এক্সপ্রেস পোস্ট হিসেবে স্টিকি করার আবেদন জানাচ্ছি।

  2. যে তাজউদ্দিন কে এদেশের

    যে তাজউদ্দিন কে এদেশের মস্তিষ্ক ভাবা হতো তাকেই মন্ত্রীসভা থেকে বিতারিত করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।

    বঙ্গবন্ধু কি কারণে এই কাজটি করেছিলেন তা কিন্তু “পলাশী থেকে ধানমন্ডি” কিনবা বিভিন্ন রাজনৈতিক সমালোচকের বক্তব্যে উঠে আসে আর যা হলো বিভিন্ন প্রয়োজনে তাজউদ্দীনকে বিতর্কের বাইরে রাখতে এই কাজটি করেছিলেন তবে এটি অবশ্যই স্বীকার্যযে বঙ্গবন্ধু খন্দকার মোস্তাকের চাল বুঝতে পারলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন নাই, সম্ভবত ঐ সময়টা ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে ছিলো না।

    তবে দারুন একটি পোস্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ সেই সাথে ইস্টিশন কর্তৃপক্ষকেও সাধুবাদ এইরকম পোস্টগুলো স্টিকি করবার জন্য।

    1. ধন্যবাদ সুমিত চৌধুরী ।
      ধন্যবাদ সুমিত চৌধুরী । বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দীনকে সরানোর নেপথ্যে বোধ করি তারই ভাগ্নে ফজলুল হক মণি মূখ্য ভূমিকায় ছিলো।

  3. অনেক তথ্য বহুল পোস্ট। এই
    অনেক তথ্য বহুল পোস্ট। এই নষ্ট হয়েযাওয়া রাজনীতিক নেতা আর দল গুলোকে আস্ত কুঁড়ে ফেলতে হবে।

Leave a Reply to ইস্টিশনের রেলগাড়ি Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *