এর শেষ কোথায় ? এবার ক্ষান্ত দিন ।

অনেক দিন তো হয়ে গেলো আর কত ? হ্যা আমি এই অসহনীয় রাজনৈতিক পরিবেশের কথা বলছি । এ কোন দেশ ? এটা কি আমার দেশ ? সমস্যা কি শুধুই অবরোধ , সহিংসতা , যুদ্ধাপরাধীর বিচার , মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ বা বিপক্ষ শক্তি ? নাকি সমস্যা অন্য কোন জায়গায় ? এমন কোন কিছুতে যার গ্রহনযোগ্যতা আছে কিন্তু তা থেকে কোন সুফল আসছে না ? মুক্তিযুদ্ধ কেনো হয়েছিলো ? বিজয়ের পর মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষিত ফলাফল কি পেয়েছি ?

সংকট ১। ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল সংসদে গৃহীত হয়। এর মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ করা হয়।

বিশিষ্ট জনদের মতামতঃ


অনেক দিন তো হয়ে গেলো আর কত ? হ্যা আমি এই অসহনীয় রাজনৈতিক পরিবেশের কথা বলছি । এ কোন দেশ ? এটা কি আমার দেশ ? সমস্যা কি শুধুই অবরোধ , সহিংসতা , যুদ্ধাপরাধীর বিচার , মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ বা বিপক্ষ শক্তি ? নাকি সমস্যা অন্য কোন জায়গায় ? এমন কোন কিছুতে যার গ্রহনযোগ্যতা আছে কিন্তু তা থেকে কোন সুফল আসছে না ? মুক্তিযুদ্ধ কেনো হয়েছিলো ? বিজয়ের পর মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষিত ফলাফল কি পেয়েছি ?

সংকট ১। ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল সংসদে গৃহীত হয়। এর মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ করা হয়।

বিশিষ্ট জনদের মতামতঃ

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পক্ষে বক্তব্য রাখবে এমন কোন ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, যে পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন ছিল। ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, গণভোট ছাড়া সংবিধান সংশোধন গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো একটি বিশেষ গোষ্ঠী কিংবা ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন হতে পারে না। তিনি বলেন, সংবিধান উত্তরাধিকার সম্পত্তি নয় যে, কারো ব্যক্তিগত ইচ্ছায় তা পরিবর্তন করা যায়। তিনি বলেন, সরকার সংবিধানের ৭ (ক) ও (খ) সংশোধন করে জনগণকে তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান মনে করেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার কোন গোষ্ঠীকেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বরং দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। তিনি রেডিও তেহরানকে বলেছেন, সরকার দলীয় লোক ছাড়া এই সংবিধান সংশোধনীর পক্ষে কথা বলার কোন লোক পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে বৈরী সম্পর্কের কারণে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়েছিল, সে অবস্থা এখন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার রেডিও তেহরানকে বলেছেন, জনগণের মতামত না নিয়ে বিশেষ উদ্দেশ্যে সরকার সংবিধান সংশোধন করেছে। এক্ষেত্রে বিশেষ কমিটির সুপারিশও গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন না করার সুপারিশ করেছিল কমিটি। কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই বেশ কিছু পরিবর্তন এনে দ্রুত সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। যার পরিণতিতে দেশ সংঘাতময় রাজনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বদিউল আলম মজুমদার আরো বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন ছিল। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং প্রয়োজনে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা উচিত ছিল। কিন্তু সরকার তাড়াহুড়া করে বাজেট অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন করেছে। এ বিষয়ে শাসকদলের ভেতরও অসন্তোষ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর চেয়ে একশ’গুণ বড় রনি এই সরকারের মধ্যে রয়েছে। এবং এক রনি নয় বহু রনি রয়েছে। এখান থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বাঁচতে চায়। সংবিধানের ১৫ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচন রাস্তা কিন্তু বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষমতা হস্তান্তরের যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া তা বন্ধ হয়ে গেছে। তত্ত্বাবধায়কও নাই অন্তবর্তীকালীন সরকারও নাই।
তিনি বলেন, যে তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে আওয়ামীলীগ ১৭৩ দিন হরতাল ও অবরোধ করেছে। অনেক সম্পদ নষ্ট করেছে। ফলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের দাবি অগ্রহণযোগ্য। কোন জনগণ দাবি করেছে কি-না আমি জানি না। কোর্ট সরকারের ওপর দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, পদ নেই তার দ্বিগুণ পদোন্নতি দেয় হয়েছে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। সরকার একটা রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনে পঞ্চদশ সংশোধনী বাদ নিয়ে ষষ্ঠদশ সংশোধনী করতে হবে। এই সংবিধান রেখে আমি আজ জাতীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই এই সংবিধান দিয়ে বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। হতে পারে না এবং হবেও না।
হেফাজতকে সরকারের পক্ষে আনার জন্য এখনো চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ এনে তিনি বলেন, এই সরকার আসলে কী চাচ্ছে তারা নিজেরাই ভাল করে জানেন না। সরকার পরিবর্তনের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছেন। পরে যুব সমাজের পক্ষে আদৌ কোন কাজ করেছে কি-না আমার দৃষ্টিতে পড়ে না।

কাজী জাফর বলেন, ‘সরকার দলের হলেও রনি টকশোতে চলমান সমস্যা তুলে ধরতেন। সরকারের সমালোচনা করছেন। কিন্তু তিনি এমন একটি বিমরুলে পা দিয়েছেন, যিনি দরবেশ। তার সাংবাদিকরা তার পেছনে লেগেছিল। রনির উচিত ছিল তার মাথা ঠান্ডা রাখা। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একশনে যাওয়া সমর্থন যোগ্য নয়। তবে সরকার এখানে এক ঢিলে দুই পাখি মারছে। সরকারের দেখাচ্ছে এমপি হলেও তাকে আমরা ছাড় দিচ্ছি না। সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের প্রতি সরকার কাঠোর।’
জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক বাতিল সরকারের বড় ভুল। তত্ত্বাবধায়কের জন্য আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছে। জাতীয় পার্টি, জামায়াত ইসলামী ও আওয়ামী লীগ আমরা তিনদল মিলে আন্দোলন করেছি। আমি লিয়াজো কমিটির সদস্য ছিলাম। তাই আমি দেখেছি তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে কী আন্দোলন হয়েছে, কী অবরোধ হয়েছে, কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সে সময় জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বেশি যোগাযোগ ছিল।’

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন পঞ্চদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, বিসমিল্লাহ ও ধর্মীয় রাজনীতির অধিকার বহাল রাখা এবং ৭ নম্বর অনুচ্ছেদের মাধ্যমে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের কঠোর সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে জাতিকে বিভক্ত ও সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রয়োজন ছিল না। তাঁরা বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী যেভাবে আনা হয়েছে, তা জনগণের কোনো অংশকে খুশি করতে পারেনি। বরং এ সংশোধনী রাজনৈতিক মঞ্চকে উত্তপ্ত করেছে। দেশকে অনিবার্য সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছেন ।

ফলাফলঃ দেশের বর্তমান সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতি ।

সংকট ২। ৫ ই জানুয়ারির নির্বাচন ।

এই নির্বাচন মূলত পঞ্চদশ সংষোধনীর ধারাবাহিকতা ।
ফলাফলঃ সেই এক ই ।

সংকট ৩। বিএনপির আন্দোলনের বলি যখন জনগন ।

বিএনপির আন্দোলনের কনসেপ্ট টা মূলত হলো নির্বাচন দাও । নির্বাচন দিলেই যে সুশাসন আসবে তার কি নিশ্চয়তা আছে ? বিরোধী দলে গিয়ে তো আওয়ামিলীগ ও এক ই কাজ করতে পারে । তার জন্য শাসনব্যবস্থা তে এমন পরিবর্তন আনতে হবে যেন স্বৈরাচারি মনোভাব কারো ভিতর আসতে না পারে । জনগনের ঊপর নেমে এসেছে ভয়ানক থাবা । লাগাতার ৩০ দিনের অবরোধ, ঢাকা ও বিভিন্ন জেলায় ৪১৩০ ঘণ্টার হরতালে সারা দেশে সহিংসতা, নাশকতা এবং পেট্রলবোমাসহ বিভিন্নভাবে ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ৩২ জন। পুলিশ ও র‍্যাবের সঙ্গে কথিত (ক্রসফায়ার) বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন ১০ জন। সংঘর্ষ ও হামলায় মারা গেছেন ১০ জন। পুলিশ ও পিকেটারদের দু’পক্ষের গোলাগুলিতে মারা গেছেন ১২ জন। অন্যান্যভাবে মারা গেছেন ৭ জন। নিহতদের মধ্যে যানবাহন শ্রমিকের সংখ্যা ১৯ জন। মোট নিহতের মধ্যে ১৫ জনই রাজনৈতিক নেতাকর্মী। বাকি ৪৪ জনই সাধারণ ও নিরীহ মানুষ। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন দুই শতাধিক মানুষ। শুধু ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন ১১১ জন। এ সময়ের মধ্যে সারা দেশে মোট ১১শ’ যানবাহনে আগুন ও ভাংচুর হয়েছে। মোট ১০ দফায় রেলে নাশকতা হয়েছে। এসব ঘটনায় দলের ৩৫ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে বলা হচ্ছে এই সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। ৩০ দিনের অবরোধ সহিংসতায় বেশি মানুষ মারা গেছেন যেসব জেলায় সেগুলো হল- কুমিল্লা, রংপুর, ঢাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম, যশোর, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া। –

সংকট ৪। আন্দোলনের সুবিধা যখন নেয় অন্য কেও ।

বোমাবাজরা সৎ ও মেধাবী — আওয়ামীলীগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ছাত্র মো. রেজাউল ইসলামকে পেট্রলবোমাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেছিল মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ। এ ঘটনার পর রেজাউলের আইনজীবী আদালতে আসামির জামিনের পক্ষে একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। আওয়ামী লীগের পাবনা সদর উপজেলা সভাপতি আলহাজ মো. মোশারফ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়- ‘আসামি রেজাউল ইসলাম আওয়ামী লীগের সদস্য। সে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত নয়’।
শুধু মোহাম্মদপুর থানার এই একটি ঘটনাই নয়, সারা দেশে এমন শত শত আসামির পক্ষে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রত্যয়নপত্র দিয়ে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের জামিন করে ছাড়িয়ে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আর এ প্রত্যয়নপত্রের বিনিময়ে ওই নেতারা কোথাও মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছেন, কোথাও বা আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে তাদের এমন প্রত্যয়নপত্র দিয়ে দিচ্ছেন। নেতাদের এমন কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে পড়ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবেও জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, নেতাদের প্রত্যয়নপত্র বিলি বন্ধ না করলে মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা হলেও বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে না। বরং অনেকেই জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারপন্থি হিসেবে পরিচিত আইনজীবীরাই নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামিদের পক্ষে কাজ করেন। সরকারদলীয় প্রত্যয়নপত্র দাখিলের বিষয়ে আদালতপাড়ায় একাধিক আইনজীবী বলছেন, পুলিশ আসলে কি অপরাধী ধরছে, নাকি সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে?
সূত্র নিশ্চিত করেছে, সারা দেশে হরতাল-অবরোধ চলাকালে বিভিন্ন নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামিরা জামিনে ছাড়াও পেয়ে যাচ্ছেন। জামিন সহজ করতে কৌশল হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিভিন্ন নাশকতার মামলায় পাঁচ শতাধিক প্রত্যয়নপত্র দাখিল করেছে আসামিপক্ষ। অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর থানার ১ (২) ১৫ নম্বর মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামি মনিরুজ্জামান সরকারের পক্ষে তার আইনজীবী ঢাকা মহানগর হাকিম মাহবুবুর রহমানের আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের ওপর শুনানির সময় আসামির আইনজীবী আওয়ামী লীগের একটি প্যাডে লিখিত প্রত্যয়নপত্র জমা দেন। ওই প্যাডে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসামির পক্ষে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজে আসামি জড়িত নয়’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র দাখিল করেন। এ ছাড়া একই মামলায় অন্য আসামি মো. সালাউদ্দিনের পক্ষে তার আইনজীবী একই ধরনের প্রত্যয়নপত্র আদালতে দাখিল করেন। ওই প্রত্যয়নপত্রে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ৪ নম্বর মসিন্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবদুল বারী একটি লিখিত বক্তব্য দেন। তাতে উল্লেখ করা হয়- আসামি সালাউদ্দিন মিরপুর বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং তিনি কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত নন। এ ছাড়া আইনজীবী শুনানিতে বলেন প্রয়োজনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়ে এ প্রত্যয়নপত্র যাচাই-বাছাই করার জন্য। পরে শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে প্রত্যয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কোনো আদেশ দেননি।ঢাকার নিম্ন আদালতের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, নাশকতার মামলাগুলোয় যদি আদালত এ ধরনের প্রত্যয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেন তাহলে পুলিশ অবশ্যই তা তদন্ত করে দেখবে।
ঢাকার জিআর সেকশনের এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সাধারণত মামলায় বিচারক জামিন না দিলে এসব প্রত্যয়নপত্র নথিতে সংযুক্ত করে রাখা হয় না। তবে জামিন হলে আদালতের নির্দেশে আমরা নথিতে এসব ফিরিস্তিযোগে কাগজ রেখে দিই।’ ঢাকা জজকোর্টের ফৌজদারি আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এসব প্রত্যয়নপত্র মামলা বিতর্কিত করে দেয়। আদালতের উচিত হবে এগুলো যথাযথ যাচাই-বাছাই করা। কেননা যদি এগুলো ভুয়া হয় তাহলে আসামিরা আরও বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়বেন এবং সাধারণ আসামিরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন। নাশকতার অভিযোগে বিএনপি-জামায়াতের যত নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছিলেন তার বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে ছাড়াও পেয়েছেন। বিস্ফোরণ মামলায় বগুড়ার নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর বিএনপির সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম সরকারকে গ্রেফতারের পর তিনি জামিনে বের হয়ে আসেন। তার জামিনের পক্ষে আদালতে লড়েন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী। আবার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অভিযুক্ত করে মামলায় তাদের আগাম জামিন পেতে সহযোগিতা করেন আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী পরিষদের নেতা। এ বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আসামিদের জামিন পাওয়া প্রসঙ্গে একজন আইনজীবী বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তের তালিকা এক ও অভিন্ন। অনেক মামলায় অভিযুক্তের নাম, ঠিকানা ও বিবরণ দেওয়া হলেও আরেকটি মামলায় সংক্ষিপ্ত নাম দেওয়া হয়। অনেক সময় ঠিকানাও এদিক-ওদিক করা হয়। অভিযুক্তরা কে কী করছেন তা-ও বলা হয় না। বাবার নাম, বাড়ির ঠিকানাও ভুল থাকে। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মামলায় জব্দের কোনো তালিকা থাকে না। ফলে অভিযুক্তরা সহজেই জামিন পেয়ে আবার নাশকতায় মেতে ওঠেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কোনো আইনজীবী মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন , প্রথম পাতা ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

ধরপাকড়ে নিরীহরা
রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকার একটি মেস থেকে ২৬ জানুয়ারি সৈকত কবীর নামে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে জামায়াত-শিবিরের কর্মী পরিচয়ে নাশকতা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক করিম মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সৈকতের দাদা মরহুম মাস্টার আলী আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। থানা কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। সৈকতের বাবা হুমায়ূন কবীরও নাঙ্গলকোট থানা যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক। তার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছোটবেলা থেকেই সৈকত আমার পরিচিত। অথচ কাফরুল থানা পুলিশ তাকে জামায়াত-শিবির বানিয়ে দিল। সত্যিই বিষয়টা খুব বেদনাদায়ক।’ বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষার্থী শফিকুল ইসলামকে রূপসার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ তাকে গাড়ি পোড়ানো মামলায় গ্রেফতার দেখায়। শফিকের বাবার নাম আবদুল জলিল। গ্রামের বাড়ি রূপসা থানার কালিমপুরে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে লিখিত পরীক্ষা শেষ করেছেন শফিক। এক সপ্তাহ পরে তার ভাইভা পরীক্ষা। শফিক কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। এ তো গেল মাত্র দুটি ঘটনা। রাজধানীসহ সারা দেশে পুলিশের দুর্নীতিপরায়ণ কিছু সদস্য নিরীহ মানুষকে বিনা অপরাধে আটক করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাশকতা ঠেকানোর অজুহাতে রীতিমতো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পুলিশ। তবে পুলিশের প্রত্যাশা পূরণ করলে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। নইলে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারা এবং ডিএমপি আইনের ১০০ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে কিংবা জামায়াত-শিবিরের সক্রিয় সদস্য বানিয়ে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে নাশকতার মামলায়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিএনপি এবং জামায়াত-শিবির আইনানুগ সংগঠন। কেবল এসব সংগঠনের কর্মী হলেই তাদের গ্রেফতার করতে হবে, এটা কোনো গ্রহণযোগ্য যুক্তি হতে পারে না, এটা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই পুলিশ তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নাশকতার সঙ্গে জড়িত পেশাদার অনেক অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে অবস্থান করছে। সব শাসনামলেই তারা বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। সবসময়ই তারা দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যকে ম্যানেজ করে বিশেষ সুবিধা নেয়। সাবেক আইজিপি আজিজুল হক বলেন, বিনা অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করা সত্যি বেদনাদায়ক। গ্রেফতার দেখানোর আগে খতিয়ে দেখা উচিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকৃতই অপরাধ করেছে কি না। নইলে ঐতিহ্যবাহী এই বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত হবে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মনিটর করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন, ‘কিছু অভিযোগের কথা আমিও শুনেছি। এভাবে অপরাধীদের বদলে যদি নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হয় তাহলে সরকারের আসল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে না। কলোনিয়াল সিস্টেমে পরিচালিত দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু পুলিশের কারণে একসময় সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে। তাই স্পর্শকাতর এসব বিষয় কঠোরভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।’ জানা গেছে, মতিঝিল থানা পুলিশ জিডিমূলে (জিডি-৩৫৮) ৫৪ ধারায় আলমগীর হোসেন (৩০), কাওসার জামান খান (২৭), ফরিদ আহমেদ (৫১), রোকনউদ্দীন ভূইয়া (৩২), আবদুর রাজ্জাক (২৮), খন্দকার টিপু সুলতান (৩২) নামে ছয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। এদের মধ্যে ফরিদ আহমেদ ও আলমগীর হোসেন যথাক্রমে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর পিএস এবং এপিএস। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, তাদের সবাইকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখাতে চেয়েছিল পুলিশ। পরে তাদের ম্যানেজ করে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়- শিল্পভবনের সামনে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করার সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে অসংলগ্ন কথা বলেন। জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আসামিরা ধর্তব্য অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ হয়। তাদের ৫৪ ধারায় প্রাথমিকভাবে গ্রেফতার করা হলো।
মামলার আইনজীবী মাহ্বুব হাসান রানা জানান, মতিঝিলের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র অভিযোগও পরিষ্কার করা হয়নি। প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে কলাবাগান থানায় বৃহস্পতিবার রাতে। গ্যাস্ট্রোলিভার গলি থেকে আটক করা হয় মো. শাহজাহান (৩২) ও তসিফ (১৮) নামের দুই যুবককে। পরে জনগণের শান্তি নষ্ট করার অপরাধে তাদের আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আদালত সূত্র জানায়, গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানা থেকে ১৮৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে ৮৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ২৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের ২০০-৫০০ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে ১ হাজার ১১৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৫৭১ জনকে বিভিন্ন মামলায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে এবং ১৬৯ জনকে রিমান্ডে দেওয়া হয়। বাকিদের ২০০-৫০০ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নিরীহ মানুষকে অযথা গ্রেফতার করা যাবে না এ বিষয়টি সর্বত্র বলে দেওয়া আছে। এখন পর্যন্ত আমার কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। যথাযথ তথ্য ও প্রমাণসংবলিত কোনো অভিযোগ এলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুত্র বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রথম পাতা ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

সংকট ৫। অস্থিতিশীলতা ।

আওয়ামীলীগ আর বিএনপি যদি সংলাপে না বসে তাহলে এই অবস্থা উত্তরোত্তর বাড়বে । আর এই অবস্থা বাড়তে থাকলে তাদের কি আমাদের আর প্রয়োজন আছে ? দ্বিপক্ষীয় সঙ্ঘাতে সবসময় তৃতীয় পক্ষ হয় । শুধু দেখবার বিষয় সেটা কি আমাদের জন্য মঙ্গলজনক হয় নাকি অমঙ্গলজনক ।

যে দল বা ব্যাক্তি দেশ শাসন করুক না কেন জনগনের কোন আপত্তি থাকার কথা না যদি দেশে সুশাসন থাকে । দুর্নীতিবাজরা দুর্নীতি করলে যেনো আইনের আওয়াতায় আসে আর ভালো মানুষেরা নির্বিঘ্নে বাচতে পারে এই তো তাদের চাওয়া । কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে কত তফাৎ ?
সুশাসন সেটা আবার কি ? বলতে পারেন ? স্বাধীনতার পর মাত্র ২ বছরেই মনে হয় দুর্নীতিবাজদের উপলব্ধি হয়েছিল যে তাদের দুর্নীতির ও হিসাব হতে পারে । আর যে যত ভালো মানুষ সে যেন তত বেশী প্যারার উপরেই থাকে ।

৮ thoughts on “এর শেষ কোথায় ? এবার ক্ষান্ত দিন ।

  1. পুরা পোস্ট পড়ার ধৈর্য্য শেষ
    পুরা পোস্ট পড়ার ধৈর্য্য শেষ পর্যন্ত রাখতে পারলাম না। যেসব বিশিষ্টজনদের অভিমত আপনি এখানে উদ্ধৃত করলেন তাদের মধ্যে কতজনের সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্যতা আছে বলে মনে করেন আপনি? আমি এক হাফিজ উদ্দিন ছাড়া কাউকেই তেমন গুরুত্বপূর্ণ কেউ মনে করিনা। এদের সবাই ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টির মানুষ। রাজনৈতিক এই সংকটে এদের অভিমত এই মুহুর্তে কোন গুরুত্ববহন করে বলে মনে হয় না।

    গত টার্মে সংসদীয় গণতন্ত্রে বিএনপি বিরোধী দল হিসাবে যথার্থ ভুমিকা না রাখার কারণেই সরকার তথা আওয়ামীলীগ ক্ষমতার স্বাদ দীর্ঘায়িত করার জন্য গণতন্ত্রের নামে বিভিন্ন ফাঁদ পেতেছিল, প্রতিটা ফাঁদে রাজনৈতিক দুরদর্শিতার অভাবে বিএনপি কট খেয়েছে। ফলে আওয়ামীলীগ দিন দিন ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠছে। এদেশের আপাময় মানুষের দাবী বিএনপি জামায়াতকে ছেড়ে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দলের ভুমিকায় আসুক। বিএনপি কি মানুষের সেই আকাঙ্খার কথা একবারো ভেবেছে? মানুষের কথা বাদ দিলাম, দলের সাধারণ কর্মীদের আকাঙ্খার কথা কি একবারের জন্য ভেবেছে?

    আন্দোলনের নামে, গণতন্ত্রের নামে মানুষ মারার এই কর্মসুচী বিএনপিকে রাজনীতি থেকে আরো দুরে ঠেলে দিয়েছে। আওয়ামীলীগের এই ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠার কারণ বিএনপি। বিএনপিকে সঠিক রাজনৈতিক ভুমিকায় এসে আওয়ামীলীগের মোকাবেলা করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করা উচিত। না হয় দলটা সাইনবোর্ডসর্বস্ব রাজনৈতিক দল হতে বেশি সময় লাগবে না।

    মানুষের জীবনহানি, সম্পদহানি করে ক্ষমতায় আসার দিন শেষ হয়ে গেছে।

  2. মানুষের জীবনহানি, সম্পদহানি

    মানুষের জীবনহানি, সম্পদহানি করে ক্ষমতায় আসার দিন শেষ হয়ে গেছে।

    যে দিন নিজ চোখে দেখমু সেইদিনই বিশ্বাস করতে পারুম এই কথা।

  3. আরিফুল আমি ভাই, অসাধারণ
    আরিফুল আমি ভাই, অসাধারণ লিখেছেন। তারপরও কিছু মানুষ আপনার লেখা পড়ে একমত হবেনা ! এরা দেশের আসল সমস্যা কোথায় এবং কেন, সেটা কখনো বুঝেন নাই, ভবিষ্যতেও বুঝবেনা এবং ঘুইরা ফিরে এরা একই কথা বারবার বলবে… !

    জহির রায়হানের ‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্পটা এদের পড়া থাকলেও সময়ের প্রয়োজন এরা বোঝেন না, কখনোই বুঝবেনা… এরা পেট্রোল বোমায় মানুষ মেরে ফেলা নিয়ে অনেক কথা বলবে, কিন্তু ক্রস ফায়ারে খুন করা নিয়ে কিছু বলবেনা, সুশীল সমাজ নিয়ে আওয়ামী লীগারদের মতই একই ভাষায় কথা বলবে এবং আমার এই মন্তব্য পড়ে আবারও আমাকে ইসলামিস্ট, ছাগু ইত্যাদি ইত্যাদি বানিয়ে আমাকে ‘অবাঞ্চিত’ করার সুযোগ খুজবে… !

    1. @শেহজাদ আমান
      বলতে বাধ্য

      @শেহজাদ আমান

      বলতে বাধ্য হচ্ছি- আপনার মাথায় মনে হয় সমস্যা আছে। ক্যাচাল ছাড়া আপনি থাকতে পারেন না? যে কোন আলোচনায় আপনি বিষয়ের বাইরে আলোচনা উত্থাপন করে মুল আলোচনাকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেন। এটা ঠিক না। সময়ের প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ হত্যাকে কোন সুস্থ্য মানুষ সমর্থন করতে পারে না। সময়ের প্রয়োজনে সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে হাত মেলানোকে রাজনীতি বলে না।

      রাজনীতি বিজ্ঞানের ছাত্র হিসাবে বলতে পারি- সময়ের প্রয়োজনে আপনি যাদের সাথে (জামায়াত-হেফাজত) রাজনীতি করার কথা বলছেন, যে প্রক্রিয়ার রাজনীতিকে সময়ের প্রয়োজনে বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছেন, সেই প্রক্রিয়ার রাজনীতিকে ‘রাজনীতি বিজ্ঞান’ ও সমর্থন করবে না।

      1. শ্যাষ পর্যন্ত যা
        শ্যাষ পর্যন্ত যা দাঁড়াইল…………………

        ……… আমার এই মন্তব্য পড়ে আবারও আমাকে ইসলামিস্ট, ছাগু ইত্যাদি ইত্যাদি বানিয়ে আমাকে ‘অবাঞ্চিত’ করার সুযোগ খুজবে… !

  4. ……………এবং আমার এই

    ……………এবং আমার এই মন্তব্য পড়ে আবারও আমাকে ইসলামিস্ট, ছাগু ইত্যাদি ইত্যাদি বানিয়ে আমাকে ‘অবাঞ্চিত’ করার সুযোগ খুজবে… !

    ঠাকুর ঘরে কে রে?

  5. পেট্রোল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে
    পেট্রোল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা যেমন অন্যায় , বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ডও তেমন অন্যায় । কিন্তু প্রথমটাতে মানুষ মরলে বিএনপির লাভ দ্বিতীয়টাতে আওয়ামীলীগের । কিন্তু ক্ষতির ভাগিদার জনগন । আসলে সমস্যাটা হলো অন্য জায়গায় জনগন ক্ষমতায় মনীবকে দেখতে চায় বন্ধুকে নয় ।

Leave a Reply to আরিফুল আমির Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *