39 টি দগ্ধ লাশ, আমার উদারতার দুয়ার বন্ধ

টানা অবরোধে মানুষ পোড়ানোর উৎসব চলছেই, একে একে 39 এর অধিক প্রান আর এই প্রানের সাথে মিশে থাকা স্বপ্নের মৃৃত্যু ঘটেছে। যে মানুষেরা দগ্ধ হয়েছেন তাদের বেশীরভাগই খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ। তাই এদের সমবেদনা জানানোর জন্য কেউ নেই। বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আদালতে দন্ডিত কোকো হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ শোক বইতে স্বাক্ষর করছেন। তাদের শত্রু পক্ষ আওয়ামীলীগ শোক প্রকাশ করছে, শোক প্রকাশে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে গিয়েছেন, কুটনীতিকরা সার বেধে গিয়ে ম্যাডামকে শোক জানিয়ে আসছেন। গুলশান কার্যালয়ে শোক চলছে। ম্যডাম জিয়া, আপনার সন্তানের মৃত্যুতে আমার কোন শোক নেই, আমি শোক প্রকাশ করতে পারছিনা। হৃদরোগে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মারা যায়, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা হাতেগোনা। আমি বরং সেইসব হাতেগোনা দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া মানুষদের জন্য শোক প্রকাশ করবো। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সহানুভূতি জানাতে গিয়েছিলেন, সেটা কতটা মানবিক কারনে আর কতটা রাজনৈতিক কারনে সেটা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে। দেখা হয়নি, কেননা শোকগ্রস্থ খালেদা বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। প্রবল শক এর কারনে তাঁকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিলো। বাকরুদ্ধ খালেদা জিয়া ‘ইশারায়’ অবরোধ চলার ঘোষনা দিয়েছিলেন, তারপরেই ইনিজেকশনের প্রভাবে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আবার প্রধানমন্ত্রী চলে আসার কিছুক্ষনের মধ্যেই ‘ইনজেকশনের ক্রিয়াকাল’ অতিক্রান্ত হয়েছিলো, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীকেধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। আগামীকাল কোকোর লাশ দেশে আসবে, আগামীকাল অবরোধ চলবে। যদিও লাশবাহী গাড়ী অবরোধের আওতামুক্ত, তবুও আমি চাই আগামীকাল দেশে অবরোধ হোক, কোকোর জানাজায় যারা আসবে তাদের গাড়ি অবরোধে আটকা থাকুক কেননা বিএনপি নিজেই অবরোধ ডেকেছে। কোকোর মৃত্যুতে আমি একটুও উদার হতে পারছিনা বলে আমাকে ক্ষমা করুন, 39 টি দগ্ধ লাশ, আমার উদারতার দুয়ার বন্ধ করে বিভৎস করুন মুখে আমার দিকে চেয়ে আছে।

[বাউল ]

১ thought on “39 টি দগ্ধ লাশ, আমার উদারতার দুয়ার বন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *