আম জনতার জন্য ১১ নাম্বার বিপদ সংকেত

আজকে গিয়েছিলাম আমার এক হুজুরের সাথে দেখা করতে। অনেকদিন যাবত যাই না, অনেকদিন মানে প্রায় তিন সপ্তা। কথা বলছিলাম বিভিন্ন বিষয়ে। যেমন মাদরাসার সামনের একটি লাইব্রেরীতে নতুন বই এসেছে। ছাত্রদের ভীর লেগেই আছে। সবই আরবী; মিসর এবং সৌদি থেকে আনা। বেশিরভাগ আরবী সাহিত্য, হাদিস শাস্ত্র এবং ইতিহাসের। মধ্যপ্রাচ্যের বইগুলো অনেক দামি হয়। কিন্তু খুব দ্রুত বই শেষ হয়ে যাচ্ছে। যারা পারছে ১৫/২০ হাজার টাকার বই একসাথে নিয়ে নিচ্ছে। আর যারা আমার মত, তারা শুধু তাকিয়ে থাকছে। আমি এবং হুজুর বেশ অনেকগুলো বইয়ের নামে টিক চিহ্ন দিয়ে রেখেছিলাম বই আসারও বহু আগে। কিন্তু আমগো বেইল নাই :মনখারাপ: সব শেষ।

আজকে গিয়েছিলাম আমার এক হুজুরের সাথে দেখা করতে। অনেকদিন যাবত যাই না, অনেকদিন মানে প্রায় তিন সপ্তা। কথা বলছিলাম বিভিন্ন বিষয়ে। যেমন মাদরাসার সামনের একটি লাইব্রেরীতে নতুন বই এসেছে। ছাত্রদের ভীর লেগেই আছে। সবই আরবী; মিসর এবং সৌদি থেকে আনা। বেশিরভাগ আরবী সাহিত্য, হাদিস শাস্ত্র এবং ইতিহাসের। মধ্যপ্রাচ্যের বইগুলো অনেক দামি হয়। কিন্তু খুব দ্রুত বই শেষ হয়ে যাচ্ছে। যারা পারছে ১৫/২০ হাজার টাকার বই একসাথে নিয়ে নিচ্ছে। আর যারা আমার মত, তারা শুধু তাকিয়ে থাকছে। আমি এবং হুজুর বেশ অনেকগুলো বইয়ের নামে টিক চিহ্ন দিয়ে রেখেছিলাম বই আসারও বহু আগে। কিন্তু আমগো বেইল নাই :মনখারাপ: সব শেষ।
কথায় কথায় দেশের কথা উঠল। হুজুর খুবই উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। ওনার বাসা গাজীপুর। প্রতি সাপ্তায়ই বাসায় যান। বিয়ে করেছেন তিন/চার বছর হবে। হুজুরের চেহারায় পেরেশানির ছাপ স্পষ্ট দেখতে পেলাম।
হুজুর বললেন, আমি এখন সব সময়ই চিন্তায় থাকি। কখন যে কি হয়। কারণ এ ধরণের পরিস্থিতিগুলোতেই বড় ধরণের একটা গণ্ডগোল লাগে। আর এই বড় গণ্ডগোল বাঁধানোর জন্য ব্যবহার করা হয় ধর্মকে। ধর্মীয় যে কোন একটা বিষয়কে হাইলাইট করে একটা গণ্ডগোল। তারপর সাধারণ মানুষ এবং মাদরাসার ছাত্রদের উপর দিয়ে ঝড়টা যায়। ধর্মীয় বিষয়ে গণ্ডগোল বাঁধানো অনেক সহজ এবং এ ধরণের গণ্ডগোল আগের সবকিছুকে স্তিমিত ও মন্থর করে দেয়।
হুজুরের কথা শুনে আমি মহাকাশ থেকে পড়লাম। ভাবলাম, হুজুর সারাদিন থাকে মাদরাসায়। মাঝে মাঝে নেটে সময় দেয় আরবী সাহিত্যের পত্রিকাগুলোর জন্য। আর আমি সারাদিন পরে থাকি নেটে। তখন মনে পড়ল, উসতাদ হলেন তিনি, আমি হলাম শাগরেদ। যাক…আবার আলোচনায় যাই।
আলোচনা আর কি! হুজুরের কথা শুনে প্রথমে ভাবলাম, উনি কি অতিরিক্ত চিন্তা করছেন? কিন্তু তিনি তা কেন করতে যাবেন? রাজনৈতিকভাবে হুজুরের কোন নির্দিষ্ট মতাদর্শ নেই। এক কথায় রাজনীতি থেকে তিনি সব সময়ই বহুদূরে। হুজুরের জীবন প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথম-পরিবার। দ্বিতীয়-ফিকহ বা ইসলামী আইনশাস্ত্র। তিন-আরবী ভাষা ও সাহিত্য। এর বাইরে প্রয়োজন ছাড়া তিনি মনে হয় চিন্তাও করেন না। আমি তার সম্পর্কে এগুলো বলতে পারছি, কারণ তার সাথে আমার সম্পর্ক প্রায় ৭/৮ বছরের। আর তাকে আমার পছন্দ এই কারণে যে, আমার যে ক’জন উসতাদ মাদরাসার ছাত্রদের চিন্তার স্বাধীনতার ব্যাপারে আপোষহীন, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম।
তো হুজুর যে আশঙ্কাটা ব্যক্ত করেছেন, সেটা অন্য দশজন সাধারণ পরিবারকর্তার আশঙ্কার মতই মনে হলো। কিন্তু তিনি যে দৃষ্টকোণ থেকে চিন্তাটা করছেন, সেটা আমাকে ভাবাল গভীরভাবে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য যখন চলছে, সাথে সাথে শাহবাগের সাথে যখন মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করছে মুগ্ধ বিস্ময় নিয়ে, শত অপচেষ্টা সত্ত্বেও জামাত যখন তাদের নেতাদের বিচারকার্যে কোন রকম বাধা সৃষ্টি করতে পারছে না, তখন তারা একটা –হুজুরের ভাষায়- ‘কি জানি হয়’এর সৃষ্টি করল = হেফাজত। এই ‘কি জানি হয়’-এর শেষ হলো বুলেট দিয়ে। বুলেটগুলো কি জামাতের সোনার মুজাহিদরা বুক পেতে নিয়েছিল? ওয়াট এ্যা জো’ক আই থট! বুলেটগুলোর শেষ আশ্রয় হয়েছিল কওমী মাদরাসার ছাত্র আর সাধারণ মুসলমানদের শরীরে। অনেকেই হয়ত তাদেরকে রাগের বশে ধর্মানুভূতি-সর্বস্ব [না বলি-_-] মুসলমান বলতেই পারে। কিন্তু এর আগে আমাদেরকে বুঝতে হবে তারা হলো ট্র্যাপড্। যে শরবতবিক্রেতা সেদিন সবার জন্য বিনামূল্যে তার শরবত বানিয়েছিল, সে আমাদের মত ব্লগার না। সমালোচনা, আত্মসমালোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা এবং বিদ্বেষমূলক উষ্কানি-এই কঠিন শব্দগুলোর অর্থ তারা বুঝে না। তারা শুধু পত্রিকার ট্র্যাপে পা দিয়েছে আর ফেঁসে গেছে। আর শুধু শরবতবিক্রেতা না, আমাদের আশপাশের ক’জন আছেন যারা জানেন যে, যেই ধরণের ব্লগপোস্টের উপর ভিত্তি করে হেফাজতের উত্থান, সে জাতীয় এবং এর চেয়েও জঘন্য পোস্ট এখনও-এই এখনও-অনলাইনে বিদ্যমান? কিন্তু হেফাজত এখন নেই, তখনও ছিল না যখন এই পোস্টগুলো সর্বপ্রথম করা হয়েছিল। হেফাজত তখনই এসেছে যখন জামাতের নেতাদের বিচার হয়ে চলছিল একে একে। ফলাফল = বর্তমানে জামাতের বিচারকার্যের কোন আপডেট নাই। জামাতের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়েও কথা উঠেছিল। কিন্তু এখন জামাতকে বিএনপির একমাত্র রক্ষাকবচ বললে খুব বেশি বলা হবে বলে আমার মনে হয় না। আর যাদেরকে আমরা ধর্মানুভূতি সর্বস্ব [না বলি] বলছি, তারা কিন্তু আমাদের সেই না বলা স্টেযেই রয়ে গেছে।

কিভাবে?

সরকারবিরোধী এই আন্দোলনের নামে মানুষ পোড়ানোর যে সিলসিলা শুরু হয়েছে, ধর্মানুভূতি-সর্বস্ব [না বলি] স্টেযের মানুষরা এর জন্য সাধারণত বিএনপিকেই দায়ি ভাবছে। আমি বলছি না বিএনপি ধোয়া কচুপাতা। আমি বলছি যে, বিএনপির বর্তমান রক্ষাকবচ হিসেবে তারা জামাতকে চিনতে পারছে না। তারা জামাতের কথা ভুলে গেছে। তাদের এখন সবচে’ বড় চিন্তা হলো-বিরোধী দল/বিএনপি আন্দোলনের নামে এগুলো কি করছে! বিএনপির রক্ষাকবচ হিসেবে জামাতকে চিনতে পারছে যারা, বিএনপির রক্ষাকবচ যে জামাত, এই কথাটা যাদের চিন্তায় টপপ্রায়োরিটি পাচ্ছে, তাদের সংখ্যা যে নগণ্য, ঠিক এই মুহূর্তে হয়ত অবাক হয়ে আপনিও বুঝতে পারছেন; এতক্ষণ হয়ত আপনারও মনে ছিল না। এখন ভাবুন সে মানুষগুলোর কথা, যারা যে কোন ধর্মীয় আন্দোলনে চোখ বন্ধ করে হেঁটে হেঁটে চলে আসে, তাদের অবস্থাটা কোথায়।

প্রশ্ন আসতে পারে, তারা এমন চোখ বন্ধ করে চলে আসে কেন? এর সম্ভাব্য উত্তর হতে পারে এমন-
এই চোখ বন্ধ করে চলে আসা শ্রেণীর মানুষগুলো খুবই গুরুত্বের সাথে ধর্মীয়বিশ্বাস লালন করে হৃদয়ের গহিন থেকে। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই তারা তাদের অতি সাধারণ জীবনটাকে যাপন করে অতি সাধারণভাবে। আর আগেই বলেছি, বিশ্বাস কখনই গবেষণালব্ধ বিষয় না। বিশ্বাস সর্বদাই একটি ইনার ভয়েস থেকে হয়ে থাকে, একটি অনুভূতি থেকে হয়ে থাকে। এই বিশ্বাস যাই হোক না কেন, এটি নিয়েই তারা বাঁচতে চায়, এটি নিয়েই তারা মরতে চায়।
মুসলমানদের কথা বলছি, যখন তারা শোনে-যেভাবেই শুনুক-তারা যখন শোনে, যে মানুষটি বাবার মুখ দেখতে পায়নি এবং ছয় বছর বয়সে মাকে হারিয়েছে, প্রায় ১৫০০ বছর আগের এই যে মানুষটি পেটে পাথর বেঁধে ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করেছে তাদের জন্য, যে মানুষটি পাথরের আঘাত সহ্য করেছে তাদের জন্য, যে মানুষটি মারা যাওয়ার মুহূর্তেও তাদের দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন ছিলেন, সেই মানুষটিকে আজ এত বছর পর কেউ বা কয়েকজন গালি দিয়েছে, তখন সেই মুসলমানরা যে শুধু ধর্মরক্ষার জন্যই পায়ে হেঁটে চলে আসে, ব্যাপারটা পুরোপুরি এমন না। তাদের এই কষ্ট স্বীকারের মধ্যে এক ধরণের কৃতজ্ঞতার প্রকাশও থাকে ১৫০০ বছরের পুরোনো মৃত সেই মানুষটির প্রতি। এই সাধারণ মুসলমানরা এমনিতেই সাধারণ, পরিবারের প্রয়োজনের বাহিরে তাদের চিন্তার জগতটা খুব একটা বিস্তৃত না। তারা জামাতের সাবটাজ বুঝতে পারে না কেন?-এই প্রশ্নটা আমরা করতেই পারি। কিন্তু উত্তরটা জন্য যদি আমরা অল্পকিছু মুহূর্ত ব্যয় করি, তাহলেই সেটা আমাদের সামনে হাজির পাবো। এর জন্য এমন কি গুগল করারও দরকার পরবে না।

আমি বিএনপি বলছি না, জামাত বলছি। গতবার [শাহবাগে] জামাত যখন গিট্টুতে আটকে গিয়েছিল, এই গিট্টু ছোটানোর জন্য উপরের ঐ ধর্মীয় অনুভূতি-সর্বস্ব [না বলি]দেরকে ব্যবহার করেছিল কন্ডমের মত, যা তারা সব সময়ই করে থাকে। আজ অনেকদিন হয়ে গেল তারা গিট্টুতে আটকে আছে। গণতন্ত্রের গিট্টু। বর্তমান গিট্টু থেকে ছোটার জন্য যে তারা আবার তাদের কন্ডমনীতি অনুসরণ করবে না, এই গ্যারান্টি আমার মত একজন দিতে পারছি না। কারণ আমি আমজনতার অন্তর্ভুক্ত। আর আমজনতা শুধু তাদের পরিবার এবং ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়েই ভাবে, এর বাইরে সাধারণত তারা যায় না। আর আমি যেহেতু এখনও তিনবার কবুল বলি নাই, এ জন্য আমার কোন পরিবার নাই। তবে আমার একটা ব্যক্তিগত সমস্যা আছে। সেই সমস্যার নাম হলো-জামাত। এই জন্য আমিও আমার ব্যক্তিগত সমস্যার বাইরে সাধারণত চিন্তা করি না। আর আমজনতার একজন হিসেবে সকল আমজনতাকে আমি আমার বর্তমান দুশ্চিন্তার কারণ বললাম।
নিয়ন্ত্রণহীন কোন মুহূর্তে জামাতকে যখন কোন কুৎসিত গালি দিয়ে ফেলি, তখন খুব তীব্রভাবে নিজের অক্ষমতা আমাকে আঘাত করে। কওমী মাদরাসার পুরো অঙ্গনই জামাতের অকীদা বা বিশ্বাস নিয়ে আপোষহীন। কিন্তু জামাতের রাজনৈতিক [কি বলব খুঁজে পাচ্ছি না] সম্পর্কে যে কবে তাদের হুঁশ হবে, আল্লাহ জানে। এরা জামাতের আকীদা সম্পর্কে বিরোধিতা করে এমনভাবে বসে আছে, যেন তারা জামাতের মূলোৎপাটন করে উল্টায় ফেলছে। অথচ …..

নবজাতক একজন সচেতন নাগরিকের লেখা শুধু শুধু লম্বা হতে থাকবে, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। দুঃখ প্রকাশ করেই বা কি লাভ, লেখাটা বড় হয়েই যাচ্ছে। আরেকটু না হয় বলেই ফেলি।

নিউযপোর্টালগুলোর কল্যাণে দুইটা খবর পাচ্ছি-
১-বিএনপির কিছু কিছু নেতাও নাশকতাকারীদের পিটায়ে পুলিশে ধরিয়ে দিচ্ছে।
২-ছাত্রলীগও পেট্রলবোমা মারছে।
আমজনতার জন্য নিউযপোর্টাল ছাড়া আর কি-ই বা আছে! কিন্তু নিউয-নির্ভর এক শ্রেণীর আমজনতা যখন কোন রাজনৈতিক রায় দিয়ে ফেলে ফেসবুকে অথবা অন্য কোথাও, তখন বিরক্তিতে মুখে থুতু চলে আসে। আমজনতা অনেক কিছুর মতই রায় দেয়ার অধিকারের সীমা বুঝে না। যেইহেতু আমার কোন স্পষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ নেই, যেইহেতু আমি আমার দেশের রাজনীতি এবং আমার দেশের ও দেশের রাজনীতির অতীত-বর্তমান সম্পর্কে সন্তুষ্টজনক ওয়াকিবহাল না, যেইহেতু আমি আমার দেশের রাজনীতির ভবিষ্যতবাণী হিসেবে ‘ফাক পলিটিকস্‘ স্ট্যাটাসে বিশ্বাসী, ঠিক সেইহেতু রাজনীতি সম্পর্কে রায় দেয়ার অধিকারের সীমা লংঘন করা আমার জন্য জায়েয না। উপরের দুইটা নিউয নিয়ে এক শ্রেণীর আমজনতার বিরক্তিকর সচেতনতার কারণে মাঝে মাঝে অসাধারণ কিছু সৃজনশীল গালি মাথায় কিলবিল করে।

বন্ধুদের আড্ডায় মাঝে মাঝেই একটা কথা বলি। সেটা হলো- আমাদের দেশের সবচে’ বড় সমস্যা এইটা না যে, শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা একজন অপরজনের উপর নারায। আমাদের দেশের সমস্যা হলো দারিদ্র। দারিদ্রের কষাঘাতে আমরা জর্জরিত। এই দারিদ্রের মধ্যে প্রধান হলো দু’টি। অর্থ এবং শিক্ষা। এ দু’টির মধ্যে –আমার মতে- বেশি গুরুতর হলো অর্থনৈতিক দারিদ্র। তারপর শিক্ষার দারিদ্র। আমাদের দেশে লাখপতি ও কোটিপতিদের সংখ্যা এক বা দুই না। বরং আরও বেশি। তবে কেউই যদি লাখপতি বা কোটিপতি না হতো, কিন্তু সবাই যদি দারিদ্র সীমার অনেক উপরে না হলেও একটু উপরে বাস করত, তাহলে আমার মনে হয় ভালই হতো। আমাদের দেশে একটি নোবেল প্রাইজ রয়েছে। কিন্তু যে ছেলেটার বা যে মেয়েটার এখন হোমওয়ার্ক বা ক্লাসওয়ার্ক করার কথা ছিল, সে এসে যদি বাসের জানালায় হাত পাতে এবং ভিক্ষার মুখস্থ বুলি আওড়াতে থাকে, তখন আমার মনটা এতই খারাপ হয়ে যায় যে, চাইলেই আমি কেঁদে ফেলতে পারি। কিন্তু কান্নাটা আমার কখনই ভালো লাগে না। তখন মনে হয়, আমার দেশের কেউ যদি নোবেল না পেত, কিন্তু সবাই যদি শিক্ষিত হতো, তাহলে মনে হয় ভালই হতো।
আমার দেশের অর্থের দারিদ্র যদি দূর হয়ে যেতো, শিক্ষার দারিদ্র যদি দূর হয়ে যেতো, তাহলে উপরের ঐ ধর্মীয়-অনুভূতি সর্বস্ব [না বলি] টাইপের যে শ্রেণীটা রয়েছে, হয়ত তাদের শুরুই হতো না। হয়ত তাদের অস্তিত্বই হতো না কোনদিন। জামাতের রাজনৈতিক বৈধতা বাতিলের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তখন হয়ত আমরা সবাই মিলেই সেটা সম্ভব করতে পারতাম! তখন হয়ত যে কোন সমস্যার সমাধান আমরা নাস্তিক-মুরতাদ গালাগালি বা হরতাল দেয়ার মধ্যে খুঁজতাম না! তখন হয়ত সমস্যার সমাধান আমরাই করতে পারতাম খুব সহজে!

মূল আলোচনা থেকে সরে না গিয়ে লেখাটা শেষ করি। শিরোনামেই স্পষ্ট যে, পুরো পোস্টটি কাল্পনিক। ১১ নাম্বার বিপদসংকেত বলতে কিছু নেই। কাল্পনিক শিরোনামে কাল্পনিক পোস্ট দেয়ার কারণ কী? কারণ হলো, আমি আমজনতার একজন। রাজনৈতিক কোন মতাদর্শ আমার নেই। নেই রাজনীতির ব্যাপারে এমন কোন জ্ঞান, যা দ্বারা আমি কোন যুক্তিযুক্ত সমাধানের পথ দেখাতে পারব। কিন্তু আজ হুজুরের সাথে কথা বলার পর আমার মনে কিছু আশঙ্কা জন্ম নিয়েছে। সেই আশঙ্কার কথা বলতে গিয়েই এতকিছু।
দূর্যোগ আসার আগেই বিপদসংকেত দিতে হয়। দূর্যোগ চলে যাবার পর দূর্যোগের কারণ নিয়ে হাজার হাজার পৃষ্ঠা লিখে ফেললেও দূর্যোগকবলিত মানুষগুলোর কোন লাভ হবে না। আর দুর্যোগ যদি কাছাকাছি এসে চলে যায়, তাহলে তো সবাই নিরাপদ। কিন্তু কোন বিপদসংকেত ছাড়া যদি দুর্যোগ চলে আসে, তাহলে…….
এই জন্যই এই কাল্পনিক ১১ নাম্বার বিপদসংকেত। জামাত কি আবার নতুন কোন খেলা দেখাবে? অনেক বড় কিছু করার নতুন কোন পায়তাড়া কি জামাত করছে? এই বিপদসংকেতটি আমজনতার জন্য। বিশেষ করে কওমী অঙ্গনের জন্য।

১ thought on “আম জনতার জন্য ১১ নাম্বার বিপদ সংকেত

  1. লেখাটি একইসাথে এখানে এবং
    লেখাটি একইসাথে এখানে এবং নাগরিকব্লগে প্রকাশ করেছি। কারণ আমজনতার একজন হিসেবে এর অতি দ্রুত এবং অধিক প্রচার জরুরী মনে হয়েছে।
    মাঝে মাঝে নিয়াম মানার চেয়ে নিয়ম ভাঙাটাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।

    ৩. পূর্বে অন্য কমিউনিটি ব্লগে প্রকাশিত লেখা ‘ইস্টিশন’-এ প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ নিরুৎসাহিত করছে (ব্যক্তিগতব্লগ বা ফেসবুকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)। ‘ইস্টিশন’-এ প্রকাশিত নতুন লেখা ২৪ ঘন্টার মধ্যে অন্য কমিউনিটি ব্লগে প্রকাশ করা যাবেনা। অন্য কমিউনিটি ব্লগে পূর্বে বা একই সময়ে প্রকাশিত কোন লেখা ‘ইস্টিশন’-এ স্টিকির জন্য মনোনীত হবেনা এবং ইস্টিশনের কোনোরূপ প্রকাশনায় (ই-বুক কিম্বা সম্মিলিত বই) স্থান পাবে না বা কোন বিশেষ বিবেচনার ক্ষেত্রে মনোনয়ন পাবে না। কোন মুদ্রণ মাধ্যম এই নীতির আওতায় পড়বেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *