মাস্কুলাঁ ফেমিনা (মুভি রিভিউ)

নারী-পুরুষ (মুভি রিভিউ)
Masculin Féminin
Directed by Jean-Luc Godard
Produced by Anatole Dauman
Written by Jean-Luc Godard


নারী-পুরুষ (মুভি রিভিউ)
Masculin Féminin
Directed by Jean-Luc Godard
Produced by Anatole Dauman
Written by Jean-Luc Godard

মূল গল্প: সিনেমার গল্প আবর্তিত হয় পল ও মাদেলেন এর প্রেম কে কেন্দ্র করে। পল (জঁ-পিয়ের লেও) রোমান্টিক কমিউনিস্ট আদর্শবাদী তরুণ, সম্প্রতি মিলিটারি সার্ভিস শেষ করে নতুন কোনো চাকরি খুঁজছে। তার সাথে একটি রেস্তোরাঁয় দেখা হয় তরুণ পপ সঙ্গীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখা মাদেলেনের। দু’জনের গানের রুচি ও রাজনৈতিক চেতনায় কোনো মিল নেই; পল একটি কম্যুনিস্ট পার্টি’র কর্মী আর মাদেলেন কম্যুনিজমের ক-ও জানে না। তারপরও দু’জনে দু’জনার প্রেমে পড়ে যায় এবং একসময় যখন পল থাকার জায়গা হারায় তখন মাদেলেন তার দুই বান্ধবীর (এলিজাবেথ ও কাথেরিন) সাথে যে বাসায় থাকে সেখানেই তাকে থাকতে দেয়। মাঝেমধ্যে মনে হয় এই তিন নারী আর পল এর মধ্যে এক ধরণের মেনাজ-আ-কোয়াত্র চলছে। পলকে পার্টি থেকে তার প্রজন্মের তরুণদের সাক্ষাৎকার নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সে ১৯৬০-এর দশকের রূপান্তরকামী পারি’র নতুন প্রজন্মের মন বুঝার চেষ্টা করে। অন্যদিকে মাদেলেন একটি গানের রেকর্ড তৈরিতে ব্যস্ত থাকে; তার লক্ষ্য টপ ফোর্টিতে পৌঁছানো। পলের প্রেমিকাকে বুঝা বা নবপ্রজন্মকে বুঝা কোনোটাই সহজ পথে এগোয় না। দৈহিকভাবে পাওয়ার পর মাদেলকে বুঝার বা পুরোপুরি পাওয়ার বদলে সে যেন চিরতরে হারিয়ে ফেলে। একদিকে রাজনৈতিক বিতর্ক চলতে থাকে, ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতিবাদে পারি’র রাস্তায় একজন নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করে, অন্যদিকে পল আর মাদেলেন অদ্ভুত অদ্ভুত ব্যক্তি ও ঘটনার সান্নিধ্যে এসে আরো একাকী হয়ে পড়ে। গদার এই গল্পের শেষ শিকল টানেন দুর্ঘটনায় পলের মৃত্যুর মাধ্যমে। এই ঘটনাকে কেউ আপনারা কম্যুনিজমের মৃত্যু, কেউ ষাটের দশকের অবসান, কেউ আদর্শবাদের পতন ভাবতে পারেন, কিংবা অন্যকিছু……….

গদারের নারী-পুরুষ সম্পর্কীত দৃষ্টিভঙ্গি … :-
গদার ষাটের দশকের পাশ্চাত্যের বাস্তব নারী, কাঙ্ক্ষিত নারী, আবেদনময়ী নারীর প্রকৃত চিত্রটা মাদেলের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সে খুবই সুশ্রী কিন্তু সুন্দর নয়, কারণ তার দৃশ্যমান চোখ দু’টোর ভেতরে অন্য কিছু নেই, যে আত্মার সন্ধান পল করছে সেটার কোনো অস্তিত্বই নেই।
নারী যে রহস্যময়ী ও ধরাছোঁয়ার বাইরে তা একটি পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব। গদার এই মনোভাবের সাথে নিজেকে মিলিয়ে দেননি, তিনি কেবল একে শিশুসুলভ সততার সাথে আধুনিক সমাজ-বাস্তবতার পটভূমিতে তুলে ধরেছেন। আগে যখন সেক্স সহজলভ্য ছিল না তখন পুরুষেরা সেক্সকে নারীর রহস্যের একটি অংশ বলে মনে করতো, দৈহিকভাবে পেলে প্রেমিকার রহস্যের অনেকখানি ভেদ করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করতো, আর এখন সেক্স খুব সহজলভ্য হয়েছে বলেই পুরুষ বুঝতে পারছে, দৈহিক মিলনের পর রহস্য উন্মোচিত তো হয়ই না, বরং হয়ত আরো একটু গাঢ় হয়। গদার আধুনিক রোমান্টিক সমস্যার মূলটা ধরতে পেরেছেন। এই সমস্যা সর্বত্র বিরাজমান, কিন্তু কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কের মাঝামাঝি একটি অসংজ্ঞায়িত প্রজন্ম বা জাতের উপর পরীক্ষা চালিয়েই তিনি এটা সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন।
তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়ের একটি, দু’টি প্রশ্নোত্তর সেশনের প্রথমটি ঘটে পল ও মাদেলিনের মধ্যে
২য়টি পলের সক্রিয় কম্যুনিস্ট কর্মী বন্ধু রোবের ও মাদেলেনের বান্ধবী কাথেরিনের মধ্যে।
এই কথোপকথন ষাটের দশকের "আধুনিক" সমাজের নারী ও পুরুষের পরিচয় নির্ধারণ করে দেয়। নর-নারীর চিরন্তন সঙ্গম-নৃত্যকে সিনেমার পর্দায় এর পূর্বে আর কেউ দেখাতে পারেননি । পাত্র-পাত্রীর মুখভঙ্গি, হাসি, কথার বেগ, নিরবতা, বিরতি ইত্যাদি প্রতিটি খুটিনাটিকে অসামান্য দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে গদার এই নাচকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন, সঙ্গম-নৃত্যের সময় যেমন নর্তক-নর্তকী মনে মনে একে অপরের ভিতরে ঢুকে যেতে চাইলেও বাস্তবে কেউ কাউকে স্পর্শ করে না, ঠাট বজায় রাখে, এখানেও ঠিক তেমনটি দেখা যায়।

২ thoughts on “মাস্কুলাঁ ফেমিনা (মুভি রিভিউ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *